র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত ২

র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত ২

র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। 

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য।

উপজেলার ৫ নম্বর যশরা ইউনিয়নের বারইল গ্রামে সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত।

তিনি বলেন, ভোররাতে সংঘবদ্ধ কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় র‌্যাবের টহল দল গাড়ি থামিয়ে এগিয়ে যায়। তাদের দেখে ওই ব্যক্তিরা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। র‍্যাব ধাওয়া দিলে তারা গুলি করতে থাকে। আত্মরক্ষায় র‍্যাব পাল্টা গুলি চালালে ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা পালিয়ে যায়।

তালাত বলেন, গোলাগুলি থামলে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে পাওয়া যায়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কী ধরনের অস্ত্র ও কী পরিমান ইয়াবা ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় ৭ মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত

করোনায় ৭ মাসে সর্বনিম্ন শনাক্ত

দেশে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। ফাইল ছবি

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার এক দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। যা গত সাত মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৫ মে এর চেয়ে কম রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৫২ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার এক দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৪৮২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ষাটোর্ধ্ব ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই চট্টগ্রাম ও সিলেটে মৃত্যু হয়েছে একজন করে।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

শুরু হচ্ছে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা

ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে এ ইউনিটে আবেদন করেছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী। ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হবে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে রোববার। এ ইউনিটে ভর্তি হতে আবেদন করেছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘রোববার এ ইউনিটের পরীক্ষা হবে। বি ইউনিট ২৪ অক্টোবর, আর সি ইউনিটের পরীক্ষা হবে ১ নভেম্বর।

‘দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা হবে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত।

কোন ইউনিটে আবেদন কত
দেশের ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা
দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষার মানবণ্টন
গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

সকল ইউনিটে ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে নম্বর। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

বিভাগ পরিবর্তন যেভাবে
বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবেন।
এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একদিন রাতে হঠাৎ আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। জানতে চাইলেন আব্বাস কি করছেন? আমি বললাম ম্যাডাম ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আমাকে বললেন ঘুমালে তো চলবে না। আপনি কিছু শোনেননি? আমি বললাম না ম্যাডাম। তিনি বললেন ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে। আপনি যান আপনার এলাকার মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তিনি তখন খুব সুন্দরভাবে আমাদের দেশের মুসলমানদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

‘তাই এটা প্রমাণিত বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের একটি অসাম্প্রদায়িক দল ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত উচ্চ মানসিকতার একজন নেত্রী।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই এই সমস্ত নোংরামি ছাড়েন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বহু পন্থা অবলম্বন করেছেন। খুন করেছেন, গুম করেছেন। আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলখানা ভরে ফেলেছেন। কোর্টে গেলে আমাদের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘দেশে কোনো বিচার ব্যবস্থা নাই। আছে শুধু পুলিশ, আছে শুধু কোর্ট। আর এগুলো দিয়েই সরকার টিকে আছে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আজকে যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন তাদেরকে চিনতে গেলে সার্চলাইট দিয়ে খুঁজতে হয় এরা কারা। তাদের নাম কি? বাপের পরিচয় কি? সাহস থাকলে আসেন আমাদের সঙ্গে একটু হাঁটুন। আমরা আপনাদের পাহাড়া দিব। সেই সাহস আপনাদের হবে না। আপনারা শুধু কাচের ঘরে বন্দি হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলবেন আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করবেন।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের সময় বাংলাদেশে ৫০ হাজার পুলিশ ছিল। এখন বাংলাদেশে ৫ লাখ পুলিশ। এই যে বিশাল পুলিশবাহিনী কাকে পেটানোর জন্য? যদি ডাকাত ধরা না যায়, ব্যাংক লুটেরাদের ধরা না যায়, যদি চোর ধরা না যায়, যদি খুনি ধরা না যায়, যদি পূজামণ্ডপ ভাঙার লোক ধরা না যায় তাহলে এ পুলিশের কাজ কি? বিএনপিকে ঠেকানো? এটা বোধহয় বেশিদিন আর চলবেনা। কারণ সমস্ত কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কিন্তু একটা আছে। নিজ থেকেই আপনা-আপনি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে গাড়ি থেকে নামার সময় দেখলাম অনেক পুলিশ। আরে ভাই কেন? এটা কি জঙ্গি অফিস? এটাতো বিএনপি কার্যালয়। স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিল হবে। এখানেও আপনারা আমাদেরকে বসতে দিবেন না।’

ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘এটা ঠিক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এই সরকার সেটা তো দিবে না। তিলে তিলে তাকে মেরে ফেলা সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই মাত্র ২ লাখ টাকার একটি মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দেশবাসী জানে ট্রাস্টের টাকা ট্রাস্টেই আছে। সেই দুই কোটি টাকা ব্যাংকে এখন ৮ কোটি টাকা হয়ে গেছে। সেই টাকার তিনি নিজেও খাননি ও বিদেশেও পাচার করেননি।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আপনাদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়ছে। আপনার এক মন্ত্রী বলছেন চার হাজার কোটি টাকা নাকি কোনো বিষয় না। আর সে জায়গায় মাত্র ২ কোটি টাকার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল খাটবেন এটা কোনো কথা হতে পারে না। আসল কথা হলো উনাকে আটকে রাখা, উনাকে তিলে তিলে হত্যা করা। এটাই হচ্ছে এই সরকারের পরিকল্পনা।’

মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবেক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

সম্প্রতি ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুসা বিন শমসের। ছবি: নিউজবাংলা

দুদকের কাছে মুসা যেসব সম্পদের তালিকা দিয়েছিলেন, তার কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেবল ফরিদপুরে তার বাবার করা বাড়িতে তার অংশ পাওয়া গেছে। তিনি বনানী ও গুলশানের যে বাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন, তার একটি ভাড়া করা, আরেকটি স্ত্রীর। সুইস ব্যাংকে কথিত অর্থের খোঁজ করার চেষ্টা করে এমন কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফরিদপুরে পৈতৃক ভিটা ছাড়া আলোচিত চরিত্র মুসা বিন শমসেরের কোনো সম্পদের খোঁজ পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন। ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা ও হয়রানির’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত শেষ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুদকের এই অনুসন্ধান আর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদের বক্তব্য একই ধরনের।

যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাদের মাঝির সঙ্গে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে গত ১২ অক্টোবর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবির যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি সেদিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি (মুসা) অন্তঃসারশূন্য। একটা ভুয়া লোক মনে হয়েছে। ওনার কিচ্ছু নাই। তার একটা বাড়ি রয়েছে গুলশানে। সেটাও স্ত্রীর নামে। বাংলাদেশে তার নামে আর কিছু পাই নাই। তবে উনি মুখরোচক গল্প বলেন।’

মুসা বিন শমসের গত কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশে আলোচিত চরিত্র। বাংলাদেশে কারও সম্পদ নিয়ে প্রচার করার প্রবণতা না থাকলেও ব্যতিক্রম মুসা। তিনি বরাবর তার বিপুল পরিমাণ টাকার গল্প বলে বেড়ান।

তার দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী, সুইস ব্যাংকে তার বিপুল পরিমাণ টাকা আছে। দেশেও বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার একরের বেশি জমি আছে।

ডিবিতে গিয়েও দাবি করেন, সুইস ব্যাংকে তার ৮২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আনতে পারলে তিনি পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা। দুদককে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং করে দেবেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন।

তবে দুদক যখন তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে, তখন তিনি দাবির পক্ষে কোনো নথিপত্র দিতে পারেননি।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘মুসা বিন শমসের অসৎ উদ্দেশ্যে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি এবং সুইস ব্যাংকের ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের) থাকার কথা বলেছেন। সেই সম্পদ অর্জনের উৎসের সমর্থনে কোনো রেকর্ডপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হন তিনি।’

অর্থাৎ দুদক ডিবির কাছে সম্পদের পরিমাণ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য দিয়েছেন মুসা। দুদকের জমা দেয়া হিসাবের তুলনায় সুইস ব্যাংকে প্রায় সাত গুণ টাকা থাকার দাবি করেছেন ডিবির কাছে।

সুইস ব্যাংকে আদৌ কোনো টাকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন বড় হয়েছে।

দুদকের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডে ৮৮টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ব্যাংকে তার টাকা জমা আছে, তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। দুদক টিম তদন্তের স্বার্থে বারবার চিঠি দিচ্ছে। চিঠির জবাব পাওয়া গেলেও টাকা জমা বা জব্দ থাকার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তবে গাজীপুর ও সাভারের জমির তথ্য অসত্য, এ বিষয়ে নিশ্চিত তিনি। বলেন, ‘ঢাকা ও গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ডপত্র তল্লাশি করেও মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর কোনো প্রকার জমি ক্রয়-বিক্রয় করার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

পৈতৃক ভিটা ফরিদপুরে

মুসার নামে একমাত্র যে স্থাপনাটি দুদক পেয়েছে, সেটি ফরিদপুরে। তবে সেই সম্পদ তিনি নিজে করেননি। ব্রিটিশ আমলে কৃষি দপ্তরে কাজ করা বাবা শমসের আলী মোল্লা যে বাড়ি করেছিলেন, সেখানে ভাগ আছে মুসার।

ফরিদপুরে মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর। চার ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

মুসার কথিত সম্পদের হিসাব খুঁজে বের করতে দুদকের পাশাপাশি কাজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউও)। দুটি সংস্থাই জানায়, তারা দেশে মুসার কোনো ব্যাংক হিসাবই খুঁজে পায়নি।

বিএফআইইউএর প্রতিবেদনে বলা হয়, মেসার্স ডেটকো লিমিটেড নামে জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের। এর অংশীদারত্বে আরও কয়েকজন রয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ঢাকায় দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছেও চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠির উত্তরে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সেখানে মুসার নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই।

দুদক জানায়, ইউটিউবে গুলশান প্যালেস নামে ঢাকার যে বাড়িটি দেখান, তার মালিক আসলে মুসার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরী।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময়ে জনশক্তি রপ্তানিতে আলোচনায় থাকলেও এখন ডেটকো নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হয়েছে।

বনানীতে যে বাড়িতে এই প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে, সেটিও ভাড়া করা।

যেভাবে আলোচনায় মুসা

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনি প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে দেশে প্রথম আলোচনায় আসেন মুসা বিন শমসের। তিনি জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা করলেও সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরে।

২০১০ সালে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মুসার ৭ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেছে বলে আরেক দফায় ঝড় তোলে পশ্চিমা গণমাধ্যম। অনিয়মিত লেনদেনের কারণে তার অর্থ জব্দ করা হয় বলে সে সময় গণমাধ্যমে দাবি করেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডে একটি দুর্গ কিনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর বানানোর প্রস্তাব দিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন মুসা।

তিনি প্রচার করে বেড়ান, সাউথ আফ্রিকার বিশ্বনন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন মুসা বিন শমসেরকে।

এর পরই ২০১১ সালের এপ্রিলে একবার তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক, কিন্তু সেই অনুসন্ধান-প্রক্রিয়া বেশি দূর আগায়নি।

২০১৪ সালে বিজনেস এশিয়া ম্যাগাজিন মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীর ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে সুইস ব্যাংকে।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলীকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

মুসা বিন শমসেরের সম্পদ ‘কেবল পৈতৃক ভিটা’

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে ‘দেহরক্ষী নাটক’

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক দফা গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মুসাকে।

২০১৫ সালের ১৯ মে তাকে আবার সম্পদ বিবরণী জমা দিতে নোটিশ দেয় দুদক। ৭ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী জমা দেন তিনি।

এরপর ১৮ ডিসেম্বর মুসা বিন শমসের আলোচনায় আসেন দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে। চার নারী নিরাপত্তাকর্মীসহ ৪০ জনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে সেদিন তিনি দুদকের ফটকে গাড়ি থেকে নামেন।

সে মুহূর্তে তার ডান হাতে শুভ্র আলোর দ্যুতি, হীরকখচিত বিশ্বখ্যাত রোলেক্স ব্র্যান্ডের অতি দামি ঘড়ি। হিরা বসানো চশমা, কলম ও জুতা পরা ছিল।

তবে পরে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, এরা কেউ তার দেহরক্ষী ছিল না। তার জনশক্তি রপ্তানির কোম্পানির সাধারণ কর্মী তারা।

২০১৬ জানুয়ারি আবার তাকে দুদকে তলব করা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি তাকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১৭ সালের ৭ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মুসার বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির তিনটি অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

‘স্বাধীনতাবিরোধী পরিচয়’ও সামনে

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক এম এ হাসানের ‘পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী’ বইয়ে ১৯৭১ সালে সে সময়ের তরুণ মুসা বিন শমসেরকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ওই গ্রন্থের তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা ছিলেন পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের ঘনিষ্ঠজন আর মুক্তিকামী বাঙালির আতঙ্ক।

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একাত্তরের ২৫ মার্চ আমি বঙ্গবন্ধুর বাসায় ছিলাম। পরদিন তিনি আমাদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমি নদী পার হয়ে হেঁটে ফরিদপুর যাই। ২২ এপ্রিল পাকিস্তানি আর্মির হাতে ধরা পড়ি। আমি তাদের হাতে বন্দি ছিলাম। একাত্তর সালের ৯ ডিসেম্বর অর্ধমৃত অবস্থায় মুক্তি পাই।’

দুদকে জমা দেয়া সম্পদের হিসাব

২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। তার জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় সাড়ে সাত শ কোটি টাকা) অলংকার জমা থাকার দাবি করেছেন মুসা।

সে সময় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুইস ব্যাংকে জব্দ অর্থ অবমুক্ত হলে এসব অর্থ পদ্মা সেতু নির্মাণসহ মানবকল্যাণে ব্যয় করবেন তিনি।

সেদিন দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে তার কোনো অর্থই সুইস ব্যাংকে জমা হয়নি। ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন, যা সুইস ব্যাংকে তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

দুদকে জমা দেয়া হিসাব বিবরণীতে মুসা দুদককে জানান, ঢাকার সাভার ও গাজীপুরে তার ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি আছে। দেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান ও বনানীতে বাড়ির তথ্য দেন।

পরে দুদকের প্রতিবেদনে সবকিছু ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ধনকুবের’ মুসার জালিয়াতি গাড়ি নিবন্ধনেও

যুক্তরাজ্য থেকে আনা একটি গাড়ি জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিক্রির অপরাধে মুসা বিন শমসেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সংস্থাটির পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর করা মামলায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়।

এতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনসারী, ফারিদ নাবীর, মুসা বিন শমসের, তার শ্যালক ফারুক উজ জামান ও মেসার্স অটো ডিফাইনের মালিক ওয়াহিদুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারের সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ২২ শতাংশ কমেছে লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর। এর বাইরে তিনটি ব্যাংকের দর ১০ শতাংশের কম কমেছে। ৮টি ব্যাংকের দর কমেছে ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ১২টি ব্যাংকের দর কমেছে ১ থেকে ৫ শতাংশের কম। অর্থাৎ একদিন সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়লেই একটি ছাড়া বাকিগুলো হারিয়ে ফেলা দর ফিরে পাবে। আর সাতটি ব্যাংকের দর বেড়েছে। একটি ব্যাংকের দর পাল্টায়নি।

পুঁজিবাজারে এক বছরের বেশি সময় ধরে উত্থানে ব্যাংক খাতে দর বেড়েছে সামান্যই। এ নিয়ে হতাশার মধ্যে এবার একমাস ধরে টানা দর সংশোধনে এই খাতের শেয়ারধারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে আছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানি ছাড়া সিংহভাগ কোম্পানির দরপতন হচ্ছে। এর বাইরে নয় ব্যাংক খাতও। তবে এই খাতে দরপতনের হার তুলনামূলক কম। যেকোনো একটি ভালো দিনেই কোম্পানিগুলো যেটুকু দর হারিয়েছে, তার সবটুকু ফিরে পেতে পারে।

ব্যাংক খাতে কেবল লোকসানি একটি কোম্পানির শেয়ারদর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। আগের দুই মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ২২ শতাংশ। এটির দাম আরও বেশি কমেছিল, তবে চলতি সপ্তাহে কিছুটা দর ফিরে পেয়েছে।

বাকি ৩১টি কোম্পানির মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি কমেছে তিনটি কোম্পানির দর। একটির দর মাস শেষে অপরিবর্তিত আছে একটির, সাতটির দর বেড়েছে। চারটির দর কমেছে এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে। আটটি কোম্পানির শেয়ার দর কমার হার তিন থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে। ৮টি কোম্পানির শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

এই সময়ে মুনাফায় থাকা ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারানো ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৯.৮৪ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে আরেকটি ব্যাংকের ৯.৪০ শতাংশ, আর তৃতীয় সর্বোচ্চ কমেছে ৯.২৫ শতাংশ।

আরও একটি ব্যাংকের শেয়ারদর আপাতদৃষ্টিতে সাড়ে ৯ শতাংশ কমলেও সেটি ৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এবং সেই লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বিমা, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, প্রকৌশল এবং বস্ত্র খাতে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ এমনকি এর চেয়ে বেশি হারে দর সংশোধন হয়েছে বহু কোম্পানির।

বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে গত এক মাসে দর বেড়েছে কেবল দুটির, প্রকৌশল খাতের ৪২ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে আটটির, বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির। কমেছে বাকিগুলোর।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে বিনিয়োগাকারীরা ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। আসলে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে এক সময় ভালো মুনাফা করলেও এখন দর সংশোধনের সময় দেখা গেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি লোকসানে আছে। এ থেকে অভিজ্ঞতা বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয়।

ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি কমেছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যে ব্যাংক খাতের একমাত্র লোকসানি কোম্পানিটি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি।

গত বছরের জুলাইয়ের শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। সেটি এবার বেড়ে হয় সর্বোচ্চ ৭ টাকা ৮০ পয়সা।

গত ২৯ জুলাইও শেয়ার দর ছিল ৪ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে ২ সেপ্টেম্বর দাম দাঁড়ায় ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

অথচ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কখনও মুনাফার মুখ না দেখে কোম্পানিটি চলতি বছরও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি, এমনকি লোকসান কমাতেও পারেনি। তার পরেও শেয়ার দর কেন এভাবে বাড়ছে, এমন প্রশ্নের মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরু হতে না হতেই লাফিয়ে লাফিয়ে কমতে থাকে।

গত ১০ অক্টোবর সেই ২৭ জুলাইয়ের দাম ৪ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে আসে দাম। তবে এরপর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চার কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিন বেড়ে হয় ৫ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দর। এক মাসে ব্যাংকটির শেয়ার দর হারিয়েছে ৯.৮৪ শতাংশ। ১ টাকা ৩০ পয়সা কমে শেয়ার দর ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে ব্র্যাক ব্যাংকের, যেটির দাম সর্বোচ্চ পরিমাণে কমা কিছুটা অবাক করার মতোই ঘটনা। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে এই ব্যাংকটির আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

গত এক মাসে এই ব্যাংকটি দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৮০ পয়সা শেয়ার দর ৫০টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ৮০ পয়সায়। শতকরা হিসেবে দর কমেছে ৯.৪৮ শতাংশ।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর কমেছে চাপে থাকা এবি ব্যাংক। তবে এটির দর প্রায় সময়ই উঠা নামার মধ্যে থাকে।

৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। সেটি কমে এখন দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯.২ শতাংশ।

নতুন তালিকাভুক্ত সাউথবাংলার শেয়ার আপাতদৃষ্টিতে ৯.৪৭ শতাংশ দর হারিয়েছে দেখা গেলেও এর মধ্যে ২০২০ সালে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ সমন্বয় হয়েছে। এই বছরে ৪ শতাংশ বোনাস ও ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে। এমনিতে নগদ লভ্যাংশ সমন্বয়ের কথা না থাকলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পুঁজিবাজারে এই প্রবণতা আছে। এই দুটি বিষয় হিসাব করলে ৪ শতাংশের মতো কমেছে ব্যাংকটির শেয়ার দর।

সংশোধনের ঝাপটা কম ব্যাংক খাতে
পুঁজিবাজারে টানা দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: ফাইল ছবি

৫ থেকে ৭ শতাংশ দর হারিয়েছে যেসব ব্যাংক

এই সময়ে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৭.০৯ শতাংশ। শেয়ারদর ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ১০ পয়সায়।

ন্যাশনাল ব্যাংকের কম কমেছে ৬.৭৪ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ টানা বেড়ে যাওয়া ডাচ বাংলা ব্যাংক তিন মাস ধরেই সংশোধনে আছে।

৯৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমতে কমতে শেয়ার দর এখন দাঁড়িয়েছে ৭৯ টাকা ৯০ পয়সায়। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৬.৩৩ শতাংশ।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। এই সময়ে শেয়ার দর ২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সায়।

রূপালী ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৬.০২ শতাংশ। এই সময়ে দাম ৩৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫.৯৫ শতাংশ। ১ টাকা ৪০ পয়সা কমে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ২২ টাকা ১০ পয়সায়।

ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর এই সময়ে কমেছে ৫.৮৪ শতাংশ। ২ টাকা ১০ পয়া কমে ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৮০ পয়সায়।

৫ শতাংশের কম কমেছে যেগুলোর দর

৪.৮০ শতাংশ কমেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দর। ১০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

৪.৭৮ শতাংশ কমেছে মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ১ টাকা কমে ২০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ২০ পয়সায়।

৪.৪০ শতাংশ কমেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

৪.২১ শতাংশ কমেছে সাউথইস্ট ব্যাংকের শেয়ারদর। ৭০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারদর কমেছে ৪.০৫ শতাংশ। ৬০ পয়সা কমে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সায়।

৩.৩৩ শতাংশ কমেছে এসআইবিএলের দর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

৪.৪৭ শতাংশ কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারদর। ৬০ পয়সা কমে ১৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়।

২.৯৭ শতাংশ কমেছে ইউসিবির শেয়ারদর। ৫০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৩০ পয়সায়।

২.৬৬ শতাংশ কমেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ১৫ টাকা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়।

১.৮৬ শতাংশ কমেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারদর। ৩০ পয়সা কমে ১৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

১.৩৬ শতাংশ কমেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর। ৪০ পয়সা কমে ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

যেগুলোর দর বেড়েছে

বাজার সংশোধনের একমাসে কমে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বেড়েছে এনআরবিসির দর। সংশোধন শুরু হওয়ার আগের দিন শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা। সেখান থেকে দর এক পর্যায়ে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায় নেমে এসেছিল। কিন্তু গত ৬ কর্মদিবসের মধ্যে ৫ দিন বেড়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ বাজার সংশোধনের মধ্যে ব্যাংকটির দর বেড়েছে ১২.৮৫ শতাংশ বা ৩ টাকা ৬০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬.৫৮ শতাংশ বেড়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর। এটির দরও কমে গিয়ে পরে বেড়েছে। বাজার সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে এখন দাম ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪.৮০ শতাংশ বেড়েছে যমুনা ব্যাংকের দর। ২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৪ টাকা। তবে দাম একপর্যায়ে আরও বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছিল।

চতুর্থ সর্বোচ্চ ২.৮৬ শতাংশ বেড়েছে উত্তরা ব্যাংকের দর। ২৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সা।

এছাড়া পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর ২ শতাংশ বেড়ে ২৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা, ব্যাংক এশিয়ার দর ০.৯৪ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আল আরফাহ ইসলামী ব্যাংকের দর ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর উঠানামা করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। সংশোধন শুরুর আগেও দাম ছিল ৩০ টাকা। এখনও তাই।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নাটোরের নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজ্জাক উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি মুদি দোকানদার ছিলেন।

রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সালমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে রাজ্জাকের বিরোধ চলে আসছিল। সালমা প্রায়ই রাজ্জাককে মারধর করতেন। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে রাজ্জাক ঘুমিয়ে পড়লে সালমা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন।

ওসি জানান, শনিবার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার এবং সালমাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হামেদ আলী বাদী হয়ে সালমাকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন:
র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত
র‍্যাবের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, হত্যা মামলার আসামি নিহত
পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ১৮ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
‘রোহিঙ্গা ডাকাতের’ গুলিতে স্থানীয় যুবক নিহত
বিজিবির সঙ্গে ‘গোলাগুলি’, নিহত ১ রোহিঙ্গা

শেয়ার করুন