গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

player
গ্যাস নিয়ে গার্ডেন টাওয়ারের ‘জালিয়াতি’

গার্ডেন টাওয়ারে ৯০টির মতো ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাওয়ারের পাশেই ম্যান এন্ড কোম্পানির মালিকানাধীন গার্ডেন ইন হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস ব্যবহৃত হতো।

সিলেটের অন্যতম বড় আবাসন প্রতিষ্ঠান দি ম্যান এন্ড কোম্পানি লিমিটেড। নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় এই কোম্পানির মালিকানাধীন আবাসন প্রকল্প গার্ডেন টাওয়ারে গ্যাস সংযোগ নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

গার্ডেন টাওয়ারে ৮১টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে গত ১৪ জুলাই টাওয়ারের বৈধ-অবৈধ সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জালালাবাদ গ্যাস। এরপর থেকেই চরম দুর্ভোগে আছেন গার্ডেন টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। তাদের ঈদও কেটেছে গ্যাস ছাড়া।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের বিপনন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী খান মো. জাকির হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই টাওয়ারে ১১২টি গ্যাস সংযোগের আবেদন করে ১৯৩টি সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল অবৈধভাবে ৮১টি সংযোগ ব্যবহার করায় আমরা সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।’

নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ভবনের বিপরীত পাশেই গার্ডেন টাওয়ারের অবস্থান। এতে ৯০টির মতো ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাওয়ারের পাশেই ম্যান এন্ড কোম্পানির মালিকানাধীন গার্ডেন ইন হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস ব্যবহৃত হতো।

২০০৪ সালে নির্মিত গার্ডেন টাওয়ারে শুরু থেকেই অবৈধভাবে অতিরিক্ত ৮১টি গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাসের একটি সূত্র।

তবে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছেন, তাদের সব সংযোগই বৈধ। শিগগিরই গ্যাস সংযোগ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।

গার্ডেন টাওয়ারের ফ্ল্যাটের মালিক ও বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতি মাসেই ম্যান এন্ড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে গ্যাসের বিল পরিশোধ করছেন। সব গ্যাস সংযোগই বৈধ বলে তাদের জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে সব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ম্যান এন্ড কোম্পানি ও জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, খামখেয়ালির ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

গার্ডেন টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কানন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টাওয়ার নির্মাণের কিছুদিন পর থেকেই আমি এখানে আছি। নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়ে আসছি। অথচ এখন আচমকা অবৈধ সংযোগ বলে গ্যাস বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। যদি অবৈধ সংযোগই হয় তাহলে কোম্পানি আমাদের কাছ থেকে বিল নিলো কেন?

‘হঠাৎ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আমিসহ সব ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস কিনে এনেছেন। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনছেন অনেকে। এবার ঈদও করতে হয়েছে এমন অবস্থায়। আবার শাটডাউনের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’

গার্ডেন টাওয়ার ফ্ল্যাট মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজমল আলী বলেন, ‘ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা প্রতিদিন অভিযোগ দিচ্ছেন। তাদের দুর্ভোগের কথা বলছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা গ্যাস সংযোগ আনিনি। এখন বিচ্ছিন্ন করায় আমাদের কোনো দায় নেই। আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টির পুরো ম্যান এন্ড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দায়। তারা গ্যাস সংযোগ এনেছেন। আমরা বিলও তাদের কাছে পরিশোধ করি। এখন তারা অবৈধভাবে সংযোগ এনেছেন, নাকি অন্য কোনো ঝামেলা হচ্ছে সেটি তারাই বুঝবেন। দ্রুত সংযোগ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমরাও তাদের চাপ দিচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে জালালাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তা জাকির হোসাইন বলেন, ‘টাওয়ারের মালিক প্রতিষ্ঠান থেকে বৈধ সংযোগগুলো চালুর ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানা আদায় করে তাদের বৈধ ১১২টি সংযোগ আবার চালু করার বিষয়টি জালালবাদ গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে।’

কতদিন ধরে গার্ডেন টাওয়ারে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে জাকির হোসাইন বলেন, ‘৪/৫ বছর ধরে তো গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ আছে। তার আগে তারা এই কাজ করতে পারেন। তবে কবে সংযোগগুলো লাগিয়েছেন তা বলা কঠিন।’

এ ব্যাপারে ম্যান এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমদ মিসবাহ সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে কোম্পানির সঙ্গে জড়িত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সব সংযোগই বৈধ। তবে কাগজপত্র নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সংযোগ আবার চালুর চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার অন্য দিন দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জামিউল হায়দার বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ।

দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন জসিম উদ্দিন।

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের মেয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত জসিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

এবার শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপির সংহতি

এবার শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপির সংহতি

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। এই উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিএনপি নেতারা।

সিলেট মহানগর বিএনপির ছয়-সাতজন শীর্ষ নেতা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

এর দুদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটির নেতারা শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে আসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সালেহ আহমদ খসরুসহ কয়েকজন। তারা সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। এই উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেহেতু চাচ্ছে, তাহলে ওনার (উপাচার্যের) সরে যাওয়াই উচিত।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে যে কেউ সংহতি জানাতে পারেন। যেকোনো দলের নেতারাই আসতে পারেন। তবে এটি কোনো দলীয় আন্দোলন নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম মঙ্গলবার বলেছিলেন, ‘আমাদের দল ও সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসার একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

‘আমি আপনাদের দাবির প্রতি একমত। আপনাদের প্রাথমিক দাবিগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে চেষ্টা করব। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসে সে চেষ্টা চালাব।’

শফিউল আলমের সঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহাসহ আরও অনেকে ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনের আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক। তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পরে সঙ্গে থাকা টাকা খুইয়েছেন এক সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর তার পাকস্থলি পরিস্কার করা হয়।

ভুক্তভোগী শামন হোসেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ক্রীড়া বিভাগে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন।

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনের আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান আসলে বাস থেকে নামিয়ে আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি। তাকে পাকস্থলি পরিস্কার করার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

মাহবুব জানান, শামনের কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়াও শামনের অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

হাওরের আলোকিত নারী দীপালী সরকারের জীবনাবসান

হাওরের আলোকিত নারী দীপালী সরকারের জীবনাবসান

দীপালী সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে ‘সফল জননী নারী’ হিসাবে দীপালী সরকারকে জয়ীতা পদক ও সম্বর্ধনা প্রদান করে।

হাওরের আলোকিত মানুষ ও রত্নগর্ভা জননী দীপালী সরকার ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

দিপালী সরকারের জন্ম ১৯৪৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার সরাইল সদর ইউনিয়নের নাথহাটি গ্রামে। দীপাবলী বা দীপান্বিতা তিথিতে জন্ম বলে নাম রাখা হয় দীপালি।

দিপালী সরকারের পিতা মহাপ্রভু দেবনাথ এবং মা বিমলা দেবী। দীপালীর শৈশব ও কৈশোর কাটে ঐতিহ্যবাহী জনপদ সরাইল ও কালিকচ্ছে। ১৯৬১ সালের ৫ মার্চ তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া নিবাসী ডা. রমেন্দ্র নারায়ণ সরকারের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামীর চাকুরিসূত্রে তিনি বসবাস করেন রংপুর, গাইবান্ধা, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি, করগাঁও ইত্যাদি অঞ্চলে। আশির দশক থেকে তিনি বসবাস করতেন অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়ার নাথপাড়ার বাড়িতে।

কৈশোর থেকে দিপালী সরকারের বই পড়ার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। গাইবান্ধা থাকা অবস্থায় তিনি নিজের বাসায় গড়ে তোলেন একটি গ্রন্থাগার। তার গ্রন্থাগার থেকে তৈরি হয়েছে অনেক পাঠক। পাঠাভ্যাস তিনি সঞ্চারিত করেছেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কটিয়াদির বাসা থেকে তার গ্রন্থাগারটি লুট হয়ে যায়। এরপর আবার গড়ে তুলেছিলেন পাঠাগার।

হাওরের আলোকিত নারী দীপালী সরকারের জীবনাবসান

দীপালী সরকারের স্বামী ও হাওরের বিনা পয়সার চিকিৎসক বলে পরিচিত ডা. রমেন্দ্র নারায়ণ সরকার স্মরণে তার পৃষ্ঠপোষকতায় অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রথম চিত্রাঙ্কন কর্মশালা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রশাসন ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে ‘সফল জননী নারী’ হিসাবে দীপালী সরকারকে জয়ীতা পদক ও সম্বর্ধনা প্রদান করে।

দিপালী সরকারের সন্তানদের মধ্যে পুত্র তাপস সরকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, তপন সরকার শিক্ষক, তরুণ সরকার সাংবাদিক ও তুষার সরকার পুলিশ কর্মকর্তা এবং অপর্ণা সরকার গৃহিনী।

গত ১৭ জানুয়ারি সকালে দীপালী সরকার ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং এরপর তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০ জানুয়ারি সকালে দীপালী সরকারকে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার বাঙ্গালপাড়া শ্মশানে দাহ করা হয়। দীপালী সরকারের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২২ শনিবার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া উপজেলার নাথপাড়ায় তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দীপালী সরকারের আত্মীয়-স্বজন, অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত হতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

শাবি ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাবি উপাচার্যকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে।

জাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাবি উপাচার্যকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হল সারারাত খোলা রাখার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে দেশের অপর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন শাবি উপাচার্য। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ থেকে এসব জানা যায়। শাবি উপাচার্য বলেছেন তার ওই বক্তব্যে বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের কেউ সহজে বউ হিসেবে নিতে চায় না। কারণ সারারাত এরা ঘুরাফিরা করে।’

আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জ্ঞানপাপী অশোভন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ভিসি তো দূরের কথা, শিক্ষক পদে থাকার যোগ্যতাও হারিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

মোমেনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা বাইডেনের

মোমেনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা বাইডেনের

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ও তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে পাঠানো বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনকে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ও তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনকে পাঠানো বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এর আগে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে শুভেচ্ছাপত্র পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন

ইউনিক আইডি নিয়ে ৪ নির্দেশনা

ইউনিক আইডি নিয়ে ৪ নির্দেশনা

ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি নিয়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি। যা চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি নিয়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

নির্দেশনাগুলো হলো

১. ২০২২ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথ্য ফরম পূরণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

২. মুদ্রিত শিক্ষার্থী তথ্যছকে শিক্ষার্থীর শ্রেণি অনুযায়ী Data Entry করতে হবে। অর্থাৎ ফরমে শিক্ষার্থীদের যে শ্রেণি উল্লেখ রয়েছে সেই শ্রেণি হিসেবেই Data Entry দিতে হবে। অর্থাৎ সকল শিক্ষার্থীর তথ্য ২০২১ সাল বিবেচনা করে Entry করতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীর পিতা/মাতা/অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন থাকলে অবশ্যই ১৭ ডিজিটে দিতে হবে। অর্থাৎ ১৩ ডিজিটের নম্বরের শুরুতে জন্মসাল দিতে হবে।

৪. শিক্ষার্থীর BRN এবং জন্মতারিখ এন্টির পর শিক্ষার্থীর নাম প্রদর্শিত না হলে অন্যান্য তথ্য Entry দেয়া যাবে না। এবং প্রথম Page Save হবে না।

ইউনিক আইডি কেন

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজ-অ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিয়েবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ সংযোগ: কর্ণফুলীর টেকনিশিয়ানের জামিন নাকচ

শেয়ার করুন