আবুল মাল আবদুল মুহিত করোনা আক্রান্ত

আবুল মাল আবদুল মুহিত করোনা আক্রান্ত

মুহিত ঢাকার বনানীতে তার নিজ বাসাতেই আছেন। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো।

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

৮৭ বছরের মুহিতের ছোট ভাই পল্লি শিশু ফাউন্ডেশন ও ঢাকা ডেল্টা হাসপাতালের চেয়ারম্যান এ এস এ মুয়িয সুজন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মুহিত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ বোধ করছিলেন। গত রোববার তিনি করোনা পরীক্ষা করান। মঙ্গলবার তার ও বড় ছেলে শাহেদ মুহিতের পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে।

মুহিত ঢাকার বনানীতে তার নিজ বাসাতেই আছেন। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো।

সাবেক অর্থমন্ত্রীকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মাদ বাচ্চু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যারের করোনা ধরা পড়েছে। তবে তেমন কোনো সমস্যা নেই। বাসাতেই আছেন। স্যারের বড় ছেলেও করোনা আক্রান্ত।’

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুহিত। এরপর তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০১৪ সালে তিনি দ্বিতীয় দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

যেকোনো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। নতুন বিনিয়োগ করলে কোনো কারণে ব্যবসা যদি লোকসান করে, তখন তারা খেলাপি হয়ে যায়। তবে আমাদের দেশে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংখ্যা বেশি। কারণ, আমাদের আইনি কাঠামো থেকে শুরু করে ব্যাংকিং কাঠামোতে দেখা যায়, ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপি গ্রাহকের দিকে সবার মনযোগ বেশি থাকে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাহাড়সম যে খেলাপি ঋণ, তার পেছনে উদ্যোক্তাদের টাকা ফেরত না দেয়ার ইচ্ছাকেই দায়ী করেছেন ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরফান আলী। তার মতে, খেলাপি ঋণদাতাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপিই বেশি।

তিনি এও মনে করেন যে, করোনাকালে বিনিয়োগের যে খরা তৈরি হয়েছে, সেটি কেটে যাবে সহসাই।

করোনার ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া ঋণ বিতরণ খুব একটা ছিল না। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। ঋণ বিতরণও বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ এ শিরোনামে নিউজবাংলার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরফান আলী।

খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংক খাতের এখনও অন্যতম সমস্যা। এ সমস্যা থেকে বের হতে কী করা দরকার?

যেকোনো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন বিনিয়োগ করলে কোনো কারণে ব্যবসায় লোকসান করে, তখন খেলাপি হয়ে যায়। এটা হতেই পারে।

তবে আমাদের দেশে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সংখ্যা বেশি। কারণ, আমাদের আইনি কাঠামো থেকে শুরু করে ব্যাংকিং কাঠামোতেও দেখা যায়, ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপি গ্রাহকের দিকে সবার মনযোগ বেশি থাকে।

যারা ভালো ঋণগ্রহীতা তাদের দিকে বেশি খেয়াল রাখা হয় না। যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করেন তাদের কিছু সুবিধা দেয়া উচিত। কিন্তু এখানে হয়েছে উল্টো। যারা টাকা-পয়সা আটকে রাখে তাদের এক সময় ডিসকাউন্ট দেয়া হয়, ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো কমিয়ে দেয়া উচিত। প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়া উচিত যে, তারা ঋণ শোধ করছে না।

ঋণ নিয়ে এক হিসেব থেকে অন্য হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে দায় দিয়ে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (চলতি মূলধন) দিয়ে অনেকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে চলে গেছে। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

তাহলে বিষয়টি কি এমন যে, খেলাপিদের প্রশয় দেয়া হয়, ভালো ঋণগ্রহীতাদের বঞ্চিত করা হয়?

অনেকটা সেরকমই। আমার কাছে মনে হয়েছে ভালো ঋণগ্রহীতার চেয়ে খেলাপিদের প্রভাবটা বেশি। অনেক করপোরেট হাউজ আছে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছেন, ব্যাংকের শর্ত সব পূরণ করছেন। তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার। তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা উচিত বলে আমি মনে করি।

করোনার ধাক্কায় যেখানে সবদিক দিয়েই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, সেখানে তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলো ভালো পরিচালন মুনাফা করেছে। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে?

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ব্যালেন্স শিটে সব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কম ছিল। ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের সুদহারের সুফল কিন্তু ওই বছর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছর আমানতের সুদহার যখন সমন্বয় করতে পারলাম তখন সুদের আয়টা একটু বেশি ছিল। খেলাপি ঋণেরও ছাড় দেয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো সঞ্চিতিতে কিছুটা ছাড় পেয়েছে। এ কারণেও মুনাফা হয়েছে বেশি। চলতি ডিসেম্বরে যখন সুবিধাগুলো আরও কমে যাবে তখন ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা বোঝা যাবে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। আমানতের সুদ হার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বলেছে, সুদহার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হতে পারবে না। এতে আপনাদের আপত্তি আছে, যা গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন। এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে ব্যাংকিং পরিচালনা করা হয়। এখন ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সেটা ৯ শতাংশেরও নিচে চলে এসেছে। ৭ থেকে ৮ শতাংশ সুদেও ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। করপোরেট ঋণে কোনো কোনো ঋণে সেটা আরও কম।

ঋণ ও আমানতে সুদহারের যে ব্যবধান (স্প্রেড) থাকে ব্যাংক সেটা দিয়ে ব্যাংক চলে। সুতরাং ঋণে সুদ বাড়ানোর যেহেতু কোনো সুযোগ নেই, ব্যাংক গ্রাহকের সঙ্গে এটা সমন্বয় করে ফেলছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে ব্যক্তি আমানতকারীদের সুবিধা হবে। তাদের টাকার মান যেন নষ্ট না করে, বিনিয়োগ যেন নিরাপদ থাকে এ কারণে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার বিষয়ের নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন করা হবে। এর ফলে টাকার মান নষ্ট হচ্ছে না। কারণ, সঞ্চয় বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি বিশেষ সঞ্চয় না করলে বড় বড় করপোরেটরা এত টাকা ঋণ পাবে না।

মহামারি করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক খাত। জরুরি সেবার আওতায় লকডাউনের মধ্যেও বন্ধ থাকেনি এ খাতের সেবা। সেই ব্যাংক খাতের সার্বিক অবস্থা এখন কেমন?

করোনার মধ্যে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের প্রস্তুত করেছি। কারণ ব্যক্তি থেকে শুরু করে করপোরেট, সবারই আর্থিক খাতের সেবা দরকার পড়ে। আমাদের দেশে অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং এখনও সেভাবে প্রসার লাভ করেনি। সে কারণে ব্যাংকের শাখা বা এজেন্ট বুথে এসে গ্রাহদের সেবা নেয়ার প্রবণতা এখনও আছে। আমরা করোনার সময়েও সীমিত পরিসরে সব খোলা রেখে গ্রাহকদের সেবা দেয়ার সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের ভাতাসহ সব ধরনের সেবা দেয়ার জন্য নিজেদের সেভাবে তৈরি রেখেছি।

ক্ষতি পোষাতে বিশাল অংকের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অভিযোগ আছে বড় বড় ব্যবসায়ীদেরই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। প্রকৃত চিত্র কী?

ছোটরা বঞ্চিত হচ্ছে বিষয়টি তেমন নয়। কর্মাশিয়াল কোনো ব্যাংকের হেড অফিস কিন্তু গ্রামাঞ্চলে নেই। শহরভিত্তিক কার্যক্রম বেশি করা হয়। ব্যাংকগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সেবার জন্য তেমন প্রস্তুত ছিল না। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কারণে ওইসব জায়গায় সেবা দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সব ব্যাংক এখন চেষ্টা করছে।

প্রণোদনার ক্ষুদ্র ঋণ দেরি হয়েছে। কিন্তু এরপরেও অনেকাংশে ঋণ বিতরণ হয়েছে। করপোরেট ঋণগুলো ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ এমন কিছু শহরে ছিল। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কাজ তো পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে। সেজন্য সময় বেশি লেগেছে।

ব্যাংক ঋণের সুদের সর্বোচ্চ হার এখন ৯ শতাংশ। যখন এই সুদ হার কার্যকর হয়, তারপরই হানা দেয় করোনা। সুবিধা দেয়ার পরও দিন দিন কমছে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ। তাহলে কি বিনিয়োগ বাড়ার ক্ষেত্রে কম সুদ কোনো ভূমিকা রাখে না?

ঋণের ক্ষেত্রে ডিমান্ড-সাপ্লাই এর একটা বিষয় আছে। ঋণের সুদ ৯ শতাংশ হলেই যে সব ধরনের ঋণ বিতরণ হবে বিষয়টি তেমন না।

করোনাকালে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে। কারণ, উদ্যোক্তারা নতুন বিনেয়াগের ব্যাপারে খুব একটা সাহসী ছিল না। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের জন্য নতুন বিনিয়োগ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া কস্টকর ছিল। বিনিয়োগে করলে রিটার্ন কেমন পাবে বা পরিস্থিতি কেমন হবে-এসব কারণে তাদের মধ্যে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসি কাজ করেছে। সে কারণে নতুন কোনো প্রজেক্ট আমরা তেমন দেখতে পাইনি।

তবে আশার কথা হলো, এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। অনেকে নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে আমাদের সামনে আসছেন। সুতরাং, এতদিন যে স্থবিরতা গেছে, এখন সেটা কেটে যেতে শুরু করেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে। বিনিয়োগে স্থবিরতা কেটে যাবে।

করোনাকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে। মহামারির এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাংক খাত কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিতে পারে?

যারা ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তারা আমাদের চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। করোনার মধ্যে এসব শিল্পে কাজ চলমান ছিল। ব্যাংকারদের এসব উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে হবে। ঋণ প্রবৃদ্ধি যেন বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আগে আমাদের ব্যাংকগুলো শহরভিত্তিক ছিল। কিন্তু এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যংকের সেবা পৌঁছে গেছে। এটা আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। করোনার সময়েও অনেক ব্যবসা চালু ছিল। কাজ চালু রাখার কারণে অর্থনীতিতে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

করোনা পরবর্তী ব্যাংক খাত আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। সম্পদের সমৃদ্ধি আরও ভালো হবে। ক্যারিয়ার ব্যাংকিংও ভালো হবে। ব্যাংক খাতে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশি দল

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আল কাসাবির কাছে এই অনুরোধ করেন।

শনিবার আল কাসাবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সালমান এফ রহমান। সরকারি সফরে তিনি এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান হালাল মাংস রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সৌদি আরবে রপ্তানি হয় এমন ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চান তিনি। এ ছাড়া সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ বিদেশিদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশিরা এ ব্যপারে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।

সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আল কাসাবিকে জানান সালমান এফ রহমান। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভব দেখান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা দ্রুত কার্যকর করারও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন কাসাবি।

সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন আল কাসাবি।

এর আগে বৈঠকের শুরুতেই সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন সালমান এফ রহমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে

মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চারদিন ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলবে। দেশের পর্যটকদের ভ্রমণকে সাবলীল ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য মালদ্বীপের মালেতে ফ্লাইট শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারি বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠান ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী নভেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে চারদিন ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চলবে। দেশের পর্যটকদের ভ্রমণকে সাবলীল ও সাশ্রয়ী করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইউএস বাংলা জানিয়েছে, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ১৬৪ আসনের বোয়িং সেভেন থ্রি সেভেন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

ধামাকার কাছে ২০০ কোটি টাকা ফেরত চান সেলাররা

ধামাকার কাছে ২০০ কোটি টাকা ফেরত চান সেলাররা

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘ধামাকা’ শপিং ডটকমের সেলাররা। ছবি: নিউজবাংলা

জাহিদুর ইসলাম বলেন, ‘সেলারদের পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মালিক পক্ষের কারও সাক্ষাৎ বা সমাধান পাইনি। সাড়ে ৬০০ সেলারের ধামাকার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি।’

বকেয়া ২০০ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের সেলাররা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ধামাকা’ শপিং ডটকম (ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের) সেলার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

ধামাকা শপিং ডটকমের সেলার অ্যাসোসিয়েশনের গণযোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়ক জাহিদুর ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের সেলার বা মার্চেন্ট হিসেবে প্রায় ৬৫০ জন এসএমই উদ্যোক্তা ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ধামাকা শপিং ডটকমের নির্দেশনা ও চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে যাচ্ছিলাম।

‘ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে পণ্য সরবরাহের জন্য সেলারদের সঙ্গে চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল পণ্য সরবরাহের পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাওনা অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ১৬০ কার্যদিবস পার হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সেলারদের পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মালিক পক্ষের কারও সাক্ষাৎ বা সমাধান পাইনি। সাড়ে ৬০০ সেলারের ধামাকার কাছে পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি।’

সংবাদ সম্মেলনে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যুব ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা শেষ সম্বল বিক্রি করে, স্বজনদের কাছ থেকে ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করেছি। এখন রাস্তার ফকির ও নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা সেলার ও তিন লাখ গ্রাহকের মানবিক দিক বিবেচনা করে ধামাকা শপিং ডটকমের ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়াসহ এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সব সেলারদের সঙ্গে ধাকামা একই চুক্তি করেনি জানিয়ে সেলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ব্যবসার প্রয়োজনে যে যার মতো করে চুক্তি করেছে। একসঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। তবে চুক্তিতে পণ্য সরবরাহের ১০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও এখন টাকা দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি।’

পাওনা টাকা না পেলে মামলার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, ‘আমরা এখনও এক সপ্তাহ সময় দিতে চাই। এরপরও যদি বকেয়া টাকা ফেরত না দেয়, তাহলে অবশ্যই সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। এরপরও যদি দাবি আদায় না হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ধামাকা শপিং ডটকমে পণ্য অর্ডার করে প্রায় এক লাখ গ্রাহক ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই হাজার ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছিল।’

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া জরুরি নোটিশ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের তৃতীয় দিন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের অফিসে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

নোটিশে ইভ্যালি বলেছে, ‘সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালি এমপ্লয়িগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

‘হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘দারুণ ভদ্রতার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া যেতে পারে। ইভ্যালি এই ঘোষণার সঙ্গে এটা শিখিয়ে দিলো। আপনারা সবাই বাসায় অফিস করেন। শুভ কামনা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আস্তা না রেখে কি পারি! ৭-৪৫ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবেন বলে অর্ডার নিয়ে ছয় মাস গেল কোনো খবর নাই। এখানেইতো আস্তা রাখার জায়গা। পুরা কপাল আমার কেন যে টাকাটা দিলাম!’

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

চিলির সমাজতান্ত্রিক সরকারের বদনাম করতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট’ তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রিপোর্ট আর না করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এক ঘোষণায় বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর দেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাংকের সদস্য দেশগলোর ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরি করে।

ব্যবসা শুরু, বিদ্যুৎ-সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, কর ব্যবস্থাসহ কয়েকটি নির্দেশক বা মানদণ্ডের প্রতিটির ওপর ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ণয় করা হয়। স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থানের তালিকা করা হয়।

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে চিলি ৩৪তম অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে তা পিছিয়ে ৫৫তম অবস্থানে নেমেছে। এরপর চিলির রাষ্ট্রপতি ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চিলির কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ক্ষেত্রে তাদের বার্ষিক ‘ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিযোগিতামূলক র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্যায় আচরণ করেছে।

২০১৪ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট হন মিশেল বাশলে। এরপরে তার শাসনামলের পরবর্তী তিন বছরই ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অধঃপতন হয়। ২০১৫ সালে ৪১, ২০১৬ সালে ৪৮ ও ২০১৭ সালে ৫৫তম হয় চিলির অবস্থান।

চিলির প্রেসিডেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনায় নেয়া হয়। পরে বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার অসংগতির কথা জানান। তার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যাতে চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়।

পল রোমার প্রতিবেদনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য চিলির কাছে ক্ষমা চান। তিনি স্বীকার করেন বাশলের অধীন ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই র‌্যাঙ্কিং রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত। তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ফলে প্রতিবেদনে চিলির অবনমন হতে পারে।

সেসময় এ বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বক্তব্য দেন পল রোমার। তিনি বলেন, ‘আমি চিলি এবং অন্য যেকোনো দেশে যেখানে আমরা ভুল ধারণা দিয়েছি, তাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাই। আমার দায় রয়েছে। কারণ, আমরা বিষয়গুলো যথেষ্ট পরিষ্কার করিনি। বিশ্বব্যাংক অতীতের রিপোর্টগুলো সংশোধন করার পদ্ধতি শুরু করছে এবং পদ্ধতি পরিবর্তন না করে র‍্যাঙ্কিং কেমন হবে, তা পুনরায় প্রকাশ করবে।’

রোমার বলেন, সংশোধনগুলো চিলির জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, তাদের অবস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্থিতিশীল ছিল। বিশ্বব্যাংকের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রেরণার কারণে বিষয়টি কলঙ্কিত হয়েছে। কারণ, বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদন ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাভারেজ পায়।

এমন মন্তব্য করায় পল রোমারকে পদত্যাগ করতে হয়।

প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন করা সেই সাবেক পরিচালক ছিলেন অগাস্টো লোপেজ-ক্লারোস। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক লোপেজ-ক্লারোস সে সময় বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়ে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় তার ওই কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

২০১৮ সালে মার্চে দায়িত্ব থেকে সরে যান মিশেল বাশলে। সমাজতান্ত্রিক দল থেকে ক্ষমতা চলে যায় কনজারভেটিভ দলের কাছে। দায়িত্ব পান প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা।

পল রোমারের ক্ষমা চাওয়ার পর ওই সময় এক টুইটে মিশেল বাশলে লেখেন, ‘বিশ্বব্যাংকের প্রতিযোগিতামূলক র‌্যাঙ্কিং তৈরিতে যা ঘটেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে র‌্যাঙ্কিং পরিচালনা করে, তা নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। কারণ, তারা বিনিয়োগ ও দেশগুলোর উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে সম্পূর্ণ তদন্তের অনুরোধ জানাবে।’

গত বছরের আগস্টে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অসংগতি থাকতে পারে, কিন্তু তা এখনও চিহ্নিত হয়নি।

তাই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তন এবং অসংগতির কারণে যেসব দেশ অধিক প্রভাবিত হয়েছে, সেসব দেশের সঠিক তথ্য পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর এ কারণে গত বছরের অক্টোবরে ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স তৈরি স্থগিত করে তারা।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল। ফাইল ছবি

চিকিৎসকের বরাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

চিকিৎসা শেষে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে ফের থানায় নেয়া হয়েছে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার রাসেলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিডফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
টিকা নিয়ে ২, মোট ৩ বার করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক
করোনা ও উপসর্গে কুষ্টিয়ায় গেল ২২ প্রাণ
১৩২ দিন পর ভারতে শনাক্ত ৩০ হাজারের নিচে
ব‌রিশা‌ল বিভাগে ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৮২২
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে এক দিনে ১৯ মৃত্যু

শেয়ার করুন