যে গ্রামে ৮০ বছর ধরে মানুষ নেই

যে গ্রামে ৮০ বছর ধরে মানুষ নেই

বসতি ছিল, হতো চাষাবাদও তবে প্রায় শতবর্ষ ধরে জনমানুষহীন ঝিনাইদহের মঙ্গলপুর। ছবি: নিউজবাংলা

এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৬৬ নম্বর মৌজায় অবস্থিত গ্রামটি। গ্রামে ২০৬টি খতিয়ানভুক্ত জমি আছে। এখানে বসতি ছিল, চাষাবাদও হতো। কিন্তু এখন পুরো গ্রামটিই জনশূন্য।

ফসলি জমি ও ঈদগাহ আছে। বেশ কয়েকটি বসতভিটার ধ্বংসাবশেষের দেখাও মেলে। রয়েছে চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা। কিন্তু মানুষ নেই।

শুনতে কিছুটা অবাক লাগলেও এমনই একটি গ্রাম রয়েছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে। গ্রামটির নাম মঙ্গলপুর।

গ্রামের নাম মঙ্গলপুর হলেও এক সময় যেন অমঙ্গল ভর করেছিল এ গ্রামে। এ কারণে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় গ্রামের বাসিন্দারা। এরপর আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ বছর পার হলেও ফেরেননি তারা। গড়েও ওঠেনি কোনো বসতি।

এলাঙ্গী ইউনিয়নের ৬৬ নম্বর মৌজায় অবস্থিত গ্রামটি। গ্রামে ২০৬টি খতিয়ানভুক্ত জমি আছে। এখানে বসতি ছিল, চাষাবাদও হতো। কিন্তু এখন পুরো গ্রামটিই জনশূন্য।

ওই এলাকার বলাবাড়িয়া গ্রামের প্রবীণ খালেক খান বলেন, ‘আমি নিজেও মঙ্গলপুর গ্রাম শূন্য হওয়ার বিষয়ে খুব একটা জানি না। তবে বাপ-দাদাদের কাছে শুনেছি, এক সময় এই মঙ্গলপুর গ্রামে মানুষ ছিল। অনেক বছর হয়ে গেল, সেখানে আর মানুষের বসতি হয়নি।’

স্থানীয় পাশপাতিলা গ্রামের আরেক প্রবীণ নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, ‘শুনেছি মঙ্গলপুর গ্রামের নামকরণ করা হয় ওই গ্রামের মঙ্গল পাঠান নামের এক ব্যক্তির নামে। তার তিন একর জমির উপর বিশাল বাড়ি ছিল। তিনি এই গ্রামেই মারা যান। তার কবরও রয়েছে সেখানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই গ্রামে সংখ্যালঘু মানুষ ছিল। অত্যাচারিত হয়ে গ্রাম ছেড়ে অনেকেই সেই সময় চলে যেতে বাধ্য হয় বলে শুনেছি।’

স্থানীয়দের ভাষ্যে, গ্রামটি জনশুন্য হওয়ার প্রধান কারণ ছিল গুটি বসন্ত। ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে গ্রামটিতে গুটি বসন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক মানুষ এতে মারা যায়।

বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসক, কবিরাজ, ওঝা নিয়ে এসেও গুটি বসন্ত নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালান বাসিন্দারা। সেই থেকেই ওই গ্রাম মানুষ শূন্য হয়ে যায়।

যে গ্রামে ৮০ বছর ধরে মানুষ নেই
মঙ্গলপুরে নির্মাণাধীন উপহারের ঘর

বহু বছর ধরে বসতিহীন গ্রামটি অবশ্য আর জনমানুষ শূন্য থাকছে না। গ্রামটিতে আবারও বসতি গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় সাতটি ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।

ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় গত মার্চে সেখানে বাড়ির কাজ শুরু হয়। কিছুদিনের মধ্যেই সুবিধাভোগীদের মাঝে এ ঘর হস্তান্তর করা হবে। পাশের বাগডাঙ্গা, পাশপাতিলা ও বলাবাড়িয়া গ্রামের সাতটি ভূমিহীন পরিবারকে এ ঘর দেয়া হবে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সেলিম রেজা বলেন, ‘ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাসিন্দাদের মাঝে এগুলো হস্তান্তর করা হবে। আশা করি, গ্রামটিতে আবারও বসতি গড়ে উঠবে।’

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

ময়মনসিংহের ভালুকায় সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন আফাজ পাঠান। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন আফাজ পাঠান। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

মরিয়ম, আজওয়া, ছুকারি, আমবার, বারহী, চেগী, নেপতা, মেগজুনসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর ঝুলছে দেশেরই হাসানিয়া সৌদিয়া নামের এক বাগানে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের আফাজ পাঠান পাঁচ বছর আগে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এই খেজুর বাগান।

সৌদি আরবের ১০ জাতের খেজুরের প্রায় ৫ হাজার গাছ ও ৫ হাজার চারা আছে তার বাগানে। বাগান পরিচর্যায় কাজ করেন ১৫ শ্রমিক।

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

আফাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি চারা ২ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। তবে আমি যে চারাগুলো ২৫ হাজারে বিক্রি করি সেটির বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। তবুও বাংলাদেশে এই জাতের চারা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কম দামে বিক্রি করছি। প্রতি বছর ২৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি করি।

‘লাভের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি হওয়ায় আরও জায়গা কিনেছি। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে খেজুর চাষ করছি। বাগানের একটা গাছে সাধারণত ১৫০ কেজি খেজুর ধরে। তবে গাছ ৫ থেকে ১০ ফুট লম্বা হলে আরও বেশি হয়।’

খেজুর গাছের চারা বিক্রি করলেও এখনও খেজুর বিক্রি শুরু করেননি আফাজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম খেজুর চাষের উদ্যোগ নেই তখন মনে মনে শপথ করেছিলাম কয়েক বছর খেজুর বাজারে বিক্রি করব না। যা হবে সব বিনা মূল্যে মানুষকে খেতে দেব। স্থানীয় লোকজনকে তো দেইই, যারা বাগান দেখতে আসে তাদের সবাইকে খেজুর দেই। তবে আগামী বছর থেকে বাজারে বিক্রি করব।’

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার বাগান থেকে দেশে সৌদি আরবের খেজুরের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন আফাজ।

খেজুর চাষ করে শুধু আফাজের ভাগ্যই ফেরেনি, কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার কিছু মানুষেরও।

বাগানে কাজ করতে করতে আব্দুল করিম নামের এক শ্রমিক জানান, আগে দূরে গিয়ে কাজ করার সময় থাকা-খাওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন বাড়ির পাশেই কাজ করছেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পান। সংসার খরচের পর কিছু টাকা জমাতে পারছেন।

স্থানীয় কৃষক আফছর উদ্দিন খান বলেন, ‘আফাজ পাঁচ বছর আগেও অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন তার দেয়া বেতনে অনেকের সংসার চলে। এই সফলতা এসেছে তার পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির কারণে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানান, অনেক বেকার যুবক ও স্থানীয় কৃষক আফাজের খেজুর বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কেউ খেজুর চাষ করতে চাইলে তাকে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

প্রতীকী ছবি

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উৎপাদনও হচ্ছে। এরপরও কিছুদিন ধরে রাজধানীর কিছু কিছু এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ায় এমনটা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে গত রোববার দেশে আরও পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। তাতে দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে।

দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এরপরও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া ও ভোল্টেজ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন নগরবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যে অভিযোগ আসছে, তা উৎপাদনজনিত নয়, ত্রুটিজনিত।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা স্বীকার করে নিউজবাংলাকে বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ একটু কমে গিয়েছে। এই সরবরাহ কমে যাওয়াতে একটু প্রেসার পড়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

এ কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে বলেই এটা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে কাজ চলছে।’

বর্তমানে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫৭টি। সেখানে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ঘাটতি থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন কমে আসে, তেমনি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই বুধবার থেকে পিক আওয়ারে অর্থাৎ বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও পরে সেটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি এসে তুলে নেয়া হতে পারে।

গ্যাসের চাহিদার কারণে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, সেটি জানা গিয়েছে আরও একটি মাধ্যম থেকে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার সভা হয়। সভা শেষে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) আলি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশে এখন এলএনজির ঘাটতি রয়েছে, যার জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সিএনজির কারণে ৮২ থেকে ৮৩ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস খরচ হয়। তবে এটা বেশি দিন লাগবে না।

‘নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাবে। আর এই সময়ে এলএনজি দেশীয় সোর্স থেকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করবে। এর মধ্যেই উৎপাদন ঠিক হবে।’

রাজধানীসহ সারা দেশেই লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, লালমাটিয়া, মগবাজার, বাড্ডাসহ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে ধানমন্ডি, গুলশান উত্তরাসহ অভিজাত এলাকাগুলোতেও।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাস সংকট

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা অনির্বাণ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খুব বেশি সময় লোডশেডিং হয় না। হুট করে চলে গিয়ে আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই চলে আসে।’

একই রকম অভিযোগ উত্তরার বাসিন্দা মেহরিন জাহানও। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় না হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোল্টেজ কম থাকে।

রাজধানীর খিলগাঁওতে বিদ্যুতের সমস্যা একটু বেশি বলে জানান ওই এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত সুমন।

তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ২৫ মেগাওয়াট। ওই দিন উৎপাদনও তাই ছিল।

ওই দিন ঢাকায় চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৫৯১ মেগাওয়াট। এ সময় কোনো লোডশেডিং হয়নি। দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোতেও লোডশেডিং হয়নি।

এ সময় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট। এ ছাড়া খুলনায় ১ হাজার ৫১৫ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ১ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ৯৯৪ মেগাওয়াট, সিলেটে ৫৭৯ মেগাওয়াট, বরিশালে ৩৬৯ মেগাওয়াট ও রংপুরে ৭০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল।

বিদ্যুতের একই রকম চাহিদা গত কয়েকদিন ধরেই রয়েছে। উৎপাদনও একই রকম। এরপরও বিদ্যুৎবিভ্রাট কেন, তা জানতে চাওয়া হয় পিডিবির জনসংযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাইফুল হাসান চৌধুরীর কাছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখন বিদ্যুতের শতভাগ সক্ষমতা রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এটি আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’

পিডিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। আর দেশে গড় চাহিদা দৈনিক ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এ চাহিদা অনুযায়ীই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৪ কোটি। দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা।

পিডিবি জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশে ১৩ হাজার ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা এ যাবতকালে সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় জাকির খান, সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঋণের কিস্তির টাকা চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

লাসারদী গ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ঢুকে বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মারধর করে কয়েকজন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাইসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় দুবাই প্লাজার জাকির খান কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মালিক জাকির খান, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

ঋণ নেয়ার পর তারা কয়েকটি কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় তাগাদা দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে ব্যাংকের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক কচি শিকদার ও ক্রেডিট অফিসার আজহারুল হক যান ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে। জাকির, সজীব ও তাছলিমা বেগমকে কিস্তি পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। এ সময় আসামিরা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন।

পরে রাতে ৮টায় ঘটে হামলার ঘটনা। ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে কয়েকজন। স্ত্রী আয়েশা বানু বাধা দিলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের আসবাব।

ওসি জানান, হামলার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে সজীবুল ইসলাম সজীব, তাছলিমা আক্তার, জাকির খান ও মুজাহিদ নামে চারজনকে।

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

উড়তে থাকা সোনালী পেপারে ২০ শতাংশ বোনাস, শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতের দর বৃদ্ধিতে উড়তে থাকা সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস তার শেয়ারধারীদের ২০ শতাংশ বোনাসসহ প্রতি শেয়ারে ২ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুন ক্লোজিংয়ের এই কোম্পানিটি ২০২১ সালের জন্য যে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৮৯ পয়সা। এ সময়ে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ২৮৪ টাকা ৩৪ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা। এছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিল ৩০৭ টাকা ৮৮ পয়সা।

সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস গত আট বছরের মধ্যে ২০২১ সালের জন্য সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে শেয়ারধারীদের। এ নিয়ে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১১ ও ২০১২ সালে ৬ শতাংশ বোনাস দিয়েছে সোনালী পেপার।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ করে বোনাস পেয়েছেন এই কোম্পানির শেয়ারধারীরা। ২০২০ সালে বোনাসের সঙ্গে ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এ বছরের মে মাসে সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড ঘোষণা করে তাদের নতুন প্রোডাকশন লাইনের। যেখান থেকে প্রতিদিন এক লাখ পিস পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব বলে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়। এ সময়ে কোম্পানটির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের প্রান্ত সীমা ছিল ২৭৩ টাকা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ৩ জুন যখন কোম্পানিটির ফ্লোর প্রাইস বাতিল করে তখন ১১ কার্যদিবস টানা শেয়ার দর কমে ২৭ জুন শেয়ার দর নেমে আসে ১৯৭ টাকা ৪০ পয়সায়।

এরপর থেকেই মূলত কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির সিঁড়িতে পা রাখে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৫২ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪৭ টাকা ১০ পয়সা।

মাত্র চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১৭৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তখন থেকেই মূলত দাম বাড়ার সিঁড়িতে উঠে কোম্পানিটি।

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় উঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানদা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর জামালপুরের তিন মাদ্রাসা ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ১২ টায় ঢাকার মুগদার একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে এক রিকশাচালকের ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার, গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভুকুড়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা এবং সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু।

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় উঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানদা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফজরের নামাজের সময় উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় তিন ছাত্রী। এই ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ইসলামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মোছা. রাবেয়া আক্তার, শুকরিয়া আক্তার এবং মো. ইলিয়াস হোসেনকে থানায় আনে পুলিশ। এসময় মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিখোঁজ মনিরার বাবা মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মানবপাচার বিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। পরে চার শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে আদালত।

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

ফেসবুক ‘হ্যাক করে’ ধর্মীয় কটূক্তি, উত্তেজনার মুখে গ্রেপ্তার

ফেসবুক ‘হ্যাক করে’ ধর্মীয় কটূক্তি, উত্তেজনার মুখে গ্রেপ্তার

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ চলছে। গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ভোলায় সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গৌরাঙ্গ চন্দ্রের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এ অভিযোগে গৌরাঙ্গ থানায় জিডিও করেন। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য আইডির তথ্য ও মেসেঞ্জারের বার্তার স্ক্রিনশট পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের আইসিটি বিভাগে।

স্ক্রিনশটটি বুধবার রাত ১০টার দিকে ভাইরাল হওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভোলা সদর থানায় একটি জিডি করার পাশাপাশি সেখানেই অবস্থান নেন গৌরাঙ্গ।

ওই রাতেই ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ওই আইডির তথ্য যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তবে রাতেই ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাচিয়া কলোনিতে গৌরাঙ্গ চন্দ্রের বাড়িতে থাকা গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এক দল লোক।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ চলছে। গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে গৌরাঙ্গর মেসেঞ্জার থেকে ‘জয় রাম’ নামের এক জনের মেসেঞ্জারে ধর্মীয় কটূক্তি করা হয়। পরে কথোপকথনের স্ক্রিনশট জয় রামের ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যা দ্রুত ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনার রাতেই ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভোলা জেলার সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি (গৌরাঙ্গ দে জিসি দেব) কে বা কারা হ্যাক করে অসত্য, বানোয়াট ও উসকানিমূলক বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছে। আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

জয় রামের আইডি থেকে ছড়ানো কনটেন্টের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘কেউ গুজবে কান দেবেন না।'

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন

মেট্রোরেলের নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

মেট্রোরেলের নির্মাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

এসআই সজিব খান বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন মেট্রোরেলের রডসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করছিল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মেট্রোরেলের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালপত্র চুরির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ১ হাজার ৪০০ কেজি মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব খান।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন দেলোয়ার, দুলাল, হাসমত, রবিন ও আনোয়ার।

এসআই সজিব খান বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন মেট্রোরেলের রডসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি করছিল। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যে বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কত দিন সচল রাখা যাবে চট্টগ্রাম বন্দর?
সিএমপিতে যুক্ত হলো বডি ওর্ন ক্যামেরা
করোনায় ভাষাসংগ্রামী সমেলা রহমানের মৃত্যু
সিলেটের শ্রীমুখ কি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম?
চট্টগ্রামে অবৈধ পশুহাট উচ্ছেদে অভিযান

শেয়ার করুন