গরুবাহী ট্রাকের চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

গরুবাহী ট্রাকের চালককে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক সুমন বণিক জানান, গরুর মালিক মো. মিলন দুটি ট্রাকে গরু নিয়ে চট্টগ্রামের বিবিরহাট যাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোরে ট্রাক দুটি বায়েজিদ সংযোগ সড়কে পৌঁছালে একটি পিকআপ এই ট্রাকের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েছেন বুঝতে পেরে চালক দরজা না খুলে ট্রাকটি জোরে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এক ডাকাত চালকের মুখে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সলিমপুর এলাকায় কোরবানির গরুবাহী ট্রাকচালককে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তাদের শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হলেও বিষয়টি গণমাধ্যমকে রোববার বেলা ২টার দিকে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ বাচা ও মো. তুহিন।

নিহত চালক আবদুর রহমানের বাড়ি যশোরের চৌগাছা থানার চন্দা গ্রামে।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার জানান, ঢাকার সাভারের দেওগা থেকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট-বায়েজিদ সংযোগ সড়কের ৪ নম্বর সেতুর কাছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যার পর গরু লুটের চেষ্টা করলেও কয়েকটি গাড়ি জড়ো হতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক সুমন বণিক জানান, গরুর মালিক মো. মিলন দুটি ট্রাকে করে ১১টি গরু নিয়ে চট্টগ্রামের বিবিরহাট যাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোরে ট্রাক দুটি বায়েজিদ সংযোগ সড়কে পৌঁছালে একটি পিকআপ এই ট্রাকের সামনে এসে দাঁড়ায়।

এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েছেন বুঝতে পেরে চালক দরজা না খুলে ট্রাকটিকে জোরে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এক ডাকাত চালকের মুখে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

এরপর ডাকাতরা ট্রাক থেকে গরু লুটের চেষ্টা করে। এ সময় বেশ কয়েকটি ট্রাক ঘটনাস্থলে জড়ো হতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এ সময় অন্য একটি গাড়ির চালক ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সীতাকুণ্ড থানায় খবর দেন।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

চালকের সহকারী মো. ইব্রাহিমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিদর্শক সুমন বণিক জানান, নোয়াখালী থেকে একটি পিকআপ তাদের ট্রাককে অনুসরণ করছিল। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

নিত্যনতুন ফন্দি বের করে বিকাশের গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন প্রতারকরা। পুলিশের বিশেষ দল এদের নানা সময় গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না তৎপরতা। পুলিশ বলছে, একেক জন ভুক্তভোগীর অল্প পরিমাণ অর্থ খোয়া যায় বলে অধিকাংশ সময় অভিযোগই দায়ের হয় না। 

গোপালগঞ্জের রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজ। এই কলেজের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক কদর আলী। কদর আলীর নাম ব্যবহার করে এক দল প্রতারক এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে বলছে, ‘আমি তোমাদের কদর আলী স্যার। তোমাদের উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে হবে। একটা বিকাশ নম্বর দাও।’

এভাবে প্রতারকরা ওই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা।

এ রকম কয়েকটি অডিও রেকর্ড এসেছে নিউজবাংলার হাতে।

কয়েকজন ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তাদের একজন পলাশ মিয়া।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিয়ে বলা হলো, কদর আলী স্যার বলছি। একটা বিকাশ নম্বর দাও, উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা যাবে। তখন আমি ফোনটা আমার ভাইয়ের কাছে দেই। আমার ভাই আমার কথায় বিশ্বাস করে স্যার ভেবে তার সঙ্গে কথা বলে তার কথা মতো কাজ করে। ফলে আমার ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪০০ টাকা নিয়ে নেয় প্রতারক। আমার মতো অনেকের সঙ্গে এই কাজ করেছে বিকাশ প্রতারক।’

এ বিষয়ে কথা হয় সরকারি রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজের শিক্ষক কদর আলী সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে কয়েকজন ছাত্র এসে অভিযোগ করেছে এই প্রতারণার বিষয়ে। কয়েকটি নম্বরও দিয়েছে তারা আমাদের। পরবর্তীতে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে প্রতরণার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছি।’

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নতুন নতুন ফাঁদ

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নানান ফাঁদের বিষয়ে কথা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, পুরনো কিছু কৌশলের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৌশল অবলম্বন করছেন প্রতারকেরা।

ভুল নম্বরে ভুল করে টাকা পাঠানোর কথা বলে সেটা ফেরত চাওয়া বা ওটিপি নম্বর নেওয়ার ফাঁদ পুরনো।

মুক্তা ধর বলেন, ‘নতুন কৌশলের মধ্যে দেখা গেছে, টিকা নিবন্ধনের এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারণা করা। এক্ষেত্রে প্রতারক বলে, “আমি টিকার নিবন্ধন করেছি। তবে ভুলক্রমে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি কোডটা একটু কষ্ট করে দেন, না হলে আমার আবার রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে। না হলে আমার দেরি হয়ে যাবে।” তখন ভিকটিম মানবিক দিক বিবেচনা করে কোডটা দিয়ে দেয়। তারা মানসিকভাবে দুর্বল করে প্রতারণা করছে।’

বিকাশের প্রতারণা নিয়ে কাজ করেন সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম সেলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। গত নয় মাসে ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো বিকাশ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে একটা পেজে দেখলাম লেখা, উপবৃত্তির টাকার জন্য এই নম্বরে যোগাযোগ করুন। আমি তখন লোকেশনটা চেক করে দেখলার ভাঙ্গা, ফরিদপুর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টকেও ফোন দেয় প্রতারকরা। ফোন দিয়ে বলে, “আপনি তো দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ কমিশন পান। আমাদের অফিস থেকে কমিশন দ্বিগুণ করে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে। এটা অ্যাক্টিভেট করার জন্যে আমরা যা বলি তাই করেন।” প্রতারকদের কথামতো কাজ করলে টাকা অন্য নম্বরে ট্র্যান্সফার হয়ে যায়। প্রতারক টাকা নিয়ে একাধিক নম্বরে ট্র্যান্সফার করে দেয়। পরে একটা জায়গা থেকে ক্যাশ আউট করে নেয়।

‘এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিভিন্ন অফারের কথা বলে প্রতারক। ১৬২৪৭ বিকাশের হটলাইন। এই নম্বরের সামনে অনেক সময় +৮৮ যুক্ত করে প্রতারক ফোন দিয়ে নানা ধরনের প্রলোভন দেখায়। এই বিকাশ কেন্দ্রিক চক্রের ৯০ শতাংশ ফরিদপুরের। বাকিরা মাদারিপুর ও মাগুরার।’

গ্রাহকের তথ্য প্রতারক জানে কীভাবে?

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, এজেন্টের দোকান একটা খাতা ব্যবহার করে, যে খাতায় বিকাশের ট্রানজ্যাকশনের বিকাশ নম্বর লেখা হয়। অনেক সময় প্রতারক বিকাশের টাকা তোলা বা পাঠানোর নামে গিয়ে গোপনে ওই খাতার ছবি তুলে আনে। অনেক সময় এই প্রতারনায় বিকাশের এজেন্ট ও বিকাশ কর্মকর্তারাও জড়িত থাকে।’

এ ছাড়া অনেক সংস্থা ভোক্তার ডাটা সংগ্রহ করে বলেও জানান কামরুল আহসান। তারা থার্ড পার্টির কাছে ডাটা বিক্রি করে। এ ধরনের সংস্থার কাছ থেকেও প্রতারক ডাটা সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন লোভ দেখিয়েও প্রতারক নিশ্চিত হন, গ্রাহকের নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা।

বিকাশের গ্রাহকের তথ্যের বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের সকল কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হয়েছে। যে শিক্ষার্থীরা ভিকটিম হয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই না করে তথ্য দিয়ে দিয়েছে। সে তার অসাবধানতার কারণে ভিকটিমে পরিণত হয়েছে। এখানে সচেতনতা জরুরি।’

প্রতারক মোবাইল সিম সংগ্রহ করে কোথা থেকে?

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যে সকল প্রতারক গ্রেপ্তার করেছি, তাদের তথ্যমতে, একদল অসাধু সিম বিক্রেতা রয়েছে, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ফ্রি সিমের সঙ্গে কিছু টাকা দেবে বলে সিম গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে। এ ছাড়া তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ করে এবং এই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে। এই চক্রগুলোর কাছ থেকে সাধারণ দামের থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে সিম কেনে প্রতারকরা। এ কারণে প্রতারকের পরিচয় পাওয়া যায় না।’

বিকাশ প্রতারক কেন নির্মূল সম্ভব নয়!

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘সিআইডির যে ট্রেসিং পদ্ধতি সেটা দিয়ে এরিয়া ট্রেসিং করা যায়। যেমন, প্রতারক কোন এলাকায় আছে বা কোন টাওয়ারের আওতায় আছে। এছাড়া পিনপয়েন্ট করে প্রতারকের স্থান নির্ণয় করা সম্ভব। তবে পিনপয়েন্ট করার যে ব্যবস্থা আছে, সেটা খুব ব্যয়বহুল। রাষ্ট্রীয় অপরাধ ছাড়া পিনপয়েন্ট ট্রেসিং ব্যবহার হয় না, তাই প্রতারক গ্রেপ্তার করতে ঝামেলায় পড়তে হয়।

‘অনেক সময় ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রতারকরা অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলে। ফরিদপুরে আমাদের দল থাকলেও এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ দলের প্রয়োজন। আর এই বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আছে শুধু।’

প্রতারণার শিকার হয়েও মামলা বা অভিযোগে অনীহা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘প্রতারকরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিম হয়তো মনে করেন, মাত্র তো ২ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রতারণা করে দিনে ২-৩ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় প্রতারক।

‘ভিকটিম আমাদের জানালে আমরা বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের বলি প্রতারক তথ্য নিয়েছে, আপনারা এই নম্বর থেকে ট্রানজেকশনটা বন্ধ করে দেন। টাকা ট্রানজেকশন হয়ে গেলে এটা বের করতে কঠিন হয়ে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম অভিযোগ করেন না।’

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ছোট ছোট অংকের টাকা প্রতারকের কাছে খোয়ান। এই অল্প টাকার কারণে তারা মামলা করেন না। সে কারণে অপারেশনও ওভাবে হয় না। ফলে প্রতারকরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা শুধু বিকাশের ক্ষেত্রে নয়, সকল ক্ষেত্রে হচ্ছে। প্রতারকরা বিভিন্ন রকম কথার ফাঁদে ফেলে এই প্রতারণা করে। পিন নম্বর ও ওটিপি এই দুইটা হচ্ছে মূল বিষয়। ফোনে যখন কোনো কোড আসে, এগুলো কাউকে বলার জন্য আসে না। আমার নিজের জন্য আসে। সব সময় আমরা বলছি, এই সচেতনাটা দরকার। যখনই কেউ এই কোড নম্বর চাইবে, তখনই মনে করতে হবে সে প্রতারক। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনই এ ধরনের কোড চাইবে না।’

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

১১ ‘জঙ্গি’র ৬ জন রিমান্ডে

১১ ‘জঙ্গি’র ৬ জন রিমান্ডে

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে মঙ্গলবার আদালতে আনা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অভিযান চালিয়ে ৪৫ জন আটক করে।

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বাকি পাঁচ আসামিকে জেল গেটে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের তিনটি আলাদা আদালতের বিচারক মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দিনাজপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

তিনি জানান, জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-১-এর বিচারক ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জেল গেটে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

তারা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, রাজধানীর মিরপুর-১২-এর সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল ও মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইওনিয়ার হাউজিং কলোনির নাফিস হাবিব, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মহসিন ভুঁইয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৪-এর বিচারক শিশির কুমার বসু তিনজনকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর দৌলাপাড়ার ওয়াহেদুজ্জামান, একই জেলার কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার সজল ওরফে সাব্বির আহমেদ।

অন্যদিকে বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৩-এর বিচারক শারমিন আক্তার তিন আসামিকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

তারা হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, রাজধানীর শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের জুনায়েদ খান এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বরুয়াদৌলা গ্রামের হুমায়ুন কবির।

পরিদর্শ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জন আটক হয়।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় মামলা করা হয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব তলব, দেখবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মানববন্ধন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তা লাঘবে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি সাংবাদিক মহলে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এ বিষয়ে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেছেন ও তথ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন। আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে বিষয়টি দেখবেন।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশের সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এমন চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার সচিবালয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল-বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে, সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি বলেন, ‘সরকার অবশ্যই যেকোনো কারণে হিসাব তলব করতে পারে, ব্যাংক হিসাবও তলব করতে পারে। তবে আমি মনে করি, এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। যাদের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, তাদের আমি চিনিও জানি। তাদের অনেকের আর্থিক অবস্থাও আমি জ্ঞাত।’

বিষয়টি নিয়ে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান ফখরুল।

তার পরদিনই এ প্রসঙ্গে কথা বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধপ্রবাহে বিশ্বাসী। করোনাকালে কিংবা আগে পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সুখে-দুঃখে জননেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় পাশে ছিলেন, আছেন।’

বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অন্ধকারসম ছিল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘অসংখ্য সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন তখন। যাদের হাত সাংবাদিকদের রক্তে রঞ্জিত, আজ তারা সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না করছে।’

বিএনপি মহাসচিব সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নিপীড়নের মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ করেছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে বিএনপির কুম্ভীরাশ্রু প্রদর্শন মাছের মায়ের পুত্র শোকের মতো।’

বিএনপি কখনও অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতার।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করে অবাধ গুজবের প্রবাহে। তারা বিশ্বাস করে অবাধ অপপ্রচারে। কোনোভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পেরে, দেশ-বিদেশে অর্থ বিনিয়োগ করে সরকার এবং দেশের বিরুদ্ধে মানহানিকর অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাব্বির ওরফে হাতকাটা স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক খান, আফজাল হোসেন ও আক্তার হোসেন। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের ৬৯ ভরি।

জব্দ করা হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জের চিতলিয়া বাজারের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, আনুমানিক ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ লাখ টাকা ডাকাতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ এক দোকানের মালিক রিপন বণিক মুন্সিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৮ থেকে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুরের ধর্মীয় নেতাদের দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

‘শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের’ কথা বলে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিমান্ডে রয়েছেন পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই।

তবে তাদের পক্ষে মাঠপর্যায় থেকে টাকা তুলে এখন বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

এসব ধর্মীয় নেতার দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

ইসলামি বিনিয়োগ ব্যবহারের আগে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তারের পর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নানা আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা। প্রথমে এহসান গ্রুপের কার্যালয়ে গেলেও এখন তারা ছুটছেন তাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে।

এর মধ্যে টাকার শোকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আজিজ মাঝি নামের ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি পাঁচ মেয়ে ও স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা এহসান গ্রুপের ফান্ডে জমা করেন। তার সন্তানরা ক্ষুদ্র ব্যবসা এমনকি গৃহপরিচারিকার কাজ করে বাবার কাছে এ টাকা দেন।

অভিযোগ, এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপক পরিচালক রাগীব আহসান গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আজিজ মাঝির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। আজিজ মাঝির মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস আমার বাবাকে ধর্ম ও কোরআনের কথা বলে মন নরম করে আমাদের জমানো ৩০ লাখ টাকা জমা নেয়।

‘কথা ছিল, জমিজমার ব্যবসা করে সুদমুক্ত লাভ দেবে। তবে কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দেন নাই। এরপর টাকার চিন্তায় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কয়েকবার রাগীব আহসানের কাছে যাই। চিকিৎসার জন্য হলেও কিছু টাকা ফেরত চাই, কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোক করে মারা যান।’

ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ধর্মীয় নেতা ও মসজিদের ইমামদের কথায় বিশ্বাস করে এ এলাকার জেলে, দিনমজুর, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ প্রায় প্রত্যেক পরিবার থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এহসান গ্রুপ।

গ্রাহকদের দাবি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন মূলত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা। এহসান গ্রুপের টাকা তুলে এখন তারা পড়েছেন তোপের মুখে। তারা জানান, তাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেও তারা এখন ভয় পাচ্ছেন।

ইন্দুরকানী উপজেলা থেকেই ৬০০ গ্রাহকের টাকা জমা নিয়েছিলেন ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বুঝতেই পারিনি এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ফাঁদ। বারবার বোঝানো সত্ত্বেও রাগীব আহসান আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।

‘গরিব মানুষজন বিশ্বাস করে আমাদের হাতে টাকা গচ্ছিত রেখেছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমাদের ১০০ জন মাঠকর্মীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান জানান, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (অপরাধ প্রশাসন) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি গ্রাহকরা সুবিচার পাবেন।’

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

হত্যা মামলার আসামি নুরুল আমিন মোর্শেদকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ভাড়া ১০ টাকা বেশি চাওয়ায় এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বেনাপোল পৌর এলাকার হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে রোববার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল বন্দর থানার পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নুরুল আমিন মোর্শেদ। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী গনিপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গনিপুর গ্রামে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন নুরুল আমিন।

নিহত রিকশাচালকের আবুল হোসেন গনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।

ওসি মামুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী রেলস্টেশন থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নুরুল আমিনকে গনিপুর গ্রামে নিয়ে যান আবুল হোসেন। এ সময় নুরুলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে আবুলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ১০ টাকা ভাড়া বেশি চাওয়ায় বাড়ি থেকে দা এনে রিকশাচালকের গলায় কুপিয়ে আহত করেন যাত্রী। এতে তার গলার শ্বাসনালির কিছু অংশ কেটে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম রিকশাচালককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

ময়মনসিংহে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ময়মনসিংহ সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিমের ১ নম্বর আমলি আদালতে রোববার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে আদালতের অতিরিক্ত বিচারক আবদুল হাই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আদালত পরিদর্শক প্রসূণ কান্তি দাস।

সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আজিজুল হক, মো.সারোয়ার, মো. আবুল কালাম ও মো. মঞ্জু।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ঘটনার পরপরই সুমাইয়ার বড় ভাই আলী আকবর ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের আলী আকবর এবং আজিজুল হকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই দুই পরিবারের বসার কথা থাকলেও আজিজুল হক ও তার লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

একপর্যায়ে আজিজুল ও তার লোকজন সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে আলী আকবরের বোন সুমাইয়ার মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত ঘটনায় নারীর ওপর হামলার ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। মেয়েটি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।’

ওসি জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু

শেয়ার করুন