‘পিটিয়ে ভারত পাঠিয়ে দেয়ার’ হুমকি ইউএনওর

player
‘পিটিয়ে ভারত পাঠিয়ে দেয়ার’ হুমকি ইউএনওর

আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা।

লালমনিরহাটের আদিতমারীর ইউএনওর বিরুদ্ধে স্থানীয় দুই জনকে হুমকি ধমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে নালা তৈরিতে আপত্তি জানালে ইউএনও তাদেরকে ‘থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেয়ার’ কথা জানানোর পাশাপাশি জমি খাস করে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন বেশ কয়েকজন। জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণে বাধা দেয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদেরকে থাপ্পড় দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনসুর উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় করুণা কান্ত রায় নামে একজন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এতে বলা হয়, গত ১৭ জুলাই আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এ ১৬টি গৃহহীন পরিবারের জন্য মুজিব পল্লীতে বৃষ্টির পানি জমে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই প্রকল্পের পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

ইউএনও মনসুর উদ্দিন ওই দিন নিজেই উপস্থিত থেকে করুণা কান্ত রায়ের জমির মাঝ দিয়ে নালা তৈরির কাজ শুরু করেন।

করুণা বাধা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন সরকারি খাস জমি থাকা সত্ত্বেও জোর করে তার জমি নেয়া হচ্ছে।

পরে তাদেরকে হুমকি ধমকি দেয়ার পাশাপাশি পুলিশও ডেকে আনেন ইউএনও। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে যায়।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি সেখানে যাইনি। তবে সেখানে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে তিনি তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট আহ্বান করেন। পরে ঘটনাস্থলে আমার একটি টিম সেখানে যায়।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মনসুর উদ্দিনের বক্তব্য জানতে পারেনি নিউজবাংলা। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও তদন্ত করা হয়নি। তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কী অভিযোগ

করুণা কান্ত রায় বলেন, ‘আমার জমির মাঝ বরাবর দিয়ে ড্রেন না করে জমির এক পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেন তাতে আমার জমিটা ভালো থাকবে।’

এ সময় তার বড় ভাই অমূল্য কুমারও ইউএনওকে জমির এক পাশ দিয়ে নালা তৈরি করতে বলেন।

অভিযোগে বলা হয়, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ইউএনও উত্তেজিত হয়ে করুণা ও তার দুই ভাই অমূল্য কুমার ও সুনীল কুমারকে গালাগাল করে বলেন, ‘আমি এই উপজেলার মালিক, আমি ইউএনও মনসুর উদ্দিন বলছি। আমি যে সিদ্ধান্ত দেব, সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে।’

সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে কী হবে সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন ইউএনও। বলেন, ‘একেবারে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফালায় দেব। এর পরেও যদি এখানে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় তাহলে তাদের জমি খাস করে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেব এবং দরকার হলে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দেব।’

তারা বলেন, এরপর ইউএনও আদিতমারী থানায় ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে আসেন। আর পুলিশ এসে পরিস্থিতি দেখে কাউকে কিছু না বলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

করুণা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তার এ আচরণে আমরা মর্মাহত। একজন ইউএনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন আমার জানা নেই।

‘আমি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ও ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেন নাই।

‘আমার বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি দীর্ঘদিন হতে ভোগ দখল করে আসছি। তিনি (ইউএনও) খাস জমির উপর ড্রেন নির্মাণ না করে, যেখানে একশ গজ ড্রেন নির্মাণ করলে কাজ হবে, সেখানে উনি আমার জমিতে প্রায় পাঁচশ গজ ড্রেন নির্মাণ করার জন্য জেদ করে মাটি খুঁড়েছেন। এটি ওনি কীভাবে করতে পারেন?’

অমূল্য কুমার বলেন, ‘আমাদের জমির উপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলে আমাদের জমির ক্ষতি হবে। এতে আমার পুকুরের ক্ষতি হবে। তারপরও ড্রেন খোঁড়া শুরু করলে আমি বাধা দেই। তখন ইউএনও আমাদের গালাগাল করে বলেন, তিনি এই উপজেলার মালিক, তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে। থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেবেন।

‘এর পরেও যদি এখানে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় তাহলে তাদের জমি খাস করে ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেবেন এবং দরকার হলে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিবেন।’

অমূল্য বলেন, “ইউএনও মনছুর উদ্দিন আদিতমারী থানায় ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে আসেন এবং ‘আমিই সর্বেসর্বা, আমিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ এ রকম বলতে থাকেন।”

তিনি বলেন, “তখন আমার খুব মন খারাপ। আমার ছেলের বয়সের ছেলে হয়ে আমাকে চর থাপ্পড় দিতে চায়! বলে, ‘আমি ইচ্ছা করলে জমি খাস করে নিতে পারি। জমির মালিক আপনি? মালিক আমরাই’।”

পার্শ্ববর্তী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমার জমি ভেঙে যায়। আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করি। আর সেই জমি দিয়ে ইউএনও সাব আর কয়েকজন মানুষ রাস্তা কাটি দেয়।

‘তখন আমি বলি বাবা রাস্তা কাটি দিলে তো আমার জমি ভাঙি যাবে। আমি অনেক কষ্ট করি এ জমিটা কিনছি। এ জমিটার যদি রাস্তা কাটি দেন তাহলে আমার মতো বান্দার কোনো ক্ষমতা নাই। আমি তো এখন বয়স্ক হইছি।

“এ কথা শোনা সাথে সাথে ইউএনও সাব বলল, ‘তোমার গালে দিব চড়। আমাক চিনেন? আমি সরকারি কাপড় পড়ি নাই বলে আমাক চিনেন না?”

আমেনা বলেন, ‘তখন আমি বলি, আমাক যদি বিষও খিলান। আমি যাব না। কারণ জমিটা আমি অনেক কষ্ট করে কিনছি।’

পার্শ্ববর্তী জয়না বেগম বলেন, ‘একজন মায়ের বয়সী নারীকে কীভাবে ইউএনও চড় তুলতে পারে? জমিটা ব্যক্তি মালিকানা। পুকুরের মালিক তো করুণা ও অমলের। ইউএনও সাব জোর করি ড্রেন করছে।

“তখন ওরা নিষেধ করছে, তখন ইউএনও থাপ্পড় তুলছে। অনেক খারাপ ভাষা কইছে। বলে, ‘আমি আইনের লোক। আমি একাই সরকার। মন চাইলে তোমার বাড়ির উপর দিয়ে ড্রেন নিয়া যাব। তারপর মারিধরি ভারত পাঠে দিব’।”

‘ওনি আইনের লোক হলে একজন মুরুব্বিকে কীভাবে থাপ্পড় তুলতে পারে?’-প্রশ্ন রাখেন জয়না বেগম।

করুণা চন্দ্রের বড় ভাই সুনীল চন্দ্র বর্মন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে এসে শুনি, ড্রেন কাটার জন্য যখন বাধা দেয়া হয়েছে, তখন ইউএনও আমার ভাইকে থাপ্পড় তুলছে। বলে, ‘আমার মন খুশি যেখানে প্রয়োজন সেখান দিয়ে ড্রেন দিতে পারব। তুমি কে? প্রয়োজনে বাস্তভিটা দিয়ে ড্রেন করব। প্রয়োজনে ইন্ডিয়া পাটে দিবে। ফেনসিডিল দিয়ে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিব’।”

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি সেখানে যাইনি। তবে সেখানে ইউএনও স্যারের সাথে বাগবিতণ্ডা হলে তিনি তাৎক্ষণিক মোবাইল টিমকে ডাকেন।

‘পরে ঘটনাস্থলে আমার একটি টিম পাঠাই। সেখানে এসআই ফরমান আলী যান এবং অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার আগেই ওনাকে আদিতমারীতে নিয়ে আসেন।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটের পরদিন করালেন মিষ্টিমুখ, ২ মাস পর ফল বাতিল চেয়ে মামলা

ভোটের পরদিন করালেন মিষ্টিমুখ, ২ মাস পর ফল বাতিল চেয়ে মামলা

ভোটের পরদিন বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান ও মিষ্টিমুখ করান পরাজিত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন রাজন। ছবি: নিউজবাংলা

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদ বলেন, ‘এতদিন পর ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলাটি হাস‍্যকর। ২৯ নভেম্বর আমার নামে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শপথ নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। ভোটের পরদিন আশরাফ আমাকে মিষ্টিমুখ করালেন আর এতদিন পর এসে মামলা করলেন।’

ভোটের পরদিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পরাজিত প্রার্থী, করান মিষ্টিমুখও।

তবে দুই মাস পর সেই নির্বাচনের ফল বাতিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণার দাবি জানিয়ে মামলা করেছেন আশরাফ উদ্দিন রাজন।

লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালত ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গত ২ জানুয়ারি মামলা করেন তিনি।

আশরাফ দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে দাঁড়ান। ১১ নভেম্বরের ভোটে জয়ী হন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের খালেদ সাইফুল্লাহ। আশরাফ ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

ভোটের ফল মেনে নিয়ে আশরাফ অভিনন্দন জানিয়ে খালেদকে ফুল দেন ও মিষ্টিমুখ করান।

আশরাফ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভোটের ফলে দেখানো হয়, তিনি ৩ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী খালেদ পান ৪ হাজার ৭৬৮ ভোট। তবে এজেন্টদের দেয়া প্রতিবেদনে ভোট আরও বেশি পেয়েছেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ‘ওপর মহলের’ নির্দেশে তার ভোট কমিয়ে দিয়েছে।

আশরাফ বলেন, ‘সঠিক গণনা হলে আমিই জয়ী হতাম। তাই খালেদের গেজেট বাতিল করে আমাকে জয়ী ঘোষণা করার জন্য নালিশি মামলা করেছি। এ মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীকেই বিবাদী করা হয়েছে।’

তবে এত দিন পরে কেন মামলা সে প্রশ্নের উত্তর দেননি আশরাফ। তিনি বলেন, ‘এটা পরে বলব।’

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খালেদ জানান, মামলার কারণে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিন পর ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলাটি হাস‍্যকর। ২৯ নভেম্বর আমার নামে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। শপথ নিয়ে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। ভোটের পরদিন আশরাফ আমাকে মিষ্টিমুখ করালেন আর এতদিন পর এসে মামলা করলেন।’

মামলার বিষয়টি এখনও জানেন না কমলনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘মামলার কথা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা অপপ্রচারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা অপপ্রচারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যারা দেশ বিরোধী অপপ্রচার করে, তাদের কথায় বিশ্বাস না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সঠিক তথ্য জানতে হবে। দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম তারাই অপপ্রচার করে দেশের ক্ষতি করে।’

দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম, তারা দেশবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত। তাই সামনের বছরগুলোতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের কথা বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে হবে।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের ৮১টি মিশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তা সংরক্ষণ করা হবে। ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে সেমিনার ও প্রর্দশনী করা হবে।

‘যারা দেশ বিরোধী অপপ্রচার করে, তাদের কথায় বিশ্বাস না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সঠিক তথ্য জানতে হবে। দেশের প্রতি যাদের মমত্ব কম তারাই অপপ্রচার করে দেশের ক্ষতি করে।’

সম্প্রতি র‍্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশনে না নিতে জাতিসংঘে ১২ সংগঠন চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলেই যে ভালো হবে, এমনটা ভাববার কারণ নেই।’

যে ১২ প্রতিষ্ঠান চিঠি লিখেছে, তাদের বিষয়ে জাতিসংঘে খোঁজখবর নেবার আহ্বান জানান মোমেন।

এসব চিঠি র‍্যাবের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ায় কোনো বড় রকমে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ফাউন্ডেশনটির সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফাউন্ডেশনের অন্য নেতাদের শপথ পড়ান তিনি।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতির মৃত্যু

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের হাজতির মৃত্যু

হাজতির মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রেজাউল করিম নামের এই হাজতিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা কারারক্ষী মোসেফ খান বলেন, ‘রেজাউল করিম কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। আজ সকালে তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কী মামলায় হাজতি হিসাবে ছিলেন সেটা জানি না। তার বাবার নাম মৃত হাজী লাল মিয়া। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইলপত্র নিয়ে ঢামেক মর্গে নিয়ে যাবেন তখন বিস্তারিত জানা যাবে।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

মাদ্রাসাশিক্ষকের এ কেমন নির্মমতা

মাদ্রাসাশিক্ষকের এ কেমন নির্মমতা

হাফেজিয়া মাদ্রাসার সাব্বির শেখ এভাবেই বেত্রাঘাত করেছেন এক শিক্ষক। ছবি: নিউজবাংলা

নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী সাব্বির শেখ শ্রীফলতলা গ্রামের মোহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিন বছর ধরে সে ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় গত রোববার তাকে শিক্ষক মেহেদী হাসান বেধম বেত্রাঘাত করেন বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

পিঠজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ। বাদ যায়নি হাত-পা শরীরের অন্যান্য অংশও। খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের শ্রীফলতলা গ্রামে হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে এভাবেই পেটানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার ১১ বছর বয়সী সাব্বির শেখ শ্রীফলতলা গ্রামের মোহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিন বছর ধরে সে ওই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় গত রোববার তাকে শিক্ষক মেহেদী হাসান বেধম বেত্রাঘাত করেন বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের আনন্দনগর মেঝোঝিলার রউফ শেখ ও লিপি বেগমের সন্তান সাব্বির বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

নির্যাত‌নের ঘটনায় সোমবার সাব্বিরের মা লিপি বেগম বা‌দী হ‌য়ে রূপসা থানায় লি‌খিত অভিযোগ ক‌রেন। সেই অভি‌যোগ মামলার এজাহার হি‌সে‌বে রেকর্ড ক‌রেছে পুলিশ।

লিপি বেগম বলেন, সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় তার ছেলেকে বেত দিয়ে পিটিয়েছে মেহেদী হুজুর; অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাব্বির পালিয়ে তার গ্রামের বাড়ি আনন্দনগরে চলে আসে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ক‌রা হয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাদ্রাসাশিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চেয়েছেন সাব্বিরের মা।

ঘটনার পর থেকে শিক্ষক মেহেদী পলাতক। তাকে কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন জানান, মাদ্রাসাছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়ে‌ছে।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

মাদ্রাসার মাঠে কেটে ফেলা গাছ। ছবি: নিউজবাংলা

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে টেন্ডার বা অনুমতি ছাড়াই সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এ অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

অভিযুক্তদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

স্থানীয় আহম্মেদ কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ১৯৮৬ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাস জমিতে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের কাছে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও জমিটি মাদ্রাসার কাছে রেজিস্ট্রি দেয়নি সরকার। মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে অবস্থিত।

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘চারটি কাঁঠাল গাছ বিক্রি করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। যা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম।’ তিনি মনে করেন, গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

নিউজবাংলাকে হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার মো: মফিজুল ইসলাম কাদেরী বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে, রেজিস্ট্রেশন হয়নি। রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার প্রাচীরের ভিতরে থাকায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত রয়েছেন। তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, ‘গাছগুলোর শিকড় প্রাচীরের ক্ষতি করছিল। প্রাচীর ফাটল ধরছিল, তাই কমিটির সকল সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিয়ময় করে রীতিমতো রেজুলেশন করে গাছগুলো কাটা হয়েছে।’

যদিও এর আগে গাছ কাটার কারণ হিসেবে মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনিও দাবি করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে আমার কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা থাকতে পারে না। এটি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার।’

উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মো: রাকিবুজ্জামান বলেন, ‍‘আমি স্থানীয় তহশীলদারের কাছে শুনেছি, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করেছে এবং মাদ্রাসাটিও নাকি খাস জমিতে অবস্থিত।

‘আমি বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি আসলে মাদ্রাসা ও গাছগুলো সরকারি খাস জমিতে আছে কি না? তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

আলটিমেটামের ২ মিনিটেই শহীদ মিনার ছাড়ল ছাত্রদল

শহীদ মিনারে ছাত্রদলের কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ সদস্যরা।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি, তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে প্রতীকী অনশনে বসে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার কিছু পরই শহীদ মিনারে অনশনে বসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। প্রতীকী অনশন কর্মসূচি ৩টা পর্যন্ত চলবে বলে জানান নেতা-কর্মীরা।

তবে বেলা ১১টা ৪৬ মিনিটেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অনশন কর্মসূচি শেষ করেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের জারি করা বিধিনিষেধে সামাজিক, রাজনৈতিক বা যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না বলা হয়েছে। অংশ নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, বাধ্যতামূলক পরতে হবে মাস্ক।

ছাত্রদলের নেতারা প্রতীকী অনশনে বসলেও তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। মানা হয়নি ১০০ জনের যে বাধ্যবাধকতা সেটিও।

আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয় ওয়াটার ক্যানন।

বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনকে ডেকে দুই মিনিটের মধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে দেয়ার আলটিমেটাম দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান।

সে সময় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আরও সময় চান। তারা অন্তত পাঁচ মিনিট সময় চাইলে বায়েজীদুর রহমান বলেন, এর বেশি সময় তিনি দেবেন না। তারা যদি শহীদ মিনার এলাকা না ছাড়েন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

আলটিমেটাম পেয়ে তড়িঘড়ি করে প্রতীকী অনশন শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে যান ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।

শেষ করার আগে ছাত্রদল সভাপতি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশি বাধার কারণে আমাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। আমাদের দাবি মানা না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।’

সিনিয়র সহকারী কমিশনার বায়েজীদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে এত লোকের সমাগমের অনুমতি নেই। আমরা বারবার নিষেধ করছিলাম। তারা না শোনায় ফোর্স করতে হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছেড়ে গেছে।’

কর্মসূচি চলার সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই সচেতন। করোনা সংক্রমণের হার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত সংক্রমণের চেয়ে সরকার সংক্রমণ বাড়াচ্ছে বেশি। আপনি দেখবেন, বাংলাদেশের শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে, দেশের হাটবাজারসহ সব কিছু খোলা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ ১৩তম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান।

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবে স্কোর আগের মতোই, ২৬।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রকাশ করা দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য জানায়।

বিশ্বের ১৮০টি দেশের ২০২১ সালের দুর্নীতি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা এই সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা বা ওপরের দিক থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৪৭তম। ২০২০ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪৬তম।

নিচের দিক থেকে এবার অবস্থান ১৩তম। ২০২০ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। আর ১০০ নম্বরের মধ্যে গত তিন বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের স্কোর ২৬।

দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম স্থানে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান। আর এশিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোও করিনি, খারাপও করিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যাদের হাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তাদের একটি বড় অংশ সরাসরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা আছেন, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফায়দা আদায়ের জন্য ব্যবহার করেন। জনকল্যাণে কেউ কাজ করেন না।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, দুর্নীতির ধারণা সূচকের গবেষণায় পৃথিবীর কোনো দেশই ১০০-তে ১০০ স্কোর পায়নি। অর্থাৎ কম-বেশি পৃথিবীর সব দেশেই দুর্নীতি আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক। আর সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ সুদান।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আটটি জরিপের ফলাফল থেকে সূচকটি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে টিআই প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। তবে গত চার বছর ধরে স্কোরে উন্নতি হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
জীবন নিয়ে ‘শঙ্কায়’ রাবির আরাফাত
হত্যার হুমকির অভিযোগ বাউফল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
ওবায়দুল কাদেরকে হত্যার হুমকি মির্জার
‘হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আকমল হত্যার আসামিরা’
নিরাপত্তা চেয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন