শিশু নোহার আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শিশু নোহার আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নুশরাত জাহান নোহা। ফাইল ছবি

আগৈলঝাড়া থানার ওসি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন। চার্জশিটে নোহার স্কুলের শ্রেণি শিক্ষক উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে নোহার আত্মহত্যায় প্ররোচনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শিশু শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান নোহার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলায় দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সুমন পাইকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মনিরুজ্জামান।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে শিক্ষকের বেত্রাঘাত ও প্ররোচনায় আত্মহত্যা করে দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুশরাত।

অভিযোগপত্রে শিক্ষক শফিকুলকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেন।

চার্জশিটে নোহার স্কুলের শ্রেণি শিক্ষক উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের শফিকুল ইসলাম সুমন পাইককে নোহার আত্মহত্যায় প্ররোচনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নোহা নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে ওই উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে এবং দারুল ফালাহ প্রি-ক্যাডেট একাডেমির তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় শিক্ষক সুমন পাইককে অভিযুক্ত করে মামলা করেন তার বাবা।

পুলিশ জানায়, ২০২০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর করোনার মধ্যে সরকারের আইন অমান্য করে নোহার স্কুলের মাসিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রেণি কক্ষে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হয় ৯ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষার ফলে নোহা ৩০ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষক শফিকুল নোহাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ক্লাশ রুমে গালিগালাজ করে এলোপাতাড়ি বেত্রাঘাতে আহত করেন।

শিক্ষকের মারধর ও গালমন্দ সইতে না পেরে নোহা স্কুল থেকে বাড়ি গিয়ে ঘরের দোতলায় আড়ায় নিজের ওড়নার সঙ্গে গামছা জোড়া লাগিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। নোহাকে তার বাবা উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক পয়সা আদর্শ জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নোহার বাবা সুমন মিয়া স্কুল শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেন। মামলা পরেই আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল।

নোহার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন ১২ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির এক জরুরি সভায় শফিকুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শিশু নোহাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে তার মা তানিয়া বেগম আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। যেখানে নোহার বাবা ও বাদীর সাবেক স্বামী সুমন মিয়া, নোহার সৎ মা ঝুমুর জামান এবং সুমনের বোন লিপি বেগমকে আসামি করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালীন কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। দুটি এলাকায় আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষে নিহত হন আব্দুল হালিম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

কুতুবজোম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

গুলিবিদ্ধ তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন ইসলামাবাদী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা ও কুতুবজোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট নেয়া বন্ধ আছে।

শেয়ার করুন

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচনে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা, সংঘর্ষসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বাগেরহাটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট চলছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে সোমবার বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।

মাসুদ রানা লালন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমার কর্মী-সমর্থকদের চাপ দিচ্ছিল নৌকার সমর্থকরা। পরে আমার এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়। ভেবেছিলাম নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, ভাবাই সারা হল আমাদের।’

ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকটি জায়গায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার মোট ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে ভোট হচ্ছে ৬৫টি ইউনিয়নে। কারণ কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা।

শেয়ার করুন

‘জুয়ার আসরে’ অভিযান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৬

‘জুয়ার আসরে’ অভিযান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৬

ওসি আবু হাসান কবির বলেন, ‘আমরা জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ৩টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করেছি।'

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ‘জুয়ার আসর’ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির।

তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু, ঘোড়াঘাটের শামীম মিয়া, রাইনুর ইসলাম রানু সরকার, বকুল সরকার, হুমায়ুন কবীর ও শহিদুল ইসলাম।

ওসি আবু হাসান কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আমরা জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ৩টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করেছি।'

শেয়ার করুন

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা গ্রেপ্তার

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা গ্রেপ্তার

মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে টানা পাঁচ মাস ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি কিশোরী তার মাকে জানালে মান-সম্মানের ভয়ে তারা ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। কিন্তু হোসেন আলী সেখানেও সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া দেন। পরে কিশোরীকে অপহরণ করে হত‍্যার হুমকি দেন।

ময়মনসিংহে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় জাতীয় পার্টির এক নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হোসেন আলী জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি।

রোববার রাত ১২টার দিকে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে র‍্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ওই কিশোরীর বাবা।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধর্ষণ মামলা করেছেন। ওই মামলায় হোসেন আলী ও তার তৃতীয়

স্ত্রী তামান্না বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় হোসেন আলীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশে ভাড়া থাকত কিশোরীর পরিবার। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে হোসেন প্রায়ই কিশোরীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এ সময় কিশোরীর সঙ্গে তার কথাবার্তা হতো। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সকালে হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী তামান্না বেগম কিশোরীকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। পরে পরিকল্পিতভাবে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ সেবন করান। পরে তাকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে টানা পাঁচ মাস ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি কিশোরী তার মাকে জানালে মান-সম্মানের ভয়ে তারা ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। কিন্তু হোসেন আলী সেখানেও সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া দেন। পরে কিশোরীকে অপহরণ করে হত‍্যার হুমকি দেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, গ্রেপ্তার হোসেন আলীকে ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

কৃষক লীগ নেতাকে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা

কৃষক লীগ নেতাকে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা

ফাইল ছবি

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, সোমবার ভোরে বাসা বের হলে সরওয়ারকে গুলি করে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েক যুবক। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্থানীয় কৃষক লীগ নেতা সরওয়ার কামালকে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া এলাকায় সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সরওয়ার ছিলেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ জুবায়ের।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, সোমবার ভোরে বাসা বের হলে সরওয়ারকে লক্ষ্য করে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েক যুবক। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তাকে হত্যার কারণ বা এর সঙ্গে কারা জড়িত তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ওসি শাকের বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

এক দশক পর পলাতক তিন আসামি গ্রেপ্তার

এক দশক পর পলাতক তিন আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশের অভিযানে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার তিন আসামি। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি রাশেদুজ্জামান জানান, ২০১১ সালে ফিরোজ ঢালীর বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা হয়। আর তার ভাই ফজলু ঢালী বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা হওয়ার পর দুইভাই পালিয়ে যান। একই বছর পারিবারিক বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় করা মামলায় পলাতক ছিলেন সোহাগ মিয়া।

ময়মনসিংহে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলায় পলাতক থাকার এক দশক পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে আসামিদের ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, ফজলু ঢালী, ফিরোজ ঢালী ও সোহাগ মিয়া। তাদের মধ্যে ফজলু ও ফিরোজ আপন দুই ভাই। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বেলদিয়া গামে। আর সোহাগ একই উপজেলার পাল্টীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ওসি রাশেদুজ্জামান জানান, ২০১১ সালে ফিরোজ ঢালীর বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা হয়। আর তার ভাই ফজলু ঢালী ডাকাত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা হওয়ার পর দুইভাই পালিয়ে যান।

ওই বছর পাল্টীপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় প্রতিপক্ষ সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর তিনিও পালিয়ে যান।

ওসি আরও বলেন, ‘রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় তারা তিনজন গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে ভোররাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণহানি

নির্বাচনি সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণহানি

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের একটি কেন্দ্রে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুল হাই।

কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে তিন নারী।

কুতুবজোম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সেই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। তাদের হাসপাতালে নেয়ার সময় পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

গুলিবিদ্ধ তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শেয়ার করুন