শোলাকিয়ার শূন্য মাঠে আক্ষেপের ঈদ

শোলাকিয়ার শূন্য মাঠে আক্ষেপের ঈদ

দুই বছর ধরে ঈদের জামাত হচ্ছে না ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ছবি: নিউজবাংলা

নরসুন্দা নদীর তীরে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হতো এই ঈদগাহ ময়দানটিতে। এই ময়দানে একসঙ্গে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার ১৯৪ তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

লাখ লাখ মানুষের জমায়েত ময়দানটিকে সারাদেশে পরিচিত করে তুলেছিল। কত মানুষ নামাজের জন্য এসেছেন, সেই হিসেব কষা হতো ঈদের জামাতে। কিন্তু মহামারিকাল কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানকে ঘিরে সেই হিসেবনিকেশ বন্ধ করে দিয়েছে।

শোলাকিয়া মাঠের জামাত নেই বলে আক্ষেপ নিয়েই ঈদ করল কিশোরগঞ্জবাসী। পর পর চারটি ঈদে বিখ্যাত এই ময়দানটিতে খাঁখাঁ শূন্যতা দেখা গেছে।

নরসুন্দা নদীর তীরে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত হতো এই ঈদগাহ ময়দানটিতে। এই ময়দানে একসঙ্গে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবার ১৯৪ তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এই ময়দানের আয়তন সাত একর। পুরো ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে উচু দেয়াল দিয়ে বাউন্ডারি করা হয়েছে। তবে মুসল্লীদের মাঠের সবদিক থেকে প্রবেশ ও বের হতে করতে পারে এবং বের হতে পারে দেয়ালের মাঝে মাঝে ফাঁকা রাখা হয়েছে।

শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাতের জন্য ২৬৫টি সারি হয়। প্রতিটি সারিতে প্রায় ৫০০ করে মুসল্লি দাঁড়াতে পারেন। সব মিলিয়ে শুধু মাঠের ভেতরেই প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

তবে মাঠের সমপরিমাণ মুসল্লি নামাজ আদায় আদায় করেন মাঠের পাশের সড়ক ও খোলা জায়গায়। সবমিলিয়ে এই ময়দানে প্রায় তিন লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

শোলাকিয়া সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রনি আহমেদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি ঈদ এলেই এখানে লাখ লাখ মানুষ নামাজ পড়তে আসেন। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদের আগের দিনই চলে আসতেন শোলাকিয়ায় নামাজ পড়ার জন্য। রাতে শহরের হোটেলে রাত্রিযাপন করে সকালে মাঠে নামাজ আদায় করতেন।

‘কেউ কেউ মাঠেও রাত্রিযাপন করতেন। কিন্তু গত বছর থেকে করোনা মহামারির কারণে ঈদের জামাত বন্ধ রয়েছে এই মাঠে। গত বছর থেকে আমরা ছোট পরিসরে মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করছি। লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটত যে মাঠে, সে মাঠ এখন ফাঁকা।’

ওই এলাকার চায়ের দোকানি জালাল মিয়া বলেন, ‘গত দুই বছর ধইরা ঈদ আইয়ে ঠিহই। কিন্তু এই মাঠটা থাহে খালি। ঈদের জামাত বন্ধ। কেউ আইয়ে না। অন্য বছর ঈদের আগের দিনই মাঠ সাজানির লাগি শত শত মানুষ কাম করত। গতবার আর এইবার মাডের এই সৌন্দর্যডা নাই। দুইবছর ধইরা ঈদে কোনো বিহি-কিনি নাই আমার দোহানো। ঈদগানার লগে গরুর বাজারটা থাহনে কয়ডা চা বেছতাম পারছি।’

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের মোতাওয়াল্লি দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইতিহাসে এ নিয়ে দুইবার ঈদুল আযহার জামাত বন্ধ রয়েছে। এই বিষয়টা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং বেদনার। তবে মহামারির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

করোনা মোকাবিলা করে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও এই ময়দান ফিরে উৎসবমুখর পরিবেশ এমন প্রত্যাশা তার।

লোকমুখে জানা যায়, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে একসঙ্গে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। আর তখন থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। পরে এই মাঠ শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামীম আলম জানান, গত ১৫ জুলাই ঈদগাহ কমিটির জরুরি সভায় ঈদুল আজহার জামাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঈদের নামাজের জন্য লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম হয়। তাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এখানে এবারের ঈদুল আজহার জামাত না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘এবার মসজিদেও ঈদুল আজহার জামাত বড় পরিসরে যাতে না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া ছিল। শহরের বিভিন্ন মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নিজেদের বহুতল আবাসিক ভবনের ছাদে যেন নির্দিষ্ট ভবনের সবাই মিলে জামাত করেন সে বিষয়েও আমরা উদ্বুদ্ধ করেছিলাম।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে

দেশের পেট্রল পাম্পগুলো ইউরোপ-আমেরিকার আদলে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে দেড় থেকে সোয়া দুই একর। সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা দুই হাজার ৯০৬ বর্গফুট। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। টয়লেট জোন হবে এক হাজার ১৫৫ বর্গফুটের।

মহাসড়কের পাশে পেট্রল পাম্পে উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। এসব পাম্পে থাকবে রেস্টুরেন্ট, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, টয়লেট, চালকদের গোসলের ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার।

আরও থাকবে শিশুদের খেলার স্থান, বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর আলাদা স্থাপনা। থাকবে শপিং ও গিফট কর্নারও।

একই স্টেশনে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি থাকবে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও, থাকবে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের সুযোগ। ব্যাটারি পরিবর্তন, পাম্পিংসহ গাড়ির টুকিটাকি কাজও সেরে নেয়া যাবে এসব পাম্পে।

সরকার এগুলোকে বলছে ‘হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন’। এর একেকটির আয়তন হবে আড়াই একর।

এসব উদ্যোগ পাম্প মালিকের খরচ প্রাথমিকভাবে বাড়ালেও তার আয় বাড়বে বহুগুণ। কারণ, প্রতিটি সেবার বিপরীতে তারা টাকা নিতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, একেকটি পাম্প স্থাপনে খরচ হবে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এই পরিকল্পনা, যা বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেয়া হবে।

প্রথমে তিনটি থেকে ছয়টি পাম্প স্থাপন করবে সরকারি তিনটি তেল বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল। পরে বেসরকারি খাতে করা হবে আরও।

সরকার বলছে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত পেট্রোল পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে ভেজাল তেল বিক্রি, ওজনে কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে পাম্পগুলোর পরিবেশও উন্নত বিশ্ব তো দূরে থাকুক, এশিয়ার মানেরও নয়। তাই সরকার এইসব মাথায় রেখেই একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরকে তাই এ প্রকল্প গ্রহণের বছর হিসেবে নেয়া হয়ছে।

দেশে পেট্রল পাম্প হবে ইউরোপ-আমেরিকার আদলে
প্রস্তাবিত পেট্রল পাম্পগুলোর মডেল

যেমন হবে মডেল পাম্প

প্রস্তাবিত মডেল পাম্পের জন্য জমির প্রয়োজন হবে দেড় থেকে সোয়া দুই একর। এর মধ্যে হাইওয়ে ব্যবহারকারীদের সুযোগ সুবিধার জন্য বরাদ্দ থাকবে ৯৫৩ বর্গ কিলোমিটার বা ১০ হাজার ২৫৮ বর্গফুট জায়গা।

সেখানে থাকবে রেস্টুরেন্ট যার আয়তন হবে ২৭০ বর্গমিটার বা ২ হাজার ৯০৬ বর্গফুট। ৮২ জন এই রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। শিশুদের খেলার স্থান থাকবে ১৫০ বর্গফুটের। বেবি ফিডিং এরিয়া থাকবে ১০০ বর্গফুটের। নামাজের স্থান থাকবে ২৪০ বর্গফুট। রান্নাঘরের আয়তন হবে এক হাজার ৪৮৫ বর্গফুট।

পাম্প মালিকের কেবিন থাকবে ৩০০ বর্গফুটের। প্রক্ষালন (ওয়াশরুম) কক্ষের আয়তন হবে ৬৫ বর্গফুট। এটিএম বুথের জন্য থাকবে ২২৫ বর্গফুট।

টয়লেট জোন হবে ১ হাজার ১৫৫ বর্গফুটের। এর মধ্যে পুরুষ টয়লেট ৫৪৮ বর্গফুট (একসঙ্গে ২০ জনের ব্যবহার যোগ্য), নারীদের টয়লেট হবে ২৭০ বর্গফুটের (একসঙ্গে ৯ জন ব্যবহার যোগ্য)। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে ৬৭ বর্গফুট এলাকা।

পাম্পের কাউন্টার এবং লুব্রিকেন্ট স্টোরেজের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩১২ বর্গফুট জায়গা। আট জনের অফিস কক্ষের জন্য থাকছে ৪১৫ বর্গ ফুট, স্টাফ বিশ্রামের জন্য থাকছে ৪৬২ বর্গফুট।

এই পাম্প ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে মোবাইল ফোন চার্জিং পয়েন্ট। ওয়াটার বডি থাকছে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের। থাকছে মেডিক্যাল ইউনিট।

পাম্প শেডের আয়তন হবে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের। এতে একসঙ্গে ২২টি গাড়ি তেল ও গ্যাস নিতে পারবে। থাকবে রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৫৫ বর্গফুটের খোলা স্থান।

সার্ভিস এরিয়া

সার্ভিস এরিয়ায় থাকবে বাস ও গাড়ি ওয়াশিং জোন। এর মধ্যে টুলস রুম থাকবে ২২৬ বর্গফুটের। সেখানে ব্যাটারি পরিবর্তন-চার্জিং ও টায়ার পাম্পিং সুবিধা থাকবে। থাকবে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও।

ড্রাইভার জোনের আয়তন হবে ২ হাজার ২৫৩ বর্গফুট। সেখানে ৯৪৩ বর্গফুটের রেস্টুরেন্ট, ৪৯০ বর্গফুটের কিচেন, ৩৮০ বর্গফুটের টয়লেট থাকছে। থাকছে চালকদের গোসলের ব্যবস্থা।

ট্যাংক স্টোরেজ ও পার্কিং ক্যাপাসিটি

হাইওয়ে মডেল পাম্পে অকটেন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি থাকবে ১৮ হাজার লিটার। পেট্রোল স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ১৩ হাজার লিটার। দুইটি হাইস্পিড ডিজেল স্টোরেজ ট্যাংকের মোট স্টোরেজ ক্যাপসিটি থাকবে ৬০ হাজার লিটার। অটো গ্যাস (এলপিজি) ক্যাপাসিটি হবে ২০ হাজার লিটার।

এই পাম্পে ১৩ টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ২০টি বাস ও ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। ফুয়েল আনলোডিং ক্যাপাসিটি থাকবে একটি। একই সঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত গাড়ি চার্জের ব্যবস্থাও থাকছে।

কেন এই উদ্যোগ?

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন) ড. মহ. শের আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পেট্রল পাম্প নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটি জরিপ চালিয়েছিলাম। এই জরিপে মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এতে দেখা যায় দেশের প্রচলিত পাম্পগুলোর ৬২ ভাগই তেল বিক্রি করে লাভ করতে তো পারেই না, উল্টো লোকসানে থাকে।

‘তারা ভেজাল তেল বিক্রি করে ও ওজনে কম দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখে বা সামান্য লাভও করে। এতে দেশের পাম্পগুলোর সেচ্ছ্বাচারিতা ও গ্রাহক ভোগান্তির এক করুণ চিত্র ফুটে ওঠে।’

নতুন ধরনের পাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি বন্ধ হবে-এমন নিশ্চয়তা কী, এমন প্রশ্নে যুগ্মসচিব বলেন, ‘এসব পাম্পে ভেজাল বা ওজন কম দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ, তেল বেচে যদি লাভ নাও হয়, তাহলেও অন্যান্য যে সেবা থাকবে, তাতে মালিকের মুনাফা হবে অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের পেট্রল পাম্পগুলোর ফ্রেশ রুমগুলো অত্যন্ত নোংরা। নেই কোনো রিফ্রেসমেন্ট ব্যবস্থাও। এতে নারী, শিশু ও প্রবীণরা ঝামেলায় পড়েন। চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায়, দুর্ঘটনাও ঘটে।

‘এরপরই সরকার প্রতিকারের বিষয়ে চিন্তা করতে থাকে এবং নতুন করে পেট্রল পাম্পের অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর আমরা একটি হাইওয়ে মডেল পাম্পের চিন্তা ও পরিকল্পনা করি। সেই মোতাবেকই একটি ডিজাইনও করা হয়।‘

শের আলী বলেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। মহাসড়কগুলো দুই লেন থেকে চার লেন ও এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিবিআইএন চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করবে। ফলে আমাদের পাম্প গুলোও আন্তুর্জাতিক মানের হওয়া উচিত। আমরা সে ধরনেরই নকশা করেছি।

‘এই পাম্প বাস্তবায়ন হলে এমনিতেই প্রচলিত পাম্প বন্ধ হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নিউজবাংলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন, ভিশন-২০৪১; হাইওয়ে মডেল ফিলিং স্টেশন তারই একটা অংশ।

তিনি জানান, দেশের জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে, কোয়ালিটি সার্ভিস নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য নেয়া হয়েছে বিশ্বমানের নানা কার্যক্রম ও প্রকল্প।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের আদলে পাম্পগুলো বদলে গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও পাম্প ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে গ্রাহকরা একই স্থানে অনেকগুলো সেবা পাবেন। মোট কথা অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, অটো গ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ চার্জিংয়ের মতো পাঁচটি সেবা, সেই সঙ্গে চাকা ও ব্যাটারি পরিবর্তন ও মেরামতের সুযোগ থাকছে।’

মালিকদের আগ্রহ কম যে কারণে

সরকার উচ্ছ্বসিত হলেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত কম। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সারা দেশে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মডেল পেট্রল পাম্প করার প্রথম সমস্যা হচ্ছে এটি করতে প্রায় ১০ বিঘা জমি দরকার, যা ব্যয়বহুল। বিশাল বিনিয়োগ করতে হবে। এটি আমাদের দেশের জন্য উপযোগী নয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক মালিক ঋণ করে পাম্প দেন। সেই ঋণের সুদ দিতেই তাদের গলদঘর্ম হতে হয়। এখন বাড়তি এত কিছুর পেছনে বিনিয়োগ করতে বলাটা অমানবিক বটে।

‘এদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও আমরা ভাবছি। এ রকম সুবিধা থাকলে অনেক লোকই পাম্পে আসবে। পাম্পে নগদ টাকা থাকে। সেটিও বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া এ কাজের জন্য যে জমির কথা বলা হচ্ছে তা হাইওয়ের পাশে পাওয়া আরও কঠিন। জমির দামও বেশি পড়বে। এখন কারোরই এত বড় জমি নেই।’

এই অবস্থার মধ্যে বিপিসি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বলছে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, পদ্মা সেতু এবং মিরেরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নিজস্ব অর্থায়নে এগুলো বাস্তবায়ন করবে।

জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান ওই সভায় বিপিসির এই উদ্যোগে সায় দেন এবং এই বিষয়ে কাজ শুরু করতে গুরুত্ব আরোপ করেন।

জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের ফিলিং স্টেশন নির্মাণের খরচ বেশি। তাই উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম। এই কারণেই এবার বিপিসির অধীন বিপণন সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব জায়গায় মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করবে। এটা দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিপিসির জমি ছাড়াও পূর্বাচলে কয়েকটি স্টেশন নির্মাণের জন্য আমরা জমি চেয়েছি। পেলে সেখানেও নির্মাণ করা হবে।’

চ্যালেঞ্জটা কী?

জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, তারা ৯টি মডেল পেট্রোল পাম্প স্থাপনের বিষয়ে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। এর মধ্যে ৩টি তেল বিপণন কোম্পানির অর্থায়নে ৫টি আর ৬টি ডিলারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হবে।

এর মধ্যে পদ্মা ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে দুটি করে এবং মেঘনা পেট্রলিয়ামের মাধ্যমে একটি মডেল পাম্প নির্মাণে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে।

তবে বিপিসির চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘যতদূর জানি এ নিয়ে কাজ চলছে। আমি নতুন। তাই বেশি কিছু জানি না। তবে এটা এমন কোনও বড় বিষয় নয়।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও, ফার্মগেট দিয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্জন হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে মেট্রোরেল। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংক। আর সেই মুগ্ধতা থেকে সোমবার একটি প্রচ্ছদ গল্প প্রকাশ করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল এই সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

‘একটি লক্ষ্যে রাষ্ট্র: বাংলাদেশের উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা’ শিরোনামের এই গল্পের শুরুটা সাদিয়া আফরিন নামের এক ছাত্রীর স্বপ্ন দিয়ে।

সাদিয়ার স্বপ্ন পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, কার্টুন ও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন। অথচ সাদিয়াদের আগের প্রজন্মের কাছে এমন ভাবনা ছিল কল্পনাতীত।

সাদিয়ার বাবা সৌদি প্রবাসী, মা গৃহিনী।

সাদিয়া বলেন, ‘প্রথম কম্পিউটার দেখার পর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তা চালানো শিখি।’

সেখানেই সাদিয়া প্রথম শেখেন কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্টুন তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জাপান যাব, অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করব।’

সাদিয়ার মতো দেশের নিম্ন আয়ের ৪০ হাজার ছাত্রী বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইএফ) এর আওতায় ৪৫টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

সাদিয়ার কথা শেষ না হতেই গল্পে বাংলাদেশের জন্মের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। পরবর্তী ৫০ বছরে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের অনেক গল্প যুক্ত হয়েছে দেশটির ইতিহাসে।

সেই থেকে রেকর্ড গতিতে দেশের দারিদ্র্য কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। প্রাথমিক শিক্ষা এখন সবার নাগালে। লাখো নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে দারুন অগ্রগতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি এখন অনেক দক্ষ।

বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক কিছু। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে দেশটি। শিল্প ও সেবা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, অবকাঠামোসহ অন্য খাতেও বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন অনেকটাই প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এর ফলে দেশের অর্থনীতি মজবুত একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের এই প্রচ্ছদ গল্পে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে (উন্নত দেশ) পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার জন্য এখন আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা সেই স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করব।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কথা স্বীকার করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক অবশ্যই আমাদের এই উন্নয়ন যাত্রায় একটি ভালো অংশীদার।’

গল্পে বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার কথা বার বার উল্লেখ করা হয়। কোন খাতে কতো ঋণ-সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি সে বিষয়েও বিশদ আলোকপাত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ-সহায়তা দিয়ে আসছে ১৯৭২ সাল থেকে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান মার্শি টেম্বন বলেছেন, ‘যখন আমরা বাংলাদেশে কাজ শুরু করি তখন আইডিএ একটি তরুণ প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। এই সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে গেছি; বাংলাদেশ সফল হয়েছে।’

‘সেই অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য অনেক দেশে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করেছে।’

গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চমৎকার সব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার হয়েছে গল্পে।

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করে এমন কাহিনী বা গল্প এবারই প্রথম প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা।

ক’দিন পরই ১০৮তম জন্মদিন উদযাপন করবেন জাপানি যমজ বোন উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা। তবে তার আগেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বছর বাঁচা যমজ হিসেবে গিনেস বুকে নাম লিখেয়েছেন তারা।

গত ১ সেপ্টেম্বর ১০৭ বছর ৩৩০ দিন বয়সে তারা আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেও সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) তা ঘোষণা করেছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। কাকতালীয়ভাবে এদিনই ছিল জাপানের ‘বয়স্ক দিবস’। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সোমবার এই দিবসটিকে সসম্মানে পালন করে জাপানিরা।

ডেইলি মেইল জানায়, ১৯১৩ সালের ৫ নভেম্বর জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শোদোশিমা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন উমেনো ও কোডামা। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তারা ছিলেন যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ।

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। কারণ সেই বয়সেই কোডামাকে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাইশু দ্বীপে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠায় তার পরিবার। সেখানেই তিনি বড় হন এবং বিয়ে করেন। অন্যদিকে, উমেনো থেকে যান নিজ দ্বীপেই। তিনিও বিয়ে করে নিজের পরিবার গড়েন।

জীবনের শেষ বেলায় এসে ছোটবেলার কঠোর দিনগুলোর কথা তাদের মনে পড়ে। যমজ হওয়ার কারণে প্রায়ই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হতেন তারা। কারণ সেই আমলে জাপানে এ ধরনের জন্মকে ঘিরে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত ছিল।

সমাজের কটু কথা থেকে বাঁচাতেই ছোটবেলায় আলাদা করে দেয়া হয়েছিল দুই বোনকে। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের। জাপানের শিকোকু দ্বীপের কতগুলো বৌদ্ধ মন্দিরে তীর্থযাত্রী হয়ে একই সময়ে গেলেই কেবল তাদের দেখা হতো।

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের
৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের

বিগত বছরগুলোতে একত্র হলেই দুই বোন মজা করে বলতেন, যমজ বোন হিসেবে তারা সবচেয়ে বেশি বছর বেঁচে থাকা কিন নারিতা ও গিন কিনের রেকর্ড ভেঙ্গে দেবেন। উমিয়ো ও কোডামার আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারাই। কিন আর গিনও ছিলেন জাপানি যমজ বোন। ৯০-এর দশকে বেঁচে থাকা অবস্থায় জাপানে তারা বেশ সুপরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত উমেনো ও কোডামার হাসি তামাশাই সত্য হল। তারা সত্যি সত্যিই আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে এখনও দিব্যি বেঁচে আছেন।

সম্প্রতি আলাদা আলাদা দুটি নার্সিং হোম থেকে নিজেদের জন্মসনদ গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

হিসাব তলব সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর নতুন কৌশল: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাকে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অবিলম্বে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সত্য প্রকাশে দেশের বিবেক তথা গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ আহ্বান জানান।

দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সই করা বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে যে দমন-নিপীড়ন চালাচ্ছে তা থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সত্য প্রকাশে নির্ভীক সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপায়ে টুটি চেপে ধরার পর এখন জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’

এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশে চরম হুমকি বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘গোটা দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার খায়েশে বিভোর ভোটারবিহীন সরকার কেবল বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী ও বিরুদ্ধ মতের নাগরিকদের ওপরই জুলম-নির্যাতন চালাচ্ছে না, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদেরও নির্যাতন শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও সরকারি জুলুম-নির্যাতনে জর্জরিত। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কর্তৃত্ববাদী সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে অনৈতিক সরকার নির্ভীক সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের কলম চেপে ধরছে।’

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

১৮৩ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলায় মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (এমইবি) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল আলমসহ ৫ পরিচালককে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার করা মামলায় এ আদেশ দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলা করে ব্যাংকটি।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে এমইবি গ্রুপের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের আবেদন করে।
এমইবির এখন এক ডজন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে। প্রায় সব ঋণ এখন খেলাপি।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে নৌকার পরাজয়

দেবীগঞ্জে নৌকার পরাজয়

রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর আবু।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর আবু।

রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৭ ভোট। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এক হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ। ক্যারাম বোর্ড প্রতীকে লড়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান সোমবার রাত ৮টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১০ হাজার ৯১৪ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮ হাজার ৫৯৮টি।

২০১৪ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও দেবীডুবা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় দেবীগঞ্জ পৌরসভা।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন

পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন, যশোরের নওয়াপাড়ায় নৌকার সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু), ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নৌকার আবু রেজা মো. ফয়েজ, কক্সবাজারের মহেশখালীতে নৌকার মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়ায় নৌকার আলমগীর চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে সোমবার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভায় সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন।

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র হয়েছেন।

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

নিউজবাংলা প্রতিনিধিদের বিস্তারিত খবর-

সোনাগাজীতে জয় পেল নৌকা

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাছের মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ ভোট।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সেলিম পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম জহিরুল হায়াত এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। এই পৌরসভায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯৮৫ জন। ভোট দিয়েছেন ৬ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে ২৫টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সোনাগাজী পৌরসভায় এবারেই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়।

পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আর কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ২৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অভয়নগরে আবারও মেয়র শান্ত

যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ২২ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের এইচ এম মহসীন পেয়েছেন ৭ হাজার ৮২৯ ভোট। লাঙল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর ফারাজী পেয়েছেন ৭৩৫ ভোট।

সোমবার রাত ৯টায় বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান।

২০১৬ সালে নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের সুশান্ত কুমার দাস শান্ত বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। রেল ইঞ্জিন প্রতীকে তিনি ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৭ ভোট।

সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ক্যারাম বোর্ড প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার ১০ হাজার ৯১৪ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৯৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৭৮.৭৭ শতাংশ।

ভাঙ্গায় আবু রেজা আবারও মেয়র

ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন খান জানান, আবু রেজা ১২ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আছাদুজ্জামান আছাদ মিয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল মুন্সি নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৯ ভোট।

কক্সবাজারে দুই পৌর নির্বাচনে নৌকার জয়

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে মকছুদ মিয়া ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মকছুদ মিয়া টানা তৃতীয়বারের মতো মহেশখালী পৌরসভার মেয়র হলেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম ৫ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চকরিয়া পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ২১ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

আলমগীর চৌধুরী দ্বিতীয়বারের মতো চকরিয়া পৌরসভার মেয়র হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুল হক পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৬২ ভোট।

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

আরও পড়ুন:
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা

শেয়ার করুন