কোরিয়ান ইপিজেডের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবার

কোরিয়ান ইপিজেডের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবার

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কেইপিজেডের হ্রদগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ বাড়ায় একটি হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গেলে মুহূর্তেই পানি প্রবেশ করে দৌলতপুর গ্রামে।

চট্টগ্রামের কোরিয়া রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গিয়ে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেইপিজেডের গলফ মাঠের পূর্ব পাশে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এই পানি ঢুকে পড়ে।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কেইপিজেডের হ্রদগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ বাড়ায় একটি হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গেলে মুহূর্তেই পানি প্রবেশ করে দৌলতপুর গ্রামে। ওই সময় গ্রামের পুকুর, জলাশয় ভেসে যায়। ফাটল দেখা যায় মাটির ঘরে। খবর পেয়ে রাতেই কালভার্টটি বন্ধ করে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বড়উঠান ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় ৩৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। সাতটি পুকুর ভেসে গেছে। এ ছাড়া ২৩টি মাটির ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্তত ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।’

কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের এজিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণ দেব। বুধবার বিকেলে আপাতত ২০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে কেইপিজেডের দৌলতপুর গেটে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পারে-পানিতে ভাসতে দেখা যায় পর্যটকদের ফেলা বর্জ্য। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নৌকা চালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শুনেন না। প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তারকারি সবই হাওরে ফেলেন।’

করোনায় দীর্ঘসময় ঘরবন্দি থাকা প্রকৃতিপ্রেমীরা এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন সাগর থেকে পাহাড়ে। তবে পাহাড় ও জলাশয়ের মিতালি দেখতে দেশের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য সুনামগঞ্জে তাহিরপুর। সেখানেই আছে বাংলার কাশ্মীর খ্যাত নিলাদ্রি লেক ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর।

সরকারি বিধিনিষেধ শেষে সেখানে ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড় তো থাকেই, কর্মদিবসেও পর্যটকদের আনাগোনা চাঙা থাকে এলাকা। তবে যে প্রকৃতি দেখে মানুষ মন জুড়িয়ে নিচ্ছে, যেখান থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছে প্রাণভরে, সে প্রকৃতিকে তারাই আবার দূষিত করছে বর্জ্যে।

টাঙ্গুয়ার হাওর ও নিলাদ্রি লেকে গত দুইদিন ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে সেখানে পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, নানা খাদ্যপণ্যের প্যাকেট এমনকি মাস্কও। এসব বর্জ্য গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। তাতে যেমন পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

বন্ধুদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান ফাইয়াজ ফাহিম। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রথমবার এসেছি ঘুরতে। সত্যিই সুন্দর জায়গা। এই সৌন্দর্যটা আমাদেরই ধরে রাখতে হবে।

‘তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়, হাওরে অনেক পর্যটক আসেন, আমিও একজন পর্যটক, কিন্তু চিপস খাচ্ছেন সেই প্যাকেটটা পানিতে ফেলছেন, পানি খাচ্ছেন সেই বোতলটা পানিতে ফেলছেন। এটা পরিবেশের জন্য খারাপ। আমরা চাইবো এগুলো বন্ধ করা হোক। এসব যারা করবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’

স্থানীয় নৌকা চালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শুনেন না। যার যেখানে ইচ্ছা ফেলতে থাকেন। আমাদের কিছু বলার থাকে না। তারা প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তারকারি সবই হাওরে ফেলেন। আমরা দেখলে না করি, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

নিলাদ্রি লেক এলাকার বাসিন্দা অরিন্দ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ ঘুরতে আসে, খুব ভালো লাগে। সুনামগঞ্জকে মানুষ চেনে। তবে আরেকদিকে খারাপ লাগে যে তারা এসে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। টেকেরঘাটের পাড় আর পানির অবস্থাটা দেখেন, কীভাবে ময়লা ফেলে রেখেছে। প্রশাসনের উচিত এখানে নজরদারি বাড়ানো।’

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের সঙ্গে।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কিছুদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছি। এখানে রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, খাবার খেয়ে জিনিসগুলো পানিতে ফালানো হয়। এতে করে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

‘আমি মনে করি এখানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একজন সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে, যাতে করে এসব বন্ধ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা-প্লাস্টিক ফেলার জন্য মাঝি ও তার সহযোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি, যেন তাদের মাধ্যমে পর্যটকরা সচেতন হন। সেইসঙ্গে দেশের বৃহত্তম রামসার সাইট হওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে পর্যটকদের আনাগোনাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এখানে অভিযান চালাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবারও আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি।

‘তবে টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশাল হওয়ায় এবং হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পর্যটকরা আসায় নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত এখানে মাইকিং-মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা বন্ধে সমাবেশ

সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা বন্ধে সমাবেশ

মাগুরা সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে সমাবেশ করেছে জেলা গণকমিটি। ছবি: নিউজবাংলা

গণকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবেব শুরু থেকে মাগুরা সদর হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব, আইসিইউ ও হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এই দীর্ঘ সময়ে শুধুমাত্র হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।’

মাগুরা সদর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সমাবেশ করেছে জেলা গণকমিটি।

সদর হাসপাতালের সামনে রোববার সকালে এ কর্মসূচি হয়।

সমাবেশে গণকমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসু বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার ৫ শতাংশ আইসিইউ থাকার কথা। সে হিসেবে মাগুরা সদর হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা আড়াইশ হওয়ায় এখানে ১৩টি আইসিইউ বেড থাকার কথা। কিন্তু মাগুরা জেলা সদর হাসপাতাল কোনো আইসিইউ নেই।

‘এ ছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবেব শুরু থেকে জেলা গণকমিটির পক্ষ থেকে মাগুরা সদর হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব, আইসিইউ ও হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এই দীর্ঘ সময়ে শুধুমাত্র হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।’

এ সময় বক্তারা আরও জানান, ২০২০ সালের বাজেটে করোনা চিকিৎসা খাতে দশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় হয়। সেখানে প্রত্যেকটি হাসপাতালে আইসিইউ নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হলেও মাগুরা সদর হাসপাতালে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

এ ছাড়া সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর অনেক সংকট রয়েছে বলেও সমাবেশে অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে অবিলম্বে মাগুরা সদর হাসপাতালে আইসিইউ নির্মাণ; প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও আউটসোর্সিং বন্ধ করার দাবি জানান হয়।

গণকমিটির আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী শম্পা বসুর পরিচালনায় সমাবেশে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

শেয়ার করুন

সবাই নৌকায় উঠতে চায়: হাছান মাহমুদ

সবাই নৌকায় উঠতে চায়: হাছান মাহমুদ

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ অপকর্মে জড়িত যারা, তাদের কোনো স্থান নেই আওয়ামী লীগে। দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের মূল্য়ায়ন করা হবে। তবে যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ সজাগ থাকতে হবে দলের নেতা-কর্মীদেরই।

সবাই এখন আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায় মন্তব্য করে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত ১৩ বছরে অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কিন্তু দলের দুঃসময়ে তাদের দেখা যায়নি। এই অতিথি পাখিদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।

গাইবান্ধায় জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেয়ার আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ অপকর্মে জড়িত যারা, তাদের কোনো স্থান নেই আওয়ামী লীগে। দলের ত‌্যাগী, পরিশ্রমী ও দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের মূল‌্যায়ন করা হবে। তবে যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব‌্যবস্থাসহ সজাগ থাকতে হবে দলের নেতা-কর্মীদেরই।

সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন খালি পায়ে কেউ হাঁটেন না; না খেয়েও কেউ থাকেন না। দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা অনেক উন্নত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোর ব‌্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জাতীয় সংসদের হুইপ ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামছুল আলম হিরু ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে মধ‌্যহ্নভোজের পর হাছান মাহমুদ গাইবান্ধার রাধাকৃষ্ণপুরে এসকেএস ইন রিসোর্টে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব‌্য রাখবেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়কপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছান তিনি।

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ: নারীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

জমি নিয়ে বিরোধ: নারীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

ময়মনসিংহের সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, আহত সুমাইয়া খাতুনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত।

ময়মনসিংহের সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সুমাইয়া খাতুনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের আলী আকবর এবং আজিজুল হকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বিষয়টি মীমাংসা জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই দুই পরিবারের বসার কথা থাকলেও আজিজুল হক ও তার লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

একপর্যায়ে আজিজুল ও তার লোকজন সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে আলী আকবরের বোন সুমাইয়া মাথায় আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘আহত পুলিশ সদস্য সুমাইয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মামলা হবে।’

শেয়ার করুন

বরিশালে ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের মানববন্ধন

বরিশালে ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের মানববন্ধন

বরিশালে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম এ জলিল বলেন, ‘বর্তমানে ইমারত নির্মাণশ্রমিকরা কেউ অনাহারে কেউবা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন, ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের বাঁচতে দিন, বাঁচিয়ে রাখুন।’

সামাজিক নিরাপত্তা, সারা বছর কাজের দাবিসহ ৮ দফা দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইমারত নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়ন।

নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে রোববার সকালে জেলা ইমারত নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে এম এ জলিল বলেন, ‘করোনার কারণে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকরা চরম কষ্টে আছেন। এই সময়ে সরকারি খাদ্যসহায়তা ও প্রণোদনা যা দেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ইমারত নির্মাণশ্রমিকরা কেউ অনাহারে কেউবা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন, ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের বাঁচতে দিন, বাঁচিয়ে রাখুন।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন বরিশাল জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও ইমারত নির্মাণ কারিগরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

শেয়ার করুন

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধর্মঘটের কথা। রাতে হাওরে ছিলাম। সকালে যখন কাউন্টারে আসলাম দেখি তালা দেয়া। এখন আমরা সিলেট যাব। তারপর সেখান থেকে ঢাকা।’

সড়কে বাস থামিয়ে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে চলছে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাসহ আট জেলার রুটে রোববার সকাল ৬টা থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে আন্তজেলা বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।

অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট করছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। এর মধ্যে বেশিরভাগই পর্যটক, যারা ছুটির দিনে হাওরে ঘুরতে এসেছিলেন। ছোট যানে চড়ে ভেঙে ভেঙে জেলা থেকে বের হচ্ছেন তারা।

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধর্মঘটের কথা। রাতে হাওরে ছিলাম। সকালে যখন কাউন্টারে আসলাম দেখি তালা দেয়া।

‘পরে এখানে একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি বাস ধর্মঘট। তাই এখন আমরা সিলেট যাব। তারপর সেখান থেকে ঢাকা।’

আরেক পর্যটক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘বাস বন্ধ করে যাত্রীদের দুর্ভোগ দিয়ে লাভ কী? আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি, এখন আমাদের ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে। সময় আর টাকা দুটোই ব্যয় হল।’

বাস ধর্মঘটে সুনামগঞ্জে পর্যটকদের ভোগান্তি

সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বলেন, ‘এই বাইপাস সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ধর্মঘট চলবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’

শেয়ার করুন

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন ইউএনও, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্কুলের টয়লেটে বাকশক্তিহীন ছাত্রীর আটকে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান তাহমিনা বেগম রোববার দুপুর ১টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে আমরা আবারও সবার সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

এর আগে এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আয়া শাহানারা বেগমকে। তবে তিনি আগের মতোই স্কুলের কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলসুম ও আবু হানিফ ভূইয়া।

টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শনিবার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান উল্যাহ চৌধুরী।

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

বরখাস্ত আয়া স্কুলে কীভাবে কাজ করেন এই প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে একজন দপ্তরি ও একজন আয়া। এখন তারা না থাকলে বিদ্যালয়ের যে কাজকর্ম রয়েছে তা কীভাবে হবে? আয়া তার কাজ করলেও হাজিরা খাতায় তার সই দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের টয়লেটে ছাত্রী থাকাবস্থায় তালাবন্ধ করা, স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা ও বাকশক্তিহীন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা না করায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব জমা দিতে হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী বাকশক্তিহীন ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে গেলে তালাবন্ধ করে চলে যান বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার। ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১০টার দিকে টয়লেটের তালা ভেঙে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

শেয়ার করুন