সিআরবিতে হঠাৎ গভীর নলকূপ, কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ

সিআরবি

সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতালের নির্ধারিত স্থানে হঠাৎ করে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

‘সোমবার ১০১ বিশিষ্ট ব্যক্তি সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ না করার জন্য বিবৃতি দিয়েছেন। সেসব উপেক্ষা করে ওরা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। ওইস্থান থেকে স্থানীয়দের উচ্ছেদের পর এখন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।’

চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে বহুল আলোচিত সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের নির্ধারিত স্থানে হঠাৎ করে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

তবে নলকূপ স্থাপন বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক।

মঙ্গলবার বিকেলে নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি জানাজানি হলে নানা প্রশ্ন ওঠে। গভীর নলকূপটি কখন স্থাপন করা হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খুলতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন রাজি হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআরবি এলাকার এক নারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি কখন স্থাপন করা হয়েছে জানি না। সারাদিন আমরা অফিসে থাকি। আজ হঠাৎ এইখানে নলকূপটি দেখতে পাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক আমিন মুন্না নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার ১০১ বিশিষ্ট ব্যক্তি সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ না করার জন্য বিবৃতি দিয়েছেন। সেসব উপেক্ষা করে ওরা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। ওইস্থান থেকে স্থানীয়দের উচ্ছেদের পর এখন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।’

তবে সিআরবিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দিদারুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণত চট্টগ্রাম মহানগরে নলকূপ ও গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় ওয়াসার বাণিজ্য বিভাগ থেকে। সিআরবিতে কোনো গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি।’

সিআরবিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নলকূপ স্থাপন সম্পর্কে জানি না। আমাদের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তিনি জেনে থাকতে পারেন।’

প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তাগীনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও হাসপাতালের বিষয়টি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী দেখেন বলে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘সিআরবিতে গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়ে আমি কিচ্ছু জানি না। হাসপাতালসহ এ সব বিষয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী দেখেন।’

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তৎক্ষণিক কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি তথ্য নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি না। কিছু জানাতে পারবো না এখন, জানতে হলে অফিস চলাকালীন সময়ে যোগাযোগ করতে হবে।’

চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন পেশাজীবী নেতা।

সোমবার বিকেলে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের পক্ষে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিআরবি এলাকায় এ প্রকল্প স্থাপিত হলে নেতিবাচক প্রভাব শুধু প্রকল্পের নির্দিষ্ট স্থানেই সীমিত থাকবে না।

সময়ের প্রয়োজনে প্রকল্প এলাকা নতুন নতুন দালান, অবকাঠামো, দোকানপাট, পার্কিং, ফার্মেসি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের জন্য আবাসিক ভবনে ছেয়ে যাবে।

এতে পরিবেশদূষণ ঘটবে; পুরো সিআরবি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক বলয় হুমকির মুখে পড়বে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি পুরো এলাকাটিকে যানজট, কোলাহলপূর্ণ ও জঞ্জালময় পরিবেশে রূপ দেবে যা সিআরবির অনুপম ও প্রশান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। এটি দেশের সংবিধান ও পরিবেশ আইনবিরোধী একটি হঠকারী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

পেশাজীবীরা বলেন, ‘নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, আমরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করি।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাস উ‌ল্টে খা‌দে প‌ড়ে নিহত

বাস উ‌ল্টে খা‌দে প‌ড়ে নিহত

টাঙ্গাই‌লের কা‌লিহাতী‌তে খা‌দে প‌ড়া বাসে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সা‌র্ভিসের কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আরেক বাসযাত্রী জানান, চালক ঘু‌মিয়ে বাস চালা‌চ্ছি‌লেন। বারবার তাকে সতর্ক করার পরও দুর্ঘটনা ঘট‌লো। দুর্ঘটনার পর চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার পা‌লি‌য়ে গে‌ছে। 

টাঙ্গাই‌লের কা‌লিহাতী‌তে বাস খা‌দে প‌ড়ে একজন নিহত হ‌য়ে‌ছেন। এ‌তে আহত হ‌য়ে‌ছেন অন্তত ১৫ জন।

ভুঞাপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চ‌লিক সড়‌কে উপ‌জেলার নারা‌ন্দিয়া ইউ‌নিয়‌নের যদুরপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার ভো‌রে এই দুর্ঘটনা ঘ‌টে।

নিহত ৬০ বছর বছর বয়সী ছা‌য়েদ আলী খানের বাড়ি নওগাঁর পোরশা উপ‌জেলার কোচপুর গ্রা‌মে।

‌নিহ‌তের ভা‌তিজা বাস যাত্রী আ‌মিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাচাসহ তিনজন ঢাকা যাওয়ার জন‌্য রা‌তে নওগাঁ থে‌কে রওনা হ‌য়ে‌ছি। বাস‌টি বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হ‌য়ে মহাসড়ক দি‌য়ে না গি‌য়ে ভুঞাপুর হ‌য়ে ঢাকার দি‌কে যা‌চ্ছিল। এসময় গা‌ড়ি ঠিকভা‌বে চালা‌তে চালক‌কে বারবার সতর্ক করা হ‌চ্ছিল। প‌রে বাস‌টি সড়‌কে মোর নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হা‌রি‌য়ে খা‌দে প‌রে যায়।’

বাস উ‌ল্টে খা‌দে প‌ড়ে নিহত

আরেক বাসযাত্রী জানান, চালক ঘু‌মিয়ে বাস চালা‌চ্ছি‌লেন। বারবার তাকে সতর্ক করার পরও দুর্ঘটনা ঘট‌লো। দুর্ঘটনার পর চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার পা‌লি‌য়ে গে‌ছে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সা‌র্ভিসের উপসহকা‌রী প‌রিচালক মো. আলাউ‌দ্দিন ব‌লেন, ‘ঘটনাস্থ‌ল থেকে একজ‌নের মরদেহ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে। আহত ১৫ জনকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতা‌লে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

এবিষয়ে কালিহাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ফয়েজুর রহমান জানান, মৃতদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মনদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়াধীন। চালককে ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব

রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব

ইউপি চেয়ারম্যান সোলেমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় ও সার্ভারে চাপ থাকার কারণে দিনে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে ঝামেলা হয়। সচিব রাতে নিজের বাসায় গিয়ে একটা একটা করে সনদ বের করেন।’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের তারাখোঁতে থাকেন আমির হোসেন। জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও কাজ হয়নি তার। একপর্যায়ে দেড় হাজার টাকা ঘুষ দিলে এক দিনের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধন সনদ পেয়ে যান বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়। আমার জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলেও তা অনলাইন করা নেই।

‘অনলাইন করার জন্য বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও নানা বাহানায় ফিরিয়ে দিয়েছে। পরে একজনের পরামর্শে পরিষদের সচিবকে দেড় হাজার টাকা দিলে একদিনের মধ্যে আমার কাজ হয়ে যায়।’

একই অভিযোগ বখতপুর ইউনিয়নের ফাহমিদা আক্তারেরও। তিনি বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আমার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। ইউনিয়ন পরিষদে টানা সাত দিন গিয়েও কাজ হয়নি। পরে অফিসের একজনকে ৫০০ টাকা দিলে তখনই সনদ পেয়ে যাই।

‘ওরা তো সরকারি বেতনভুক্ত। তারপরও কেন আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেবে? আর টাকা যদি নেবেই সেটা প্রথমদিন বলে দিলে কী ক্ষতি হতো?’

ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ফাইজা হোসাইন বলেন, ‘বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য পৌর অফিসে আজ গেলে বলে এই সমস্যা, কাল আইসেন। কাল গেলে বলে ওই সমস্যা, পরদিন আইসেন। এভাবে ৭-৮ দিন নষ্ট করছে আমার।

‘আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আরেক ভোগান্তি। এসব সমস্যা কবে যাবে দেশ থেকে?’

ফটিকছড়ি ইউনিয়নের অনেকেই ঘুষ ছাড়া জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বখতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোলেমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সচিব খুবই আন্তরিক। কারো কাছ থেকে টাকা নেয়া বা কাউকে ইচ্ছাকৃত হয়রানি করার কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই। মূলত বিদ্যুৎ না থাকায় ও সার্ভারে চাপ থাকার কারণে দিনে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে ঝামেলা হয়। সচিব রাতে নিজের বাসায় গিয়ে একটা একটা করে সনদ বের করেন।’

রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব


সচিব অঞ্জন চৌধুরীকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহিনুল হাসান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য না। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী কেউ যদি আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করে তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আগে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যেত। গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন নিয়ম।

এই নিয়ম অনুযায়ী, যাদের জন্ম ২০০১ সালের পর তাদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্ম সনদ থাকতে হবে। এতে অনেককেই আগে নিজেদের জন্ম নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর পাচ্ছেন সন্তানেরটা।

নতুন নিয়মের কারণে ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ওমর ফারুক।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার দুই ছেলেমেয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরির জন্য এসেছি। এসে শুনি আমাদের জন্ম সনদ দেখাতে হবে। আমাদের সনদ থাকলেও একজনেরটা ইংরেজিতে, আরেকজনেরটা বাংলায়।

‘এ কারণে আবেদনই করতে পারছি না। দুজনেরটা এক ভাষায় থাকতে হবে। নাহলে হবে না।’

দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের জন্ম নিবন্ধন সহকারী দেলোয়ার হোসেন জানান, সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য বাবা-মা দুজনের জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। বাবা ও মায়েরটা যদি বাংলায় হয় তাহলে সন্তান বাংলায় জন্ম নিবন্ধন সনদ পাবে। আর দুটোই ইংরেজিতে হলে সন্তানের সনদও হবে ইংরেজিতে।

‘যদি দুজনেরটা দুই ভাষায় হয় তাহলে আবেদনই করতে পারবে না। যে কারোটা পরিবর্তন করে নিতে হবে।’

রাতে বাসায় বসে জন্ম সনদ দেন ইউপি সচিব

জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য কী কী প্রয়োজন?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, মা-বাবার অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।

৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য টিকার কার্ড, স্বাস্থ্যকর্মীর স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়নপত্র, মা-বাবার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়ন, বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।

বয়স ৫ বছরের বেশি হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১ নম্বর কলামে ওই ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক।

২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর জন্ম, কিন্তু মা-বাবা কেউ মৃত হলে তার অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ লাগবে। পাশাপাশি বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারি ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ, আবেদনকারী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক।

যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। বাবা-মায়ের মধ্যে কেউ মৃত হলে মৃত্যুসনদ বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

খুঁড়িয়ে চলছে ঢাকা-পঞ্চগড় আন্তনগর

খুঁড়িয়ে চলছে ঢাকা-পঞ্চগড় আন্তনগর

দেশের রেলওয়ের সবচেয়ে দীর্ঘ ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে সেবার বদলে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেনে যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটি ব্যবহার অযোগ্য। পানির মধ্যে যে পরিমাণ আয়রন তাতে হাতমুখ ধোয়া যায় না। এছাড়াও যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ সাবান, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসল কিছুই থাকে না।’

অনেক অপেক্ষার পর চালু হয়েছিল পঞ্চগড়-ঢাকা আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস। যাত্রা শুরুর তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেবা পাওয়ার বদলে নানা ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে যাত্রীসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

আন্তনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী সমাজকর্মী মো. শাহজালাল বলেন, ‘রেলসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সেই তুলনায় সেবার মান বাড়ছে না। পঞ্চগড় থেকে ঢাকার সর্বোচ্চ দূরত্বের এই রুটে যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ হওয়া সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার।’

মো. শরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেনে যে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটি ব্যবহার অযোগ্য। পানির মধ্যে যে পরিমাণ আয়রন তাতে হাতমুখ ধোয়া যায় না। এছাড়াও যাত্রীদের জন্যে বরাদ্দ সাবান, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসল কিছুই থাকে না।’

যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেন সার্ভিসের সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন যাত্রীরা। প্রতিনিয়ত এ স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। এতে আসন সংখ্যা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া যারা কালোবাজারে টিকেট বিক্রিতে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

পঞ্চগড় রেলস্টেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের টিএক্সআর তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে মেকানিক্যাল সেকশনের জন্যে জরুরি অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। অল্প লোকজন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যাত্রীসেবা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ে রেলকোচের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্ট চলছে।’

দেশের রেলওয়ের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট ঢাকা-পঞ্চগড় ৬৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। একনেকে অনুমোদনের পর ২০১০ সালে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তরের কাজ শুরু করে রেল মন্ত্রনালয়।

২০১৬ সালে রেলপথের আধুনিকায়ন শেষ হয়। পরে কোচ ও ইঞ্জিন স্বল্পতার কারণে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে কানেকটিং ট্রেন হিসেবে একটি শাটল ট্রেন চালু করেন রেলমন্ত্রী।

এ অঞ্চলের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর লাল-সবুজ রঙের ইন্দোনেশিয়ান কোচ দিয়ে দুটি আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়।

বর্তমানে এই জেলা থেকে ঢাকা ও রাজশাহী রুটে চারটি আন্তনগর ট্রেন চলছে। পরে এই রেল বহরে যুক্ত হয় আরও দুটি ট্রেন।

আধুনিক রেল সার্ভিস চালুর পর উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থসামাজিক অবস্থা বদলাতে শুরু করে।

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিককে নিয়ে স্বামী ভোলা মহেশ্বরের বাড়ি কৈলাশ থেকে মর্ত্যে বাপের বাড়ি আসবেন দশভুজা দুর্গা। সঙ্গে থাকবে তাদের প্রত্যেকের বাহন এবং মহিষাসুর।

দশভুজা দুর্গার মর্ত্যে আসতে বাকি আর ২০ দিন। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আগমনের প্রস্তুতি।

এই দেবীর পূজা সাধারণত হয় বসন্তকালে। এ কারণে তাকে বাসন্তী নামেও ডাকা হয়।

তবে সনাতন ধর্মগ্রন্থ চণ্ডীতে উল্লেখ আছে, লঙ্কা জয়ের যুদ্ধের আগে শরৎকালে দেবীর অকালবোধন করেন শ্রী রামচন্দ্র। এ সময় ১০৮ নীলপদ্ম দিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আবাহন করে তার কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন রাম। সেই থেকেই বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হয়ে ওঠে শারদীয় দুর্গোৎসব।

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পালন করা হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। এই পাঁচ দিন যথাক্রমে দুর্গা ষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। এই পক্ষটিকে দেবীপক্ষ নামেও জানা যায়। পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন এই দেবীপক্ষের সূচনা হয়, একে মহালয়াও বলা হয়ে থাকে।

লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিককে নিয়ে স্বামী ভোলা মহেশ্বরের বাড়ি কৈলাশ থেকে মর্ত্যে বাপের বাড়ি আসবেন দশভুজা দুর্গা। সঙ্গে থাকবে তাদের প্রত্যেকের বাহন এবং মহিষাসুর।

ষষ্ঠী থেকে দশমী, এই পাঁচ দিনে ফুল-বেলপাতা, ধান-দূর্বাসহ নানা উপকরণে এবং নানা আচার-উপাচার মেনে পূজিত হবেন দেবী। দশমীর দিন সিঁদুর পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে, ঢাক-কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে তাকে বিদায় দেবেন ভক্তরা।

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

জেলার মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীর নিপুণ শৈলীতে বাঁশ, খড়ের কাঠামোতে মাটির আস্তরণে দেবীর অবয়ব তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিন পরেই রং-তুলির আঁচড়ে মৃন্ময়ী রূপ ফুটে উঠবে চিন্ময়ী দুর্গার।

প্রতিমা কারিগর পরান পাল বলেন, ‘২৫ বছর ধরে এই কাজ করছি। এবার ৯টা মণ্ডপের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। সময়মতো এসব প্রতিমা পূজা উদযাপন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।

‘করোনার আগে প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করতে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যেত, কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে মজুরি ২৫-৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।’

হরিসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগর উত্তম পাল।

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি। আমার সন্তানরা অন্য পেশায় চলে গেছে। বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের আগের মতো পোষায় না।

‘আমি এবার ১৪ খানা প্রতিমা বানানোর কাজ পেয়েছি। বাড়িতেও কিছু প্রতিমা বানিয়ে রেখেছি কম দামে রেডিমেইড বিক্রি করার জন্য।’

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঝালকাঠির মদনমোহন আখড়াবাড়ি মণ্ডপে প্রতিমা বানাতে এসেছেন ভাস্কর শ্রীবাস গাইন।

তিনি বলেন, ‘হাতে সময় আছে ২০ দিন। এর মধ্যে মাটির কাজ, রং, পোশাক এবং অলংকার পরানোর কাজ শেষ করে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হবে। তাই পাঁচজন মিলে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি।’

তৈরি হচ্ছেন মৃন্ময়ী দুর্গা

প্রতিমাশিল্পী সৈকত বিশ্বাস বলেন, ‘করোনায় গত বছর বাড়িতে বসা ছিলাম। এ বছর কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত, কারণ আমার আর্থিক জোগান হচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে, করোনার টিকা নিয়েই কাজে নেমেছি।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার কর্মকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত রাখতে ১৬৯টি মণ্ডপেই মণ্ডপ কমিটি প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘সব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলায় রাতে নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশের মাধ্যমে এবারের শারদীয় উৎসব বর্ণিলভাবে পালন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

তরুণ কুমার আরও বলেন, ‘পঞ্জিকা মতে এ বছর দেবী দুর্গা আসবেন গজে (হাতি), আর গমন করবেন দোলায়। এ বছর মায়ের কাছে মহামারি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’

বরগুনার পাথরঘাটায় শ্রেণিকক্ষকেই আবাস হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রধান শিক্ষক। ছবি: নিউজবাংলা

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমারও জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলছি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

বরগুনার পাথরঘাটার জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক।

তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক মো. ফিরদৌস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বসবাস করলেও বিষয়টি তার জানা নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই তিনি সেখানে বসবাস করছেন।

সোমবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা বিদ্যালয় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় দুটি শ্রেণিকক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন ফিরদৌস। শ্রেণিকক্ষের কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে খাটিয়ার মতো তৈরি করে নিয়েছেন তারা।

ছাত্রীদের ব্যবহারের টয়লেটও দখলে নিয়েছেন তারা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার দিয়ে রান্নাঘরে ঘের দেয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’
বরগুনার পাথরঘাটার জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ নিয়েই থাকছেন এর প্রধান শিক্ষক

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফিরদৌস বলেন, ‘এটা হেডমাস্টারের স্পেশাল রুম। সরকার এটাকে করেছেই শিক্ষকরা রান্না করবে, থাকবে এই জন্য। বিদ্যালয়ে কাজ চলছে, নির্মাণ শ্রমিকদের খাওয়ানোর জন্য রান্না করতে হয়। আমি বিদ্যালয়ের অব্যহৃত কক্ষেই বসবাস করি, এটা সবাই জানে। আপনি শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাস করেন।’

একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি এইখানে থাকি, আপনাদের সমস্যা কী? আপনারা যা পারেন করেন।’

ওই এলাকার একাধিক অভিভাবক জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাহায্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ফিরদৌস বিদ্যালয়ের কক্ষ দুটি দখল করে বসবাস করছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পায় না।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন। তার জন্য আসলে আলাদা করেও বাসভবনের ব্যবস্থা নেই। তবে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে অনুমতি নেয়া উচিত। আমার জানামতে, তিনি সেটি না করেই ওই কক্ষ দুটি ব্যবহার করেছেন।’

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যালয়টির বর্তমানে কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। এডহক কমিটি দিয়েই চলছে সব ধরনের কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষকের থাকার জন্য বিদ্যালয়ে কোনো কক্ষ বরাদ্দ দেয়া নেই। ওই শিক্ষক অনেক আগে একবার বিদ্যলয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরে আমরা তাকে নেমে যেতে বলার পর তিনি কক্ষ ছেড়েছিলেন। এরপর আবারও উঠেছেন শুনছি।’

পাথরঘাটা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি তিনি পরিবার নিয়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাস করে থাকেন তবে বিষয়টি আমরা দেখব।’

এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার জানামতে প্রধান শিক্ষক নিজস্ব বাসা নিয়ে থাকেন। শ্রেণিকক্ষ দখল করে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ব্যপারে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমারও জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলছি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

ক্লাসে টিকটক ভিডিও, অভিভাবক ডেকে সতর্ক

ক্লাসে টিকটক ভিডিও, অভিভাবক ডেকে সতর্ক

কুমিল্লায় ক্লাসরুমে টিকটক ভিডিও করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. শফিকুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী ক্লাসে টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি খুব বিব্রত। তবে আমরা ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করিনি। সর্বোচ্চ সতর্ক করেছি।’

খালি ক্লাশরুম। স্কুলের পোশাকে কয়েকজন ছাত্রী, চোখে কালো চশমা। সেখানে হিন্দি গানের সঙ্গে নানান অঙ্গভঙ্গি করে তৈরি করেছেন টিকটক ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরে ভিডিওটি হয়েছে ভাইরাল।

এমন টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে কুমিল্লা নগরীর টমসমব্রিজ এলাকার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসলে হতবাক স্কুল কর্তৃপক্ষ।

টিকটক ভিডিও তৈরি করা পাঁচ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ভাইরাল ভিডিওটি আবার অনেকেই শেয়ার করে লিখেছেন, ভিডিও করা পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিতে গেলে ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. শফিকুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী ক্লাসে টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি খুব বিব্রত। তবে আমরা ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করিনি। সর্বোচ্চ সতর্ক করেছি।’

তিনি বলেন, ‘রোববার ওই পাঁচ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনেছি। আমরা অভিভাবকদের সতর্ক করেছি। শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করেছি।

‘অভিভাবকরা জানিয়েছে, আবার এমন কাজ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাব্বির ওরফে হাতকাটা স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক খান, আফজাল হোসেন ও আক্তার হোসেন। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের ৬৯ ভরি।

জব্দ করা হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জের চিতলিয়া বাজারের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, আনুমানিক ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ লাখ টাকা ডাকাতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ এক দোকানের মালিক রিপন বণিক মুন্সিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৮ থেকে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
সিআরবি বাঁচানোর দাবি ১০১ পেশাজীবীর
সিআরবি রক্ষার দাবি ১০১ নাগরিকের
সিআরবি রক্ষায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধে মামলা
সিআরবিতে হাসপাতাল নয়, সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ

শেয়ার করুন