জনবল নেই, পড়ে আছে আইসিইউ

জনবল নেই, পড়ে আছে আইসিইউ

উদ্বোধনের পর আর ব্যবহার করা যায়নি জামালপুরের আইসিইউটি। ছবি: নিউজবাংলা

‘যেখানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে করোনা রোগীরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন সেখানে ৬ বছর যাবত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউর শয্যাগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে ৪ শয্যার আইসিইউ। ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মৃত্যুহার, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণেই চালু করা যাচ্ছে না আইসিইউ।

জামালপুর জেলার ২৬ লাখ মানুষসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার মুমূর্ষু হৃদরোগ, স্নায়ু রোগে আক্রান্ত মুমুর্ষ রোগীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ইন্টেনসিভ করোনারি কেয়ার ইউনিট (আইসিসিইউ)।

২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি সেই সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ৪ শয্যার এই আইসিসিইউ বিভাগ উদ্বোধন করেন। স্থাপনের দীর্ঘ ৬ বছরেও ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলাবাসীকে।

আইসিসিইউ চালু না থাকায় বিপাকে পড়েন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও। এসব মুমূর্ষু রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ বা ঢাকায় স্থানান্তর করা হলেও অনেকেরই রাস্তায় মৃত্যু ঘটে। এছাড়া আইসিসিইউ কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জামালপুরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্তদের নিবিড় পরিচর্যা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমাতে দ্রুত সময়ের ইনটেনসিভ করনারি কেয়ার ইউনিটটি (আইসিসিইউ) চালু করা জরুরি।

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘সংকট তীব্র হলেই আমাদের দ্রুত ময়মনসিংহ বা ঢাকা দৌড়াতে হয়। যদি এখানে আইসিইউটা চালু হয় তাহলে আমাদের জামালপুরবাসী দ্রুত এই সেবা পেতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি কমে যেতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাকিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেটাল ইমার্জেন্সি, যেটা হার্টের ডিজিজগুলি সেগুলিতে বিশেষ করে হার্ট ব্লক হয়ে যায়। এগুলিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দরকার হয়। তাহলে রোগীরা খুবই উপকৃত হয়। এতে করে সময়ও বাঁচে, সাধারণ মানুষের খরচও বাঁচে। এছাড়া দ্রুত ব্যবস্থা নিলে রোগীরা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়। তাই আইসিইউটা খুবই প্রয়োজন।’

জামালপুরের নারী নেত্রী শামীমা খান বলেন, ‘যখন কারো হার্টের কোনো প্রবলেম হয় বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয় তখন তাদেরকে ময়মনসিংহ বা ঢাকা পাঠাতে হয়। ময়মনসিংহে পাঠালে বেশিরভাগ রোগীর মৃত্যু হয় রাস্তায়।’

জেলার মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা মহামারিতে জামালপুরে এ পর্যন্ত ৭০জন প্রাণ হারিয়েছে। এর অধিকাংশই শ্বাসকষ্টজনিত। যাদের আইসিইউ খুব প্রয়োজন ছিল। জামালপুরে আইসিইউ থাকার পরেও মানুষ এখানে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। আজ পর্যন্ত আইসিইউর কোনো কার্যক্রম হয়নি। আইসিইউকে কার্যকর করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করার দাবি জানাচ্ছি।’

জামালপুরের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সাযযাদ আনসারী বলেন, ‘যেখানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে করোনা রোগীরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন সেখানে ৬ বছর যাবত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউর শয্যাগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

এ বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস নিউজবাংলাকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আইসিইউ পরিচালনার জন্য ১০ জন দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যে ৪০৯ জন এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দিচ্ছেন। সেই নিয়োগ হয়ে গেলে আশা করা যাচ্ছে, আমরা ৫-৬ জন দক্ষ লোক পাবো। তখন আইসিইউ পরিচালনা করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য