যাত্রী খরা শুধু বরিশালের লঞ্চে

যাত্রী খরা শুধু বরিশালের লঞ্চে

রোববার দিনভর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার লঞ্চঘাটে যাত্রীর ঢল দেখা গেলেও, বরিশাল বন্দর ছিল প্রায় জনশূন্য। ঢাকা-বরিশাল নৌপথের বিলাসবহুল সাতটি লঞ্চ ছিল নোঙর করা, তাতে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে কর্মীদের।

সরকারি নির্দেশনার পরও যাত্রীর অভাবে বরিশাল নদী বন্দর থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ছেড়ে যায়নি ঢাকামুখী কোনো লঞ্চ।

পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় আসার সুযোগ দিতে শনিবার সন্ধ্যার পর বাস ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তবে বরিশাল বন্দর থেকে শনিবার রাতে কোনো লঞ্চ ছাড়েনি।

রোববার দিনভর দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার লঞ্চঘাটে যাত্রীর ঢল দেখা গেলেও, বরিশাল বন্দর ছিল প্রায় জনশূন্য। ঢাকা-বরিশাল নৌপথের বিলাসবহুল সাতটি লঞ্চ ছিল নোঙর করা, তাতে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে কর্মীদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রোববার দুপুরে ঘোষণা দেয়, যাত্রীর চাপ থাকায় লঞ্চ চলাচলের সময় বাড়িয়ে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর পরপরই বরিশালের লঞ্চ মালিক সমিতি জানায়, এই জেলা থেকে রোববার রাতে শুধু একটি লঞ্চ রাজধানীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

সুরভী লঞ্চ কোম্পানির প‌রিচালক রিয়াজুল ক‌বির ব‌লেন, ‘প্রশাসন থে‌কে আমা‌দের লঞ্চ ছাড়ার কথা বলা হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে লঞ্চ ছাড়‌তে হ‌লে আমা‌দের দুইজন প্রথম শ্রেণির সুকানি, দুইজন সা‌রেং এবং দুইজন গ্রিজারসহ আরও কিছু লোক দরকার। এই মুহূ‌র্তে এরা নেই।

‘তাছাড়া এক‌টি লঞ্চ ঢাকা যে‌তে ৬০ থে‌কে ৭০ ব‌্যা‌রেল তেল দরকার হয়। যাত্রী না হ‌লে আমরা কীভা‌বে ছাড়‌ব লঞ্চ। লোকসান ক‌রে লঞ্চ চালা‌নো সম্ভব নয়।’

ব‌রিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তা‌ফিজুর রহমান ব‌লেন, ‘কা‌ঙ্ক্ষিত যাত্রী না থাকায় ব‌রিশাল থে‌কে কো‌নো লঞ্চই ঢাকার উ‌দ্দে‌শে ছে‌ড়ে যায়‌নি। ত‌বে ব‌রিশাল নদী বন্দর থে‌কে ভোলাসহ বি‌ভিন্ন অভ‌্যন্তরীণ রু‌টে পাঁচ‌টি লঞ্চ যাত্রী নি‌য়ে ঘাট ছেড়েছে।

তিনি জানান, ঢাকাগামী কিছু যাত্রীকে পৌঁছে দিতে ‘এড‌ভেঞ্চার-৯’ লঞ্চটি রোববার রা‌তে বরিশাল থে‌কে ছে‌ড়ে যা‌বে। তবে যাত্রী বাড়লে আরও লঞ্চ ছাড়বে।

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ  

গাছে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

 

এই অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

যুবকের বাবা খায়রুল প্রধান বলেন, ‘শনিবার সকালে দোকান খুলতে বাজারের উদ্দেশে বের হয় হাবিবুল। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে দেখি দোকান খোলা। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। রোববার স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাছের সঙ্গে দড়ি বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কাওরাইদ ইউনিয়নের পন্ডিতের ভিটা এলাকা থেকে রোববার সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত যুবকের নাম হাবিবুল বাশার। ৩৫ বছরের হাবিবুলের বাড়ি কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামে। কাওরাইদ বাজারে তার একটি ফার্মেসি আছে।

এসব নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন।

যুবকের বাবা খায়রুল প্রধান বলেন, ‘শনিবার সকালে দোকান খুলতে বাজারের উদ্দেশে বের হয় হাবিবুল। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে দেখি দোকান খোলা। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ ছিল। রোববার স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।’

স্থানীয় আলফাজ মিয়া বলেন, ‘মরদেহের হাঁটু মাটিতে লেগে ছিল, গলায় দড়ি পেঁচানো। মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত হত্যা।’

ওসি ইমাম হোসেন বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে মরদেহ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ভোট না দেয়ায় ভিক্ষুককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী খলিল খান। ছবি: নিউজবাংলা

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।’

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুক।

নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শনিবার রাতে সদর থানায় লিখিত অভিযোগটি দেন ভিক্ষুক খলিল খান। তার বাড়ি মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকায়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ নভেম্বর মস্তফাপুর ইউনিয়নে ভোট হয়। নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন সোহরাব খান। আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবর রহমান মোটরসাইকেল প্রতীকে পরাজিত হন।

নির্বাচনে মজিবরকে সমর্থন দেন ভিক্ষুক খলিল। এতেই ক্ষিপ্ত হয় শুক্রবার সকালে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় খলিলকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা চালান সোহরাবের ভাই আনোয়োর খান ও তার ছেলে সজিব খানসহ বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় খলিল নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দেন।

খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সকালে আমি মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা করেই আমার সংসার চলে। বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে ওই সময় সোহরাব খানের সামনেই তার ভাই ও ভাইয়ের ছেলে দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে সবাই মিলে মারধর করে।’

চেয়ারম্যান সোহরাব খান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভিক্ষুককে আমি মারধর কেন করব। আমি কিছু করিনি। তবে ওই ভিক্ষুকের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল, যা পুলিশের এসআই খসরুজ্জামান এসে মীমাংসা করে দিয়েছেন।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, থানায় এ বিষয় অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মস্তফা রাসেল বলেন, ‘থানায় যদি অভিযোগ দেয়, তাহলে ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ২৮ হাজার

ফাইল ছবি

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার। এ সময়ের মধ্যে আরও ১৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

রোববার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১ জনের।

বিস্তারিত আসছে....

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

কর রেয়াতে চলে যায় জিডিপির ২.২৮ শতাংশ

কর রেয়াতে চলে যায় জিডিপির ২.২৮ শতাংশ

ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পসহ বিভিন্ন খাতকে করমুক্ত রেখেছে সরকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

এনবিআরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ খাতগুলোকে স্বল্প কর হার সুবিধা, কর অব্যাহতি এবং কর অবকাশ সুবিধা দেয়ায় কর ভিত্তি সংকুচিত হয়েছে। যদি এসব খাতে সুবিধা বাতিল করা হয়, তা হলে কর আহরণ বর্তমানের চেয়ে বাড়বে।

কৃষি, শিল্প, সেবা, অবকাঠমোসহ বিভিন্ন খাতে কর সুবিধা দেয়ার ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কমপক্ষে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ আয়কর কম আদায় হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সম্প্রতি উপস্থাপন করেন রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়কর নীতি) সামসুদ্দীন আহমেদ।

কম আহরণের কারণ হিসেবে করের ভিত্তি সংকুচিত হওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় প্রতিবেদনে।

রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আয়কর বিভাগে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন অভাব, কর ফাঁকি, জটিল আইন-কানুন ও অর্থনীতির বড় একটি অংশ হিসাবের বাহিরে থাকার কারণেও কাঙ্খিত কর আদায় হচ্ছে না।

এনবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিশেষ খাতগুলোকে স্বল্প কর হার সুবিধা, কর অব্যাহতি এবং কর অবকাশ সুবিধা দেয়ায় কর ভিত্তি সংকুচিত হয়েছে। যদি এসব খাতে সুবিধা বাতিল করা হয়, তা হলে কর আহরণ বর্তমানের চেয়ে বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আয়কর আদয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এটি এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের শতকরা ৩৫ ভাগ।

রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমাদের অর্থনীতির যে আকার তার সঙ্গে কর আহরণের সামাঞ্জস্য নেই। এর মূল কারণ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আয়ের তথ্য গোপন করে কর ফাঁকি দেয়া হয়।

জিডিপির হিসাবে বছরে কত পরিমাণ কর ফাঁকি হয়, তার কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য এনবিআরের কাছে নেই। তবে রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আদায়যোগ্য করের কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কম আদায় হয়।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয়, মোট দেশজ উৎপাদন ইত্যাদি বিবেচনা করলে করদাতার সংখ্যা এবং আদায় বর্তমানের চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুণ হওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়কর সংগ্রহে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আমাদের কর বনাম জিডিপি অনুপাত এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।

এক দশক আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ শতাংশের বেশি।

এনবিআর বলেছে, আয়কর আদায় বাড়লেও জিডিপি বনাম কর অনুপাত সেভাবে বাড়েনি।

এক দশক আগে জিডিপির বিপরিতে কর সংগ্রহ ছিল ১০ শতাংশ। এক দশক পর গত অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নিবার্হী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার যথেষ্ঠ দুর্বলতা আছে। এখানে বড় ধরনের সংস্কার দরকার। এনবিআরকে ঢেলে সাজাতে হবে। এখন যে এনবিআর আছে, তা দিয়ে প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় সম্ভব নয়। এর আমূল পরিবর্তন দরকার।’

যেসব খাতে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়েছে

এনবিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী যেসব খাতে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ভৌত অবকাঠামো, তথ্য প্রযুক্তি, রপ্তানিমুখী পোশাক ও বস্ত্র, হস্তজাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও কৃষি খাত।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহনসহ সরকার এ পর্যন্ত ১৮টি ভৌত অবকাঠামো খাতে কর অব্যাহতি সুবিধা দিয়েছে। প্রোডাক্টশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট বা পিএসসির আওতায় বিদেশি তেল গ্যাস কোম্পানিকে কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পরামর্শক কাজ করছেন, তারা কর সুবিধা ভোগ করছেন।

জিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমানে ২২টি তথ্যপ্রযুক্তি খাত শতভাগ কর অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে তৈরি পোশাক খাতকে কম হারে (১২ শতাংশ) কর সুবিধা দেয়া হয়েছে।

হস্তজাত, কুটির শিল্প ও মাঝারি শিল্প যাদের বছরে লেনদেন বা টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা, তাদের কর মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। কম উন্নত এলাকায় শিল্প স্থাপন উৎসাহিত করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে কর রেয়াত দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন করলে কম হারে কর আদায় করা হয়। কৃষিজাত উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়ের ওপর ১০ বছর পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা ভোগ করা যায়।

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে আ. লীগ নেতা বহিষ্কার

সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শনিবার রাতে সাটুরিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে বহিষ্কার করে।

বহিষ্কারপত্রে বলা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় ধানকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সদর উপজেলার পড়পাড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আব্দুল মজিদ ফটোর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন আব্দুল হক।

তিনি জানান, রাতে সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্দুল হককে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে আব্দুল হক বলেন, ‘বহিষ্কারের আগে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ঘটনার মীমাংসা করেছিলেন। তবু আব্দুল মজিদ ফটোর ব্যক্তিগত কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে নয়।’

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

সাপ্তাহিক ক্যাম্পাস নিউজের যাত্রা শুরু

সাপ্তাহিক ক্যাম্পাস নিউজের যাত্রা শুরু

শিক্ষা সভ্যতার অগ্রযাত্রার মূল উপাদান বলে উল্লেখ করেন ক্যাম্পাস নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস নিউজ রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কর্ণধার শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হিসেবে আপোষহীনভাবে কাজ করে যাবে।’

ক্যাম্পাস আর ক্যারিয়ার বিষয়ক সকল সংবাদে পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করল সাপ্তাহিক ক্যাম্পাস নিউজ।

রাজধানীর পান্থপথে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে সাপ্তাহিক ক্যাম্পাস নিউজের শুভ সূচনা করেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ।

ক্যাম্পাস নিউজ শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন আনিসুল হক। শিক্ষা নিয়ে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি ক্যাম্পাস নিউজ শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গতি ও অসঙ্গতি তুলে ধরবে।’

ক্যাম্পাস নিউজ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সৎভাবে কাজ করবে বলে জানান আব্দুল আজিজ। ক্যাম্পাস নিউজকে সত্য প্রকাশে আপোষহীন থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

শিক্ষা সভ্যতার অগ্রযাত্রার মূল উপাদান বলে উল্লেখ করেন ক্যাম্পাস নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস নিউজ রাষ্ট্রের ভবিষ্যত কর্ণধার শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হিসেবে আপোষহীনভাবে কাজ করে যাবে।’

ক্যাম্পাস নিউজের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ কবীর উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে পাওয়া একটি সাপ। ছবি: নিউজবাংলা

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম।’

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। শীতল রক্তের প্রাণীটির এখন শীতনিদ্রার সময়, অথচ সেই সময়েই গ্রামের ঘরে-বাইরে সবখানেই দেখা মিলছে তাদের।

ঘর, বিছানা থেকে শুরু করে ক্ষেত-খামার, পুকুর, রাস্তা কোনো স্থানই বাদ নেই। এরই মধ্যে গ্রামের ১০-১২ জনকে সাপে কামড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এলাকাবাসী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, মাসখানেক ধরে গ্রামে হঠাৎ বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এতে তাদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। আবার ক্ষেতে সাপ পাওয়ায় ফসল তোলার মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হওয়ায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি খাল খননের সময় ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলার পর সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘গ্রামে একটি প্রাচীন খাল ছিল। কৃষি জমিতে সেচের পানি সরবরাহ ঠিক রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বিএডিসি) খালটি খনন করছে। এর অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে তাদের গ্রামের পাশের রায়খালী খালপাড়ের জঙ্গল কেটে ফেলা হয়।

‘এরপর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ কৃষি জমিতে, উঠানে, রাস্তায় ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। চারদিকে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবশ্য আগের তুলনায় এখন কিছুটা কমে এসেছে। আমরা ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

গ্রামের সব স্থানে মিলছে সাপ, আতঙ্ক

বাবুল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে গিয়ে ঘরের চাল থেকে বিছানায় পড়ে বিষধর এক সাপ। রাতভর ঘরের কেউ ঘুমাতে পারিনি।’

তাপস নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়ার টেবিলে গিয়ে দেখি চেয়ারের নিচে ফনা তুলে আছে একটি সাপ। চিৎকার দিতেই বাড়ির অন্যরা ছুটে এসে পিটিয়ে মারার পর স্বস্তি পাই।’

আকবর হোসেন নামের এক কৃষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে কী যেন কামড় দিল, বুঝতে পারিনি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার বললেন বিষধর সাপে কামড়েছে। আট দিন হাসপাতালে ছিলাম। এখন ক্ষেতে যেতে ভয় পাচ্ছি। শুধু আমি না, সাপের ভয়ে এখন কেউ জমিতে নামতে চাচ্ছে না।’

দক্ষিণ সারোয়াতলীর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সুরেষ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি জমির পাশাপাশি বাড়িঘরেও সাপ দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে এখানকার ১০ থেকে ১২ জনকে সাপ কামড়েছে। কৃষকরা ধান কাটতে জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আবাসস্থলে আঘাত আসার কারণেই সাপগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে। উষ্ণ স্থানে আশ্রয় পাওয়ার আশায় তারা এখন বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, তিনি খোঁজ নিয়েছেন। ওই এলাকার ঝোপ-জঙ্গল কাটা বন্ধ রাখতেও বলেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর বর্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সময় বাড়ল লঞ্চ চলাচলের
বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় লঞ্চ চলবে রাতেও
প্রাণ হাতে লঞ্চে হাজার হাজার মানুষ
ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে লঞ্চ
পরিবহন চালুর দাবিতে সড়কে শ্রমিকরা

শেয়ার করুন