উপহারের চাল বেচে দেয়ার চেষ্টা ভন্ডুল

উপহারের চাল বেচে দেয়ার চেষ্টা ভন্ডুল

‘চাল বিতরণ শেষ ঘোষণার পরও গুদামে চাল মজুত দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। জেলা শহর থেকে এক চাল ব্যবসায়ীকে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। শেষে সেখানে অবস্থানরত লোকজনের দাবির মুখে ওই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান।’

করোনায় কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। পাচারের জন্য মজুত করা ১ হাজার ৭৫০ কেজি চাল দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্যও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদে ঘটনাটি ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ শুরু হয় রোববার থেকে। মঙ্গলবার দুপুরে চাল বিতরণ শেষ বলে ঘোষণা দেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। এ ঘোষণার পরও পরিষদের গুদামে চাল মজুত দেখতে পান এলাকাবাসী।

ওই চাল জেলা সদর থেকে ব্যবসায়ী ডেকে এনে বিক্রির জন্য দরদাম শুরু করলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন গুদাম ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নিলে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে দুস্থ ব্যক্তিদের তালিকা করে এলাকাবাসীর উপস্থিতে ওই চাল বিতরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান।

বাবলী নামে এক নারী বলেন, ‘পরিষদোৎ চাউল দিলেক মেম্বর-চেয়ারম্যান, হামেরা পাইনো। ওমরা কইল চাউল দেওয়া শ্যাষ, এরপরোতও দেখেছি মেল্যা চাউলের বস্তা। পাইকারের সঙ্গে দরদাম শুরু করিল চাউল বেচেবার জন্য। সেইলা জানির পারি এলাকার মাইনষিল্যা আসি ঘিরি ধরিনো। শ্যাষোৎ বেচের না পারিয়া নয়া করি গরিব মাইনষির লিস্টি করি বিতরণ করি দিলেক।’

একই কথা বলেন ওই গ্রামের মর্জিনা বেগম, রোকেয়া বেগম, আফিয়া বেগমসহ অনেকে। এরা দরিদ্র পরিবারের হলেও ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানের চাল বিতরণের তালিকায় ছিল না তাদের নাম। অবশেষে তারা সবাই পান ১০ কেজি করে।

সোনারায় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল বিতরণ শেষ ঘোষণা হওয়ার পরও গুদামে চাল মজুত দেখে সন্দেহ হয় এলাকার মানুষের। জেলা শহর থেকে এক চাল ব্যবসায়ী ইউনিয়ন পরিষদে আসতে দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। শেষে সেখানে অবস্থানরত লোকজনের দাবির মুখে ওই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান।’

বিকালে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় বাইরে লোকজনের সমাগম। পরিষদের গুদামে রক্ষিত ৫০ কেজি ওজনের ৩৫ বস্তা চাল।

বিতরণ শেষ হওয়ার পর চাল কেন গুদামে- এমন প্রশ্নে জবাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম বুলু বলেন, ‘এর সঠিক জবাব চেয়ারম্যান দিতে পারবেন। আমি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না।’

তবে হাতেনাতে ধরা খাওয়ার পরও চাল বিক্রির চেষ্টা এবং চাপের মুখে তা বিতরণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘আমার পাঁচটি ওয়াডের কার্ডধারীরা চাল নিতে আসেননি। তাই ১৭৫ জন লোকের চাল বেচে যায়। তারা না আসায় নতুন করে তালিকা করে বিতরণ করা হচ্ছে।’

তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা কেন চাল নিতে এলেন না- এই প্রশ্নে সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি এই জনপ্রতিনিধির কাছে।

ওই বিতরণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার ছিলেন, উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানী। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

তার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে উপস্থিত পঞ্চপুকুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্যার বিকেলে আমাকে দায়িত্ব দিয়ে ছুটিতে গেছেন। উদ্বৃত্ত ১ হাজার ৭৫০ কেজি চাল বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ করতে মানা করেছেন। আমি সে কারণে এখানে আছি। কেন চাল অতিরিক্ত হলো তা স্যারই বলতে পারবেন।’

উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি গতকাল (সোমবার) ওই ৩৫ বস্তা চাল গুদামে রেখে এসেছি। সঠিক মানুষের কাছে চাল বিতরণ যাতে হয় তা দেখভালের জন্য আমার বিশ্বস্ত এক শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
ভিজিএফের চাল: কম দেয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যানের ‘মারধর’
৫০ বছরে চাল উৎপাদন চার গুণ: কৃষিমন্ত্রী
চাল আমদানির হিড়িক কেন
বশেমুরকৃবির পরিচালক হলেন অধ্যাপক কায়েস
ঢাকা ছাড়তে মরিয়া রিকশাচালকরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য