আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী। ছবি: নিউজবাংলা

আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা। জেলা প্রশাসক বলছেন, করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগীদের শয্যা দখল নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন রোগীর লাইন, তখন সুস্থ হওয়া রোগীরা আইসিইউ ছাড়তে চান না। তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে নিতে চাইলে চিকিৎসক, নার্সদের মারধরের হুমকি দেয়া হয়, ভাঙচুরও করা হয়।

সুস্থ রোগীকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে না পেরে পুলিশ এবং পরে বরিশাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, যার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো রয়েছে, সেই রোগীও আইসিইউ শয্যা দখল করে বসে রয়েছেন। কোনোভাবেই তাদের বুঝিয়ে নামানো যাচ্ছে না।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, আইসিইউ শয্যা দখল নিয়ে ‘মাস্তানি’ চলে। নেতার লোকজন পরিচয় দিয়ে দখল করে রাখা হয় বেড।

হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে ২৬টি আইসিইউ শয্যা এখন চালু রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জন রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০-এর ওপরে থাকলেও তারা আইসিইউ ছাড়তে চাইছেন না। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত করোনা ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে।

নগরীর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন ২৫ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসিইউ ওয়ার্ডের ৫নং শয্যায় এবং মো. অপু ৪নং শয্যায় ভর্তি হয়েছেন। তবে তারা সুস্থ। একইভাবে ৩নং ও ৭নং শয্যার রোগী সুস্থ হয়েও ছাড়ছেন না।

একজন নার্স জানান, আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ আসার খবরে অনেকে সরে পড়েছেন।

‘আমাদের শুধু বিরক্ত করে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত ঘটায় কিছু লোক। যাদের চিকিৎসা দরকার, তাদের আমরা সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। যে রোগীর আইসিইউ শয্যা দরকার তাকে তো আর আমরা সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠাই না। এটাই কেউ বুঝতে চায় না।’

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাব, সেটাই চিন্তার বিষয়। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। আমার কাছে ফোন আসতেই থাকে। মানুষের তো বোঝা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী অপেক্ষায় থাকেন, সেখানে এমনভাবে দখল করে রাখলে অন্য রোগীরা সমস্যার মধ্যে পড়েন।

‘মাস্তানি করা হয় সেখানে। ডাক্তার-নার্সদের হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। এর মধ্যে আমাদের একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলাও ভাঙচুর করা হয়েছে এই দ্বন্দ্বে। শিগগির আমরা কঠোর কোনো অবস্থানে যাব।’

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘করোনা ইউনিটে যারা চিকিৎসার জন্য যান, তারা প্রায় সবাই মুমূর্ষু অবস্থায় থাকেন। এই হাসপাতালে শুধু বরিশালের ৬ জেলা নয়, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ থেকেও প্রচুর রোগী এসে ভর্তি হন। কতটা হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, সেটা বুঝতে পারছি। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে বিড়ম্বনার কথা শুনেছি।

‘গভীর রাতেও এমন খবর পেয়েছি। ডাক্তারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, বাইরে বের হলে মারা হবে। এমন কেন হবে? ডাক্তাররা তো চেষ্টা করছেন তাদের সাধ্যমতো এই সংকটের মধ্যেও।’

তিনি বলেন, ‘করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না। যার লোকই হোক না কেন, এমন মহামারিতে এমন যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, যা করা দরকার তাই করা হবে।’

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

মারা গেলেন কলকাতায় ফুসফুস নেয়া সেই ব্যক্তি

কলকাতার মেডিক্যা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ফুসফুস প্রতিস্থাপনের দুই দিন পর মারা গেছেন সেই গ্রহীতা। শরীরে রক্তক্ষরণ আর একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক করোনামুক্ত রোগী ১০৬ দিন একমো সাপোর্টে ছিলেন। ৪৬ বছরের ওই ব্যক্তির ফুসফুস খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

পরিবারের চেষ্টায় গুজরাটের সুরাটে এক ব্যক্তির মরণোত্তর দানের ফুসফুস পাওয়া যায়। কলকাতা ও সুরাটের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সুরাট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রিন করিডর অর্থাৎ রাস্তার সব সিগন্যাল সবুজ করে ফুসফুসবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছায়।

প্রায় ছয় ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর ওই রোগীর দেহে ফুসফুসটি বসান পাঁচ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। এদের নেতৃত্বে ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক কুনাল সরকার।

ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিস্থাপনের ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুসের দেয়ালে রক্তক্ষরণ এবং হৃদযন্ত্রের ডান দিকের অংশে দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। গ্রহীতার শরীর দাতার ফুসফুস প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ১৫ মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ১৮৫ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজার ৩৫৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৬ হাজার ২৫৩ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮১৪ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২৬ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

এর আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

১৯ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আর কমল শনাক্তের হার

১৯ মার্চের পর সর্বনিম্ন মৃত্যু, আর কমল শনাক্তের হার

গত একদিনে শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮০ জনের দেহে। কমেছে শনাক্তের হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৫১ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৪১৪ জনের।

একদিনে এর আগে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত ১৮ মার্চ। সেদিন ১৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ২২১টি। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই নিয়ে টানা ছয় দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, আর বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ছিল ৪ দশমিক ৬১ এবং শক্রবার ছিল ৪ দশমিক ৫৬।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, নারী ১৪ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এছাড়া ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭, ষাটোর্ধ্ব ৭ ও সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ১, রাজশাহী ২, সিলেটে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৩১২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৪৭৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

মঙ্গলবার ৮০ লাখ মানুষকে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

আরও বেশি মানুষকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে ফের বড় পরিসরে টিকা ক্যাম্পেইনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ক্যাম্পেইনে এক দিনে ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হবে।

এই টিকা ক্যাম্পেইন আগামী মঙ্গলবার হবে বলে রোববার বিকেলে দেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন দেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে হবে। এক দিনে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৮০ লাখ মানুষ টিকা পাবেন।’

এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শেষ হয়। আগের ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী ও বয়স্কদের। সে ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গতবারের মতো আবার আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান টিকাদান কর্মসূচি বজায় থাকবে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ডোজ টিকা দেয়া হচ্ছে। তার পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে যেতে চায় সরকার। বিশেষ করে যেখানে দারিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছেন, যারা সব সময়ে টিকা নিতে আসতে পারেন না এবং বয়স্ক তাদের টিকা দেয়ার উদ্দেশ নিয়ে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৮ তারিখ আমাদের লক্ষ্য ৮০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া। গতবার টিকা ক্যাম্পেইনে ৪৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ৮০ লাখ টিকা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সক্ষমতা আমরা বৃদ্ধি করতে চাই। আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই কারণে আমার এই দিন ফের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করছি।

ক্যাম্পেইনে নিবন্ধনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পেইনে নিবন্ধন করে যারা টিকা পাননি তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ২৫ বছরের ওপরে সবাইকে টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইনের শুরুতে প্রথম দুই ঘণ্টা ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক নারী, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে টিকা নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসলেও টিকা দেয়া হবে। এবারের ক্যাম্পেইনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের টিকা দেয়া হবে না। ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হবে।

এক মাস পর ফের ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সারাদেশে একযোগ এই টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। যে পর্যন্ত আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজন হলে দুই শিফটে টিকা দেয়া হবে। টিকা দেয়া শেষ হলেও গেলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওই কেন্দ্রে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

যেসব কেন্দ্রে টিকার ক্যাম্পেইন

সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এবং এক হাজার ৫৪টি পৌরসভা ৪৪৩টি ওয়ার্ডে এই টিকা দেয়া হবে। এবং ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকর্মী এই ক্যাম্পেইনে কাজ করবেন। এর মধ্যে সেচ্ছাসেবক ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন। তারা সবাই মিলে এই বিরাট কর্মকণ্ড পরিচালনা করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার লোক এই কাজ করবেন। প্রতিটি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে ৩টি করে বুথ এবং পৌরসভায় ১টি বুথ রাখা হবে।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

গত ৩১ মে দেশে পৌঁছায় ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী যুক্তরাষ্ট্র উদ্ভাবিত ফাইজারের টিকার অন্তত ২৫ লাখ ডোজের একটি চালান দেশে আসছে সোমবার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের কার্গো বিমানে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে। এই চালান সোমবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে।

টিকার এই চালান গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ ৩ হাজার ৮৬০ ডোজ ফাইজারের টিকা দেশে আসে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, মডার্নার ভ্যাকসিনসহ ক্রয়কৃত ও কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় দেশে মোট টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ। এর মধ্যে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে মোট ২ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে; দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে।

চীনের সিনোফার্মের কাছ থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি মাস থেকে প্রতি মাসে ২ কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুরু টিকাদান ক্যাম্পেইন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুরু টিকাদান ক্যাম্পেইন

গত টিকাদান ক্যাম্পেইনের সময় একটি কেন্দ্রের সামনে টিকাপ্রত্যাশীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বরে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

নিউজবাংলাকে রোববার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া শেষ হয়।

আগের ক্যাম্পেইনে অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী ও বয়স্কদের। সে ক্যাম্পেইনে ৪৬ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়।

আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ‘এটি আসলে গণটিকা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন।’

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে এ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

তিনি বলেছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাসে ২ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি বলেছিলেন, ‘টিকা সরবরাহ এখন বেশ ভালো। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে টিকা পাওয়ার উৎসও নিশ্চিত করেছি।

‘এরই ধারবাহিকতায় মাসে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ কোটি থেকে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কী করে বাড়ানো যায় বা সম্প্রসারণ করা যায়, এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।’

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট শুরু মঙ্গলবার

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট শুরু মঙ্গলবার

ফাইল ছবি

বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনার পরীক্ষামূলক টেস্ট এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা যদি সাকসেসফুল হয়, আশা করি সাকসেসফুল হবে, তারপর আমরা এয়ারলাইনসগুলোতে অবহিত করব। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীরা সেখানে পরীক্ষা করাতে পারবেন। কারণ যাত্রার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে প্রথম টেস্ট করাতে হবে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগামী মঙ্গলবার থেকে আরটি-পিসিআর মেশিনে করোনাভাইরাস টেস্ট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে যাত্রার ৪৮ ঘণ্টা ও ৬ ঘণ্টা পূর্বে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট করা বাধ্যতামূলক রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলক টেস্ট (টেস্ট রান) কাজ করছে।

‘এটা যদি সাকসেসফুল হয়, আশা করি সাকসেসফুল হবে, তারপর আমরা এয়ারলাইনসগুলোকে অবহিত করব। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রবাসীরা সেখানে পরীক্ষা করাতে পারবেন। কারণ যাত্রার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে প্রথম টেস্ট করাতে হবে।’

ট্যুরিজম, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে বলে জানান মফিদুর রহমান। বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলোকেও সময় দিতে হবে, টিকিট কাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যখনই জানাবে তারা টেস্টের জন্য রেডি, দিনে কতজন যাত্রী টেস্ট তারা হ্যান্ডেল করতে পারবে, তখনই আমরা এয়ারলাইনসগুলোকে জানিয়ে দেব।’

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই আমরা এয়ারপোর্টগুলোতে সামাজিক দূরত্বসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি এসব ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ছিলাম। এ জন্য করোনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেছে। আমাদের এয়ারপোর্ট বিশ্বের অন্যান্য যেকোনো এয়ারপোর্টের চেয়ে তুলনামূলক বেশি প্রস্তুত ছিল।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা পরীক্ষায় বিমানবন্দরে ১২টি আরটি-পিসিআর মেশিন বসবে। সবকিছুই প্রস্তুত। এই ল্যাব বসলে ২৪ ঘণ্টায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

বিমানবন্দরে দ্রুত করোনা টেস্ট করানোর সুযোগ না থাকায় কয়েকটি দেশের শর্ত ছিল আরটি-পিসিআর বসানোর। এ শর্ত দ্রুত কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভও করেন প্রবাসীরা। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিমানবন্দরে বসছে আরটি-পিসিআর ল্যাব।

এর আগে প্রথমে গত বৃহস্পতিবার ও পরে শনিবার থেকে বিমানবন্দরে আর্টিফিশিয়াল টেস্ট শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি।

আরও পড়ুন:
খুলনা ও সিলেটে ৫৫ মৃত্যু, সুস্থ ১৩৯৩
নিউইয়র্কে বাড়ির বাইরে গেলে থাকতে হবে টিকা সনদ
বরিশাল বিভাগে করোনায় ৫০০ মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ২২ মৃত্যু
অবৈধভাবে টিকা দিয়ে বরখাস্ত রবিউল

শেয়ার করুন