ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি

ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি

বিক্রি না হওয়া পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যাপারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বেশিরভাগ ব্যাপারীর ঘরে জায়গা নেই। মোলায়েম ব্যাপারীর মতোই স্বজনদের কাছে রেখেছেন, কেউ কেউ ভাড়ার বিনিময়ে রেখেছেন অন্য জায়গায়। কেউ বেধে রেখেছন নিজের বাড়ির বারান্দায়। এখানেও আছে চুরির ভয়। তাই রাত জেগে থাকতে হয় পাহারায়। আবার প্রাণীগুলো, একটি পরিবেশে অভ্যস্ত ছিল। নতুন পরিবেশে লালনপালনে ঝক্কি বেশি। আবার ঢাকায় আনা নেয়ার ঝক্কিতে ওজন হারিয়েছে বহু গরু। তাদের স্বাস্থ্য ধরে রাখাও একটি বড় সমস্যা। খরচের ব্যাপারটি তো আছেই।

কুষ্টিয়ার হরিপুরের মোলায়েম ব্যাপারী। গরু কেনাবেচার পাশাপাশি করেন কসাইয়ের কাজও।

এবার ঈদে বেচবেন বলে ঢাকায় গরু নিয়ে যান ১৩টি। লোকসান দিয়ে ৯টি বিক্রি করেছেন। কিন্তু চারটি বড় গরু বেচতেই পারেননি।

এগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে এনে দুই ধরনের বিপত্তিতে তিনি। প্রথমত, তার বাড়িতে চারটি গরু রাখার জায়গা নেই। তাই রেখেছেন কুষ্টিয়া শহরে আত্মীয় বাড়ি। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি গরুর খাবারের পেছনে প্রতিদিন যে অর্থ খরচ হচ্ছে, তাতে তার সঞ্চয়ে পড়েছে টান।

কোরবানির গরুর ব্যবসায় কখনও পাওয়া যায় বড় অঙ্কের মুনাফা, কখনও বড় লোকসান। করোনার দ্বিতীয় বছরে এবার খামারি আর ব্যাপারীদের মাথায় হাত।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা বা বড় শহরে নিয়ে এসে বেশিরভাগ গরুই বেচা যায়নি। ট্রাক ভাড়া দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে এখন যে বিপাকে পড়েছেন তারা, তা ভাবনাতেও ছিল না।

কোরবানির পরে বাজারে গরুর চাহিদা কমে যায়। ফলে এখন চাইলেই বিক্রি করা যাবে না। তাদের ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় প্রাণীগুলোকে পালতে হবে।

এ ক্ষেত্রেও ঝামেলা আছে। বেশিরভাগ ব্যাপারীর ঘরে জায়গা নেই। মোলায়েম ব্যাপারীর মতোই স্বজনদের কাছে রেখেছেন, কেউ কেউ ভাড়ার বিনিময়ে রেখেছেন অন্য জায়গায়।

কেউ বেধে রেখেছন নিজের বাড়ির বারান্দায়। এখানেও আছে চুরির ভয়। তাই রাত জেগে থাকতে হয় পাহারায়।

আবার প্রাণীগুলো, একটি পরিবেশে অভ্যস্ত ছিল। নতুন পরিবেশে লালনপালনে ঝক্কি বেশি। ঢাকায় আনা নেয়ার ঝক্কিতে ওজন হারিয়েছে বহু গরু। তাদের স্বাস্থ্য ধরে রাখাও একটি বড় সমস্যা।

মোলায়েম ব্যাপারী বলেন, ‘আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে কসাইদের কাছেও গরুর দাম কম থাকবে। কারণ মানুষের কাছে কোরবানির মাংস থেকে যাবে। এ সময়ে গরু বিক্রি করা কঠিন হবে। এ সব গরুর খাবার জোটাতে গিয়ে সব টাকা শেষ হয়ে যাবে ‘

ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
ঢাকা থেকে ফেরত নেয়া গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে ব্যাপারীর

সদরের কবুরহাট মালিথাপাড়ার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘১১টি গরু কিনে ঢাকায় নিয়েছিলাম। ৭টি ফেরত আনতে হয়েছে। এগুলোর রাখার জায়গা নেই। বাড়ির বারন্দায় গাছের সঙ্গে বেধে পাহারা দিচ্ছি। হাট খুললেই বেচে দেয়ার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন: বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান


শহরের ৬ রাস্তার মোড় এলাকার হাজী জিল্লুর রহমান তিনটি গরুই ফেরত এনেছেন। তিনি বলেন, ‘গরুর যে দাম বলেন ক্রেতারা তাতে মাংসের হিসেবে মণপ্রতি ১২ হাজার টাকা পড়ে। কিছুদিন আবার খাইয়ে সুবিধাজনক সময়ে বেচলে দাম মণপ্রতি ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। তাতে কিছুটা লোকসান কম হবে।’

ফিরিয়ে আনা গরুর প্রতি রাগ না করে তাকে আবার হৃষ্টপুষ্ট করার পরামর্শ দেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসেবে কুষ্টিয়া জেলায় মোট আড়াই লাখ গরু মোটাতাজা করা হয়। এরমধ্যে ঢাকায় নেয়া হয়েছিল ১ লাখের মতো। তার অর্ধেকেই ফেরত এসেছে।

পাটুরিয়া ঘাটের কাছে জট লাগায় ঈদের দিন আসতে পারেনি সব ট্রাক।

গরু পালনকারী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, তিন ভাগের একভাগ গরুও বেচতে পারেননি তারা। ক্রেতারা দাম কম বলায় পরিবহন খরচের লোকসান মাথায় করেও গরু ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন তারা। সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় ট্রাকের ওপরই ভিজতে হয়েছে।

জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এবার করোনা মহামারির কারণেই কি না, কোরবানি কম দিয়েছে মানুষ। আগের মতো কোরবানির গরু বেশি দামে কেনার মতো আবেগ এবার মানুষের নেই। সবাই জীবন বাচাতেই ব্যস্ত।’

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সড়ক অব্যবস্থাপনাকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড

সড়ক অব্যবস্থাপনাকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড

সড়ক অব্যবস্থাপনাকে লালকার্ড দেখিয়েছেন নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুস আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজকে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতি লাল কার্ড দেখিয়েছেন গণপরিবহনে হাফ পাস চালু ও নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রামপুরার ব্রিজের ওপর শনিবার দুপুর ১২টার পর পরই অবস্থান নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা লাল কার্ড উঁচিয়ে সড়ক ও পরিবহন খাতের লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুস আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজকে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে ‘রেফারি’ দাবি করে দুর্নীতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানান।

সোহাগী বলেন, ‘যখন ফুটবল খেলা হয়, খেলোয়াড়রা ভুল করলে লাল কার্ড দেখায়। আমরা সেই রেফারিদের ভুমিকা পালন করতে যাচ্ছি। আমরা দেখাতে চাই, বাংলার মাটিতে দুর্নীতি হচ্ছে, যে মাটিতে ছাত্র সমাজ বড় বড় আন্দোলন করেছে। আজকে আবার ২০২১ সালে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।’

আন্দোলনকারী সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে তাকে ছাত্রী নয় বলে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সোহাগী একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী।

সোহাগী ইস্যুতে কথা বলেছেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার দাবি, রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্রছাত্রীদের উসকানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।

সড়ক অব্যবস্থাপনাকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড
সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌসের আইডি কার্ড। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন সোহাগী। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সৌভাগ্য আমরা এতদিন ধরে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনকে বিব্রত করার জন্য তিনি মুখ খুলেছেন। তার যে এখানে নজর এসেছে, এ কারণে আমরা ধন্য।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে যে চর্চা চলছে, তার পুরোটা ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন সোহাগী।

তিনি বলেন, ‘আমি নাকি ছাত্রী না, আমি নাকি ৩০ বছরের একটি মহিলা। আমি নাকি স্কুল ড্রেস পরে শিক্ষার্থীদের উসকানি দিচ্ছি। প্রথমে বলতে চাই, আমাদের ছাত্ররা রোবট না। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা আছে। দ্বিতীয়ত, আমি ৩০ বছরের মহিলা নই। আমার কাছে আইডি কার্ড আছে। আমি যে একজন ছাত্রী তার সকল প্রমাণ আমি এখানে হাজির করেছি।’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিস্কার করেন আন্দোলনকারী এই শিক্ষার্থী। বলেন, ‘আমি বুক ফুলিয়ে বলছি, আমি ২০১৭ সাল থেকে আমি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট করি। আমি ঢাকা মহানগরের দপ্তর সম্পাদক। প্রশ্ন এখানে না, আমি একজন এদেশের নাগরিক। আমার সংগঠন করবার অধিকার রয়েছে।

সড়ক অব্যবস্থাপনাকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড
ছাত্র অন্দোলনের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন সোহাগী। ছবি: নিউজবাংলা

‘প্রশ্ন হচ্ছে এটা যে, আমি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু এখানে টেনে এনেছি কি না। আমি শুরু থেকেই এই আন্দোলনে যুক্ত। আমার কোনো স্লোগান, আমার কোনো বক্তব্যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু আনিনি, সেটা সবাই জানে।’

এসময় সোগাহী নিজের পরিচয়পত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমি আমার আইডি কার্ড আপনাদের সামনে শো করছি। আমি খিলগাঁও মডেল কলেজ থেকে এইসএসসি পরিক্ষার্থী।’

দুপুর ১টা ১০মিনিটে অবস্থান তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

মুন্সীগঞ্জে আগুন: দুই সন্তানের পর চলে গেলেন বাবাও

মুন্সীগঞ্জে আগুন: দুই সন্তানের পর চলে গেলেন বাবাও

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে একটি ভবনে লাগা আগুনে দগ্ধ কাওসারের মৃত্যু হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। ছবি: নিউজবাংলা

আগুনে ৩০ বছর বয়সী কাওসারের শরীরের ৫৪ শতাংশ, তার স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী শান্তা বেগমের ৪৮ শতাংশ, তাদের ৬ বছরের ছেলে ইয়াসিনের ৪৪ শতাংশ এবং ৩ বছরের মেয়ে নুহা আক্তারের দেহের ৩২ শতাংশ পুড়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে একটি ভবনে লাগা আগুনে দগ্ধ মো. কাওসারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিনজন।

কাওসারের শ্যালক মাসুদ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার মুক্তারপুরের বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভোরের দিকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় তার বোন, ভগ্নিপতি ও দুই ভাগ্নে-ভাগ্নি দগ্ধ হয়।

তিনি জানান, আগুনে ৩০ বছর বয়সী কাওসারের শরীরের ৫৪ শতাংশ, তার স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী শান্তা বেগমের ৪৮ শতাংশ, তাদের ৬ বছরের ছেলে ইয়াসিনের ৪৪ শতাংশ এবং ৩ বছরের মেয়ে নুহা আক্তারের দেহের ৩২ শতাংশ পুড়ে যায়।

‘আজ সকালে আমার বোনজামাইও মারা গেলেন। পুরা সংসারটা শেষ হয়ে গেল। শুধু আমার বোন বাঁইচা আছে। তার অবস্থাও মুমূর্ষু’, বলেন কাওসার।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন আইয়ুব হোসেন বলেন, আজ সকালে কাওসারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারালেন। কাওসারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে থাকা শান্তা বেগমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

পাচঁলাইশ থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলীর থানা এলাকায় চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন (সিপিপি) ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে তার মৃত্যু হলেও বিষয়টি শনিবার সকালে সংবাদ মাধ্যমকে জানায় পুলিশ।

ওই চীনা নাগরিকের নাম থিয়াং ইউ। তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের লিওনিং এলাকার বাসিন্দা। সিপিপি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে ফোরম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাচঁলাইশ থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, শুক্রবার রাতে কর্ণফুলী এলাকায় বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। তাকে রাত ১২টার দিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তার স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ আল মঈন বলেন, ‘ওয়াহেদ আলীর নেতৃত্বে এই বাড়িতে বোমা তৈরি করা হতো বলে আমরা জেনেছি। রংপুর অঞ্চলে সে-ই এই কাজ করত।’

নীলফামারী সদরের সোনারায়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় ওহিদুল ইসলাম, ওয়াহেদ আলী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহিদুল ইসলাম ও নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করার কথাও জানায় র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।

সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক শেখ আল মঈন।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নীলফামারীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকাল থেকে সোনারায় ইউনিয়নের পুটিহারীর শরিফুল ইসলামের বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। পরে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অভিযান চালিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে।

‘রংপুর অঞ্চলে বোমা তৈরি করত ওয়াহেদ’

র‌্যাব কর্মকর্তা শেখ আল মঈন বলেন, ‘ওয়াহেদ আলীর নেতৃত্বে এই বাড়িতে বোমা তৈরি করা হতো বলে আমরা জেনেছি। রংপুর অঞ্চলে সে-ই এই কাজ করত।’

আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১৩ রংপুর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। বিকেলে রংপুরে অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সব জানানো হবে বলে জানান তিনি।

অভিযানের সময় র‍্যাব একটি আইইডি-সদৃশ বিস্ফোরক শনাক্ত করে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এটি নিষ্ক্রিয় করেছে।

জঙ্গিদের কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তা জানাননি এই কর্মকর্তা। অভিযানের সময় ঘিরে রাখা বাড়ির আশপাশে হাজারও মানুষ ভিড় করেন।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

ভেঙে ফেলা হলো মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট

ভেঙে ফেলা হলো মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট

কাটাখালী বাজারের বাসস্ট্যান্ডের পাশে সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন দোতলা মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য এই অভিযান। খালের ওপর নির্মাণাধীন ভবনটি উচ্ছেদের জন্য ২৫ আগস্ট নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

সরকারি খালের ওপর নির্মিত কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর মার্কেট ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন কাটাখালী বাজারের বাসস্ট্যান্ডের পাশে সরকারি খালের ওপর নির্মাণাধীন দোতলা মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য এই অভিযান। খালের ওপর নির্মাণাধীন ভবনটি উচ্ছেদের জন্য ২৫ আগস্ট নোটিশ দেয়া হয়েছিল।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বিতীয়বার নৌকার মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আব্বাস আলী কাটাখালী বাজারের পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালটি দখল করে তার ওপর দোতলা মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু করেন।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানো নিয়ে আপত্তি তোলা মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই অডিওতে তিনি বলেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এ ঘটনায় ২৪ নভেম্বর আব্বাসের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ১ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হাসনায়েন।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য পাবনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন মারা গেছেন।

শনিবার ভোরে শহরের পৌর এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। গোলাম হাসনায়েন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল তার মৃত্যুর তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে ভোকেশনাল স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে উল্লাপাড়া আসন থেকে সদস্য (এমসিএ) নির্বাচিত হন।

তিনি ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালের দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

আজীবন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২১ সাল তাকে একুশে পদক দেয়া হয়।

গোলাম হাসনায়েনের মৃত্যুতে পাবনার মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন

রোস্তম আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রোস্তম আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রোস্তম আলী মিয়া

রোস্তম আলী মিয়া ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক। তার সন্তানদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। একজন জেলা ও দায়রা জজ এবং আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কর্মরত।

বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক রোস্তম আলী মিয়ার একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে তার নামে প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

রোস্তম আলীর সন্তানদের মধ্যে ড. সেলিম মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন ট্রাইব্যুনানের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

এক ছেলে আ ন ম জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে। আরেক ছেলে সালাউদ্দিন মাহমুদ বিসিএস তথ্য ক্যাডারে কর্মকর্তা। বাংলাদেশ বেতারের উপ-নিয়ন্ত্রক (বার্তা) সালাউদ্দিন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কর্মরত।

রোস্তম আলীর জন্য তার পরিবারের সদস্যরা শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও আত্নীয়স্বজনের কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করছেন।

আরও পড়ুন:
গাবতলীতে চোখ আটকে যায় লাল বাহাদুরে
২৬ ইঞ্চি বিট্টুর দাম ১ লাখ
টাঙ্গাইলের ‘হিরো’ গাবতলী হাটে
পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দিতে চিঠি
অনলাইনে পশু কেনাবেচায় সরকারের অনুরোধ

শেয়ার করুন