খবর নেয়নি পরিবার, দাফনে ছাত্রলীগ

খবর নেয়নি পরিবার, দাফনে ছাত্রলীগ

স্বামীর মৃত্যুর পর ফাতেমা চলে আসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায়, ভাইদের বাড়িতে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিজ পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিন ভাই দরিদ্র। ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভাইয়েরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করায়। এই দেড় মাসে তাকে হাসপাতালে কেউ দেখতে আসেনি।

হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দেড় মাস। তাকে দেখতে আসেনি, খোঁজও করেনি কেউ। মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পেরোলেও মরদেহ নিতে আসেনি কোনো স্বজন। খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মীরা গিয়ে দাফন করেন।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে শনিবার। সেখানে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে মৃত্যু হয় ফাতেমা বেওয়া নামের এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হাফসা এই তথ্য জানান।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাতেমার স্বামী লালমনিহাটের ছিনাই এলাকার আজাহার আলী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। এরপর তিনি চলে আসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায়, ভাইদের বাড়িতে।

বৃদ্ধার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিজ পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিন ভাই দরিদ্র। ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভাইয়েরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করায়।

চিকিৎসক উম্মে হাফসা জানান, এই দেড় মাসে তাকে হাসপাতালে কেউ দেখতে আসেনি। শনিবার বিকেলে তিনি মারা যান। বাড়িতে খবর পাঠানো হলেও মরদেহ কেউ নিতে আসেনি।

খবর পেয়ে রাত দশটার দিকে উপজেলার ছাত্রলীগের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।

তারাও বৃদ্ধার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ না আসায় রাত ১১টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অন্য সদস্যরা মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেন।

মেহেদী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃদ্ধা দেড় মাস ধরে হাসপাতালে, অথচ কেউ আসেনি দেখতে। মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েরাও আসল না। তাই আমরা দাফনের দায়িত্ব নেই।’

শনিবার মধ্যরাতে হাসপাতালের মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয় ফাতেমাকে।

আরও পড়ুন:
শেষ বিদায়ে ‘মানবিক স্পর্শ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য