সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

player
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি 

‘সিআরবির মতো প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। চট্টগ্রামবাসীর জন্য উন্মুক্ত কোনো পরিবেশ থাকবে না।’ 

চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহাসিক সিআরবি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) প্রস্তাবিত হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল এ সময় বলেন, ‘আধুনিক হাসপাতাল করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনেক ভালো ভালো জায়গা আছে। শুধু হাসপাতাল নয়, যেকোন ভালো কাজের জন্য জেলা প্রশাসন জায়গা দিতে পারে।

‘সিআরবির মতো প্রকৃতির হেরিটেজ এলাকায় হাসপাতাল হলে একে ঘিরে অনেকগুলো স্থাপনা গড়ে উঠবে। তখন সিআরবি তার প্রাকৃতিক পরিবেশ হারাবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবির মতো প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। চট্টগ্রামবাসীর জন্য উন্মুক্ত কোনো পরিবেশ থাকবে না।’

সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেয় নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম। ছবি: নিউজবাংলা

স্মারকলিপি নিয়ে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের যে দাবি, তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে তিনি কিছু করবেন না।’

এ সময় নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের যুগ্ম সদস্য সচিব নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু, আবৃত্তি শিল্পী রাশেদ হাসান, রাজনীতিক ও পরিবেশবাদী শরীফ চৌহান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের কার্যকরি সদস্য সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

আরও ছিলেন অ্যাডভোকেট টি আর খান, অ্যাডভোকেট মো. রায়হান, অ্যাডভোকেট কাশেম কামাল, সংস্কৃতি সংগঠক অহিল সিরাজ, অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন জিকু, আবৃত্তি শিল্পী প্রণব চৌধুরী ও রাহুল দত্ত।

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

অরুনিমা ইকোপার্কে গাছে গাছে পাখির মেলা। ছবি: নিউজবাংলা

দল দলে এক রঙের পাখি আকাশে উড়ে বেড়ায়। অনেক দল অরুনিমার লেকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোতে বসে ডানা ঝাপটায়। সুরে সুরে অতিথি পাখিগুলো জানান দেয়, সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে অরুনিমার এসে সুখেই আছে তারা।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নাম জানা, না জানা অসংখ্য পাখির কলরব। চারদিকে শুধু পাখি আর পাখি। হাজার হাজার পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর ডানামেলার দৃশ্য মুগ্ধ করবে যে কাউকেই। গাছের ছায়ায়, পাখির মায়ায় আবেগে আপ্লুত হবেন সবাই।

এমনই দৃশ্য নড়াইল জেলায় অরুনিমা ইকোপার্কে। দেশের একমাত্র এগ্রো-ইকো-রিভারাইন-স্পোর্টস পর্যটনকেন্দ্র যেন এখন পাখিদের স্বর্গরাজ্য। বরাবরের মতো এবারের শীতেও এই পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে এসেছে অতিথি পাখি। এসব পাখির সঙ্গে দেশি পাখির মিতালি যেন বন্ধুত্বপরায়ণ বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।

অরুনিমার আশপাশের গ্রামগুলোও এখন পাখিগ্রামে পরিণত হয়েছে। বিশাল এলাকা এখন পাখির নিরাপদ অভয়াশ্রম। সেখানকার দৃশ্যটা এখন এমন যে, যত দূর চোখ যায় শুধু পাখিদের ওড়াউড়ি। স্থানীয়রা বললেন, এমনটা হয়ে আসছে গত এক যুগ ধরে।

সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অরুনিমার নীড় ছেড়ে খাবারের সন্ধানে চলে যায় পাখিরা। বিকেল ৪টা গড়ালেই ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসে আবাসস্থলে। আর ভালো লাগার শুরুটা তখনই।

দল দলে এক রঙের পাখি আকাশে উড়ে বেড়ায়। অনেক দল অরুনিমার লেকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোতে বসে ডানা ঝাপটায়। সুরে সুরে অতিথি পাখিগুলো জানান দেয়, সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে অরুনিমায় এসে সুখেই আছে তারা।

পাখি দেখার পাশাপাশি অরুনিমার প্রায় ৫২ একরের বিশাল জায়গাজুড়ে গাছপালা, ফুল ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন পর্যটকরা। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে প্রায় দুই বছর পর পর্যটকরা ছুটে আসছেন পাখিদের এই মিলনমেলায়।

এ ছাড়া এই পর্যটনকেন্দ্রে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গলফ মাঠ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমনে অনুন্নত অরুনিমাসংলগ্ন পানিপাড়ায় লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। সরকারের রাজস্বেও অর্থ জমা পড়ছে।

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

নড়াইল জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পানিপাড়া গ্রামে প্রায় ৫২ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম নেচারবেজ পার্ক অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাব। এটি অরুনিমা ইকোপার্ক নামেও পরিচিত।

পার্কটি এখন পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। গত সাত-আট বছর ধরে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাইবেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখানে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসে। এ সময় এদের সঙ্গে থাকে দেশি সাদা বক, কানি বক, শালিক, ফিঙ্গেসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

সন্ধ্যায় পার্কের গাছগুলো মেতে ওঠে সাদা বক আর অতিথি পাখির ডাকাডাকির ছন্দে। মাতিয়ে তোলেন পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাংবাদিক মুজাহিদ শুভ বলেন, ‘অরুনিমা রিসোর্ট হচ্ছে একের ভেতর শত অনুষঙ্গের সমাহার। পাখি ও প্রকৃতির টানে অরুনিমায় এসেছি। দ্বিতীয়বার আসা হলো এখানে।’

নাইম আবির নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ভিডিও ও ফটোগ্রাফি আমার শখ। অরুনিমার যেখানে দাঁড়াই, সেখানেই ছবি তোলার ফ্রেম হয়ে যায়। এখানে এসে কাছ থেকে পাখি দেখা সত্যিই আনন্দের।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রডিউসার মুহতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘অনেক জায়গায় পাখি দেখার সুযোগ পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের সঙ্গে অরুনিমার পাখিগুলোর সখ্য বেশি যেন। এখানে অনেক মানুষের আনাগোনাসহ কাছ থেকে ছবি তোলা হলেও পাখিগুলো ভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে না। দুইবার আসা হলো এখানে।’

খুলনা থেকে অরুনিমা রিসোর্টে ঘুরতে আসেন সরকারি বিএল কলেজের দর্শন শেষবর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা খাতুন তন্বী। তিনি বলেন, প্রকৃতির মাঝে আনন্দ উপভোগের অন্যতম স্থান হচ্ছে অরুনিমা। প্রকৃতির সব সৌন্দর্যই এখানে আছে।

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

কৃষি ও পরিবেশবান্ধব

বলা যেতে পারে অরুনিমা ইকোপার্ক একটি ফুল ও ফলের বাগানও। এখানে রয়েছে বৃহৎ একটি মাছের খামারও। বিনোদনপ্রিয় মানুষের জন্য এখানে রয়েছে পিকনিকের ব্যবস্থা। মনে হবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবহমান গ্রাম-বাংলার চিরচেনা রূপ আর আধুনিকতার সুপরিকল্পিত সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে অরুনিমাকে।

যেন মনের মাধুরী মেশানো স্বপ্নপুরী। প্রবেশ পথেই দেখা যাবে প্রচুর ঝাউগাছ। দেখে মনে হবে এরা যেন সারিবদ্ধভাবে আগন্তুকদের অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়ে আছে। হাজার হাজার ফুল ও ফলের চারাসহ বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ সমন্বয়।

এই পার্কে রয়েছে অন্তত দুই শ প্রজাতির গাছ। এসবের মধ্যে যেমন রয়েছে আম, কাঁঠাল, লিচু, নারকেল, চেরি, স্টার আপেল, জলপাই, পেঁপে, কুলসহ অসংখ্য ফলের গাছ, তেমনি রয়েছে ডেফোডিল, ক্যামেলিয়া, লিলি, কুমারী পান্থ, পদ্ম, নীলপদ্ম, রঙ্গন, কাঞ্চন, নানা প্রতাজির গোলাপ, মার্বেল টাস্ক, টগর ইত্যাদি। এসব গাছ পর্যটনকেন্দ্রের শোভাবর্ধনসহ প্রাকৃতিক রূপ এনে দিয়েছে।

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

অরুনিমার অভ্যন্তরে তিন একরের সবুজ মেহগনির বাগান যেন পরিণত হয়েছে সবুজ পাহাড়ে। এক একরের ঝাউবন, ৬৪৭টি আম্রপালি গাছের বাগান, ৫ কাঠার গোলাপ বাগান ও ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে এখানে।

৬৬ বিঘা জমি নিয়ে রয়েছে ১৯টি বিশালাকৃতির পুকুর, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে দারুণভাবে। এসব পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, চিংড়ি, বোয়াল, কইসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছ চাষ করে আয়ও হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

কাছেই ঐতিহাসিক নিদর্শন

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই কান্ট্রি সাইড ঘিরে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। এখান থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে কালিয়া উপজেলা শহরে রয়েছে বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক রবি শংকর ও নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ভ্রাতৃদ্বয়ের জন্মস্থান, কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনের কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত দৌহিত্র ভবানী সেনের বসতবাড়ী এবং সেখানে রক্ষিত কয়েক শ বছরের পুরোনো ২০০ মণ ওজনের পিতলের রথ-মন্দির।

প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব-পশ্চিমে নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত শুকতাইল গ্রামে হাজার বছরের স্থাপত্য নিদর্শন শুকতাইল মাঠ, যা প্রায় ১৭০০ বছর পূর্বে সম্রাট অশোকের শাসনামলে নির্মিত বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে।

এ ছাড়া ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে নড়াইল জেলা শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের বসতবাড়ি। সেখানে তিনি শিশুদের জন্য নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন শিশুস্বর্গ।

পাখিদের স্বর্গরাজ্য অরুনিমা

যেভাবে যাবেন এই পর্যটন কেন্দ্রে

রাজধানী ঢাকা থেকে অরুনিমায় আসার সহজ একটি পথ রয়েছে। বিশ্বরোডে মাওয়া-ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া হয়ে গোপালগঞ্জের চন্দ্রদীঘলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে হাতের ডানে কিছুদূর গিয়ে বরফা ফেরিঘাট পার হলেই স্বপ্নপুরী ইকোপার্ক। আসতে সময় লাগবে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

খুলনা ও যশোর থেকে নড়াইলের কালিয়া হয়ে এখানে যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এ ছাড়া নড়াইলের লোহাগড়া হয়ে মহাজন বাজার থেকে নবগঙ্গা ও মধুমতী নদী ফাইবার বোটে পাড়ি দিয়ে ইকোপার্কে যাওয়া যায়।

মহাজন থেকে নবগঙ্গা নদী পার হয়ে বড়দিয়া বাজার থেকে ভ্যান, মোটরসাইকেল বা নছিমনযোগেও ইকোপার্কে যাওয়া যায়।

আরেকটি পথ রয়েছে, সেটি হলো গোপালগঞ্জ শহরসংলগ্ন মানিকদাহ ফেরিঘাট পার হয়ে নড়াইলের কালিয়ায় অবস্থিত উপমহাদেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ও সেতারবাদক রবি শংকরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ঘুরেও সেখানে সহজে পৌঁছানো যায়। এখানে আগত বিনোদনপ্রিয় পর্যটকদের জন্য রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান আহমেদ বলেন, নিরাপদ অভয়াশ্রম হিসেবে এক যুগ ধরে দেশি-বিদেশি হরেক রকম পাখির বিচরণ এখানে। বিশেষ করে হরেক রকম অতিথি পাখির সঙ্গে বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি পাখির মিতালি, যেন বন্ধুত্বপরায়ণ বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি। তাই অরুনিমাসহ আশপাশের মায়াবী পরিবেশ পাখির নিরাপদ আবাসস্থল। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে প্রায় দুই বছর পর পর্যটকরা আসছেন এখানে।

অরুনিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সদস্য খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় আট মাস যাবৎ অতিথি পাখিসহ সারা বছর দেশি পাখির আনাগোনা থাকে এখানে। পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রমখ্যাত অরুনিমার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে গ্রামবাসীসহ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, পাখি দেখার সুবিধার্থে সুবিশাল লেকের মাঝে এবার বোট আইল্যান্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া লেকের পাশে দাঁড়িয়ে এবং বোটে করে কাছ থেকেই পাখি দেখার সুযোগ রয়েছে অরুনিমায়ই।

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

কৃষিজমিতে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ

কৃষিজমিতে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ

মাদারীপুরের বেশ কিছু ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর জেলা কৃষি সস্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমির মধ্যে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে অতি উর্বর এক ফসলি জমি ১০ হাজার ৬৭৯ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪৯ হাজার ৭২৬ হেক্টর, তিন ফসলি জমি ২০ হাজার ১২৪ হেক্টর ও চার ফসলি ২৫০ হেক্টর।

মাদারীপুরে বেশ কিছু ইটভাটায় কয়লার বদলে ইট তৈরিতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। কাঠের চাহিদা পূরণে এলাকায় নিধন হচ্ছে ছোট-বড় সব গাছ। এ ছাড়া নিয়ম না মেনেই বসতবাড়ির পাশে গড়ে তোলা হচ্ছে ভাটা, এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ।

অবৈধভাবে গড়ে তোলা এমন অনেক ভাটায় কেটে নেয়া হচ্ছে ফসলি জমি। এসবের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হলেও থামছে না অনিয়ম।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না ইটভাটার মালিকরা। কয়েকটি ইটভাটায় জ্বলছে কাঠ। এত কাঠ ব্যবহার করার কারণে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। আর কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ চলছে অবাধে।

তাদের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন নীরব ভূমিকায় রয়েছে।

কৃষিজমিতে ইটভাটা, পুড়ছে কাঠ
মাদারীপুরে ইটভাটায় কয়লার বদলে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর জেলা কৃষি সস্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমির মধ্যে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে অতি উর্বর এক ফসলি জমি ১০ হাজার ৬৭৯ হেক্টর, দুই ফসলি জমি ৪৯ হাজার ৭২৬ হেক্টর, তিন ফসলি জমি ২০ হাজার ১২৪ হেক্টর ও চার ফসলি ২৫০ হেক্টর।

মাদারীপুর কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘কৃষি ও কৃষিজমি নষ্টের অন্যতম কারণ ইটভাটা। এ ছাড়া ভাটার দূষণ ও বিরূপ প্রভাবে আশপাশের জমির ফসলহানি হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি ফসলি জমি নষ্ট হয়- এমন স্থানে যেন ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া না হয়।’

মাদারীপুর জেলায় বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার তথ্য চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও সেখান থেকে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেয়া হয়নি।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মাদারীপুর জেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার অধিকাংশই অবৈধ। ইটভাটার বেশির ভাগই স্থাপন করা হয়েছে ফসলি জমি বা এর পাশ ঘেঁষে। অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ভাটায় অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী আবুল হাসান সোহেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-এর ৮(১)(ঘ) ধারায় বলা আছে, কৃষিজমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ওই আইনের ৩(ক) ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না।

‘মাদারীপুরে অবশ্য এসব আইনের কোনো তোয়াক্কা নেই, যেখানে-সেখানে ফসলি জমি এমনকি বসতবাড়ি ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে ভাটা। এসব করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ লঙ্ঘন করছেন ভাটার মালিকরা।’

ইট তৈরিতে ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় নেয়ার অভিযোগ রয়েছে মালিকদের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সস্প্রতি স্থানীয় ইটভাটা মালিকরা জোর করে তাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন।

কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে ইটভাটা মালিক হেমায়েত কাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন।

তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি।

মাদারীপুর ইটভাটা শিল্পমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ ভাটাতেই এখন আর কাঠ পোড়ানো হয় না। তবে হেমায়েত কাজীর ভাটা, রহিম খানের ভাটাসহ ৭-৮টি ভাটায় কাঠ পোড়ানো হয় বলে আমরাও অভিযোগ পেয়েছি।

‘বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধের নির্দেশ দেয়, কিন্তু নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েক দিন আগে তিনটি ভাটায় জরিমানা করলেও আগের মতোই কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকেও কাঠ পোড়ানো বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ভাটাগুলোতে।’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘কোনো কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা করা যাবে না। আইনগতভাবে এটা নিষিদ্ধ। কোনো ভাটায় গাছ পোড়ানোর নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কয়েকটি ভাটায় পানি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আগামীতে আরও শক্ত হাতে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টি

দিল্লিতে ৩২ বছর পর জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টির দিনে পথচারীরা। ছবি: এএফপি

শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শনিবার ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। শীতকালে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এত বৃষ্টিপাত গত ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সারা দিনে দিল্লিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

১৯৮৯ সালে দিল্লিতে জানুয়ারি মাসে ৭৯ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার বৃষ্টিপাতের ফলে দিল্লিতে ঠান্ডা বেড়ে যায় প্রচণ্ডহারে। এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই সময়ের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ৭ ডিগ্রি কম। এটি চলতি শীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

সফদরজং পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, তারা সকাল ৮টার আগে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছিল।

দেশটির আবহাওয়া অফিস জানায়, দিল্লির মতো পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং উত্তর রাজস্থানেও রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

এমন অবস্থার মধ্যেও দিল্লির বাতাসের মান খুব খারাপ বলে জানানো হয়েছে। বাতাসের সূচকে শনিবার দিল্লির স্কোর ৩১৬, যা ‘ভেরি পুওর’ ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

বিরল চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে মেরে উল্লাস

বিরল চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে মেরে উল্লাস

চিতা বিড়ালটিকে হত্যার পর গ্রামবাসীর উল্লাস। ছবি: নিউজবাংলা

গত দুই সপ্তাহে সংঘবদ্ধ হয়ে দুটি বন্যপ্রাণীকে হত্যা করেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের কচুয়া গ্রামের মানুষ। তাদের সর্বশেষ শিকার একটি বিরল প্রজাতির চিতা বিড়াল।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিরল প্রজাতির একটি চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছে কচুয়া গ্রামবাসী। পরে মৃত বিড়ালটিকে নিয়ে উল্লাসও করে তারা।

এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে দুটি বন্যপ্রাণীকে হত্যা করেছে কচুয়া গ্রামের মানুষ।

শনিবার দুপুরে চিতা বিড়ালটিকে হত্যার খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে এর মরদেহটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ কয়েকজন বিড়ালটিকে গ্রামের পাশে একটি ঝোপে দেখতে পায়। তারা এটিকে বাঘের বাচ্চা বলে গ্রামবাসীর মধ্যে প্রচার করলে শত শত মানুষ বিড়ালটিকে ধাওয়া করে। পরে তারা এটির নাগাল পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয়রা এটিকে বাঘ আখ্যা দিয়ে মেরে ফেলেছে। অনেকে আবার এটিকে মেছো বিড়ালও মনে করে। কিন্তু এর প্রকৃত নাম হচ্ছে চিতা বিড়াল। যার ইংরেজি নাম Leopard cat।’

তিনি জানান, চিতা বিড়াল মেছো বিড়ালের চেয়ে একটু ছোট এবং সাধারণ বিড়ালের চেয়ে একটু বড়। ওজন প্রায় চার কেজি হয়ে থাকে। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট অঞ্চলে এরা কিছু সংখ্যায় রয়ে গেছে। এটি কখনও কোনো মানুষকে আক্রমণ করে না।

বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছুদিন আগে শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছিল। এরপর আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য স্থানীয়দের বলেছি। এর পরও তারা গত ৯ জানুয়ারি একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় বন আদালতে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।’

রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ওই গ্রামের মানুষ একটি বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলকেও আটক করে। পরে বন বিভাগের কর্মীরা গিয়ে এটিকে উদ্ধার করেন।

মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, ‘চিতা বিড়াল হত্যার ঘটনায় আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় মামলা হবে। তবে মামলাটি বন আদালত নাকি থানায় হবে, এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ জানুয়ারি উপজেলার রাজারবাজার ও রানীরকোট এলাকার ছয়জনকে কামড়ায় একটি শিয়াল। পরে ওই দুটি গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অচেনা প্রাণীর আতঙ্ক দেখা দেয়। এই প্রাণীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণাও দেয়া হয়। এমনকি গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে রাতভর গ্রাম পাহারাও দেয়।

গত ৮ জানুয়ারি বিকালে চুনারুঘাট উপজেলার সারেরকোনা গ্রামে কবরস্থানের গর্ত থেকে এলাকাবাসী মেছো বিড়ালের দুটি শাবক ধরে আনে। এ সময় মা বিড়ালটি পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাচ্চাগুলোকে আগের স্থানে রেখে দেন। সেদিন রাতেই মেছো বিড়ালটি নিজের শাবক দুটিকে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়।

৯ জানুয়ারি কচুয়া গ্রামবাসী একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে ১৩ জানুয়ারি বিরল প্রজাতির গন্ধগোকুলটিকে ধরে আনে স্থানীয়রা। যদিও বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটিকে উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করব। যেহেতু স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়েই বন্যপ্রাণী ধরছে এবং মারছে, সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হবে। এ ছাড়া যে দুটি প্রাণীকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারে মামলা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

সেন্ট মার্টিন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসায় ক্যাপ্রিও

হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের প্রায় ২৫ শতাংশ প্রজাতির বসবাস প্রবাল প্রাচীরে। তাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রবাল প্রাচীরকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। সামুদ্রিক দূষণ ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রবাল প্রাচীরগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতিমধ্যে প্রবাল প্রাচীরের সুরক্ষায় বিভিন্ন কাজ শুরু করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশটির একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে রক্ষায় ও টেকসই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য সেন্ট মার্টিন এলাকার ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটারকে সেন্ট মার্টিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে।

আর এই সিদ্ধান্তকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। তিনি এক টুইটবার্তায় লেখেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশে নতুন প্রতিষ্ঠিত সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করায় বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায় ও এনজিওগুলোকে ধন্যবাদ। এটি জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ সম্প্রদায়কে রক্ষা করবে এবং যেটি বাংলাদেশের প্রবাল দ্বীপের প্রাণীদের মূল আবাসস্থল হবে।

উল্লেখ্য, হলিউডে দীর্ঘ মেয়াদে সফলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও একজন পরিবেশকর্মীও।

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

‘তিস্তা ইস্যুতে চাই হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়ন’

‘তিস্তা ইস্যুতে চাই হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়ন’

উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০২২-এ ভার্চুয়ালি অংশ নেন বিশেষজ্ঞ অতিথিরা।

আইনুন নিশাত বলেন, ‘ভারত একতরফাভাবে তিস্তা নদীর পানি প্রত্যাহার করছে। এটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি ভারতীয় আইনেও তা অগ্রহণযোগ্য। আন্তঃসীমান্ত বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় পানির ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯৫৮ সালের আইনও এ ধরনের পানি প্রত্যাহার সমর্থন করে না।’

তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতকে বার্ষিক হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়নে বসতে হবে। নদীটির অববাহিকা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এই সমস্যা সমাধানে দু’দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ-এর পরামর্শক প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সপ্তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০২২-এ ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘তিস্তা নদী অববাহিকা: সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি চলবে শনিবার পর্যন্ত।

‘তিস্তা ইস্যুতে চাই হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়ন’

সভাপতির বক্তব্যে আইনুন নিশাত বলেন, ‘ভারত একতরফাভাবে তিস্তা নদীর পানি প্রত্যাহার করছে। এটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি ভারতীয় আইনেও তা অগ্রহণযোগ্য। আন্তঃসীমান্ত বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় পানির ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯৫৮ সালের আইনও এ ধরনের পানি প্রত্যাহারকে সমর্থন করে না।’

সম্মেলনের প্রথম দিন বিষয়ভিত্তিক প্রসঙ্গ, ইতিহাস, আকৃতি এবং তিস্তা ও এর পার্শ্ববর্তী নদীর স্থানিক পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা হয়।

তিস্তার রূপতত্ত্ব, নৃতাত্ত্বিক বিষয় এবং আঞ্চলিক বিরোধের ওপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমস্যার সমাধান করা এবারের সম্মেলনের উদ্দেশ্য।

তিনদিনের সম্মেলনটি সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষ, এনজিও, দাতা সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের তিস্তা নিয়ে সম্মিলিত আলোচনার বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাগত বক্তব্যে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘তিস্তা কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য ব্যবস্থার জন্য পানির একটি প্রধান উৎস। পানি ও নদী শাসন, আঞ্চলিক বিরোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে জনগণের অধিকারকে প্রভাবিত করছে। তাই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করা জরুরি।’

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অশোক সোয়াইন মনে করেন, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একসঙ্গে বসতে দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা ও মানসিকতার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে একটি চুক্তি সম্পাদন জরুরি।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মনজুর হাসান বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। পানি কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়। পানির ব্যবস্থা মানবাধিকারের মৌলিক বিষয়। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য।’

তিস্তা নদীর পানি বরাদ্দ ইস্যুতে একটি সমাধানে আসার আহ্বান জানান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন চলছে। এমনকি ভারতীয় জনগণও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির দুর্ভোগে পড়ে।’

পানি ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে বলেও মনে করেন ইনু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘নদী আর নদী নেই। মানুষ এখন শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে নদী পার হতে পারে। ভারতের স্থানীয় জনগণের মতে, তিস্তার ওপর বাঁধ জীববৈচিত্র্য এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভূমিতে আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।’

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অশোক সোয়াইন মনে করেন, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একসঙ্গে বসতে দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা ও মানসিকতার অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি সমাধানে একটি চুক্তি সম্পাদন জরুরি।’

ব্রুনাইয়ের দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার ইকবাল বলেন, ‘তিস্তা নদী নিয়ে সরকারের দুশ’ থেকে তিনশ’ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা নদী তীরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে।’

২০১৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন আয়োজন করে আসছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর তিস্তা নদীর অববাহিকায় বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন

নদী রক্ষায় ডিসিদের জোরাল ভূমিকা চায় সরকার

নদী রক্ষায় ডিসিদের জোরাল ভূমিকা চায় সরকার

নদী দূষণ রোধে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ডিসি সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নদীগুলোতে যেন নাব্যতা থাকে, নদী দূষণ এবং দখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ আমাদের নদী রক্ষার যে জেলা কমিটি, সেটার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তারা ইতোমধ্যে অনেক ভূমিকা রাখছেন এবং এগুলো আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।’

দেশের নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষা, দূষণ ও দখল রোধেও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জোরাল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সেই সঙ্গে দেশের স্থলবন্দরগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানোতেও ডিসিদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নদীগুলোতে যেন নাব্যতা থাকে, নদী দূষণ এবং দখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কারণ আমাদের নদী রক্ষার যে জেলা কমিটি, সেটার সভাপতি জেলা প্রশাসক। তারা ইতোমধ্যে অনেক ভূমিকা রাখছেন এবং এগুলো আরও জোরদার করার জন্য বলা হয়েছে।’

‘অবৈধ বালু উত্তোলনের মধ্য দিয়ে নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে যায় এবং আমাদের নৌপথগুলোতে বিঘ্নতা তৈরি হয়। এগুলো সঠিকভাবে মনিটরিং করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।’

স্থলবন্দরগুলোতে অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করার জন্যও ডিসিদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের স্থলবন্দর যেগুলো আছে, যেহেতু সেখানে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, সে জায়গায় কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসনের নজরদারি আছে, তারা রাখছেন। তারপরেও এটা জোরদার করার জন্য আমরা বলেছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে, এগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব ছিল কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় যে মানুষগুলো আছে, যেমন হাতিয়া, ভোলা, এসব নদী বন্দরগুলোর আরও উন্নয়ন করা এবং যাত্রীবান্ধব করা। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌ সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে একটা অচলায়তন, অনিয়ম হয়ে আসছে। এটা এত বড় একটা সেক্টর, একবারেই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

‘যেমন আমরা যে লঞ্চে যাতায়াত করি, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এটির নকশায় পরিবর্তন করা দরকার। শুধু কোভিড পরিস্থিতির কারণে নয়, বর্তমান এ আধুনিক যুগে এটি চলে না। এ জায়গাটায় আমরা নজর দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এ সেক্টরকে নিরাপদ করা।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি রক্ষায় অনশনের ঘোষণা ড. অনুপম সেনের
সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

শেয়ার করুন