বরযাত্রায় বজ্রাঘাত

এক উঠানেই ছয় কবর

এক উঠানেই ছয় কবর

তফজুলের বাড়ির উঠানে খোঁড়া হয় ছয় কবর। ছবি: নিউজবাংলা

মহারাজপুর ডাইল পাড়া গ্রামের নিউ বাড়ির উঠানেই দাফন করা হয়েছে তফজুলকে। তার সঙ্গী হয়েছেন পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য। তারা হলেন স্ত্রী জমিলা খাতুন, ছেলে সাইদুল হোসেন, ছেলের বউ টকিয়ারা বেগম, বড় মেয়ে ল্যাচন বেগম ও নাতি বাবলু।

নাতি ও নাত বউকে আনতে ৭০ বছর বয়সী তফজুল হোসেন সকালে গিয়েছিলেন নারায়ণপুরে। বিকেলে ফেরার কথা ছিল সবাইকে নিয়ে।

হঠাৎ করেই রোববার বিয়ে হয় নাতি মামুনের। মামুন তার বড় মেয়ে সেমালী বেগমের ছেলে।

সোমালীর অনুরোধেই বয়সের ভারে ক্লান্ত তফজুল রাজি হন বরযাত্রায় যেতে। কিন্তু আর পৌঁছানো হয়নি নাতির শ্বশুর বাড়িতে। বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে তফজুলসহ ১৭ জনের। তাদের মধ্যে ১৬ জনই বরযাত্রী।

শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকার দুড়াউড়ি ঘাট এলাকায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকো বজ্রাঘাতে ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বরের মামা মাইদুল ইসলাম জানান, ১ আগস্ট পাকা ইউনিয়নের সুমির সঙ্গে বিয়ে হয় নারায়ণপুর ইউনিয়নের মো. মামুনের। বুধবার সকাল ১০টার দিকে ৫০ জন বরযাত্রী নারায়ণপুর আলীনগর ঘাট থেকে নৌকায় রওনা দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছান পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকার দুড়াউড়ি ঘাটে।

মাইদুলসহ একে একে সবাই নামতে থাকেন ঘাটে। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে কয়েকজন দৌড়ে কনের বাড়ি চলে যান। প্রায় ২০ জন ঘাটের একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন। ওই টিনের ছাউনির ওপর বজ্রপাত হলে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাকি তিনজন।

এক উঠানেই ছয় কবর
একসঙ্গে এতজন স্বজনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছে মামুনের পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

মহারাজপুর ডাইল পাড়া গ্রামের নিউ বাড়ির উঠানেই দাফন করা হয়েছে তফজুলকে। তার সঙ্গী হয়েছেন পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য। তারা হলেন স্ত্রী জমিলা খাতুন, ছেলে সাইদুল হোসেন, ছেলের বউ টকিয়ারা বেগম, বড় মেয়ে ল্যাচন বেগম ও নাতি বাবলু।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে এখন শোকের ছায়া। এক সঙ্গে এত মৃত্যু নিকট অতীতে দেখেনি স্থানীয়রা। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে নিজ হাতে তারা তফজুরের পরিবারের সদস্যদের লাশ কবরে নামিয়েছেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় অনেককে।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার সামনে অভিভাবকদের গাদাগাদি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন।  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গাতে তা মানছেন না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থবিধি মানলেও অধিকাংশ অভিভাবক তা মানছেন না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গাতে তা মানছেন না।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো শেষে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। পরের দিন থেকে খুলে দেয়া দেয়া মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসছেন। তাদের সবার মুখে মাস্ক। ব্যবস্থা রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও। তবে স্কুল-কলেজের বাইরের চিত্র ভিন্ন। অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বিষয়টিতে তারা গুরুত্বও দিচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েন দীপু মনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি স্বাস্থবিধি মেনে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়েও আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টিকা দেয়া শেষে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যাবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উপাচার্যদের।’

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে। সংক্রমণের হার কমে আসলে সব ক্লাসই নেয়া যাবে। তবে হার যদি বেড়ে যায় তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি স্বাস্থবিধির বিষয়টি। প্রতিষ্ঠানের কোথাও দৃশ্যমান আবর্জনা বা লক্ষণীয় হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় ডেঙ্গুর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে’, যোগ করেন দীপু মনি।

এর আগে যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধর্মঘটের কথা। রাতে হাওরে ছিলাম। সকালে যখন কাউন্টারে আসলাম দেখি তালা দেয়া। এখন আমরা সিলেট যাব। তারপর সেখান থেকে ঢাকা।’

সড়কে বাস থামিয়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে চলছে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ আট জেলার রুটে রোববার সকাল ৬টা থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।

অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট করছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। এর মধ্যে বেশিরভাগই পর্যটক, যারা ছুটির দিনে হাওরে ঘুরতে এসেছিলেন। ছোট যানে চড়ে ভেঙে ভেঙে জেলা থেকে বের হচ্ছেন তারা।

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধর্মঘটের কথা। রাতে হাওরে ছিলাম। সকালে যখন কাউন্টারে আসলাম দেখি তালা দেয়া।

‘পরে এখানে একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি বাস ধর্মঘট। তাই এখন আমরা সিলেট যাব। তারপর সেখান থেকে ঢাকা।’

আরেক পর্যটক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘বাস বন্ধ করে যাত্রীদের দুর্ভোগ দিয়ে লাভ কী? আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি, এখন আমাদের ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে। সময় আর টাকা দুটোই ব্যয় হল।’

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বলেন, ‘এই বাইপাস সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ধর্মঘট চলবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জনপ্রিয় গায়ক শাফিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের নবম জাতীয় সম্মেলনের প্রদত্ত ক্ষমতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী শাফিনকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের লিড ভোকালিস্ট শাফিন আহমেদ জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন।

দলটির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

মাহমুদ জানান, জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের নবম জাতীয় সম্মেলনের প্রদত্ত ক্ষমতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা ১২ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী শাফিনকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছেন।

এর বাইরে বোরহান উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে দলের কেন্দ্রীয় সদস্যপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শাফিন মাইলসের তুমুল জনপ্রিয় শিল্পী। তার মা ফিরোজা বেগম ছিলেন বিখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী। বাবা কমল দাশগুপ্ত ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন শাফিন। ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সে সময় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শাফিন ববি হাজ্জাজের দল এনডিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

বজ্রপাত ঠেকাতে তালবীজ রোপণ শিশুদের

বজ্রপাত ঠেকাতে তালবীজ রোপণ শিশুদের

বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তালবীজ রোপণ করেছে কয়েকজন শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

আজহারুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের সুরিয়া নদীর পাড়ে এক কিলোমিটার এবং নয়ানগর থেকে লক্ষীনগর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুপাশে তালবীজ রোপন করি। ইকবাল হাসান, রাহুল মিয়া, শাকিল মিয়া, রুমান মিয়াসহ ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এ কাজে অংশ নিয়ে আনন্দ পেয়েছে।’

বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তালবীজ রোপণ করেছে কয়েকজন শিশু।

উপজেলার দুই কিলোমিটার সড়কের দুইপাশে শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তালের বীজ রোপণ করে তারা।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আজহারুল করিম শিশুদের সঙ্গে তালের বীজ রোপণের কাজে অংশ নেয়।

এ বিষয়ে আজহারুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের সুরিয়া নদীর পাড়ে এক কিলোমিটার এবং নয়ানগর থেকে লক্ষীনগর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুপাশে তালবীজ রোপন করি। ইকবাল হাসান, রাহুল মিয়া, শাকিল মিয়া, রুমান মিয়াসহ ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এ কাজে অংশ নিয়ে আনন্দ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে ভূমিকা রাখে। তালের রস ও শাস অতি সুস্বাদু। এর পাশাপাশি ঘরের খুঁটি ও হাতপাখা তৈরিতে তালগাছ ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তালবীজ রোপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন ইউএনও, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্কুলের টয়লেটে বাকশক্তিহীন ছাত্রীর আটকে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান তাহমিনা বেগম রোববার দুপুর ১টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে আমরা আবারও সবার সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

এর আগে এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আয়া শাহানারা বেগমকে। তবে তিনি আগের মতোই স্কুলের কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলসুম ও আবু হানিফ ভূইয়া।

টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শনিবার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান উল্যাহ চৌধুরী।

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

বরখাস্ত আয়া স্কুলে কীভাবে কাজ করেন এই প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে একজন দপ্তরি ও একজন আয়া। এখন তারা না থাকলে বিদ্যালয়ের যে কাজকর্ম রয়েছে তা কীভাবে হবে? আয়া তার কাজ করলেও হাজিরা খাতায় তার সই দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের টয়লেটে ছাত্রী থাকাবস্থায় তালাবন্ধ করা, স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা ও বাকশক্তিহীন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা না করায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব জমা দিতে হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী বাকশক্তিহীন ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে গেলে তালাবন্ধ করে চলে যান বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার। ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১০টার দিকে টয়লেটের তালা ভেঙে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মো. রাসেল। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

ইকরাম আলী আরও বলেন, ‘আমরা শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। গুলশানে রিমান্ড শেষে আমাদেরকে দিবে।’

ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল, শামীমাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি আছে আরও কয়েকজন।

মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র কী অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, পিএস টু সিইও রেজওয়ান, বাইক বিভাগের সাকিব রহমান।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জনকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। ওই দিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে রাসেল ও শামীমাকে আটক করা হয়। পরের দিন গুলশান থানা পুলিশে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়। ওই থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করাসহ তিন দফা দাবি তুলেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সব সড়ক ঘুরে কাজী নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে তা শেষ হয়। পরে সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমাবেশ করেন তারা।

তাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়া, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সহযোগিতার জন্য সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে হেল্প ডেস্ক বসানোর অনুমতি দেয়া।

তারা জানান, গত ২৭ আগস্ট প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেয়ার তারিখ ঘোষণা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ। পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজশাহী এসে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে পড়ছেন।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রিদম শাহরিয়ার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল বন্ধ রেখে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা দেয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী আসতে শুরু করেছে। মেস নিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুজনের রুমে ৪ জন থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ নিয়ে কোনো চিন্তাই করছে না।

‘সামনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। হল খোলা না হলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে।’

তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৫৫ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে হল ও ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আশা করছি আমরা শিগগিরই শিক্ষার্থীদের হল খুলে দিতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরযাত্রায় বজ্রাঘাত, প্রাণ গেল ১৭ জনের

শেয়ার করুন