× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
অবশেষে ১৮টি ঘরের বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ
google_news print-icon

ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে

ফিরিয়ে-দেয়া-ঘরে-সমস্যা-নেই-আপত্তি-দূরত্বে
চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প। ছবি: নিউজবাংলা
হবিগঞ্জে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৮ জন উপকারভোগী ঘর ফিরিয়ে দিয়ে আবার গৃহহীন হয়ে যাওয়ার খবরে তোলপাড়। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ফাটল বা অন্য সমস্যা দেখা গেলেও সেখানে এ সমস্যা নেই। উপকারভোগীরা বলছেন, প্রকল্পটির আশপাশে দোকান বা বাজার নেই। এক নারী বলেছেন, তিন দিন ধরে তিনি পান খেতে পারছেন না বলে তার মুখ কেমন কেমন লাগছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিনামূল্যের ঘর ফিরিয়ে আবার গৃহহীন হওয়ার ঘটনার পর প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন করে মানে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়া হয়েছে। তবে নলকূপ স্থাপনে বিলম্ব হয়েছে। যদিও এখন সে কাজ শুরু হয়েছে।

ইকরতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সেখানে ঘর নির্মাণ হয়েছে মোট ৭৪টি। কিন্তু ১৮টি পরিবার সেখানে থাকবে না বলে জানিয়েছে। আর বাকিগুলোও সেখানে আছে এমন নয়।

আটটি ঘর ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানোর পর আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে জানা গেছে, আটজন নন, ঘর ফিরিয়ে দিতে চান মোট ১৮ জন।

এই মানুষগুলোর নিজেদের কোনো ঘর ছিল না। থাকতেন পরের ঘরে, তাও ভাঙাচোরা, কোথাও কোথাও ঝুপড়িঘর।

দুই ধাপে দেশে এক লাখের বেশি ঘর বরাদ্দ দেয়া নিযে উচ্ছ্বাস ছিল মানুষের মধ্যে। তবে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু ঘরে ফাটল, কোথাও কোথাও প্রায় ধসে পড়ার দশা, কোথাও পানি পড়া, কোথাও দরজা-জানলার দুর্বল অবস্থার খবর এসেছে। আর অনিয়মের অভিযোগ খুঁজে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঁচটি দল গঠন করে জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে হবিগঞ্জের এই খবরটি স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় তৈরি করে। তবে সেখানে ঘরে সমস্যা না থাকলেও তাহলে কেন তারা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতে চাইছেন না- এই প্রশ্নটিও এখন বড় হয়েছে।

যারা ঘর ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদের কারও নাম-ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেয়া হয়নি।

তবে যারা সেখানে আছেন, তারা বলছেন দূরত্বের কথা। প্রকল্পটি এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে মূল সড়কে যেতে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। আর এই পথটি হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, যে কাঁচা সড়ক আছে, সেটি দুই হাতের মতো। একটি রিকশা কোনোভাবে হয়তো আসতে পারবে, কিন্তু রাস্তায় তখন আর কাউকে থাকলে চলবে না। তাকে নেমে যেতে হবে।

সবচেয়ে কাছের বাজারটি তিন কিলোমিটার দূরের। আর দেড় কিলোমিটার দূরে একটি হাট আছে, যেটি বসে প্রতি সপ্তাহে একবার।

প্রশাসন বলছে, একটি নিয়মে আবদ্ধ জীবন থেকে অন্য একটি জীবনে গেলে কিছুটা সমস্যা হবেই। আশপাশে লোকালয় যে নেই এমন নয়। তাদেরও একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এই আশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরেও সেই ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। সেখানেই দোকান হবে। কেউ কেউ ব্যবসা করবেন। কেউ কেউ অন্য কাজ করবেন।

কিন্তু একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর ঘর পাওয়া অনেকেই সেই সময়টা অপেক্ষা করতে চাইছেন না।

ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয় প্রথম ধাপে গত ২৩ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৭৪টি পরিবারের মধ্যে সেখানে ৪৯টি ঘরে লোকজন রয়েছেন। বাকি ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে।

‘কয়দিন ধইরা আমি পান খাইতা পারতাছি না’

সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেউই রাজি হননি। একপর্যায়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন কয়েকজন।

এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশা চালাইন। ইখান (এখানে) আওয়ার (আসার) রাস্তা বালা না। তাই অনেক সমস্যা হয়। এ ছাড়া ইখান কোনো কামকাজ নাই। অনেক কষ্ট কইরা আমরার চলন লাগে।’

তিনি বলেন, ‘যারার অন্য জায়গাত থাকার জায়গা আছে তারা ইখান থাইক্কা গেছে গা। আমরার যাওয়নের জায়গা নাই। এর লাগি যাই না। কিতা আর করমু, কষ্ট কইরা থাকি।’

নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘ইখান থাইকা বাজার অনেক দূর। তিন কিলোমিটার দূরে গিয়া বাজার করা লাগে। রাস্তাও বালা না। কয়দিন ধইরা আমি পান খাইতা পারতাছি না। মুখটা কেমন কেমন লাগে। অখন পান আনতে অমরোড বাজার যাওয়ন লাগে। ২০ টেকার পান আনতে ৪০-৫০ টেকা গাড়ি বাড়া লাগব।’

জনপ্রতিনিধিরা যা বলছেন

বৃহস্পতিবার আহম্মদাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু বলেন, ‘তিন কিলোমিটারের আশপাশে কোনো বাজার নেই। কাজ না থাকলে এখানে ঘর পেয়ে কী লাভ? এ কারণে তারা থাকতে চান না।’

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জায়গা সিলেকশনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন একক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই জায়গাটি সিলেকশন করেছে। জায়গা সিলেকশনে ভুলের কারণে এমনটা হয়েছে।

তবে ঘরে কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর। তিনি বলেন, ‘চুনারুঘাট উপজেলায় যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি। কোথাও একটি ঘর নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে দেখাতে পারবেন না। এখন লোকজন না থাকলে আমাদের কী করার আছে?’

তিনি বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘরগুলো নির্মাণ এবং হস্তান্তর করতে হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের শর্ত ছিল শুধু ‘ক’ শ্রেণিভুক্তদের এখানে ঘর দেয়া হবে, যে কারণে ‘ক’ শ্রেণিভুক্তদের দিতে গিয়ে এই সমস্যাটা হয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে ঘর চেয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে যারা আবেদন করেছেন এবং যাদের ঘর-জায়াগা কিছুই নেই, তারা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত।

কী বলছেন ইউএনও

ঘরগুলো নির্মাণে তত্ত্বাবধান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কতটি পরিবার ঘর ছাড়তে আবেদন করেছে সেটা বলা যাবে না। তবে যারা এখনও ঘরে ওঠেননি বা অনিয়মিত এমন ১৮টি পরিবারের বরাদ্দ বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরে বলা হয়েছে নতুন করে ভূমিহীন ১৮টি পরিবারের তালিকা করতে। মন্ত্রণালয় এসব ঘরের বর্তমান বরাদ্দ বাতিলের অনুমতি দিলেই নতুনদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি সারা দেশে এই প্রকল্পের যতগুলো ঘর নির্মাণ হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের ঘর আমরাই নির্মাণ করেছি।‘

দূরত্ব আর আয়ের সুযোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হলে ইউএনও বলেন, ‘যেহেতু সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে, ধীরে ধীরে বাজার হাটও গড়ে উঠবে। নতুন গ্রাম হলে তো এই ধরনের সমস্যাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটি খুবই সুন্দর এবং জনবসতির জন্য উপযুক্ত। ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ এবং পানির সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। রাস্তাটিও আমরা প্রশস্ত করার চেষ্টা করছি।’

কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে বাস করা পরিবারের পুরুষরা বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। নারীরা যেন বেকার বসে না থাকেন, তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি পালনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
MV Abdullah will reach the port of Dubai a day earlier

এমভি আব্দুল্লাহ একদিন আগেই দুবাইয়ের বন্দরে পৌঁছবে

এমভি আব্দুল্লাহ একদিন আগেই দুবাইয়ের বন্দরে পৌঁছবে
কেএসআরএম গ্রুপ জানিয়েছে, এমভি আব্দুল্লাহ ২২ এপ্রিল দুবাইয়ের বন্দরে নোঙ্গর করার কথা ছিল। কিন্তু গতি বাড়িয়ে চলার কারণে একদিন আগে ২১ এপ্রিল জাহাজটি দুবাই পৌঁছবে। সেখানে পণ্য খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই নাবিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সোমালীয় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়া জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ দুবাইয়ের পথে রয়েছে। জাহাজটি ২২ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আল হামরিয়া বন্দরে নোঙর করার কথা ছিল। তবে গতি বাড়িয়ে এগিয়ে চলা জাহাজটি একদিন আগেই ২১ এপ্রিল রোববার সংশ্লিষ্ট বন্দরে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আমিরাতের বন্দরে পৌঁছার পর ২৩ নাবিকের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাদের

মধ্যে দুজন বিমানে দেশে ফিরবেন। বাকিরা জাহাজেই দেশে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। যে দুজন বিমানে ফিরতে চান তারা হলেন জেনারেল স্টুয়ার্ড মোহাম্মদ নূর উদ্দিন ও সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। বাকি ২১ জন এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন।

জাহাজে ১৫ বছর ধরে চাকরি করছেন জেনারেল স্টুয়ার্ড নূর উদ্দিন। কিন্তু এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া এবং জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তিনি দেশে স্বজনের কাছে ফিরতে চাচ্ছেন।

স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ফোনে একথা জানিয়েছেন নূর উদ্দিন। ফারদিন নূর নামে তাদের আড়াই বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুস্থ থাকলে অনেক কিছু করা যাবে। কিন্তু মানসিকভাবে তিনি যদি সুস্থ না থাকেন, তাহলে তো বিকল্প ভাবতে হবে আমাদের।’

অভিন্ন ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মোজাহেদুল ইসলামও। তিনি তার মা ফেরদৌস আক্তারকে ফোন করে দুবাই থেকে বিমানে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

ফেরদৌস আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে এখন প্রতিদিনই কথা হয়। আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো আছে ওরা। আমাদেরও দুশ্চিন্তা কমেছে। তবে টেনশন থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারিনি। ছেলে বলছে, তার মানসিক অবস্থা ভালো নেই; দ্রুত দেশে ফিরতে চায়।

‘জাহাজে করে দেশে ফিরতে আরও সাত-আট দিন দেরি হবে। তাই দুবাই থেকে বিমানে দেশে ফিরবে বলে জানিয়েছে। তবে কবে কোথায় আসবে, তা এখনও জানে না সে। এটা জাহাজের মালিক পক্ষ ঠিক করবে।’

এমভি আব্দুল্লাহর মালিক পক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ জানিয়েছে, জাহাজটি দুবাইয়ে ২২ এপ্রিল নোঙ্গর করার কথা ছিল। কিন্তু গতি বাড়ার কারণে একদিন আগে ২১ এপ্রিল দুবাই পৌঁছবে। সেখানে পণ্য খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই নাবিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কেএসআরএমের সিইও মেহেরুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুজন নাবিক দুবাই থেকে বিমানে দেশে ফিরতে চান। বাকি ২১ জন জাহাজে করেই দেশে ফিরবেন। ওই দুজন কখন কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটা আমরা জাহাজ নোঙর করার পর ঠিক করব। যিনি যেভাবে আসতে চান, তাকে সেভাবেই দেশে ফিরিয়ে আনব আমরা।’

কেএসআরএমের ডিএমডি শাহরিয়ার জাহান রাহাত জানান, জাহাজটি ২২ এপ্রিল দুবাইয়ে নোঙর ফেলার কথা থাকলেও তা এখন একদিন এগিয়ে যাচ্ছে। ২১ এপ্রিল এটি নোঙর করবে সেখানে।’

জাহাজটি ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় জলদস্যুমুক্ত হয়। এরপর আরব আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নাবিকরা। শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাহাজটি সোমালিয়া উপকূল থেকে ৬৮৭ নটিক্যাল মাইল এবং দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দর থকে ৯৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। এটি নিরাপদ জোন হিসেবে পরিচিত। এজন্য দুশ্চিন্তাও কিছুটা কমেছে নাবিকদের। ফুরফুরে মেজাজে থাকার কিছু ছবিও পাঠিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:
জাহাজে ২১ ও উড়োজাহাজে ২ নাবিক দেশে ফিরবেন
আবদুল্লাহ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-সীমানায়, পাহারায় যুদ্ধজাহাজ
‘এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকরা ২০ এপ্রিলের মধ্যে দুবাইয়ে পৌঁছবেন’
মুক্তিপণ পৌঁছায় দুই রাত আগে, ডলার জাল কি না পরীক্ষার পরই ছাড়া পান নাবিকরা
এমভি আবদুল্লাহর ক্রুরা দেশে ফিরছেন কবে

মন্তব্য

সারা দেশ
In Sylhet polls BNP is ignoring the instructions of the center
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

সিলেটে ভোটে থাকছে ‘বিএনপি’, কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা

সিলেটে ভোটে থাকছে ‘বিএনপি’, কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সিলেট বিভাগের ১১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে অন্তত চারটি উপজেলায় বিএনপির ১৩ জন নেতা প্রার্থী হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জাতীয় সংসদের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে দলের হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্ত মানছেন না তৃণমূলের নেতারা। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন দলটির নেতারা। ফলে অনানুষ্ঠানিকভাবে সিলেটে উপজেলার ভোটে থাকছে বিএনপিও।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সিলেট বিভাগের ১১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে অন্তত চারটি উপজেলায় বিএনপির ১৩ জন নেতা প্রার্থী হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সাতজনই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সুনামগঞ্জের শাল্লায় তিনজন ও দিরাইয়ে দুজন এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একজন প্রার্থী রয়েছেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বুধবার যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছেন। বিভাগের মধ্যে একমাত্র হবিগঞ্জ জেলায় বিএনপির কোনো নেতা প্রার্থী হননি।

জেলা বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন বর্জনের দলীয় সিদ্ধান্ত প্রার্থী হওয়া নেতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জ; সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা; মৌলভীবাজারের জুড়ি, কুলাউড়া ও বড়লেখা এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন হচ্ছে। এই ১১ উপজেলায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ এপ্রিল। আর ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপির ৭ নেতার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী হয়েছেন।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির যে চার নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গৌছ খান, তার চাচাতো ভাই যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা সফিক উদ্দিন।

তাদের মধ্যে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সুহেল আহমদ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. কাওছার খান ও খাজাঞ্চি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব সরকার।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম স্বপ্না শাহিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল মিয়া বলেন, ‘এলাকার মানুষের চাওয়ার কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীও নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছেন। তাদের দাবি- যেহেতু বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনে ভোট দেবে, সেহেতু নিজেদের একজনকে দিতে পারে। সেই দাবি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে দল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে নিতে পারে। আমার কিছু করার থাকবে না।’

অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গৌছ খান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখনও অনেক সময় বাকি আছে। আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে।’

তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। এর বাইরে গিয়ে কেউ অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সুনামগঞ্জোর শাল্লা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গণেশ চন্দ্র দাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুর রহমান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল মজিদ প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া দিরাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাপ মিয়া। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ছবি চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রাহেনা বেগম হাছনা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের কাউকে প্রার্থী না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
তৃতীয় ধাপের উপজেলা ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ফ্লেভার নেই: ইসি আলমগীর

মন্তব্য

সারা দেশ
The appeal authority for the third phase of upazila polls is the District Commissioner

তৃতীয় ধাপের উপজেলা ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক

তৃতীয় ধাপের উপজেলা ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক
প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসকদের নিয়োগ করা হয়েছে। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসককে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসকদের নিয়োগ করা হয়েছে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমার শেষ তারিখ ২ মে ও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৫ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৬ থেকে ৮ মে, আপিল নিষ্পত্তি ৯ থেকে ১১ মে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ ১৩ মে এবং ভোটগ্রহণ হবে ২৯ মে। েই ধাপে ৪৭টি জেলার ১১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।

তৃতীয় ধাপে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিষ্পত্তি করবেন জেলা প্রশাসক।

দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেসব উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন।

প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের সময় শেষ। বৈধ প্রার্থী এক হাজার ৭৮৬ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ সময় ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২৩ এপ্রিল। আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ফ্লেভার নেই: ইসি আলমগীর
দল থেকে শোকজ পেয়েছেন সিংড়ার রুবেল
বিজেপির হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনার মধ্যে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট শুরু
উপজেলায় মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের প্রার্থিতা চায় না আওয়ামী লীগ
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী ১৭৮৬ জন

মন্তব্য

সারা দেশ
A teenager killed his friend due to a dispute over online gambling

অনলাইন জুয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল কিশোর

অনলাইন জুয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর প্রাণ কাড়ল কিশোর ফাইল ছবি
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্ধক রাখা ক্যামেরা বিক্রি করা নিয়ে দুই বন্ধুর দ্বন্দ্বের জেরে এক বন্ধু অপরজনকে হত্যা করে। অভিযুক্ত রিফাত পরিকল্পিতভাবে তার বন্ধু সম্রাটকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ৭/৮টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করায়, যা খেয়ে খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে সম্রাট। পরে ঘুমন্ত সম্রাটকে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যা করা হয়।’

গাইবান্ধার সাঘাটায় ১৭ বছরী বয়সী কিশোর সম্রাট হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অনলাইন জুয়া খেলতে ক্যামেরা বন্ধক নেয়ার জেরে তাকে খুন করে তারই বন্ধু রিফাত। পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ট্যাবলেট মিশ্রিত কোমলপানীয় পান করে অজ্ঞান হয়ে গেলে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যা করা হয় সম্রাটকে।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার পশ্চিতবাড়ি গ্রামের এক পুলিশ সদস্যের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সাঘাটা থানা পুলিশ। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ওই বন্ধুর বাড়িতে ক্যামেরা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সম্রাট।

সম্রাট উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ১৭ বছরের রিফাত সাঘাটা উপজেলার পশ্চিম বাটি গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, সম্রাট ও রিফাত একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা দুজনে একই বিদ্যালয়ের একই ক্লাসের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি অনলাইন জুয়া খেলে টাকা খোয়ায় সম্রাট। জুয়ায় হেরে সে তার ক্যামেরাটি দশ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধু রিফাতের কাছে বন্ধক রাখে। কয়েকদিন পর রিফাতের কাছে ক্যামেরা ফেরত নিতে যায় সে। সেখানে গিয়ে সম্রাট জানতে পারে, রিফাতও জুয়ায় হেরে বন্ধক নেয়া ক্যামেরা বগুড়ায় কারও কাছে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। পরে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

পরবর্তীতে গত ১৭ এপ্রিল পরিকল্পিতভাবে সম্রাটকে ক্যামেরা নিতে নিজ বাড়িতে ডাকেন রিফাত। ওইদিন বিকেলেই সম্রাট বন্ধু রিফাতের বাড়িতে ক্যামেরা নিতে গিয়ে সেদিন থেকেই নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্তানকে না পেয়ে পরের দিন নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান চেয়ে সাঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সম্রাটের পরিবার। রিফাতের ডাকে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

জিডির পর শুক্রবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্রাটকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে সাঘাটা পুলিশ। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বন্ধু সম্রাটকে খুন করে সেপটিক ট্যাংকে গুম করে রাখার কথা স্বীকার করে সে।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে পশ্চিতবাড়ি গ্রামের এক পুলিশ সদস্যের বসতঘরের পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে সম্রাটের মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্ধক রাখা ক্যামেরা বিক্রি করা নিয়ে দুই বন্ধুর দ্বন্দ্বের জেরে এক বন্ধু অপরজনকে হত্যা করে। অভিযুক্ত রিফাত পরিকল্পিতভাবে তার বন্ধু সম্রাটকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ৭/৮টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করায়, যা খেয়ে খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে সম্রাট। পরে ঘুমন্ত সম্রাটকে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যা করা হয়।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত রিফাতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সম্রাটের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
টাকা চেয়ে না পেয়ে বাবার প্রাণ নিল ছেলে
মেলায় জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে ইউপি সদস্যের নামে মামলা

মন্তব্য

সারা দেশ
Awami ruling group has become increasingly violent Fakhrul

আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী আরও তীব্র মাত্রায় হিংস্র হয়ে উঠেছে: ফখরুল

আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী আরও তীব্র মাত্রায় হিংস্র হয়ে উঠেছে: ফখরুল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত-পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।’

আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী ৭ই জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এখন আরও তীব্র মাত্রায় হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মিথ্যাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপকৌশলের মাধ্যমে অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল, ভিন্ন মত-পথের মানুষদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুর করে বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে দখলদার আওয়ামী সরকার দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করেছে।

‘বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা আওয়ামী জুলুমের আরেকটি বর্ধিত প্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের সাজা বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত: ফখরুল
জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই আন্দোলন: ফখরুল
ছাত্রলীগ জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করছে: ফখরুল
দমন-নির্যাতন ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না: ফখরুল
ফ্যাসিস্ট নয়, বাংলাদেশ বর্ণবাদীদের কবলে পড়েছে: ফখরুল

মন্তব্য

সারা দেশ
Local government elections have no political flavor EC Alamgir

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ফ্লেভার নেই: ইসি আলমগীর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক ফ্লেভার নেই: ইসি আলমগীর শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মো. আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনে কার কোন আত্মীয় অংশ নিল বা কে অংশ নিল না- সেটা আমাদের বিষয় নয়; সেটা রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক বিষয়।’

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক নির্বাচন নয়। কারণ বর্তমান সরকার দলীয় রাজনৈতিক দল স্থানীয় সরাকর নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কাজেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক কোনো ফ্লেভার নেই।

তিনি বলেছেন, তারপরও যাতে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন, সেটার অপশনও রাখা হয়েছে, অর্থাৎ ভোট ফ্লেক্সিবল করা হয়েছে। ইচ্ছে করলে স্বাধীনভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন; রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। আবার চাইলে অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়েও নির্বাচন করতে পারবেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে হরিরামপুর ও সিংগাইর উপজেলার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও তাদের অনেক সমর্থক-প্রার্থী আনঅফিশিয়ালি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। সুতরাং এটা বলার সুযোগ নেই যে, নির্বাচন অংশগ্রহণ মুলক নির্বাচন হচ্ছে না।’

ইসি আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং কোনোমতেই যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না হয়। অন্যায়ভাবে কেউ যাতে কোনো প্রার্থীকে প্রচারে ও ভোটদানে বাধা দিতে না পারে। সবাই যাতে সমানভাবে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা করতে পারে এবং ভোটরা যাতে স্বাধীনভাবে তার ভোট দিতে পারে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কার কোন আত্মীয় অংশ নিল বা কে অংশ নিল না- সেটা আমাদের বিষয় নয়; সেটা রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক বিষয়, কিন্তু আমাদের নির্বাচনি আইনে যদি কোনো ব্যক্তি ওই এলাকার ভোটার হয় এবং তার বিরুদ্ধে যদি কোনো আইনি ঝামেলা না থাকে, তাহলে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন। আমাদের আইনে আত্মীয়তার সঙ্গে কোনো সর্ম্পক নেই।’

এ সময় জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুজন সরকার ও জেলা নির্বাচন অফিসার আমিনুর রহমান মিঞাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দল থেকে শোকজ পেয়েছেন সিংড়ার রুবেল
প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী ১৭৮৬ জন
নাটোরে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী ও ভাইকে অপহরণ
উপজেলা নির্বাচনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ২০ এপ্রিলের পর
পরবর্তী কমিশনের জন্য সুপারিশ রেখে যাবে ইসি

মন্তব্য

সারা দেশ
NRBC Bank celebrated three festivals in 12 years in a grand manner

১২ বছরে পদার্পণসহ তিন উপলক্ষ বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন এনআরবিসি ব্যাংকের 

১২ বছরে পদার্পণসহ তিন উপলক্ষ বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন এনআরবিসি ব্যাংকের  ১২ বছরে পদার্পণ, বাংলা বর্ষবরণ ও ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করে এনআরবিসি ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। একেবারে পিছিয়ে থাকা মানুষটিকে এগিয়ে নিতে আমরা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আমরা সরকারের গ্রামকে শহরায়ন কর্মসূচির আলোকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড  পরিচালনা করছি।’  

এনআরবিসি ব্যাংক নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ১২ বছরে পদার্পণ, বাংলা নববর্ষ ও ঈদ পুনর্মিলনী বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করেছে।

এ তিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের সব বিভাগ এবং সারা দেশের সব শাখা-উপশাখায় মতবিনিময় সভা ও ওয়ান ডিশ পার্টির আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম এফসিসিএ, ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাড়াও বাংলা পঞ্জিকার ১৪৩১ বর্ষকে বরণ এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওয়ান ডিশ পার্টিতে ব্যাংকের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেন।

এ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গড়ে তোলা অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সমগ্র জাতি উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে। এনআরবিসি ব্যাংক আজ ১২ বছর পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংক গ্রামের উন্নয়নে যেভাবে ভূমিকা পালন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি এনআরবিসি ব্যাংকের জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সহজ করবে।’

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজ তমাল বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। একেবারে পিছিয়ে থাকা মানুষটিকে এগিয়ে নিতে আমরা ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আমরা সরকারের গ্রামকে শহরায়ন কর্মসূচির আলোকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি।

‘আজ আমরা বাংলা নববর্ষ, ঈদ পুনর্মিলনী ও ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এই তিন উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করছি। এনআরবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে উৎসবের মতো রঙিন করতে চায় গ্রাম-বাংলার প্রতিটি মানুষের জীবনযাত্রাকে।’

ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু বলেন, ‘বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ১১ বছর পার করে ১২ বছরেই বিভিন্ন আর্থিক সূচকে শীর্ষে উঠে এসে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপন করছে এনআরবিসি ব্যাংক। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ও শাখা-উপশাখা সম্প্রসারণে সবার শীর্ষে এনআরবিসি ব্যাংক।

‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক। ব্যাংকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।’

ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম এফসিসিএ বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবন ছিল উপশাখা ব্যাংকিং। উপশাখার মাধ্যমে আমরা প্রান্তিক গ্রাম পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যেতে পেরেছি। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিনা জামানতে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৮০ হাজার মানুষ এনআরবিসি ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছেন। এনআরবিসি ব্যাংক গ্রাম-বাংলার গণমানুষের ব্যাংক।

‘যেখানে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব, আমরা সেখানে বিনিয়োগ করছি। ব্যাংকিং সেবাকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা রিয়েল টাইম ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ফিনটেকের ওপর জোর দিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতি বছর এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি ব্যাংক আলফালাহ অধিগ্রহণ করবে ব্যাংক এশিয়া
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ডিএমডি হলেন ফয়েজ আলম
কর্মচারীকে অজ্ঞান করে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে টাকা লুটের অভিযোগ
রুমায় ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুট: গ্রেপ্তার আরও চার আসামি
সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক

মন্তব্য

p
উপরে