বাচ্চা হাতিটি এখন খোশ মেজাজে

বাচ্চা হাতিটি এখন খোশ মেজাজে

চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছে ৭ মাস বয়সী একটি বাচ্চা হাতি। ছবি : নিউজবাংলা

অন্তত চার বছর বয়স পর্যন্ত হাতির বাচ্চাটিকে সাফারি পার্ক হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হবে। এখন বাচ্চা হাতিকে খাবার হিসেবে দুই ঘণ্টা পর পর দুই লিটার করে দুধ দিতে হয়। তাকে ল্যাকটোজেন ওয়ান খাওয়ানো হচ্ছে।

টেকনাফের বনাঞ্চল থেকে পথ হারিয়ে লোকালয়ে এসেছিল বাচ্চা হাতিটি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। পরে আশ্রয় পেয়েছে চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। কিন্তু মা ছাড়া হাতির বাচ্চাটি শুরুতে খেতে চাইতো না, কান্নাকাটি করত।

চার মাস পরই বিপরীত চিত্র, হাতির বাচ্চাটি এখন রয়েছে বেশ খোশ মেজাজে। বেশিরভাগ সময় তার কাটে খেলাধুলা করে।

সাফারি পার্কে আইসোলেশনে থাকা হাতির বাচ্চাটির বয়স এখন সাত মাস। পার্কের পরিবেশে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছে শিশু হাতিটি। শুরু থেকেই তাকে দেখভাল করার কাজে যুক্ত আছেন বীর সেন চাকমা।

নিউজবাংলাকে বীর সেন বলেন, ‘পার্কে আনার পর শাবকটি কয়েকদিন বেশ কান্নাকাটি করেছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানিয়ে নিয়েছে। এখন হাতিটি আমাকে না দেখলেই অস্থির হয়ে ওঠে। অন্য কেউ খাবার দিলে খেতে চায় না।’

সাফারি পার্কের কর্মী বীর সেন নিজেও বেশ আনন্দে আছেন বাচ্চা হাতির সঙ্গে খেলাধুলা করে। অনেকটাই বন্ধুর মতো সম্পর্ক তাদের।

সাফারি পার্ক হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, অন্তত চার বছর বয়স পর্যন্ত হাতির বাচ্চাটিকে সাফারি পার্ক হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হবে। এখন বাচ্চা হাতিকে খাবার হিসেবে দুই ঘণ্টা পর পর দুই লিটার করে দুধ দিতে হয়। তাকে গুড়া দুধ ল্যাকটোজেন ওয়ান খাওয়ানো হচ্ছে।

অল্প বয়সে মাকে হারালেও হাতির বাচ্চাটি পার্কে পৌঁছে সেবাকর্মীদের অনেক আদর পেয়েছে। সবাই তাকে যত্ন করতে চায়। হাসপাতালে চিকিৎসার পর হাতির বাচ্চাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, এরপর তাকে পার্কের অন্য হাতিদের সঙ্গে ছেড়ে দেয়া হবে। হাতির শাবকটি এখন পার্কের কোয়ারেন্টাইন সেলে আইসোলেশনে রয়েছে।

সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মা ছাড়াও শাবকটি সবল ও সুস্থ আছে। পার্কে আনার পর বেশ কিছুদিন খাবার খেতে চায়নি, শুধু কান্নাকাটি করেছে। আস্তে আস্তে সে খাবার খাওয়া শুরু করে। তাকে নিয়মিত দেখাশোনার জন্য নিয়োজিত আছেন আলাদা সেবাকর্মী। হাতির শাবকটিকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতো ছোট হাতির বাচ্চাকে মা ছাড়া বাঁচানো খুবই কঠিন। কিন্তু শাবকটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে দ্রুত। বাচ্চাটি এখন প্রায় পুরোপুরি সুস্থ। শাবকটি পার্ক হাসপাতালে‌ থাকবে আরও ৪ বছর। পরে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়বে। পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ দেয়া হলে তাকে পার্কের অন্য হাতিদের পালে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, হাতির পাল থেকে আলাদা হয়ে শাবকটি পথ ভুল করে লোকালয়ে চলে এসেছিল। পরে বনের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও মা হাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই বাচ্চা হাতিকে সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে।

টেকনাফের শাপলাপুর বনাঞ্চল থেকে গত ১০ মার্চ লোকালয়ে চলে আসে বাচ্চা হাতিটি। পরে স্থানীয় লোকজন বনবিভাগে খবর দেয়। হাতির শাবককে উদ্ধার করে নেয়া হয় চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। সেখানেই তার চিকিৎসা ও দেখভাল চলছে।

খাবারের খোঁজে উখিয়া-টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানে লোকালয়ে বন্যহাতি ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। সর্বশেষ সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়ায় বনবিভাগের পাশে প্রধান সড়কে দেখা যায় একটি বন্যহাতি।

সড়কের পাশে কয়েকটি গাছ ভেঙে ফেলে বন্য হাতিটি। তখন কক্সবাজার-টেকনাফ প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১২টা পর্যন্ত হাতিটি সেখানেই অবস্থান করে। পরে বনের দিকে চলে যায়।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের বিচার শুরু

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খানের বিচার শুরু

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। ফাইল ছবি

আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি আলাদা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করে আদালত।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।

রোববার অব্যাহতি চেয়ে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম।

শুনানির সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। মামলার তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন মান্নান খান।

অপরদিকে, তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। পরে ২৩ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন হাসিনা সুলতানা।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেখানে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মান্নান খানের আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। এছাড়া ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি।

তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, তদন্তে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

করোনাভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষা এবং রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল রোববার। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। তাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরীসহ ৯ জনের মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোববার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামে এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কাছে, কেন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়নি সে (শো-কজ) ব্যাখ্যা চেয়েছ আদালত।’

সেই সঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। ওই দিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মাঝে করোনার কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি৷

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশির ভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের সিইও।

ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত বছর ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে জেকেজি সিলগালা করে দেয় পুলিশ। পরে সাবরিনা, আরিফুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়।

অপর আসামিরা হলেন সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজির নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

গত বছর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি পুলিশ। ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হয় আদালতে।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

হাত-পা বেঁধে মাদারীপুরে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে নিয়াতনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

খলিল শেখ বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

জমিজমা লিখে নিতে ষাটোর্ধ্ব খলিল শেখকে স্ত্রী-সন্তানরা পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করান। মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে ভর্তির পর চিকিৎস জানান খলিল শেখ সুস্থ। এরপর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্ত্রী-সন্তানরা। অমানবিক এমন আচরণের শিকার হলেও খলিল শেখ বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে।

বাড়ি ফিরে খলিল শেখ নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন নয় দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাগল না, আমাকে পাগল সাজানো হয়েছিল।’

রোববার সকালে বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন খলিল শেখ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে খলিল শেখের বিষয়ে জানতে পারেন এলাকার লোকজন।

জানা গেছে, সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কা করে তা লিখে নিতে খলিল শেখের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মিলে তাকে নির্যাতনের পর ১০ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খলিল শেখের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর খালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম হামিদুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সাগর হোসেন, যুবলীগ নেতা রেজওয়ান হোসেন এবং নির্যাতনের শিকার খলিল শেখের দুই ছেলে নাজমুল শেখ ও আসিব শেখ পাবনা সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক মানসিক হাসপাতালে গিয়ে খলিলকে বাড়ি আনেন। চিকিৎসরা খলিল শেখ সুস্থ বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খলিল শেখ বলেন, ‘আমি কখনোই পাগল ছিলাম না। সম্পত্তির জন্য আমার স্ত্রী-সন্তানরা আমাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা নিয়ে গেছে। তারা ভেবেছে আমার সম্পত্তি আমি অন্য কারও নামে লিখে দেব। সেটা তাদের ভুল ধারণা। এখন তাদের ধারণা পাল্টেছে, তাই বাড়িতে আনছে। আমি ওদের সঙ্গেই থাকব। ওদের ছাড়া আমার তো কেউ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

খলিল শেখের ছোট ছেলে আসিব শেখ বলেন, ‘আমার বাবা সুস্থ হওয়ায় পাবনা থেকে বাড়িতে এনেছি। আব্বা আমাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকবে। আত্মীয়স্বজনরা তাকে দিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

খলিল শেখের ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, ‘আমরা সম্পত্তি লিখে নিতে চাইনি। বরং তার স্ত্রী-সন্তানরা মিলে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করে পাগল সাজিয়েছিল। এখন অন্তত বাড়িতে আনছে, এতেই আমরা খুশি।’

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খলিল শেখের ছোট ভাই নিখোঁজের জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তিনি এখন বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে কিছু করার নেই। তবে খলিল শেখ যদি তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্ধকার ঘরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ তিন বিএনপি নেতা।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে রোববার দুপুরে তারা জামিনের আবেদন করলে বিচারক ও এইচ এম ইলিয়াস হোসাইন তাদের জামিন দেন।

মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামিন পাওয়া অন্য দুই নেতা হলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলাটির বাদী।

তিন নেতার আইনজীবী আবদুল মালেক রানার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামিন দেয়। শুনানিতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদীসহ বেশ কিছু আইনজীবী অংশ নেন।

জামিন পাওয়ার পর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সরকারবিরোধী বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি এবং সরকার উৎখাতের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি।

গত ২৫ আগস্ট মিনু, বুলবুল ও মিলন উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। উচ্চ আদালত সেদিন তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই তিন নেতা বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি না আসার কারণে সেদিন শুনানি হয়নি। সেদিন শুনানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছিল আদালত। এদিন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে আদালতে যান ওই তিন নেতা। শুনানি শেষে তারা জামিনও পেলেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু যে বক্তব্য দেন তার একাংশে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, রাজপথে থেকে দেশনেত্রী হয়েছেন। তাকে বের করে আনব, মুক্তি চাই না হাসিনা... রেডি হও। ‘আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই ৭৫ সাল? ৭৫ সাল মনে নাই?’ এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

পদ্মায় ধরা পড়া সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়। দুপুরে ধরা পড়ে সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আবারও ধরা পড়েছে ঢাই মাছ। এবারের মাছের ওজন সাড়ে ৮ কেজি।

পদ্মা নদীর চরকনেশনা এলাকায় দৌলতদিয়ার বাচ্চু হালদারের জালে রোববার বেলা ২টার দিকে মাছটি ধরা পড়ে।

ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখের কাছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে তিনি এই মাছ বিক্রি করেন।

শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে জানান, মাছটি কেনার পর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা-যমুনা নদীর মোহনায় ১১ কেজির ঢাই মাছ ধরা পড়ে।

এই মাছের নাম আছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) লাল তালিকায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Silonia Silondia। শিলং নামেও পরিচিত মাছটি।

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছও ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়।

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ
পদ্মায় ধরা পড়া ৩৭ কেজির বাগাড় মাছ

চরকনেশনা এলাকাতেই মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জের জেলে গোবিন্দ হালদারের জালে এই মাছ ধরা পড়ে।

গোবিন্দ হালদার নিউজবাংলাকে জানান, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের পাশে দুলাল মণ্ডলের মৎস্য আড়তে নিয়ে গেলে নিলামে সর্বোচ্চ দাম বলেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চাঁদনী-আরিফা মৎস্য আড়তের মালিক চান্দু মোল্লা।

চান্দু মোল্লা বলেন, ‘সকালে ঘাটে এসেই দেখি একটি বড় বাগাড় নিলামে উঠছে। পদ্মার মাছের প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি। তাই একটু বেশি দামেই মাছটি কিনে নিই।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকোনুজ্জামান জানান, পদ্মায় এখন নিয়মিতই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ী সবাই খুশি।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি কারাগারে

স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি কারাগারে

সাতক্ষীরার দেবহাটার এক স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামি পার্থ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার সন্ধ্যায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার বৈকারী সীমান্ত এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

সাতক্ষীরার দেবহাটায় এক স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আসামিকে পাঠানো হয়। বিকেল ৪ টার দিকে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

আসামির নাম পার্থ মণ্ডল। তার বাড়ি উপজেলার টিকেট গ্রামে। তিনি নলতা খানবাহাদুর আহসানউল্লাহ প্যারা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র।

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার বৈকারী সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি মোস্তাফিজুর জানান, দেবহাটার একটি গ্রামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পার্থের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় তারক মণ্ডলের পরিত্যক্ত বাড়ির বাগান থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মরদেহের কিছুটা দূরে পড়ে থাকা বই-খাতা, জুতা ও একটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে ওই বাগানে ডেকে পাঠান পার্থ।

ওইদিন দেবহাটা থানায় পার্থকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন স্কুলছাত্রীর বাবা।

জেলার এসপি জানান, ঘটনার পরপরই সাতক্ষীরা শহরের একটি মেসে ওঠেন পার্থ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যায় পার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানান ওই ছাত্রী অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় প্রতিশোধ নিতে এই কাজ করেছেন তিনি।

তিনি জানান, ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলায় কেব্‌ল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন পার্থ।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।’

অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিজেও ঠকেছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেছেন, গত বছর কোরবানির ঈদে অনলাইনে একটি গরু অর্ডার করে সে অনুযায়ী তিনি পাননি; পেয়েছেন অন্য একটি গরু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত রোববার এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, ‘প্রথমবার অনলাইনে কোরবানির গরু কিনে আমি নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছি। এই কোরবানির আগের কোরবানির ঈদে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কোরবানির হাট বসে। ওই হাট উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী হিসেবে আমাকেও রাখা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি একটি কোরবানির গরু কিনলাম। তার আগে আমি জানতে চাইলাম কত দাম? আমাকে জানানো হলো ১ লাখ টাকা। গরু আমি কিনলাম। আগাম পেমেন্ট করলাম।

‘বসে আছি চার-পাঁচ দিন। কোনো খবর নেই। ছয়-সাত দিন পর আমাকে জানাল, সেই গরু আর নেই। বলেছিলাম কী হলো সেটা? ওটা আরেকজন নিয়ে গেছেন। জানতে চাইলাম আমার গরু আরেকজন নিয়ে চলে গেলেন? আপনারা সেটা দিয়ে দিলেন? আমি বললাম, আমি মন্ত্রী। আমারই যদি গরু না থাকে, তাহলে?’

বাণিজ্যমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘তিন দিন পর কোম্পানি জানাল, চিন্তা কইরেন না আমরা আপনাকে আরেকটা গরু দিচ্ছি। তারা আরেকটা গরুর ছবি দেখায়; দাম চায় ৮৭ হাজার টাকা।

‘কী বলব। আমি তো তাদের কাছে বন্দি। বলল, বাকি ১৩ হাজার টাকায় আমাকে একটা ছাগল দেবে। সবকিছু তারাই বলল। আর আমি শুনেই যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত তাদের বললাম ওটা কোরবানি করে এক ভাগ আমার বাসায় পাঠিয়ে দাও। বাকি দুই ভাগ বিলি করে দাও। তবে ছাগলটা জ্যান্ত আমাকে পাঠাও।’

সব উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কিন্তু প্রথমবার। দ্বিতীয়বার সমস্যা হয়নি। তখন এ সুযোগটা তাদের দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে আমি নিজে ভুক্তভোগী, কিন্তু যদি শুনতাম আমার টাকাও নাই গরুও নাই, তাহলে হয়তো মামলা-টামলা করা যেত।’

নিজের এ অভিজ্ঞতা বলার উদ্দেশ্য নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।

‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে এর দায় এড়াতে চাই না বলেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছে। উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে। কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য পৃথক আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার।’

যৌথ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। এ সময় ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সড়কে বন্যহাতি, কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে চলাচল বন্ধ
৪ দিনেও বনে ফেরেনি হাতি দুটি

শেয়ার করুন