বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

বিক্রি না হওয়ায় অধিকাংশ পশু ফেরত আনতে হয়েছে খামারিদের। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, শুধু কুষ্টিয়া জেলাতেই হৃষ্টপুষ্ট করা হয় আড়াই লাখ গরু। এর এক লাখই যায় রাজধানীর হাটে। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি এবার ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এসেছে। জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মহামারির কারণে এবার কোরবানি কম দিয়েছে মানুষ।

বিপ্লব হোসেন, ক্ষুদ্র খামারি। প্রতিবছরই কয়েকটি গরু পালন করেন।

কুষ্টিয়ার কবুরহাট কদমতলায় তার বাস। সেখানে রয়েছে গবাদিপশুর খাবার বিক্রির দোকানও।

বিপ্লব এবার হৃষ্টপুষ্ট করা তিনটি গরু বিক্রির জন্য ১৬ জুলাই ঢাকায় রওনা হন। তার তিনটিসহ আরও তিন জনের মোট ১০টি গরু নিয়ে ট্রাক যখন ঢাকার দিকে তখন খবর পান জায়গা নেই কোনো হাটে।

গরুতে ঠাসা। সিদ্ধান্ত বদলে রওয়ানা হন চট্টগ্রামের দিকে।

সেখানে সাগরিকা হাটে গিয়েও দেখেন গরু রাখার জায়গা নেই। হাটের কাছে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে বাঁধেন তাদের ১০টি গরু। সেখানেই দাম-দর চলতে থাকে।

প্রত্যাশার দামের অর্ধেক ওঠেন ক্রেতারা। এক পর্যায়ে সঙ্গী নুরু হোসেন তার ছয় লাখ টাকার গরু সাড়ে তিন লাখে বেচে দেন। এ ভাবে বেচেছেন অন্যরাও। কিন্তু বিপ্লব বিক্রি করেননি।

তার প্রত্যাশার দেড় লাখের গরুর দাম ওঠে ৮০ হাজার পর্যন্ত। বিপ্লব বলেন, ট্রাক ভাড়া হিসাবে তার ৫০ হাজার টাকা লোকসান হলো। কিন্তু গরু বেচে দিলে লোকসানের পরিমাণ লাখের ওপরে যেত। তারপরও বেচতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কম দামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গরু ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

ঈদের আগের দিন গরু নিয়ে রওনা দেন বাড়ির দিকে। এত লোকসান, স্বপ্নভঙ্গের মধ্যেও মানিকগঞ্জে পুলিশকে ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টায় বাড়িতে পৌঁছেছেন।

নিউজবাংলাকে বিপ্লব বলেন, ‌‘আশা ছিল ঠিকমতো গরু বেচে আসতে পারলে ঈদের আগের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে হাঁস জবাই করে পিকনিক করব। কিন্তু গরু বিক্রি হয়নি, ফেরাও হয়নি ঈদের আগে।‘

বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান
করোনার কারণে কোরবানি হয়েছে কম, লোকসান কমাতে পশু নিয়ে ফিরতে দেখা যায় বিক্রেতাদের

তার মতো অর্ধেকের বেশি গরু ফিরিয়ে আনতে হয়েছে কুষ্টিয়া এলাকার খামারি ও ব্যবসায়ীরা। যেভাবে ট্রাকে করে নিয়ে গিয়েছিল সেভাবেই আবার ফিরিয়ে আনা হলো গরু। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল এই এলাকার খামারিরা।

বিক্রি না হওয়ায় ঈদের দিন সকাল থেকেই ফিরতে থাকে গরুর ট্রাক। পাটুরিয়া ঘাটের কাছে জট লাগায় সারা দিনেও আসতে পারেনি সব ট্রাক।

খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, তিন ভাগের একভাগ গরুও বেচতে পারেননি তারা। ক্রেতারা দাম কম বলায় পরিবহন খরচের লোকসান মাথায় করেও গরু ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। সারা দিন বৃষ্টি হওয়ায় ট্রাকের ওপরই ভিজেছেন তারা।

ঈদের আগের রাতে ঢাকা থেকে বাড়ির পথে মানুষের ঢল যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন ট্রাকের পর ট্রাক গরুবাহী রাজধানী ছাড়তে দেখা যায়। ঈদের দিনও অব্যাহত ছিল এই যাত্রা।

ঈদের দুই দিন আগেও রাজধানীতে গরুর দাম ছিল চড়া। তবে আগের দিন পড়ে যায় দাম। এতটাই পড়ে যে লাভের আশা বাদ দিয়ে লোকসান কমানোর চিন্তা করতে হয় ব্যাপারি ও খামারিদের।

এবার হাটে চাহিদার চেয়ে গরু এসেছে বেশ। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া শাটডাউন ঈদকে ঘিরে আট দিনের জন্য শিথিল করার ঘোষণা আসার পর এত মানুষ রাজধানী ছেড়ে যাবে, সেই ধারণা ছিল না।

বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান


এবার মানুষ ঢাকায় থাকবে বেশি, এই হিসাব করে বেশি করে গরু এনেছিলেন ব্যাপারিরা। কিন্তু সেই হিসাব ফলেনি। এর পাশাপাশি করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা, চাকরি হারানো, কারও কারও বেতন কমে যাওয়া, বোনাস না হওয়ার কারণে মানুষের হাতে টাকাও ছিল কম। অনেকেই কোরবানি দেননি, যারা একা কোরবানি দিতেন, তাদের কেউ কেউ আবার ভাগে দিয়েছেন। এ কারণেও গরুর চাহিদা কম থাকতে পারে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসেবে, শুধু কুষ্টিয়া জেলাতেই হৃষ্টপুষ্ট করা হয় আড়াই লাখ গরু। এর এক লাখই যায় রাজধানীর হাটে। এর অর্ধেকের বেশি এবার ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে ফিরে এসেছে বলে মনে করেন জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘মহামারির কারণে এবার কোরবানি কম দিয়েছে মানুষ।‘

যারা গরু ফিরিয়ে এনেছেন তাদেরকে আরও দুই-তিন মাস খাইয়ে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সিদ্দিকুর বলেন, ‘কোরবানির গরু বেশি দামে কেনার মতো আবেগ এবার মানুষের নেই। সবাই জীবন বাঁচাতেই ব্যস্ত।‘

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসব হামলা হয়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বৈদ্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় লোকজন।

আটক মহানন্দ বৈদ্য কাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলমানের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত বালা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কোরআন শরিফ নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, মন্তব্যকারী যে সম্প্রদায়েরই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের দিঘীরজান গ্রামে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই ভাইবোন হলো সাত বছর বয়সী আয়েশা ও পাঁচ বছর বয়সী স্বাদ।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, মরদেহগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

মেস থেকে আটক শিবিরের দুই নেতা

মেস থেকে আটক শিবিরের দুই নেতা

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই বাসায় ৭ থেকে ১০ জন শিবিরকর্মী মেস বানিয়ে থাকত। শুক্রবার অভিযানে দুজনকে আটক করা সম্ভব হলে প্রায় ১৫ জন পালিয়ে যান। তারা জিহাদি বই বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

লিফলেট ও ‘জিহাদি’ বইসহ মৌলভীবাজার শহরের একটি মাদ্রাসার শিবির সভাপতি ও সম্পাদককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। শুক্রবার মৌলভীবাজারের পূর্ব সুলতানপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক দুজন হলেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার শিবির সভাপতি সাব্বির হোসেন তানভির ও সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন মো. বখতিয়ার। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও লিফলেট জব্দ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই বাসায় ৭ থেকে ১০ জন শিবিরকর্মী মেস বানিয়ে থাকত। শুক্রবার অভিযানে দুজনকে আটক করা সম্ভব হলে প্রায় ১৫ জন পালিয়ে যান। তারা জিহাদি বই বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

তাদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬(২)(ই)(ঈ)/৮/৯/১০/১২ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নাটোরের নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজ্জাক উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি মুদি দোকানদার ছিলেন।

রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সালমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে রাজ্জাকের বিরোধ চলে আসছিল। সালমা প্রায়ই রাজ্জাককে মারধর করতেন। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে রাজ্জাক ঘুমিয়ে পড়লে সালমা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন।

ওসি জানান, শনিবার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার এবং সালমাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হামেদ আলী বাদী হয়ে সালমাকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

বড়লেখার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। একটি কুচক্রী মহল সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে তারা কোনো অবস্থাতেই সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বড়লেখা পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অজিম উদ্দিন সরদার, নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম হেলাল উদ্দিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘২০ কেজি পাইছি, ১৫ কেজি বেইচ্চালছি’
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস, ফেরত যাচ্ছে ট্রাক ভর্তি গরু
অতিকায় সেসব গরু এখন গলার কাঁটা
কোরবানির জন্য ২৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আড়াই হাজার পশু
কোরবানির মৌসুমে মাদ্রাসা বন্ধ নিয়ে চিন্তার ভাঁজ

শেয়ার করুন