ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে

ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে

চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প। ছবি: নিউজবাংলা

হবিগঞ্জে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৮ জন উপকারভোগী ঘর ফিরিয়ে দিয়ে আবার গৃহহীন হয়ে যাওয়ার খবরে তোলপাড়। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ফাটল বা অন্য সমস্যা দেখা গেলেও সেখানে এ সমস্যা নেই। উপকারভোগীরা বলছেন, প্রকল্পটির আশপাশে দোকান বা বাজার নেই। এক নারী বলেছেন, তিন দিন ধরে তিনি পান খেতে পারছেন না বলে তার মুখ কেমন কেমন লাগছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বিনামূল্যের ঘর ফিরিয়ে আবার গৃহহীন হওয়ার ঘটনার পর প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন করে মানে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয়া হয়েছে। তবে নলকূপ স্থাপনে বিলম্ব হয়েছে। যদিও এখন সে কাজ শুরু হয়েছে।

ইকরতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সেখানে ঘর নির্মাণ হয়েছে মোট ৭৪টি। কিন্তু ১৮টি পরিবার সেখানে থাকবে না বলে জানিয়েছে। আর বাকিগুলোও সেখানে আছে এমন নয়।

আটটি ঘর ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানোর পর আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে জানা গেছে, আটজন নন, ঘর ফিরিয়ে দিতে চান মোট ১৮ জন।

এই মানুষগুলোর নিজেদের কোনো ঘর ছিল না। থাকতেন পরের ঘরে, তাও ভাঙাচোরা, কোথাও কোথাও ঝুপড়িঘর।

দুই ধাপে দেশে এক লাখের বেশি ঘর বরাদ্দ দেয়া নিযে উচ্ছ্বাস ছিল মানুষের মধ্যে। তবে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু ঘরে ফাটল, কোথাও কোথাও প্রায় ধসে পড়ার দশা, কোথাও পানি পড়া, কোথাও দরজা-জানলার দুর্বল অবস্থার খবর এসেছে। আর অনিয়মের অভিযোগ খুঁজে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঁচটি দল গঠন করে জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে হবিগঞ্জের এই খবরটি স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় তৈরি করে। তবে সেখানে ঘরে সমস্যা না থাকলেও তাহলে কেন তারা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকতে চাইছেন না- এই প্রশ্নটিও এখন বড় হয়েছে।

যারা ঘর ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদের কারও নাম-ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেয়া হয়নি।

তবে যারা সেখানে আছেন, তারা বলছেন দূরত্বের কথা। প্রকল্পটি এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে মূল সড়কে যেতে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। আর এই পথটি হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। কারণ, যে কাঁচা সড়ক আছে, সেটি দুই হাতের মতো। একটি রিকশা কোনোভাবে হয়তো আসতে পারবে, কিন্তু রাস্তায় তখন আর কাউকে থাকলে চলবে না। তাকে নেমে যেতে হবে।

সবচেয়ে কাছের বাজারটি তিন কিলোমিটার দূরের। আর দেড় কিলোমিটার দূরে একটি হাট আছে, যেটি বসে প্রতি সপ্তাহে একবার।

প্রশাসন বলছে, একটি নিয়মে আবদ্ধ জীবন থেকে অন্য একটি জীবনে গেলে কিছুটা সমস্যা হবেই। আশপাশে লোকালয় যে নেই এমন নয়। তাদেরও একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এই আশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরেও সেই ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। সেখানেই দোকান হবে। কেউ কেউ ব্যবসা করবেন। কেউ কেউ অন্য কাজ করবেন।

কিন্তু একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর ঘর পাওয়া অনেকেই সেই সময়টা অপেক্ষা করতে চাইছেন না।

ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়া হয় প্রথম ধাপে গত ২৩ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, ৭৪টি পরিবারের মধ্যে সেখানে ৪৯টি ঘরে লোকজন রয়েছেন। বাকি ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে।

‘কয়দিন ধইরা আমি পান খাইতা পারতাছি না’

সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেউই রাজি হননি। একপর্যায়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন কয়েকজন।

এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশা চালাইন। ইখান (এখানে) আওয়ার (আসার) রাস্তা বালা না। তাই অনেক সমস্যা হয়। এ ছাড়া ইখান কোনো কামকাজ নাই। অনেক কষ্ট কইরা আমরার চলন লাগে।’

তিনি বলেন, ‘যারার অন্য জায়গাত থাকার জায়গা আছে তারা ইখান থাইক্কা গেছে গা। আমরার যাওয়নের জায়গা নাই। এর লাগি যাই না। কিতা আর করমু, কষ্ট কইরা থাকি।’

নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘ইখান থাইকা বাজার অনেক দূর। তিন কিলোমিটার দূরে গিয়া বাজার করা লাগে। রাস্তাও বালা না। কয়দিন ধইরা আমি পান খাইতা পারতাছি না। মুখটা কেমন কেমন লাগে। অখন পান আনতে অমরোড বাজার যাওয়ন লাগে। ২০ টেকার পান আনতে ৪০-৫০ টেকা গাড়ি বাড়া লাগব।’

জনপ্রতিনিধিরা যা বলছেন

বৃহস্পতিবার আহম্মদাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত চৌধুরী সনজু বলেন, ‘তিন কিলোমিটারের আশপাশে কোনো বাজার নেই। কাজ না থাকলে এখানে ঘর পেয়ে কী লাভ? এ কারণে তারা থাকতে চান না।’

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জায়গা সিলেকশনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন একক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই জায়গাটি সিলেকশন করেছে। জায়গা সিলেকশনে ভুলের কারণে এমনটা হয়েছে।

তবে ঘরে কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর। তিনি বলেন, ‘চুনারুঘাট উপজেলায় যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা আর কোথাও হয়নি। কোথাও একটি ঘর নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে দেখাতে পারবেন না। এখন লোকজন না থাকলে আমাদের কী করার আছে?’

তিনি বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘরগুলো নির্মাণ এবং হস্তান্তর করতে হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের শর্ত ছিল শুধু ‘ক’ শ্রেণিভুক্তদের এখানে ঘর দেয়া হবে, যে কারণে ‘ক’ শ্রেণিভুক্তদের দিতে গিয়ে এই সমস্যাটা হয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে ঘর চেয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে যারা আবেদন করেছেন এবং যাদের ঘর-জায়াগা কিছুই নেই, তারা ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত।

কী বলছেন ইউএনও

ঘরগুলো নির্মাণে তত্ত্বাবধান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কতটি পরিবার ঘর ছাড়তে আবেদন করেছে সেটা বলা যাবে না। তবে যারা এখনও ঘরে ওঠেননি বা অনিয়মিত এমন ১৮টি পরিবারের বরাদ্দ বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরে বলা হয়েছে নতুন করে ভূমিহীন ১৮টি পরিবারের তালিকা করতে। মন্ত্রণালয় এসব ঘরের বর্তমান বরাদ্দ বাতিলের অনুমতি দিলেই নতুনদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি সারা দেশে এই প্রকল্পের যতগুলো ঘর নির্মাণ হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের ঘর আমরাই নির্মাণ করেছি।‘

দূরত্ব আর আয়ের সুযোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হলে ইউএনও বলেন, ‘যেহেতু সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে, ধীরে ধীরে বাজার হাটও গড়ে উঠবে। নতুন গ্রাম হলে তো এই ধরনের সমস্যাগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটি খুবই সুন্দর এবং জনবসতির জন্য উপযুক্ত। ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ এবং পানির সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। রাস্তাটিও আমরা প্রশস্ত করার চেষ্টা করছি।’

কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে বাস করা পরিবারের পুরুষরা বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। নারীরা যেন বেকার বসে না থাকেন, তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি পালনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পিসিআর মেশিনে ভাইরাস, বন্ধ নমুনা পরীক্ষা

পিসিআর মেশিনে ভাইরাস, বন্ধ নমুনা পরীক্ষা

শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের জানান, পিসিআর মেশিন বন্ধ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে শুক্রবার থেকে হয়তো আবার নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাবে।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর মেশিনে করোনাভাইরাস পাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নমুনা পরীক্ষা।

হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ল্যাব প্রধান সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২ আগস্ট বিকেলে ১২৩টি নমুনা পরীক্ষার জন্য মেশিনে দেয়া হয়। এতে ১১৫ জনের পজিটিভ ফল এলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়।

এরপর মঙ্গলবার পরীক্ষা করে মেশিনের টিউবে ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেলে করোনা পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ছাড়া ওই ১২৩টি নমুনা আবারও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের জানান, পিসিআর মেশিন বন্ধ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ল্যাবটি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে শুক্রবার থেকে হয়তো আবার নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাবে।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

মানিকগঞ্জের ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে এ বছর বেচা-কেনা কম হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নৌকা বিক্রেতা কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘গত বছর যে নৌকা বিক্রি করছি সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, এ বছর সেই নৌকা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু পানি না হওয়ায় প্রতিটা নৌকায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ধরা।’

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীর পাশে মাঠজুড়ে দেখা মিলবে বিভিন্ন আকারের শ শ বাহারি কাঠের নৌকা। প্রতিবছর বর্ষায় এখানে বসে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট।

ঘিওর সরকারি কলেজ ও ঈদগাঁর মাঠে বর্ষাজুড়ে প্রতি বুধবার বসে এই হাট।

সেখানে মানিকগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ আসেন পছন্দের নৌকা কিনতে। বরাবরই জমজমাট থাকে এই হাট; বেচাকেনা হয় শ শ নৌকা।

হাটের পাশেই ধলেশ্বরী নদী থাকায় নৌকা কিনে সেই নৌকায় করেই বাড়ি ফেরেন ক্রেতারা। তবে এ বছর বেচাকেনা একেবারে কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বর্ষায় পানি কম হওয়ায় ঘোড়ার গাড়ি ও ভ্যানে করে নৌকা বাড়িতে নিতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় নৌকার ক্রেতা কমেছে।

শিবালয়ের শাহিলী এলাকার নৌকা ক্রেতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘শাহিলী এলাকা অনেক নিচা। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হইলেই পানি হইয়্যা যায়। আর বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বাইর হওয়া যায় না। এই কারণে হাটে আইস্যা ১৭০০ টাকা দিয়্যা ১১ হাতের একটা নৌকা কিনলাম।’

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

দৌলতপুরের আরেক ক্রেতা আজিজুল রহমান বলেন, ‘আমাগো বারোমাসই নৌকা লাগে। বিশেষ কইর‌্যা বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। রাস্তাঘাট পানির তলায় থাকে। এইবার পানি না হওয়ায় নৌকার দাম একবারে সস্তা। আরেকটু সস্তায় পাইলে কয়েকটা কিনুম।’

হরিরামপুরের তবিজ উদ্দিন বলেন, বন্যা আইতেছে। তাই আগেই সস্তায় ভালো নৌকা কিনা রাখলাম। বন্যার সময় পানি বেশি হইলেই দাম বাড়ায় নৌকার কারিগররা।

নৌকা বিক্রেতা ঘিওরের কুস্তার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সাভার থেকে পাইকারি দরে নৌকা কিনে ঘিওরের হাটে বিক্রি করি। ঘিওর হাটে নৌকার অনেক চাহিদা। এই হাটে মানিকগঞ্জ ছাড়াও টাঙ্গাইল, নাগরপুর, সাভার, ধামরাইয়ের লোকজন নৌকা কিনতে আসেন। প্রতি হাটে শ শ নৌকা বেচাকেনা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানির সঙ্গে নৌকার দামের একটা সম্পর্ক আছে। পানি হলে ভালো দাম পাই। আর না হলে মোটামুটি দামে বেচতে হয়। অনেক সময় লসও হয়।’

বর্ষায় জমেনি নৌকা কেনাবেচা

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নৌকা বিক্রেতা কৃষ্ণ রায় ঘিওর হাটে নৌকা বিক্রি করে আসছেন। তিনি এই হাটে চাম্বুল, স্টিলবডি, আকাশমনি, আম, জাম, কাঁঠাল গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আকারের বাহারি নৌকা বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত বছর যে নৌকা বিক্রি করছি সাড়ে ৪ হাজার টাকায়, এ বছর সেই নৌকা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু পানি না হওয়ায় প্রতিটা নৌকায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ধরা।’

ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ঘিওরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে প্রচুর নৌকা ওঠে। বিশেষ করে বন্যার আগে ও বন্যার মধ্যে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। নদীতে বর্ষার পানি ঢুকলেই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুরসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ডিঙি নৌকা।’

এই হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের যেকোনো সমস্যায় সার্বিক সহযোগিতা করা হয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেই হত্যা: সিআইডি

প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেই হত্যা: সিআইডি

শাহ আলম হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ জুলহাস ওরফে জুলুকে গ্রেপ্তার করে। ছবি: নিউজবাংলা

সিরাজগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন জানান, বওড়া গ্রামের কাকলি বেগমের সঙ্গে শাহ আলমসহ তিনজনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাকি দুজনের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে কাকলির সঙ্গে শাহ আলমের দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরে কাকলি ও তার ওই দুই প্রেমিক শাহ আলমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

সিরাজগঞ্জে বেকারি দোকানের কর্মচারী হত্যার প্রায় সাড়ে চার বছর পর হত্যার কারণ জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তারা জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি বেলকুচি উপজেলার বওড়া গ্রামের শাহ আলমকে হত্যা করা হয়।

সিরাজগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বুধবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, বওড়া গ্রামের কাকলি বেগমের সঙ্গে শাহ আলমসহ তিনজনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বাকি দুজনের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে কাকলির সঙ্গে শাহ আলমের দ্বন্দ্ব হয়। এর জেরে কাকলি ও তার ওই দুই প্রেমিক শাহ আলমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে কাকলির বাসায় আসেন শাহ আলম। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লাশ গুমের জন্য যমুনার চরে ফেলে দেয়া হয়।

দুদিন পর ২৭ জানুয়ারি পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় শাহ আলমের স্ত্রী শিরিনা বেগম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বেলকুচি থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে ব্যর্থ হওয়ায় মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ গত ৩ আগস্ট রাতে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলস্টেশন এলাকা থেকে জুলহাস ওরফে জুলুকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে তোলা হলে জবানবন্দিতে হত্যায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান সিআইডির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত

র‍্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের পাশে জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করেন র‍্যাবের টহল দলের সদস্যরা। এ সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা ডাকাত দল। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন।

টেকনাফের দমদমিয়ায় টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের পাশে জঙ্গলে বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাবের দাবি, রোহিঙ্গা ডাকাত জকির গ্রুপের সক্রিয় সদস্য নুরু। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ৪০ বছর বয়সী নুরুল হক প্রকাশ নুরু ‍মিয়ার বাড়ি টেকনাফের হ্নীলা জাদিমুড়া ২৭ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকে।

আহত র‌্যাব সদস্যরা হলেন, সিপিএ মো. ইয়াছিন ও কনস্টেবল মো. মাহফুজুল আলম।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫ সিপিসি-১ টেকনাফ র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার।

তিনি জানান, ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের টহল দলের সদস্যরা।

এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ১৫ মিনিট ধরে চলা গোলাগুলির একপর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পিছু হটে।

টেকনাফ র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্রসহ নুরুকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আহত র‍্যাব সদস্যদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার শুভ্র দেব জানান, বুধবার রাত আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে গুলির জখমের চিহ্ন রয়েছে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলিসহ ১টি ম্যাগাজিন ও ৩টি দেশীয় অস্ত্র, ২টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নুরুর মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, ডাকাত জকির মারা যাওয়ার পর নুরুর নেতৃত্বে ক্যাম্প এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মুক্তিপণ বাণিজ্য চলছিল।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদরে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত হারুনুর রশীদ সদর উপজেলার বসিকপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার রাতে হারুন বসিকপুর ইউনিয়নের বটের পুকুর পাড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখছিলেন। রাত ৯টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৫ থেকে ৬ জন এসে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে কুপিয়ে চলে যায়।

স্থানীয়রা তাকে সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠাতে বলেন। ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, হারুনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা পুলিশ সুপার এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ছবি: সংগৃহীত

চার বছর আগে চালু করা যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি থেকে আইটি প্রতিষ্ঠান চলে যেতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরাও বিমুখ হচ্ছেন সুযোগ-সুবিধার অভাবে। এরই মধ্যে ২০ প্রতিষ্ঠান পার্ক ছেড়েছে।

যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের উদ্বোধনের পর প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়ার। দক্ষিণাঞ্চলকে প্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনাও নেয়া হয়।

তবে চার বছর পূর্তির আগেই সফটওয়্যার পার্কটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে পার্ক ছেড়ে গেছে ২০টি প্রতিষ্ঠান।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ইজারামূল্য নিয়ে বিরোধ, উচ্চগতির ইন্টারনেট না থাকা, বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে ভোগান্তির কারণে বাড়েনি ব্যবসার পরিধি।

আইটি পার্কটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।

এমন সংকট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সফটওয়্যার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেমিকোলন আইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মাহমুদ হীরা।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা এগিয়ে যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের, সে ভূমিকা রাখতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যে লক্ষ্যে, সে লক্ষ্য পূরণে যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল সেদিকে আগাচ্ছে না পার্কটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথমে নিজে দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও পরে তা দেয়া হয়েছে একটি তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান টেক সিটির হাতে।

‘তারা সরকার নির্ধারিত প্রতি বর্গফুটে ১৪ টাকা ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও নিচ্ছে ১৮ থেকে ২২ টাকা।’

তার অভিযোগ, সেখানে বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি দেয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে নেয়া হচ্ছে ১৪ টাকা ইউনিট হিসাবে।

হীরা বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে সরকার যদি সফটওয়্যার ও বিভিন্ন আইটি সেবা নিত, তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভিত্তি পেত। যা করা হয়নি।’

আইটি পার্কটিতে বিনিয়োগ আনতে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে।

ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠন।

৪ বছরে ছেড়েছে ২০ প্রতিষ্ঠান, অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

পার্কটির ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ভাড়া তুলনামূলক বেশি। একেক প্রতিষ্ঠানের থেকে একেক রকম ভাড়া আদায় করা হয়। বারবার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সর্বোচ্চ রেটে আমরা বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। এই বিদ্যুৎ বিল কমানোর বা বিলটা বিশেষ শিল্প জোনের আওতায় আনার জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে, যদিও সমস্যার সমাধান হয়নি।’

টেকসিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্নীতির

হাইটেক পার্কটি ইজারা নিয়েছে টেকসিটি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ বিল সরকার থেকে ৩৭ লাখ টাকা প্রণোদনা দেয়া হলেও টেকসিটি আমাদের কাছে আবার বিদ্যুৎ বিল নিয়েছে। সেই টাকার কোনো হিসাব টেকসিটি আমাদের দেয়নি। আমরা এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হয়নি।’

যা বলছে টেকসিটি

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা টেকসিটির ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) এম ইউ সিকদার জানান, সারা দেশের ৩৯টি হাইটেক পার্কের মধ্যে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি রোল মডেল ও পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। তাদের ১৫ বছরের জন্য ট্যাক্স ফ্রি করে দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিশ্বমানের যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলোও ভর্তুকি মূল্যে দিচ্ছে। পাশাপাশি করোনার কারণে আইটি বিজনেসেও ধাক্কা লাগায় উদ্যোক্তাদের আট মাসের ভাড়া সরকার মওকুফ করেছে বলেও তার দাবি।

তিনি জানান, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটিতে ১৫ তলা ভবনে আড়াই লাখ বর্গফুট জায়গা ইজারাযোগ্য। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৯৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ইজারা দেয়া হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে ফেলে রেখেছে।

বর্তমানে পার্কটিতে ৫৫টি আইটি ও আইটিএস বিজনেস প্রতিষ্ঠান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি কোম্পানি কাজ করছে।

এ ছাড়া ৯৮ হাজার বর্গফুটের ১২তলা আবাসিক ভবন (ডরমিটরি), ২৫ হাজার বর্গফুটের বেজমেন্ট ফ্লোরসহ তিনতলা মাল্টিপারপাস ভবন রয়েছে পার্কটিতে।

টেক সিটি জানায়, সেখানে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান জায়গা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রমে রয়েছে ৩৮টি। অবশ্য সরেজমিনে গিয়ে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পাওয়া যায়।

টেক সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের অনেকে ভাড়া দিচ্ছেন না। তাদের কাছে ৬০-৭০ লাখ টাকা ভাড়া এখনও পাওনা।’

মূল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কম

হাইটেক পার্কে চালু ৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই কল সেন্টার পরিচালনা, ডিজিটাল বিপণন, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে।
পার্কে সফটওয়্যার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ছয়টি। সেগুলো হলো মাইক্রো ড্রিম আইটি, টেকনোসফট বাংলাদেশ, সফট এক্স টেকনোলজি, ডেসটিনি আইএনসি ডট, সেমিকোলন আইটি ও অংশ ইন্টারন্যাশনাল।

সেমিকোলন আইটির সহপ্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মাহমুদ হীরা বলেন, ‘এখানে সফটওয়্যার উৎপাদন করে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ কলসেন্টার। কলসেন্টারগুলো কি দেশের প্রযুক্তি খাতকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবে?

‘প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের কোনো প্রণোদনা নেই। এ জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বাড়ছে না।’

যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি উদ্বোধন করা হয়। ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হয় পার্কটি।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন

দুপুরে দোকানে তর্ক, সন্ধ্যায় নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

দুপুরে দোকানে তর্ক, সন্ধ্যায় নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নিহত মঞ্জুরুল হাসান লিখন। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার দুপুরের দিকে শহরের হকার্স মার্কেটের সামনে ফলের দোকানে আম কিনছিলেন লিখন। আমের দাম নিয়ে দোকানি শরিফ মিয়ার সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। আম কিনে বাড়িতে রেখে আবারও তিনি ওই দোকানে যান। আবারও দোকানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়।

গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তের হামলায় মঞ্জুরুল হাসান লিখন নামের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।

জেলা বিএনপি অফিসের সামনে বুধবার সন্ধ্যার দিকে হামলা হয় তার ওপর। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক-তদন্ত) আব্দুর রউফ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

লিখন গাইবান্ধা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি শহরের পশ্চিমপাড়ায়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, বুধবার দুপুরের দিকে শহরের হকার্স মার্কেটের সামনে ফলের দোকানে আম কিনছিলেন লিখন। আমের দাম নিয়ে দোকানি শরিফ মিয়ার সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। আম কিনে বাড়িতে রেখে আবারও তিনি ওই দোকানে যান। আবারও দোকানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়, যা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। আশপাশে থাকা লোকজন সেটি মীমাংসা করে দেন।

এরপর সন্ধ্যার দিকে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখানে কয়েকজন লিখনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে ওই দোকানি শরীফকে চিনতে পারেন বলে জানান পুলিশকে।

গুরুতর আহত লিখনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওসি মাসুদুর জানান, লিখনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফিরিয়ে দেয়া ঘরে সমস্যা নেই, আপত্তি দূরত্বে
উপহারের নির্মাণাধীন ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ 
ধসে পড়ছে দেখেও প্রতিনিধি দলের মূল্যায়ন, ‘অনিয়ম হয়নি’
পরিদর্শনে ঘরে অনিয়মের চিত্র উঠে আসছে কি?

শেয়ার করুন