দিনমজুরের ঘর ভেঙে বসতভিটা দখলের চেষ্টা

দিনমজুরের ঘর ভেঙে বসতভিটা দখলের চেষ্টা

‘আমি হানিফকে এই জায়গা কেনার আগেই এরকম এত অংশীদারীর জায়গা কিনতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু হানিফ কিছু অংশ কিনে এখন পেশীশক্তি খাটিয়ে পুরো জায়গার দখল নেয়ার চেষ্টা করছে।’

সিরাজগঞ্জে এক দিনমজুরের ঘর ভেঙে দিয়ে প্রতিবেশী তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চর চাদই মধ্যপাড়ায় দিনমজুর মো. সুমনের ঘর ভাঙচুর করছে প্রতিবেশী আবু হানিফ ও তার পরিবারের লোকজন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিনের দোচালা ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়।

রোববার বিকেলে মধ্যপাড়ায় গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, সুমন এই বাড়িতে কয়েক পুরুষ ধরে থাকেন। এখন এখানে তার সঙ্গে স্ত্রী ছালমা খাতুন ও দুই শিশু সন্তান থাকে। দুই সন্তানের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী।

গত ১ বছর ধরে প্রতিবেশী আবু হানিফ বাড়িটি নিজের বলে দাবি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার বিচার সালিশও হয়েছে।

সুমন নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার বিকেলে তার স্ত্রী ঘরে বসে সন্তানকে খাওয়াচ্ছিল। এমন সময় হানিফ, তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন, তাদের ছেলে মকবুল, পুত্রবধূ শাহিনুর খাতুন, মিনা খাতুন তাদের ঘরে এসে লাঠিসোটা, লোহার রড, দা, শাবল ও লোহার পাইপ দিয়ে ভাঙচুর করে।

বাধা দিতে গেলে তারা সুমন ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ওপরও হামলা চালিয়ে আহত করে।

তবে আবু হানিফের দাবি, সুমনের এই বসতভিটা ১ বছর আগে তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু সুমন বাড়ির দখল ছাড়ছিল না।

শাহজাদপুর থানায় অভিযোগ দিলেও সুমনরা তাদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হয়নি। শনিবার দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

দুজনের প্রতিবেশী আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমি হানিফকে এই জায়গা কেনার আগেই এরকম এত অংশীদারীর জায়গা কিনতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু হানিফ কিছু অংশ কিনে এখন পেশীশক্তি খাটিয়ে পুরো জায়গার দখল নেয়ার চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে জানান, উভয়পক্ষই দুটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

মারধরে আহত রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক। ছবি: নিউজবাংলা

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের পর অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তারা গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেকে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে শুক্রবার তিনি মামলা করতে পারেন।

কলেজ থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে সমাজকর্ম বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজন শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা অধ্যক্ষের কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।

পরে ৫-৬ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ উমরুল হককে মারধর করে বাইরে থেকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হক মারধরের অভিযোগ করলেও কারণ বলেননি। তবে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হান্নানের মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। আহত শিক্ষক দাবি করেছেন, কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেছেন।’

ওসি আরও বলেন, ‘এখনও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তিনি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষক তাকে মারপিট করেন। সম্প্রতি পিবিআই ওই ঘটনার তদন্ত শেষে ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমরুল হকও রয়েছেন।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার পর বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়। বেগমগঞ্জের একাধিক পূজা মণ্ডপ, মন্দির এবং বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার পর তাকে বদলির দাবি জানিয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

এই দাবি ওঠার পর কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলির অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে বেগমগঞ্জ থানা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কুমিল্লা, চাঁদপুরের পর দেশে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ওই সময় লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

শেয়ার করুন

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে এক শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে দিনাজপুরের আমলি আদালতে (বোচাগঞ্জ) নেয় পুলিশ। আসামিরা ওই শিক্ষিকাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান বলে সন্ধ্যায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বোচাগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শিক্ষিকার করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেয়া হয়। সেখানে আসামিরা শিক্ষিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ধর্ষণের কথা তারা স্বীকার করেননি, মেডিক্যাল রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন উপজেলার সুলতানপুর আবাসনের মামুনুর রশিদ ও সেনিহারী গ্রামের সুজন আলী। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর।

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ওই দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ওই শিক্ষিকা বুধবার রাতে দুজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ওই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান সরকার জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে বিকেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

মারধরের শিকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঐশ্বর্য সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ঐশ্বর্য সরকার। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বরখাস্ত হওয়া তিন আনসার সদস্য হলেন মো. মাসুদ, মো. শরীফ ও মো. শফিকুল। তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে মাসুদ ও শরীফকে মেডিক্যাল কলেজ থেকে সরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। ঐশ্বর্য তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটনকে জানালে তিনি হাসপাতালে আসেন। তাকে আমরা হাসপাতালের উপপরিচালকের কাছে নিয়ে যাই।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিক্ষার্থীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া যায়। তখনই দুই আনসার সদস্যকে ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফের সঙ্গে শফিকুলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ ঘটনার সময় শফিকুল ওই দুই আনসার সদস্যকে না ফিরিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরকে আনসার ক্যাম্প থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান সহকারী জেলা কমান্ডেন্ট সোহাগ পারভেজ। অন্য সদস্যরা হলেন জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট ওসমান গণি ও উপজেলা আনসার কমান্ডার রমজান মিয়া। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রতিবেদন পেলে ওই তিন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুতসহ কালোতালিকাভুক্ত করা হবে বলেও জানান নূরে আলম।

শেয়ার করুন

চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি

চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি

তৌহিদী জনতার ব্যানারে মিছিল নিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। ফাইল ছবি

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনা সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে যাচাই-বাছাই করে এবং গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামের নেতা ও হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আব্বাসী।

চাঁদপুর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক কামাল উদ্দিনের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মিলন মাহমুদ।

এর আগে বুধবার রাতে কামালকে হাজীগঞ্জ থেকে আটকের পর পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এসপি মিলন মাহমুদ নিউজবাংলাকে জানান, হাজীগঞ্জে পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ দুটি মামলা করেছে। বাকি আটটি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ। এসব মামলায় এজারনামীয় ৭ জনসহ আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় পাঁচ হাজার জনকে।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসপি আরও জানান, ঘটনার সময় বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনা সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে যাচাই-বাছাই করে এবং গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার ঘটনায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার একটি মিছিল বের করা হয়। সেই মিছিল থেকে মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ হয়।

ওই সময় হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), দি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান, জমিদার বাড়িসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন।

শেয়ার করুন

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার গোখরা সাপের ৮টি বাচ্চাকে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।

উপজেলার পশ্চিমে পাহাড়ি বনে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে হাটহাজারীর সরকার হাটের বালুরটাল নামক এলাকার একটি বাসা থেকে গোখরা সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করা হয়।’

শেয়ার করুন

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

নীলফামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য কেনা বাবদ ১৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দেশের চার জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তার জন্য সরকার ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দ হয়েছে চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে গো-খাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা ও শিশুখাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে মোট চার হাজার শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাবারের প্রতিটি প্যাকেটে আছে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি দেশি মসুরের ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুঁড়াসহ মোট আট ধরনের খাবার ও মসলা।

মন্ত্রণালয় জানায়, চার সদস্যের একটি পরিবার প্রতিটি প্যাকেটের খাবার অন্তত এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারবে। বরাদ্দ করা টাকা ও খাবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

শিশুখাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, মসুর ডাল, সাগু, ফার্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইং ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেড ফুডসহ খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গো-খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ভুসি, খৈল, চালের কুঁড়া, চিটাগুড়, খড়সহ মানসম্মত রেডিমেড ফুড স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত বিতরণ করতে হবে।

শেয়ার করুন