সাভারে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা

সাভারে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা

সন্ত্রাসী হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক মনির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

হামলার ঘটনা ধারণ হয়েছে সিসিটিভিতে। ফুটেজে ওই সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিতের বিষয়টি স্পষ্ট । দেখা যায়, দলবদ্ধ হয়ে টেনেহিঁচড়ে ওই সাংবাদিককে মারধর করা হচ্ছে।

ঢাকার সাভারে সন্ত্রাসী হামলা ও মারধরের ঘটনায় মামলা করেছেন বেসরকারি টেলিভিশনের এক চিত্রসাংবাদিক। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আশুলিয়া থানায় শনিবার সকালে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক মনির হোসেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল্লাহ শিকদার নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন ভোলা জেলার সদর থানার পাঙ্গসা গ্রামের আব্দুস সোবহান, পাবনা জেলার সুজানগর থানার মানিকহাট গ্রামের রবিউল ইসলাম ও মো. ফারুক। তারা সবাই আশুলিয়ার আমিন মডেল টাউন এলাকার বাস করতেন।

এসআই জানান, রবিউল ও ফারুককে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। আর রাতে আটক করা হয় সোবহানকে। শনিবার সকালে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে রাজধানীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ কবরস্থান রোডের আমিন মডেল টাউন এলাকার মারজান টাওয়ার নামে ‘অনুমোদনহীন’ নয়তলা ভবনে সংবাদ সংগ্রহে যান সাংবাদিক মনির। এ সময় অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গালিগালাজ ও কিল-ঘুষি মারা হয়। এ সময় ক্যামেরা ও বুম ভাঙা হয়। গাড়িচালক রাশেদ এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। ভেঙ্গে ফেলা হয় তাদের মোবাইল ফোন।

হামলার ঘটনা ধারণ হয়েছে সিসিটিভিতে। ফুটেজে ওই সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিতের বিষয়টি স্পষ্ট। দেখা যায়, দলবদ্ধ হয়ে টেনেহিঁচড়ে ওই সাংবাদিককে মারধর করা হচ্ছে।

সাভার ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসের আওতাধীন নয়তলা ভবনটি ‘অনুমোদন’ ছাড়া ৫২ জন মিলে যৌথভাবে নির্মাণ করেন। গত ২ জানুয়ারি সাভার ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (উপসচিব) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভুঞা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নির্মাণকাজ বন্ধসহ ভবনের বাসিন্দাদের ১০ দিনের মধ্যে ভবন ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয় নোটিশে। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি ভবনমালিকদের পক্ষে শারাফাত আলী অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণের কথা স্বীকার করে ক্যান্টনমেন্ট বরাবর ক্ষমা চেয়ে একটি আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে, চিত্রসাংবাদিক মনির হোসেনকে মারধরের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লেগে থাকা গাছের ডাল থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তবে কত দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি গোলাম মোস্তফা। এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামে আব্দুর রহিম সুপার মার্কেটের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম, মো. ইউসুফ, মো. সুমন ও মো. জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি শিলমুদ গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হয়েছিল। পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। খুঁটি লাগোয়া একটি গাছও বিদ্যুতায়িত ছিল। সেই গাছের ডালের সঙ্গে হাত লাগে আব্দুর রহিমের। তাকে বাঁচাতে এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসূফ, সুমন ও জুয়েল এগিয়ে যান। এতে তারাও বিদ্যুতায়িত হন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া শিলমুদ মধ্যপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের দাফন করা হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও, তা আমলে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ উল্ল্যাহ্‌ বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ দেয়। ১০ বছর আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এখতিয়ার চলে যায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।’

নিহত আব্দুর রহিমের শ্যালক মোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকবার তাদের খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।’

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই খুঁটিটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম বাধা দেন। এজন্য খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

নোয়াখালী জেলায় গত এক সপ্তাহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ৬ জন। গত বুধবার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের হেলে পড়া একটি খুঁটির তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মফিজ উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি।

মফিজ উল্যাহর পরিবারের অভিযোগ, খুঁটি সরাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা সরায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কবিরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাজ্জাদ হোসেন রিফাত নামের আরও এক স্কুলছাত্র।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক ২১ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনের রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর।

দিনাজপুর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায় শনিবার বিকেলে এই আদেশ দেন।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক ২১ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জন আটক হয়।

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ৩ থানায় মামলা করা হয়েছে। ৮ জনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন ঝিনাইদহ সদরের হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, ঢাকার মিরপুরের সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল, মোহাম্মদপুরের নাফিস হাবিব, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার মহসিন ভুইয়া ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ।

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

বিরল থানায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রংপুর বদরগঞ্জের ওয়াহেদুজ্জামান, কাউনিয়া থানার মনিরুল ইসলাম ও নীলফামারী সৈয়দপুরের সাব্বির আহমেদ ওরফে সজল।

বোচাগঞ্জ থানার গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, ঢাকার শ্যামপুর থানার জুনায়েদ খান ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের হুমায়ুন কবির।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

দিনাজপুর অভিযানে চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে আটক ১১ জনকে আদালতে আনা হচ্ছে। ছবি: কুরবান আলী/নিউজবাংলা

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায়ের আদালতে দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা ১১ জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেখানে চলছে শুনানি।

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করেছে পুলিশ।

দিনাজপুরের আদালতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১১ জনকে আনা হয়।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায়ের আদালতে দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেখানে চলছে শুনানি।

আর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি মসজিদ ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, পরে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ৩টি থানায় মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া অপর ৮ জনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় আটক পাঁচজন হলেন ঝিনাইদহ সদরের হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, ঢাকা মিরপুর-১২-এর সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মহসিন ভুইয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইওনিয়ার হাউজিং কলোনীর নাফিস হাবিব।

বিরল থানায় আটক তিনজন হলেন রংপুর বদরগঞ্জের মধুপুর দৌলাপাড়ার ওয়াহেদুজ্জামান, কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও নীলফামারী সৈয়দপুরের হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার সাব্বির আহমেদ ওরফে সজল।

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

বোচাগঞ্জ থানার আটক তিনজন হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, ঢাকার শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের জুনায়েদ খান ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের বরুয়াদৌলা গ্রামের হুমায়ুন কবির।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন থানা থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে আনা হয়েছে। মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

বরগুনা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূল নকশা বদলে মূল ঘর ও বারান্দার একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও। নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় সরকারি নকশা পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুন্ন হয়েছে ঘরের গুণগতমান।

অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ইচ্ছামতো নির্মাণ করেছেন এইসব ঘর। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

তারা জানান, ভিন্ন নকশার কারণে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। আর নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে খসে পড়ছে প্লাস্টার, বালু উঠছে মেঝে থেকে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সবার জন্য ঘর নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে বরগুনাসহ সারা দেশে ৭০ হাজার ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বরগুনা সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩০টিসহ পর্যায়ক্রমে ২১৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নীতিমালা। দুর্নীতি ঠেকাতে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি। এ ছাড়া ঘরের জন্য দেয়া হয় আলাদা নকশা।

সারা দেশে সরকারি সেই নকশায় ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রম।

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ইট, বালু, কাঠসহ সব সামগ্রী নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। দেয়ালের পুরুত্বও ঠিক নেই বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) না থাকায় প্রকল্প-২-এ সেই দায়িত্ব দেয়া হয় বেতাগী উপজেলার পিআইও মো. ওয়ালিউল্লাহকে।

তবে ওয়ালিউল্লাহ দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকায় বরগুনা সদর উপজেলায় মূলত দেখাশোনা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী হওয়ায় হুমায়ুন কারও পরামর্শ না নিয়ে নকশা বদলে ইচ্ছেমতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার দক্ষিণ লাকুরতলা গ্রামে দেখা যায়, দুই শতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অন্য ঘরগুলোতে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে।

হস্তান্তর করা ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, মো. জহিরুলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নকশায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। এখন পর্যন্ত সব ঘর হস্তান্তর না হলেও খসে পড়া শুরু করেছে পলেস্তারা। মেঝে থেকেও বালু উঠছে। কয়েকজন নিজ উদ্যোগে মেঝে ঠিকও করে নিয়েছেন।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তার (প্রকৌশলী হুমায়ুন) সঙ্গে কোনো কথাই বলা যেত না। নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘর তৈরি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন। কার প্রভাবে কীভাবে হুমায়ুন এত ক্ষমতা পেল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ইউএনও সামিয়া শারমিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। আমি আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ঘর হস্তান্তর হয়নি। ঘর নির্মাণে অনিয়ম কিংবা নকশাবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন

ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘রাসেল যেসব স্ট্র্যাটেজিতে ব্যবসা করেছেন তাতে ইভ্যালি কোনো লভ্যাংশ পায়নি। তিনি সব গ্রাহককে পণ্য দিতেন না। ১০০ জনের মধ্য ৫ থেকে ১০ জন পুরাতন গ্রাহককে পণ্য দিতেন। কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

বাহিনীটি জানিয়েছে, ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেলের পরিকল্পনাতেই বিভিন্ন লোভনীয় অফার চালু হয়েছিল। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির দেনা বেড়েছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন শুক্রবার দুপুরে কুর্মিটোলায় বাহিনীর সদরদপ্তরে এসব জানান।

তিনি বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।’

সাধারণ মানুষের লগ্নি করা টাকায় স্পন্সর করে রাসেল ইভ্যালিকে দক্ষিণ এশিয়ার এক নম্বর কোম্পানি করতে চেয়েছিলেন বলে জানান খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘রাসেল যেসব স্ট্র্যাটেজিতে ব্যবসা করেছেন তাতে ইভ্যালি কোনো লভ্যাংশ পায়নি। তিনি সব গ্রাহককে পণ্য দিতেন না। ১০০ জনের মধ্যে ৫ থেকে ১০ জন পুরাতন গ্রাহককে পণ্য দিতেন। কীভাবে দেনা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

‘রাসেলের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা। তিনি বিভিন্ন দেশে ই-কমার্সে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার গ্রাহক ৪৪ লাখ হলেও ৭০ লাখ পর্যন্ত বলতেন। এসব বলে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন।’

র‍্যাব জানায়, গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইভ্যালি কাউকে পণ্য দিতে পারেনি। গ্রাহকরা যখন দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পাচ্ছিল না, তখন রাসেল টি১০, টি৭, টি৫ অফার চালু করেন। এই অফারগুলোর মাধ্যমে টুথপেস্ট, টুথব্রাশের মতো সাধারণ পণ্য দিচ্ছিলেন তিনি।

রাসেলের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, তার নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। অফিস, ওয়্যার হাউস সবই ভাড়া করা। নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাটও নেই।

র‌্যাবের ভাষ্য, দিন দিন যে পরিমাণ দেনা বেড়েছে তা পরিশোধের সক্ষমতা না থাকায় রাসেলের পরিকল্পনা ছিল বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেয়া। বিক্রি করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার লক্ষ্য ছিল তার।

তিনি অর্থপাচার করেছেন কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির দেনা ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা সম্পদের মূল্য ৬৫ কোটি টাকা।

আরিফ বাকের নামের ইভ্যালির এক গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন তিনি।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশের উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
সাভারে সাংবাদিককে মারধর, আটক ২
ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতাবান করতে পারে সাংবাদিক: তথ্যমন্ত্রী
ফেসবুকে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার সাংবাদিক
বাইক আটকের পর ফেসবুক লাইভ, ‘সাংবাদিক’ গ্রেপ্তার
সাংবাদিক পরিচয় দিলেই কি সবকিছু মাফ?

শেয়ার করুন