উপজেলা করায় তিন থানায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

উপজেলা করায় তিন থানায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ

উপজেলা ঘোষণা করায় মাদারীপুরের ডাসার থানায় আনন্দ মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে সোমবার তিন থানাকে উপজেলা করার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

দেশের নতুন উপজেলা হিসেবে কক্সবাজারের ঈদগাঁও, মাদারীপুরের ডাসার ও সুনামগঞ্জের মধ্যনগরকে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

থানা থেকে উপজেলা হওয়া এসব এলাকার বাসিন্দারা এ খবরে উচ্ছ্বসিত। উপজেলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।

ঈদগাঁও উপজেলা: কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, পোকখালি ও জালালাবাদকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ঈদগাঁও উপজেলা।

ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফোরকান বলেন, ‘ঈদগাঁওকে উপজেলা করতে বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নুরুল আজিমের অবদান কখনও ভুলবার নয়। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিয়মিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের জন্য ঈদগাঁওবাসী চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।’

স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দীন আহমদের ভূমিকাকে অবিস্মরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনাব হেলাল উদ্দীন না থাকলে ঈদগাঁওবাসীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত। তার কৃতিত্বের কারণেই ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বাস্তবতা।’

উপজেলা ঘোষণার পর খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করেন ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রকাশ করেন উচ্ছ্বাস।

ঈদগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বদিউল আলম আকাশ বলেন, ‘জন্মের পর থেকে শুনছি, ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তর হবে। শুনতে শুনতে মাঝেমধ্যে আমরাই বিরক্ত হতাম।

‘অনেকে উপহাস করত বিভিন্নভাবে। কিন্তু তা সত্যি হলো। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এর আগে থানা পেয়েছি, এখন উপজেলা। এর পেছনে যারা কাজ করেছেন, তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

পোকখালী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শওকত ওসমান বলেন, ‘আগে কোনো প্রয়োজনে রামু উপজেলা পেরিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলায় যেতে হতো।

‘এখন ঈদগাঁও উপজেলা হওয়ায় আগের চেয়ে সময়ও বাঁচবে, সুযোগসুবিধাও বেশি পাব।’

ইসলামাবাদ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান বলেন, ‘ঈদগাঁও একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এখানে প্রায় দেড় লাখের মতো মানুষ বসবাস করে। এ মানুষগুলো অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।

‘একটি সরকারি স্কুল-কলেজ নেই। নেই ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা। এখন উপজেলা হওয়াতে এসব সুবিধা পাব। খুবই ভালো লাগছে, অনেক পরে হলেও দীর্ঘদিনের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন হয়েছে।’

ডাসার উপজেলা: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাকে উপজেলা ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

উপজেলার সিদ্ধান্ত আসার পর এলাকায় আনন্দ মিছিল করেন ডাসার থানা আওয়ামী লীগ, ডাসার উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি ও স্থানীয়রা।

কাজী বাকাই এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘এতদিন পর আমরা দ্বিমুখী প্রশাসনিক জাঁতাকল থেকে রক্ষা পেলাম। এখন থেকে আমরা থানা নয়, উপজেলার বাসিন্দা।’

বালিগ্রাম ইউনিয়নের শফিক আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। আশা করি, সংশ্লিষ্টরা দ্রুত উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করবেন।’

ডাসার উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়ন কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক বেলাল রিজভী বলেন, ‘ডাসার উপজেলা ঘোষণার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন এটি।

‘আশা করি, উপজেলা পরিষদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে। এ ছাড়া মাদারীপুরে আরও একটি উপজেলা বৃদ্ধি পাওয়ার জেলার গ্রেডও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

ডাসার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ডাসারবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি, এ থানাকে উপজেলা ঘোষণা করা। দাবি পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

এক বিবৃতিতে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, ‘নিকার সভায় প্রধানমন্ত্রী ডাসার থানাকে উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়া মাদারীপুর জেলাকে ‘সি’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডের মর্যাদা দিয়েছেন। দুটি বিষয়ই আমার স্বপ্ন ছিল। তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের এই কর্ম ও প্রচেষ্টাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।’

‘বর্ষসেরা দুটি উপহার দেয়ার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।’

২০১৩ সালে কালকিনি উপজেলার ডাসার, কাজী বাকাই, বালিগ্রাম, নবগ্রাম ও গোপালপুর ইউনিয়ন নিয়ে ডাসার থানা ঘোষণা করা হয়। এর আগে থেকেই একে উপজেলা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।

মধ্যনগর উপজেলা: হাওর অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জের ১২তম উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ধর্মপাশার অধীনে থাকা মধ্যনগর থানাকে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৪ সালে মধ্যনগর, চামরদানী, বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন নিয়ে মধ্যনগর থানা গঠিত হয়। থানা হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চিকিৎসার জন্য ধর্মপাশা উপজেলায় যেতে হতো স্থানীয়দের।

২২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যনগর থানার লোকসংখ্যা দুই লাখের বেশি। এ থানার উত্তর সীমানার সঙ্গে ধর্মপাশা উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এতে সাধারণ মানুষ নানা অসুবিধায় পড়তেন।

১৯৮২ সালে মধ্যনগর থানাকে উপজেলায় উন্নীত করাতে সাইট সিলেকশন কমিটি করা হলেও বিষয়টি বেশি দূর এগোয়নি।

মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘মধ্যনগর থানাকে উপজেলা করার দাবি আমাদের অনেক দিনের। আজকে আমাদের খুশির দিন। মধ্যনগর থানা থাকাকালীন অবস্থায় আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে।

‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা পরিষদের কাজ শুরু করা।’

থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনুজ কান্তি দে বলেন, ‘আমরার মধ্যনগরবাসী অনেক খুশি হইছি। আমরার আনন্দ মিছিল করছি। মিষ্টি বাটছি, এই খুশির খবরে।

‘অনেক দিনের স্বপ্ন আছিল আমরার মধ্যনগর উপজেলা করার। আজকে এই স্বপ্ন বাস্তব হইছে। এখন উপজেলার কার্যক্রম ও কাঠামো বানানির লাগি যেন দ্রুততার সাথে কাজ করা হয়, ওইটাই চাইমু।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘মধ্যনগর উপজেলা উপহার দেয়ায় আমার মধ্যনগরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। দাবিটি অনেক দিনের ছিল।

‘আমি নিজেও মধ্যনগরকে উপজেলা করার জন্য বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছি। আমাদের আনন্দের দিন এটি।’

শান্তিগঞ্জ নামে খুশি দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী: নিকার সভায় তিন থানাকে উপজেলা করার পাশাপাশি সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে শান্তিগঞ্জ করার সিদ্ধান্তে খুশি এলাকাবাসী।

তারা জানান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে। তবে বিভিন্ন সময় দালিলিক ও প্রশাসনিক কাগজে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিভ্রান্তি ও ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে উপজেলার নাম পরিবর্তন করে শান্তিগঞ্জ করার দাবি জানানো হয়।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নাম পরিবর্তন হইয়া শান্তিগঞ্জ করায় খুশি হইছি অনেক। আমরার কাগজে অনেক সমস্যা অইত। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জাগাত দক্ষিণ সুরমা আইত্ত। তাই আমরা সবাই শান্তিগঞ্জ নাম চাচ্ছিলাম।’

তিনি জানান, শান্তিগঞ্জ নামটি একটি বাজারকে ঘিরে গড়ে ওঠে। যুদ্ধের অনেক পরে এখানে কয়েকটি ঘরবাড়ি নিয়ে একটি বাজার গড়ে ওঠে। সেই বাজারের নাম ছিল শান্তিগঞ্জ বাজার, পরে এটি শান্তিগঞ্জ গ্রাম হয়ে যায়।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশিদ বলেন, ‘শান্তিগঞ্জ নামকরণ হওয়ায় ভালো হয়েছে সবার। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামটি আমাদের জন্য সমস্যা হতো। বিভিন্ন কাজে নামটি বিভ্রান্তিতে ফেলে দিত। কাগজপত্রে ভুল হওয়ায় টাকা ও সময় দুটাই যাইত।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নাম শান্তিগঞ্জ হওয়ায় অনেক ভালো হয়েছে উপজেলাবাসীদের জন্য৷ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুতই এর বাস্তবায়ন দেখতে পেয়েছি।’

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন নিউজবাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি সাকিবুর রহমান ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি মোসাইদ আহমেদ রাহাত।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবি, দুই জেলের মৃত্যু

জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবি, দুই জেলের মৃত্যু

মনপুরা থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানান, মনপুরার গিয়াস উদ্দিন মাঝির ট্রলারে ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়। পাশেই থাকা কামাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা দুই জেলের মরদেহ ও আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

বঙ্গোপসাগরে জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবিতে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ এক জেলে।

চট্টগ্রাম গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে শুক্রবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই জেলে হলেন ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের মো. রুবেল ও দাসেরহাট গ্রামের মো. মাফু।

নিখোঁজ জেলে মিজানুর রহমানের বাড়িও চরফৈজুদ্দিন গ্রামে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, মনপুরার গিয়াস উদ্দিন মাঝির ট্রলারে ১১ জন জেলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় একটি জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়।

পাশেই থাকা কামাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা দুই জেলের মরদেহ ও আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

ওসি জানান, কামাল মাঝির ট্রলারে জীবিত ও মৃত জেলেদের মনপুরা আনা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন। নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ধাক্কা দেয়া জাহাজের বিষয়ে তিনি জানান, জেলেরা ওই জাহাজ শনাক্ত করতে পারেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা জানান, মৃত জেলেদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে সড়ক অবরোধ করে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সপ্তাহ উপলক্ষে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শুক্রবার দুপুরে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিভাগীয় প্রশাসন এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল, ফ্রেন্ডস ফর ফিউচার এর বাংলাদেশ কো-অরডিনেটর ফারিয়া হোসেন অমি, সিভিল সোসাইটির মো. আনোয়ার, ইউনিসেফের বরিশাল প্রধান তৌফিক আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। বাড়ছে সাইক্লোন, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাড়েছে নদী ভাঙন।
পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে ৩৫টি যুব সংগঠনের কর্মীরা শোভাযাত্রা করে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পাঁচ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

দেয়াল ধসে বর আহত, ভাইয়ের মৃত্যু

দেয়াল ধসে বর আহত, ভাইয়ের মৃত্যু

এই দেয়াল ধসে কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা।

হাটহাজারী থানার এসআই মো. রফিক জানান, শুক্রবার সবুজ তার চাচাত ভাই নজরুল ইসলামের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যান। সেখানে নজরুল ও তার ওপর প্রতিবেশীর সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে চাচাত ভাইয়ের গায়ে হলুদে গিয়ে দেয়াল ধসে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে বর।

হাটহাজারী পৌরসভার কুড়িয়ার দিঘীর পাড় এলাকায় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

মৃত মো. সবুজের বাড়ি ওই এলাকাতেই। তিনি হাটহাজারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার সবুজ তার চাচাত ভাই নজরুল ইসলামের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যান। সেখানে নজরুল ও তার ওপর প্রতিবেশীর সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে। তাদের উদ্ধার করে হাটহাজারী আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

বিয়ের আসরে শোকের হানা

বিয়ের আসরে শোকের হানা

নোয়াখালী সদরে গাছে ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিলেন। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শোনে নাই। একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

বিয়ের আনন্দে হঠাৎ শোকের ছায়া। পণ্ড হয়ে গেল আয়োজন।

বিয়ের আসরে যাওয়ার পথে বরবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগলে নিহত হন বরের বোন। নিজেও আহত হন বর।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়ন সমিতি মসজিদ এলাকায় মান্নাননগর-আলেকজান্ডার সড়কে শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । অন্যদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন।

নিহত গৃহবধূর নাম সুমি আক্তার। তিনি সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও বর মো. রাব্বির বোন।

আহতদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে।

ওসি সাহেদ জানান, আহতদের মধ্যে এওজবালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মুন্নি বেগম ও মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. দুলালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং মো. রাসেলের স্ত্রী পপি আক্তার ও মো. খোকনের ৯ বছরের শিশু সিফাতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন বর মো. রাব্বি, সোনাদিয়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন শিহাব উদ্দিন, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তাদের ১২ বছরের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার, পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার, তিন বছরের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার এবং দুই বছরের ছেলে মো. শাওন, খোকনের মেয়ে রোজিনা আক্তার ও ছেলে তিন বছরের কাউছার আহম্মেদ, মোমিন উল্যার ছেলে ১৩ বছরের আবদুর রহমান ও ১২ বছরের বিজয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার মো. রাব্বির সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার গুচ্ছগ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। দুপুরে একটি ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাসে বরসহ ২০ বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। মাইক্রোবাসটি এওজবালিয়া ইউনিয়নের সমিতি মসজিদ এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। এ সময় বরের বোন সুমি আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিলেন। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শোনে নাই। একপর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।’

সুধারাম থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় বিয়ের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছ বলে জানিয়েছেন মো. রাব্বি।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্যরা

কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

কক্সবাজারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কিছু ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করব‌ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজার উখিয়া ৪ নং রাজাপালং ইউপির উখিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ব্যাগ ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ তল্লাশি করে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে।’

এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২ পিস ইয়াবাসহ ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) টহল দল।

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগ নেতা যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন। মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানির জন্য আত্মহত্যা করলাম..।’

কুমিল্লায় এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহানগর যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

২৯ বছর বয়সী এই তরুণ কুমিল্লা সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে।

প্রেমের সুবাদে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন এমরান। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের সম্পর্কে দেখা দেয় জটিলতা।

মুন্নার স্ত্রী ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান বলে ধারণা করতে থাকেন মুন্না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর একপর্যায়ে মুন্না আত্মহত্যা করেছেন, দাবি স্বজনদের।

বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মুন্নার বাবা মতিউর রহমান।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

স্বজনদের অভিযোগ, মেয়েটি মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যেতেও বলতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার মুন্না আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি ও মেসেজ পাঠান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি স্ত্রী। অভিমান করে নিজের শোবার ঘরেই সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

শেয়ার করুন