আশ্রয়কেন্দ্রে পাহাড়ের আরও ১ হাজার মানুষ

আশ্রয়কেন্দ্রে পাহাড়ের আরও ১ হাজার মানুষ

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার এই বাসিন্দাদের বিভিন্ন স্কুল, কলেজসহ ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারও দেয়া হচ্ছে। আছে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও।

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় কক্সবাজারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ আটটি পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশিদ সোমবার সকালে জানান, রোববার দিনভর ১ হাজার ২০০ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে সাড়ে তিন হাজার মানুষকে বিভিন্ন পাহাড় থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার এই বাসিন্দাদের বিভিন্ন স্কুল, কলেজসহ ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারও দেয়া হচ্ছে। আছে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও।

ডিসি মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মুরাদ ও র‍্যাব-পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে কাজ করছেন।

রোববারের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ডিসি বলেন, ‘পাহাড়ধসে এরইমধ্যে ১৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বসতবাড়ি। কাউকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করতে দেয়া হবে না। জীবনের নিরাপত্তার বিষয়, আপনাদেরও সেটি বুঝতে হবে। প্রশাসনের আটটি টিম কাজ করছে।

‘তারা স্বেচ্ছায় না গেলে প্রশাসনের টিম গিয়ে ঘরগুলো তালা মেরে দিবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আশ্রয়কেন্দ্রে পাহাড়ের আরও ১ হাজার মানুষ

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ‘পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। তাই একটু সময় দরকার। তারপর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একটি কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে মধ্যে ওয়ার্ড পর্যায়ে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‘এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের স্থায়ী আবাসনের জন্য জায়গায় খোঁজা হচ্ছে। জায়গায় পেলেই তাদের পুনর্বাসন করা হবে।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, সেখানকার পাহাড়ি অঞ্চলে ৩ হাজার ৫২৫ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তাদের দিনে উচ্ছেদ করা হলে আবার রাতে সেখানে ফিরে যায়।

জেলা প্রশাসনের হিসেবে, গেল ৯ বছরে জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক।

এর মধ্যে ২০১০ সালের জুন মাসে পাহাড়ধসে সাত সেনা সদস্যসহ ৫৬ জনের মৃত্যু হয়।

সবশেষে গত ২৭ জুলাই একদিনে ৫ রোহিঙ্গাসহ ১৪ জন প্রাণ হারান।

জেলার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, পাহাড়ধসের শঙ্কায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে এরইমধ্যে দুই হাজার পরিবারের নয় হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখরা গ্রামে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেতে চলতি মাসের শুরুতে গ্রামের মসজিদে দোয়ার ব্যবস্থা করেন ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুল লতিফ। ইমাম নামাজ শেষে দোয়া করেন।

কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে জয় পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আনিসুর রহমানের সমর্থক ফারুক মসজিদের ইমামকে ওই দিন দোয়া করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল লতিফের সমর্থক বাবুল ফকির। একপর্যায়ে তারা তর্কে জড়ান। পরে নামাজ শেষে দুই পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছেন আনিসুরের লোকজন। তাদের হামলায় আমার ১৩ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবুল ফকিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে বাবুল ফকির, কামরুল ইশারাত শেখসহ বেশ কয়েকজন আমার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবি, দুই জেলের মৃত্যু

জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবি, দুই জেলের মৃত্যু

মনপুরা থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানান, মনপুরার গিয়াস উদ্দিন মাঝির ট্রলারে ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়। পাশেই থাকা কামাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা দুই জেলের মরদেহ ও আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

বঙ্গোপসাগরে জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবিতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ এক জেলে।

চট্টগ্রাম গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে শুক্রবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই জেলে হলেন ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের মো. রুবেল ও দাসেরহাট গ্রামের মো. মাফু।

নিখোঁজ জেলে মিজানুর রহমানের বাড়িও চরফৈজুদ্দিন গ্রামে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, মনপুরার গিয়াস উদ্দিন মাঝির ট্রলারে ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়।

পাশেই থাকা কামাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা দুই জেলের মরদেহ ও আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

ওসি জানান, কামাল মাঝির ট্রলারে জীবিত ও মৃত জেলেদের মনপুরা আনা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন। নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ধাক্কা দেয়া জাহাজের বিষয়ে তিনি জানান, জেলেরা ওই জাহাজ শনাক্ত করতে পারেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা জানান, মৃত জেলেদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে সড়ক অবরোধ করে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সপ্তাহ উপলক্ষে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শুক্রবার দুপুরে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিভাগীয় প্রশাসন এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল, ফ্রেন্ডস ফর ফিউচার এর বাংলাদেশ কো-অরডিনেটর ফারিয়া হোসেন অমি, সিভিল সোসাইটির মো. আনোয়ার, ইউনিসেফের বরিশাল প্রধান তৌফিক আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। বাড়ছে সাইক্লোন, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাড়েছে নদী ভাঙন।
পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে ৩৫টি যুব সংগঠনের কর্মীরা শোভাযাত্রা করে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পাঁচ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

দেয়াল ধসে বর আহত, ভাইয়ের মৃত্যু

দেয়াল ধসে বর আহত, ভাইয়ের মৃত্যু

এই দেয়াল ধসে কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা।

হাটহাজারী থানার এসআই মো. রফিক জানান, শুক্রবার সবুজ তার চাচাত ভাই নজরুল ইসলামের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যান। সেখানে নজরুল ও তার ওপর প্রতিবেশীর সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চাচাত ভাইয়ের গায়ে হলুদে গিয়ে দেয়াল ধসে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বর।

হাটহাজারী পৌরসভার কুড়িয়ার দিঘীর পাড় এলাকায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত মো. সবুজের বাড়ি ওই এলাকাতেই। তিনি হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার সবুজ তার চাচাত ভাই নজরুল ইসলামের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যান। সেখানে নজরুল ও তার ওপর প্রতিবেশীর সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে। তাদের উদ্ধার করে হাটহাজারী আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

বিয়ের আসরে শোকের হানা

বিয়ের আসরে শোকের হানা

নোয়াখালী সদরে গাছে ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিলেন। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শোনে নাই। একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

বিয়ের আনন্দে হঠাৎ শোকের ছায়া। পণ্ড হয়ে গেল আয়োজন।

বিয়ের আসরে যাওয়ার পথে বরবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগলে নিহত হন বরের বোন। নিজেও আহত হন বর।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়ন সমিতি মসজিদ এলাকায় মান্নাননগর-আলেকজান্ডার সড়কে শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । অন্যদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন।

নিহত গৃহবধূর নাম সুমি আক্তার। তিনি সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও বর মো. রাব্বির বোন।

আহতদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে।

ওসি সাহেদ জানান, আহতদের মধ্যে এওজবালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মুন্নি বেগম ও মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. দুলালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং মো. রাসেলের স্ত্রী পপি আক্তার ও মো. খোকনের ৯ বছরের শিশু সিফাতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন বর মো. রাব্বি, সোনাদিয়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন শিহাব উদ্দিন, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তাদের ১২ বছরের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার, পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার, তিন বছরের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার এবং দুই বছরের ছেলে মো. শাওন, খোকনের মেয়ে রোজিনা আক্তার ও ছেলে তিন বছরের কাউছার আহম্মেদ, মোমিন উল্যার ছেলে ১৩ বছরের আবদুর রহমান ও ১২ বছরের বিজয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার মো. রাব্বির সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার গুচ্ছগ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। দুপুরে একটি ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাসে বরসহ ২০ বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। মাইক্রোবাসটি এওজবালিয়া ইউনিয়নের সমিতি মসজিদ এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। এ সময় বরের বোন সুমি আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিলেন। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শোনে নাই। একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।’

সুধারাম থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় বিয়ের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছ বলে জানিয়েছেন মো. রাব্বি।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্যরা

কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

কক্সবাজারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কিছু ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করব‌ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজার উখিয়া ৪ নং রাজাপালং ইউপির উখিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ব্যাগ ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ তল্লাশি করে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে।’

এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২ পিস ইয়াবাসহ ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) টহল দল।

আরও পড়ুন:
ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটা পাহাড়ে ধস
পাহাড়ধস: নিরাপদ আশ্রয়ে ২ হাজার মানুষ
চট্টগ্রামে পাহাড় থেকে সরানো হলো ১৩০ পরিবার
চট্টগ্রামে অতিভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা শহরে
৯ হাজার রোহিঙ্গা নিরাপদে

শেয়ার করুন