লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুরের একটি বেদেপল্লী। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না। খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

বিভিন্ন গ্রাম্য হাট ও বাজারে ঘুরে সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রি করতেন শেরপুরের শতাধিক বেদে পরিবারের পুরুষরা। নারীরাও বসে থাকতেন না। তারাও গ্রামে গ্রামে ঘুরে জাদু দেখানো, কবিরাজী চিকিৎসা ও তাবিজ বিক্রি করে আয় করতেন।

নারী পুরুষ উভয়ের আয়ে কিছুটা টানাটানি থাকলেও বেশ ভালোভাবেই চলত তাদের সংসার। তবে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আয় না থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় সরকারি সহায়তাও পান না তারা ঠিকমতো। পাচ্ছেন না করোনাকালীন প্রণোদনাও।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশেই বসবাস করছে বেদেপল্লির ৪০টি পরিবার। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও প্রায় ৬০টি পরিবার।

এসব বেদেরা জানান, করোনার কারণে শেরপুরে চলমান লকডাউন ছাড়াও অনেক দিন ধরেই হাট-বাজারে লোক সমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাই এখন সাপ ও বানরের খেলা এবং তাবিজ বিক্রির জন্য বসতে পারছেন না পুরুষরা। খাবারের অভাবে তাদের ধরা অনেক সাপ মারা গেছে। নতুন সাপও ধরতে পারছেন না।

নারীও করোনার কারণে বাড়ি বাড়ি যেতে পারছেন না। এতে তাদের আয়ও বন্ধ। এমন অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা।

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

বেদে সর্দার ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন। করোনাও বেশি হওয়ায় কোথাও মজমা বসাতে পারি না।

‘খাদ্যের অভাবে সাপগুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছি না। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

সোহেল নামের একজন যশোর থেকে এসেছেন ব্রহ্মপুত্র সেতুর পাশের বেদেপল্লীতে।

তিনি বলেন, ‘আমি হাটে-বাজারে বান্দরের খেলা দেখিয়ে যা আয়-রোজগার করি, তাই দিয়ে সংসার চালাই। এহন তো কোনো মজমা বসাবার পারি না। এহন খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। কেউ তো আমাগো সাহায্যও দেয় না। এহন আমরা কী কইরা চলি।’

বেদেনি মারুফা বলেন, ‘আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি আর ম্যাজিক খেলা দেখাই। কোমর-হাঁটুর বিষ-বেদনা সারানোর চিকিৎসা করি। কিন্তু করোনার কারণে এহন আমাগো কেউ বাড়িতেই ঢুকতে দিবার চায় না।

‘এহন আমাগো কামাই বন্ধ। খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। হুনতাছি সরকার সবারেই সাহায্য করতাছে। আমাগো তো কোনো সাহায্য করতাছে না।’

আরেক বেদেনি রীনা বেগম বলেন, ‘কি আর কমু, আমাগো দুঃখ দেহে কেডা। কত যে কষ্ট করতাছি। কেউ তো আমাগো সাহায্য করতাছে না।

‘আমাগো তো কোনো জাগা-জমি নাই। যেহানে পারি সেহানেই তাহি। কামাই না অইলে খামু কি গো। মানুষ তো আমাগোরে বাড়ি যাইবার দিবার চায় না। বাজারেও মজমা বসান যায় না। এহন আমরা কী করমু?’

লকডাউনে বেকার বেদে পরিবারে দুর্দিন

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, ‘আমরা এসব বেদে পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের জন্য কোনো বরাদ্ধ না থাকায় আর্থিক সহায়তা করতে পারছি না।

‘তবে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক স্যার আশ্বাস দিয়েছেন তাদের জন্য সাহায্যের একটা ব্যবস্থা করবেন।’

শেরপুর সদর উপজেলার ইউএনও ফিরোজ আল মামুন জানান, তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক নিহত

বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক নিহত

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম জানান, সাহাজত আরও দুই জন নিয়ে হিলি থেকে বাইকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন। ফুলবাড়ী শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সাহাজত নিহত হন।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাইকে ট্রাকের ধাক্কায় কাস্টমস পরিদর্শক সাহাজত আলী নিহত হয়েছেন।

ফুলবাড়ী পৌর শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সাহাজত আলী ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নেকমরদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা কাস্টমসের পরিদর্শক ছিলেন।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম জানান, সাহাজত হিলি থেকে মোটরসাইকেলে সৈয়দপুর বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন। একই বাইকে ছিলেন আমিনুর রহমান ও হরিশ চন্দ্র রায় নামের আরও দুই জন।

শহরের রেলক্রসিংয়ের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সাহাজত নিহত হন। দুর্ঘটনায় বাইকের অপর দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ট্রাকচালক হাফিজুর রহমান রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে থানায় ইউডি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

পাহাড়ে ১০ কোটি টাকার কাজ বাগাতে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট

পাহাড়ে ১০ কোটি টাকার কাজ বাগাতে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট

রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় রিংওয়েল ও গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ১৩ গ্রুপে ১০ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহ্বান করে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। ই-জিপি টেন্ডারের দরপত্র আহ্বান করে দেশের দুটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় প্রকৌশল বিভাগ।

অনলাইনে টেন্ডার হলেও জালিয়াতি করে রাঙামাটিতে ১০ কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের স্থানীয় ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট এই কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে নাম উঠেছে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর।

সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, তারা অনলাইনে নিয়ন্ত্রিত টেন্ডার জমা দিতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলায় রিংওয়েল ও গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ১৩ গ্রুপে ১০ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহ্বান করে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। ই-জিপি টেন্ডারের দরপত্র আহ্বান করে দেশের দুটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় প্রকৌশল বিভাগ।

দরপত্রে শর্ত ছিল, ৮ সেপ্টেম্বর মধ্যে তা জমা দিতে হবে। তবে তার এক দিন আগেই নিজেদের সাজানো দরপত্র দিয়ে অনলাইনে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অভিযোগ ওঠে ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

চেষ্টা করেও অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিন্ডিকেটটির ঠিকাদাররা প্রত্যেক গ্রুপের কাজে নিজের সিডিউলের (দরপত্র) সমর্থনে তাদের নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদারি লাইসেন্সের নামে আরও ৪-৫টি করে ত্রুটিযুক্ত সিডিউল সাজিয়ে অনলাইনে জমা দেন, যাতে করে বাছাইয়ে নিজের সিডিউল টিকিয়ে কাজ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চিত করা হয়।’

তার দাবির সঙ্গে অন্য কয়েকজন ঠিকাদারও সমর্থন জানান।

তাদের ভাষ্য, এই কাজ করতে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন নিয়েছেন রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে।

অনুপম দে এমন অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রচারবহুল পত্রিকায় প্রকাশ করে প্রকাশ্য ই-জিপি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যে কোনো জায়গা থেকে বৈধ ঠিকাদাররা অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পেরেছেন।

‘কাজেই এখানে কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। যারা ইচ্ছুক, সেসব ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে টেন্ডার জমা দিয়েছেন।’

অনুপম দে বলেন, ‘প্রত্যেক গ্রুপ কাজে ৪-৬টি সিডিউল পাওয়া গেছে। সিডিউলগুলো অনলাইন থেকে নামিয়ে জমা করা হয়েছে। এখনও বাছাই করা হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ও সঠিক দরদাতাকে কাজ দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

ট্রেনে বাচ্চা প্রসবে এগিয়ে আসা সেই চিকিৎসক

ট্রেনে বাচ্চা প্রসবে এগিয়ে আসা সেই চিকিৎসক

ফারজানা তাসনিম।

ট্রেনে সন্তান প্রসব করা সাবিনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মা-মেয়ে দুজনই এখন ভালো আছে।

রাত তখন সাড়ে ৯টা। গত বৃহস্পতিবার এই সময়টাতে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনে নিজের আসনেই বসেছিলেন ফারজানা তাসনিম। যাচ্ছিলেন বাড়ি। রাজশাহী নগরীর উপশহরেই তার বাসা।

হঠাৎ করেই ট্রেনের মাইকে একটি জরুরি ঘোষণা ভেসে এল। প্রসবব্যথা শুরু হয়েছে এক নারীর! এ অবস্থায় ট্রেনে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না, জানতে চাইছিলেন একজন।

৪২তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ফারজানা তাসনিম সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদানের অপেক্ষা করছেন। তাই মাইকের ঘোষণাটি শুনে তিনি আর বসে থাকতে পারেননি। দৌড়ে গেলেন ব্যথায় কাতর সেই নারীর কাছে।

ততক্ষণে অবশ্য সেই নারী এক কন্যাসন্তান প্রসব করে ফেলেছেন। কিন্তু এ নিয়ে মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন তার কাছে থাকা স্বজনরা। কারণ সন্তান প্রসবের পরও আরও কিছু জটিলতা থেকে যায়। এ ব্যাপারে দক্ষ মানুষেরাই তার সমাধান করতে পারেন।

ফারজানা তাসনিম দেখতে পান শিশুটির নাড়ি তখনও মায়ের গর্ভের সঙ্গে আটকে আছে। সুদক্ষ চিকিৎসকের মতোই দ্রুততার সঙ্গে সদ্যোজাত শিশুর নাড়িটি কেটে দেন তিনি। তার আকস্মিক এমন আবির্ভাবে স্বস্তি ফিরে আসে স্বজনদের মধ্যে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সন্তান প্রসব করা সেই নারীও সাহস ফিরে পান।

ট্রেনের মধ্যে সন্তান প্রসব করা সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। সন্তান প্রসবের জন্যই তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তার আগেই ট্রেনের মধ্যে সন্তান প্রসব করায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন তিনি। ঝুঁকিতে ছিল তার সদ্যোজাত কন্যাসন্তানও। তবে চিকিৎসক ফারজানা তাসনিম দেবদূতের মতো হাজির হয়ে তাদের রক্ষা করেন।

ফারজানা বলেন, ‘সাধারণত বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই মায়ের সঙ্গে যে নাড়ি থাকে সেটি কেটে ফেলতে হয়। বেশি দেরি হলে মায়ের সমস্যা না হলেও বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। সেই সমস্যা থেকে বাচ্চা মারাও যেতে পারে।’

সন্তান প্রসবের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘তারা একটা পরিবেশ করে দিয়েছেন। বগিটা ফাঁকা করেছে। যখন যা দরকার দিয়েছেন। এমনকি ফাস্ট এইড বক্সও তারাই সরবরাহ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রেনটি দ্রুত গতিতে চালিয়ে তারা রাজশাহীতে নিয়ে এসেছেন।’

রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর বগুড়ার শহীদ জিয়াাউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ফারজানা তাসনিম। ইন্টার্ন করেন সেখান থেকেই। এরপর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আরবান হেলথ কেয়ারে চাকরি করেছেন। তার বাবা সোলায়মান আলী গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।

সাবিনা ও তার কন্যাসন্তান এখনও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে। সাবিনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মা-মেয়ে দুজনই এখন ভালো আছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তবে কত দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি গোলাম মোস্তফা। এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামে আব্দুর রহিম সুপার মার্কেটের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম, মো. ইউসুফ, মো. সুমন ও মো. জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি শিলমুদ গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হয়েছিল। পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। খুঁটি লাগোয়া একটি গাছও বিদ্যুতায়িত ছিল। সেই গাছের ডালের সঙ্গে হাত লাগে আব্দুর রহিমের। তাকে বাঁচাতে এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসূফ, সুমন ও জুয়েল এগিয়ে যান। এতে তারাও বিদ্যুতায়িত হন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া শিলমুদ মধ্যপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের দাফন করা হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও, তা আমলে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ উল্ল্যাহ্‌ বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ দেয়। ১০ বছর আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এখতিয়ার চলে যায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।’

নিহত আব্দুর রহিমের শ্যালক মোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকবার তাদের খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।’

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই খুঁটিটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম বাধা দেন। এজন্য খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

নোয়াখালী জেলায় গত এক সপ্তাহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ৬ জন। গত বুধবার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের হেলে পড়া একটি খুঁটির তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মফিজ উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি।

মফিজ উল্যাহর পরিবারের অভিযোগ, খুঁটি সরাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা সরায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কবিরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাজ্জাদ হোসেন রিফাত নামের আরও এক স্কুলছাত্র।

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ

প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে আ.লীগ

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তৈরি করা ব্যানারের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভানু লাল রায়। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারের নিয়ম নেই। তবে শ্রীমঙ্গল শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের মৌলভীবাজার সড়কের নাহার পেট্রলের পাশে সেন মার্কেটে তৈরি করা হয়েছে আলোকসজ্জাসহ নৌকা। শহরের শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার ও মাইক্রোবাসে সাটানো হয়েছে প্রার্থীর ছবি সম্বলিত স্টিকার।

মৌলভীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আচরণবিধি ভেঙে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভানু লাল রায়ের বিরুদ্ধে।

প্রতীক বরাদ্দের আগেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে নৌকার জন্য ভোট চাইতে দেখা গেছে তাকে।

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও অন্য প্রার্থীরাও বসে নেই। তারাও অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন ঘরোয়া সভায়।

তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

নির্বাচন অফিস থেকে জানা যায়, গত ০২ সেপ্টেম্বর এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। রোববার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ তারিখ প্রতিক বরাদ্দের পর ভোট হবে ৭ অক্টোবর।

নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচারের নিয়ম নেই। তবে শ্রীমঙ্গল শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের মৌলভীবাজার সড়কের নাহার পেট্রলের পাশে সেন মার্কেটে তৈরি করা হয়েছে আলোকসজ্জাসহ নৌকা। শহরের শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার ও মাইক্রোবাসে সাটানো হয়েছে প্রার্থীর ছবি সম্বলিত স্টিকার। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রার্থীকে নিয়ে মৌলভীবাজার সড়কে মোটরসাইকেল শোডাউনও হয়।

এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিন ‘বিজয়ের মালা আনব, ৭ তারিখ নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাব’-এমন ব্যানার নিয়ে উপজেলা রাধানগর, রুপসপুর, সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ উত্তরসুর, আমানতপুর এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে নৌকার জন্য ভোট চাইতে দেখা গেছে। এসব অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসেছে।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক বলেন, ‘আমরা নির্বাচন অফিসে বার বার অভিযোগ দিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। আমরা মর্মাহত। এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার করার ফলে শ্রীমঙ্গলের শান্তি নষ্ট হবে।

‘আমরা চাই একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এভাবে প্রতিদিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার করা ঠিক হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে শনিবার বিকেলে নৌকার প্রার্থী ভানু লাল রায়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। তবে তার এক ঘনিষ্ঠজন ফোন ধরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন; ব্যস্ত। পরে কল দেন।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন ইকবাল বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি আমার জানা নেই। ২০ তারিখ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হবে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তপন জ্যোতি অসিম বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা করার পর এভাবে কেউ প্রচার করতে পারবের না। সেটা আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। আমাদের কাছে কোনো প্রার্থী অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

ঘরের দরজায় টাকা-চিরকুট রাখল কে

ঘরের দরজায় টাকা-চিরকুট রাখল কে

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী পৌরসভার সুখাতী ভাটিয়াটারী গ্রামে কয়েকটি বাড়ির দরজায় চিরকুট ও টাকা রেখে গেছেন কেউ। ছবি: সংগৃহীত

হাসানুর রহমান বলেন “দেখি কেউ একজন বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছেন। পিছু পিছু গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। ফিরে এসে দরজা বন্ধ করতেই চোখে পড়ে ১০০ টাকার একটি নোট। টাকায় স্টাপলার লাগানো একটি চিঠি। সেখানে লেখা ‘এই টাকার ক্ষতি করেছি, নিয়ে মাফ করে দেবেন’।”

কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী পৌরসভার সুখাতী ভাটিয়াটারী গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়ির দরজায় চিরকুটের সঙ্গে স্ট্যাপলার করে টাকা রেখে গেছেন কে বা কারা। চিরকুটে লেখা- ‘এই টাকাটা ক্ষতি করেছি, নিয়ে মাফ করে দেবেন’।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে। এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

গ্রামের হাসানুর রহমান বলেন, ‘রাতের খাওয়া শেষে সাড়ে ৮টায় ঘরের দরজা লাগিয়ে সবাই শুয়ে পড়ি আমরা। তবে কাল তখনও কেউ ঘুমায়নি। ঘরের আলো নেভানোও হয়নি। রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ কোনো মানুষের পায়ের শব্দ শুনে দরজা খুলে বের হই।

“দেখি কেউ একজন বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছেন। পিছু পিছু গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি। ফিরে এসে দরজা বন্ধ করতেই চোখে পড়ে ১০০ টাকার একটি নোট। টাকায় স্টাপলার লাগানো একটি চিঠি। সেখানে লেখা ‘এই টাকাটা ক্ষতি করেছি, নিয়ে মাফ করে দেবেন’।”

তিনি জানান, একইভাবে এলাকায় আরও অনেক কয়েকটি বাড়িতে এমন টাকা রেখে গেছে।

এলাকার আব্দুল বারেকের ঘরের দরজায় ১০ টাকা, আব্দুস সাত্তারের ঘরের দরজায় ৫০ টাকা, সাইদুরের ঘরের দরজায় ৩০ টাকা, মজনু মিয়ার ঘরের দরজায় ১০০ টাকা একইভাবে রেখে গেছে কেউ।

ঘটনাটি খুব দ্রুতই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষজন সেসব বাড়িতে গিয়ে ভিড় জমায়।

এটি নিছক রসিকতা না অন্য কিছু এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে এলাকায়।

পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কমিশনার রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় এমন ঘটনার বিষয়টি আমার কানেও এসেছে। কে, কেন এ কাজটি করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়।’

এই বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিউল হাসান বলেন, ‘এমন ঘটনা জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র: শ্রমিক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র: শ্রমিক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ

কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, ‘বিগত দিনে আশ্বাসের বার্তা দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবতা নেই। সে জন্য আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি আমরা। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকব।’ 

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক নিয়োগের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে আন্দোলন পরিচালনা কমিটি।

উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মোড় থেকে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার সেখানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র আন্দোলন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তাপবিদ্যুৎ নির্মাণের শুরু থেকে স্থানীয়রা উন্নয়ন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছি। স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘ চার বছর ধরে আমরা আন্দোলন করে আসছি।

‘সেই সময় ১৪৩ জন উন্নয়ন শ্রমিককে উৎপাদন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র ২০ জন শ্রমিককে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় আমরা চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’

কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, ‘বিগত দিনে আশ্বাসের বার্তা দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবতা নেই।সে জন্য আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি আমরা। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাস্তায় থাকব।’

মানববন্ধনে বক্তারা দুমুঠো ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এস এম ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছুই করার নেই। এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। তাই তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন:
রাস্তায় বাস নামলেও যাত্রী কম ঢাকায়
ব্রেকআপের ভয়ে প্রেমিকা নিয়ে ঘুরতে গিয়ে জরিমানা
রোববার চলবে বাস
বন্দরনগরীমুখী মানুষের ঢল
আশপাশের শ্রমিক দিয়ে খুলবে কারখানা

শেয়ার করুন