সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা: ৪ দিন পর মামলা

সাবেক ইউপি সদস্য হত্যা: ৪ দিন পর মামলা

ঘটনার চার দিন পর ৩৮ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি, বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের ছোটভাই টিটু জোমাদ্দার। চেয়াম্যান শিপন ও তার স্ত্রী রিক্তা বেগম মামলার ২১ ও ২৪ নম্বর আসামি।

বরগুনা বেতাগীতে সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম টিটু হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যার চার দিন পর মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী ও ভাইসহ ৩৮ জনকে।

নিহত আনারুলের স্ত্রী শিল্পী বেগম শুক্রবার সন্ধ্যায় বেতাগী থানায় এই মামলা করেছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৩৮ জনের নাম আসামি হিসেবে দেয়া হয়েছে মামলায়। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি বলেন, প্রধান আসামি করা হয়েছে বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের ছোটভাই টিটু জোমাদ্দারকে। চেয়াম্যান শিপন ও তার স্ত্রী রিক্তা বেগম মামলার ২১ ও ২৪ নম্বর আসামি।

এই ইউনিয়নের সাবেক সদস্য টিটুকে গত সোমবার (১৯ জুলাই) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেতাগী-বরগুনা সার্কেল) মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামি ফয়সাল বিশ্বাস, মো. আনিস ও আব্দুল মজিদ মোল্লা নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি কাজী সাখাওয়াত বলেন, হত্যা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউপি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জেরে আসামিদের সঙ্গে টিটুর দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

টিটুর বাড়ি উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া এলাকায়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

তার স্বজনদের অভিযোগ, সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের জেরেই এই হত্যার ঘটনা। টিটু সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফের ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বায়েজিদ হোসেন (টিটুর ভাইয়ের ছেলে) বলেছেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিটু বেতাগীতে ইউপি সদস্যের সম্মানী ভাতার টাকা আনতে যান। দুপুর ১২টার দিকে বেতাগী সদর থেকে বাইকে করে সরিষামুড়ি ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কাউনিয়া পোলেরহাট ইটভাটা এলাকায় পৌঁছলে ১৫-২০ জন পথরোধ করে মারধর শুরু করে। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি সড়কের পাশে খালে লাফ দেন।

খাল থেকে তুলে তার ঘাড়ের পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়া হয় এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় টিটুর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে বাঁচাতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাদের দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়। পরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কালো মাইক্রোবাসে টিটুকে তুলে নিয়ে বরগুনার দিকে চলে যায়।

হামলাকারী কয়েকজনকে মোরটসাইকেলে ওই মাইক্রোর পেছন পেছন যেতে দেখা যায়।

কালো মাইক্রোতে বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের ছোট ভাই রেজাউল ইসলাম ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বায়েজিদ।

বেলা আড়াইটার দিকে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল সড়কের ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকায় রাস্তার পাশে টিটুকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেতাগী থানার পুলিশের সহায়তায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুই ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব

বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সরিষামুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয় শিপন জোমাদ্দারকে। মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ইউসুফ শরীফ পরাজিত হন।

এরপর থেকেই শিপন ও ইউসুফের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

গত বছরের ২০ নভেম্বর বিয়ের দাওয়াত থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন শিপন। কুপিয়ে তার দুই পা কেটে ফেলা হয়।

অভিযোগ ওঠে, শরীফের উপস্থিতিতে তার তিন ছেলে এবং সমর্থকরা শিপনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এ ঘটনায় শরীফের ছেলেসহ ১৪ জনের নামে বেতাগী থানায় মামলা হয়।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন শিপন।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেয়া নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী শিপন ও ইউসুফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় টিটু মেম্বার শরীফের পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৪ মার্চ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া এলাকায় রাত ১০টার দিকে রফিক বিশ্বাস নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় টিটুকে আসামি করে মামলা করা হয়।

ইউপি নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ২০ জুন রাত ১০টার দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফের স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে জখম করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার এই ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

মৃত সুমিতা খাতুনের স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে মামলা হয়।

সুমিতার ফুপা শামসুল ইসলাম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। ওই মামলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান।

পরিদর্শক সাদেকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পরই সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তিনি আমাদের হেফাজতেই ছিলেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

‘এখন পর্যন্ত যেটা জানতে পেরেছি, টাকা-পয়সা বিষয়ক কিছু ব্যাপার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এই কলহ থেকেই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন সুমিতা।’

পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, ভোর ৫টার দিকে খবর আসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা সারা রাত ভেতর থেকে বন্ধ। গৃহকর্তা সোহেল রানা ঘরে ঢুকতে পারেননি রাতভর। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভোরে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পায় পুলিশ। এর মধ্যে সুমিতা ও শিশু শানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় পড়ে ছিল জান্নাতের নিথর দেহ।

ওইদিন গৃহকর্তা সোহেল নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি কাজ শেষে ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের খবর দেন। সারা রাত ধরে সবাই চেষ্টা করেও ভেতর থেকে সাড়া পাননি। এরপর পুলিশে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে ঘটনার দিন বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

ফ্ল্যাটের ওপর তলার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারা ওপর থেকে চিৎকার শুনতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, দুপুরে সোহেল রানাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। অভিযান চলছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবেই।’

শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্যে কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার তিন দিন পার হলেও ধরা পড়েনি সহিংসতায় জড়িতরা।

তাদের ধরতে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট।

পুলিশ জানায়, বুধবার থেকেই কুমিল্লায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের একটি দল কাজ করছে। শিগগিরই ধরা পড়বে ঘটনায় জড়িতরা।

এদিকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে চার মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।

সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অভিযান চলছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পবিত্র কোরআন অবমাননা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়েছে। অন্য দুটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফয়েজ আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ শেয়ার করেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলার একটিতে ১৭ জন ও আরেকটি মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মোট ৪১ জনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

ওসি নিউজবাংলাকে জানান, ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গোলাম মাওলা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই যুবক সংঘর্ষস্থলে এসে ছবি সংগ্রহ করেন। পরে ছবিগুলো এডিট করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। গ্রেপ্তার ওই যুবককেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। অভিযান চলছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবেই।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান বলেন, ‘বুধবারের ঘটনার তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। আমরা প্রতিটা বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সদস্য।

আলোচিত মণ্ডপে পূজার আয়োজকেরা জানান, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। বুধবার সকালে বিষয়টি পূজারিদের নজরে আসে। এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা উদ্‌যাপন শেষে মণ্ডপটি জনশূন্য ছিল।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার এই ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে একটি বাড়ি থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুসন্তানের মৃত্যুর রহস্য বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা বলছে, পারিবারিক কলহকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে গৃহবধূর স্বামী সোহেল রানাকে।

পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃতরা হলেন গৃহবধূ সুমিতা খাতুন, তার ৭ বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শান।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, ভোর ৫টার দিকে খবর আসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা সারা রাত ভেতর থেকে বন্ধ। গৃহকর্তা সোহেল রানা ঘরে ঢুকতে পারেননি রাতভর। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভোরে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পায় পুলিশ। এর মধ্যে সুমিতা ও শিশু শানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় পড়ে ছিল জান্নাতের নিথর দেহ।

গৃহকর্তা সোহেল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি কাজ শেষে ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের খবর দেন। সারা রাত ধরে সবাই চেষ্টা করেও ভেতর থেকে সাড়া পাননি। এরপর পুলিশে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) আরাফাতুন ইসলাম, পাঁচলাইশ সার্কেলের সহকারী কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পিবিআই পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা ও সিআইডির সদস্যরা।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

ফ্ল্যাটের ওপর তলার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারা ওপর থেকে চিৎকার শুনতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

তবে ভিন্ন কথা বলছেন বাড়ির গৃহকর্মী জোছনা বেগম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ধরে ওই বাসায় কাজ করছি। সবকিছু স্বাভাবিক দেখেছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাচ্চাদের মা চুপচাপ ছিলেন। বাড়ির কর্তা এদিন দুপুরে বাড়ি এলেও খাবার না খেয়েই চলে যান।’

গৃহকর্তা সোহেলের বোন লিপি আক্তার বলেন, ‘১০ বছর ধরে তারা সংসার করছেন। আড়াই বছর ধরে ওই ভবনে আছেন। সব পরিবারের মতো ছোটখাটো কলহ তো হতো। তবে এমন কিছু ঘটার মতো কিছু হয়নি।’

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে স্লোগান দেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই মুসল্লিদের একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মুসল্লিরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে নাইটিঙ্গেল মোড় ও পল্টন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।

জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়া দেন উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বন্ধ করে দেয়া গেটের তালা ইট দিয়ে ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

এর পরপরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি দল বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসে। এ সময় তাদের পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।

‘পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে তারা ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালান। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

ঘটনাস্থল থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পল্টন মোড় থেকেও একজনকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বেলা আড়াইটা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যান চলাচলও শুরু হয় বন্ধ থাকা সড়কটিতে।

দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে একদল মুসল্লিকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে একদল মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

জুমার নামাজের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে একদল মুসল্লিকে।

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে এসব মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মুসল্লিদের কয়েকজনের হাতে ব্যানার দেখা যায়, তবে দ্রুত সামনের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় সে ব্যানারে কী লেখা ছিল, তা দেখা যায়নি।

জাতীয় মসজিদের গেট থেকে বেরিয়ে মুসল্লিদের অনেককে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। সেখানে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে ঢুকে যায় তারা।

জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেঁচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়াও দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থেকেই উত্তর পাশের সিঁড়িতে থাকা একদল মুসল্লি নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। নামাজ শেষ হওয়ামাত্রই কিছু মুসল্লিকে দৌড়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

দুর্গাপূজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে কড়া প্রহরায় দেখা যায় র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই পল্টন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (প্যাট্রল) খন্দকার রেজাউল হাসান জুমার নামাজের আগে নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‌‘অন্যান্য সময়েও শুক্রবার এ এলাকায় নিরাপত্তা বেশি নেয়া হয়। তবে আজকে আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি।

‌‘যেহেতু কুমিল্লাতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাও দেখা গেছে, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা বায়তুল মোকররমসহ এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে র‍্যাব, বিজিবির সদস্যরাও রয়েছে। তারা এই এলাকায় টহল দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

গেট বন্ধ নিয়ে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে বায়তুল মোকাররমে কড়া অবস্থানে আছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেঁচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা গেছে।

জুমার নামাজ শুরুর আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেঁচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই সময় নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়াও দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থেকেই উত্তর পাশের সিঁড়িতে থাকা একদল মুসল্লি নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। নামাজ শেষ হওয়ামাত্রই কিছু মুসল্লিকে দৌড়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

দুর্গাপূজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে আছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কড়া প্রহরায় দেখা গেছে র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই পল্টন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

‘শিবির নেতা’ ইমাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি

‘শিবির নেতা’ ইমাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদের দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে একই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইমাদের দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে একই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম। তবে সাইফুলের বিরুদ্ধেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুই বছর আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদের দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে একই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম।

ইমাদকে ছাত্রশিবিরের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক নেতা দাবি করে স্বাধীনতাবিরোধী অনুপ্রবেশকারীর হাত থেকে দলকে রক্ষারও আহ্বান জানান তিনি।

‘তৃণমূল আওয়ামী লীগের’ ব্যানারে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে ‌এ দাবি করেন সাইফুল।

সাইফুল ইসলামও রণিখাই ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড ইকবাল হোসেন ইমাদকে মনোনয়ন দেয়।

ইমাদকে নৌকা প্রতীক দেয়ার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ইমাদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ছিলেন বলেও জানা গেছে। যদিও ইমাদ প্রথম থেকেই নিজের শিবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল বলেন, ‘ইমাদ ২০১৮ সালের শেষ দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিমকে ম্যানেজ করে দলে যোগ দেয়। ২০১৯ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হন। এ সময় তৃণমূল আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মী প্রতিবাদ করলে ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হাসিম আমলে নেননি।

‘সর্বশেষ হাসিমকে ম্যানেজ করে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ও শেষ পর্যন্ত নৌকার মনোনয়ন পেয়ে যান।’

সাইফুল আরও বলেন, ‘ইমাদ যুক্তরাজ্য ও দেশে থাকাবস্থায় তার ফেসবুক আইডি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাক্টিভ রাখেন। ওই আইডিতে সরকার বিরোধী পোস্ট রয়েছে। যা বন্ধ করে বর্তমানে নতুন নামে আরেকটি ফেসবুক আইডি চালু করেন।’

তবে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দুই বছর আগে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপিতে তিনি ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। প্রতিপক্ষই মিথ্যাচার করছে।

বক্তব্যে সাইফুল আরও বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর তৃণমূল আওয়ামী লীগে সমালোচনা ঝড় ওঠে। তখন তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করে ইকবাল হোসেন ইমাদ বেশ কিছু মিথ্যা তথ্য সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

‘শিবির নেতা’ ইমাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি
পজেলা শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন এমাদ

‘যে শিবির নেতা ইকবাল হোসেনের কথা বলা হচ্ছে সেই ব্যক্তি না কি তিনি নন। ওই ইকবাল দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের পশ্চিম বর্ণী গ্রামের মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুন নুরের ছেলে। কিন্তু চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন ইমাদ দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলামের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোস্তাকিন। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগর সামসুল ইসলাম, আকিল উদ্দিন, বাবুল দাস, আপ্তাব উদ্দিন।

শিবিরে ইমাদ

ইকবাল হোসেন ইমাদ দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৩ সালে দলইরগাও স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে এম. সাইফুর রহমান কলেজে ভর্তি হয়ে ২০০৪ সাল থেকে ইসলামি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের (আংশিক) তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানা শিবিরের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালে সেক্রেটারি থাকাকালীন থানা শিবিরের সভাপতি ছিলেন মুহাম্মদ আব্দুশ শাকুর ও ২০০৭ সালে ছিলেন শফিকুল ইসলাম। যা শিবিরের সাংগঠনিক ২০০৯ ও ২০১০ সালের ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

ইমাদ ২০১০ সালের মার্চে যুক্তরাজ্য যাওয়ার আগ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৬ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নেন ও স্বাধীনতাবিরোধী এ দলের অর্থ তহবিলে অনেক টাকা-পয়সা দান করেন।

আরও পড়ুন:
ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন