বাল্কহেডের ধাক্কায় কোরবানির গরু নিয়ে ডুবল ট্রলার

বাল্কহেডের ধাক্কায় কোরবানির গরু নিয়ে ডুবল ট্রলার

মাওয়া নৌ ফাঁড়ির পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, ২৪টি জীবিত ও ১টি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ৬টি পশু।

লৌহজংয়ের শামুর বাড়ি এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় কোরবানির ৩১টি পশু নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২৪টি জীবিত ও একটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়। বাকি ছয়টি গরু নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রাশেদ মিয়া জানান, ফরিদপুর থেকে কোরবানির পশু নিয়ে ট্রলারটি রাজধানীতে যাচ্ছিল। লৌহজংয়ের শামুর বাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি পদ্মায় ডুবে যায়।

ট্রলারে থাকা লোকজন ওই সময় ২৪টি গরুর রশি কাটতে পারায় সেগুলো সাঁতরে পাড়ে উঠে আসে। পরে মৃত অবস্থায় একটি গরু উদ্ধার করা গেলেও ৬টি পশুসহ ট্রলারটি ডুবে গেছে।

দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা চার গরু ব্যবসায়ীও আহত হয়েছেন। তাদের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাট বালিগাঁও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, ছয়টি গরুসহ ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারে কাজ চলছে। বালুবাহী বাল্কহেডটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার গোখরা সাপের ৮টি বাচ্চাকে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।

উপজেলার পশ্চিমে পাহাড়ি বনে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে হাটহাজারীর সরকার হাটের বালুরটাল নামক এলাকার একটি বাসা থেকে গোখরা সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে বন বিভাগের রিজার্ভ ফরেস্টে বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করা হয়।’

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

নীলফামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য কেনা বাবদ ১৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দেশের চার জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তার জন্য সরকার ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দ হয়েছে চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে গো-খাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা ও শিশুখাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে মোট চার হাজার শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাবারের প্রতিটি প্যাকেটে আছে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি দেশি মসুরের ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুঁড়াসহ মোট আট ধরনের খাবার ও মসলা।

মন্ত্রণালয় জানায়, চার সদস্যের একটি পরিবার প্রতিটি প্যাকেটের খাবার অন্তত এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারবে। বরাদ্দ করা টাকা ও খাবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

শিশুখাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, মসুর ডাল, সাগু, ফার্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইং ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেড ফুডসহ খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গো-খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ভুসি, খৈল, চালের কুঁড়া, চিটাগুড়, খড়সহ মানসম্মত রেডিমেড ফুড স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত বিতরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ছবি: সংগৃহীত

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য জানানোর কথা থাকলেও আসেননি শিক্ষক ফারহানা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি না আসায় বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও খোলা হয়নি। আগামীকাল (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে এটা খোলা হবে এবং উপস্থিত সিন্ডিকেট সদস্যদের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে তার (ফারহানা) বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তিন দফায় তদন্ত কমিটি ডাকার পরও না এসে তিনি সময় চেয়ে বসেন। প্রথমে তাকে আর সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত না থাকলেও তিনি বার বার ইমেইলে সময়ের আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে আজ (বৃহিস্পতিবার) দুপুর ১টায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নতুন সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবুও তিনি আসেননি।

‘প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমরা আজ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে সেটি উন্মোচন করা হবে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে ওই সভাতেই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ভবনে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আব্দুল লতিফ।

এ বিষয়ে শিক্ষক ফারহানাকে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহমুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

তিস্তায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাবাসী। মাত্র এক দিনের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির অভাব ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। আবার পানি কমলেও ঘরে ফিরতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। ফলে গবাদিপশুসহ সড়কে ও বাঁধে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

চরইশরকুল গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার আইত (রাত) থাকি হু-হু করি পানি ঢুকি হামার সোগে তলে গেইছে। সারা আইত ছাওয়াপোয়া নিয়্যা চৌকির ওপর বসি থাকা লাগছে। পরের দিন বাড়ি ছাড়িয়া বাঁধোত চলি আসছি। আন্নাবান্না (রান্না) নাই, খাওয়া নাই। যে একনা চিড়া-মুড়ি দিয়ে, তা এক দিনে শ্যাষ হইচে।’

চর ইচলী গ্রামের হযরত আলী জানান, টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় একটু পানি যে খাবেন সে উপায়ও নেই। অনেক দূরে অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়। বেশি যাওয়াও যায় না, মানুষ খারাপভাবে নেয়। এ জন্য কম করে পানি খাচ্ছেন।

চর ছালাপাক মহিষাশুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আস্তাঘাট সোগ শ্যাষ। পানিত ভাসি গেইচে। গোটায় আস্তাত কাদো (কাদা), ট্যাং পিচলি পিচলি যায়। হাঁটা যায় না।’

একই গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, ‘পানিতবন্দি হয়া খুব কষ্টোত আছি। শুকনা জায়গাও নাই যে সেটে উঠমো। কী খামো, কোটে যামো, ভাবি পাওচি না।

‘এ্যালাও হামার খোঁজখবর নেবার জনতে কায়ো আইসে নাই। সারা বছর হামার কষ্ট লাগি থাকে। এমন হঠাৎ করি অসময়ে ভারত পানি ছাড়লে হামাক তো ডুবি মরা লাগবে।’

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, চল্লিশ সাল, শংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, মধ্য ইচলী ও বাগেরহাট এলাকায় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে ২৪০টি পরিবারের বাড়িঘর। ইউনিয়নে প্রায় ৩০০টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে মাছ। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ পরিবারের আসবাবপত্র, মালপত্র ও গৃহপালিত পশুপাখি ভেসে গেছে।

কোলকোন্দ ইউপির চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, ইউনিয়নের মটুকপুর, উত্তর চিলাখাল, মধ্য চিলাখাল, বিনবিনা, খলাইর চর, শখের বাজার, আবুলিয়া, সাউদপাড়া ও আলেকিশামত গ্রামের ৩৯০টি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে বুধবার রাত থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে গতকালের (বুধবার) বন্যায় উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমন, ৩০ হেক্টর বাদাম, ৩৫ হেক্টর জমির মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

গাড়িচাপায় গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রাণ

গাড়িচাপায় গেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের প্রাণ

সাজ্জাদ হোসেন ফয়সাল। ছবি: সংগৃহীত

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, ‘সাজ্জাদ দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে মোটরসাইকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে যাচ্ছিলেন। সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপো এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গাড়িচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন ফয়সাল নিহত হয়েছেন।

বুধবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির বিএম কনটেইনার ডিপোর সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সাজ্জাদ খাগড়াছড়ির রামগড় বাজার এলাকার আবদুল মান্নান হোসেন চৌধুরীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পোর্ট সিটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাজ্জাদ দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে মোটরসাইকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে যাচ্ছিলেন। সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপো এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’

মহাসড়কের আশপাশের লোকজন জানান, দুর্ঘটনা বুঝে ওঠার আগেই দ্রুতগতিতে চলে যাওয়ায় গাড়ির ধরন জানা যায়নি।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে ফুটপাত দখল: ১৬ জনকে জরিমানা

ফরিদপুরে ফুটপাত দখল: ১৬ জনকে জরিমানা

বোয়ালমারী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও রেজাউল করিম জানান, অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে তিনটি অটোরিকশা ও ছয়টি মোটরসাইকেলের চালককে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া পৌরবাজারের ফুটপাত দখল করায় সাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদরের চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম অভিযান পরিচালনা করেন।

ইউএনও রেজাউল করিম জানান, অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে তিনটি অটোরিকশা ও ছয়টি মোটরসাইকেলের চালককে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া পৌরবাজারের ফুটপাত দখল করায় সাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বোয়ালমারী চৌরাস্তা এলাকায় যত্রতত্র পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে তীব্র যানজটে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সড়কে গাড়ি পার্কিং এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাতে মালামাল রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলায়।

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন

বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ গেল গৃহবধূর

বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ গেল গৃহবধূর

মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি স্ত্রী ও বাচ্চাসহ বাসা থেকে অটোরিকশায় করে মার্কেটে যাওয়ার উদ্দেশে বের হই। মার্কেটে যাওয়ার সময় মীরের বাজার এলাকায় আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস আমাদের অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়।’

গাজীপুর সদর থানার মীরের বাজারে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তাহমিনা নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্বামী মিরাজ হোসেন ও মেয়ে মেহেরিমা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। এসময় তাহমিনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

স্বামী মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি স্ত্রী ও বাচ্চাসহ বাসা থেকে অটোরিকশায় করে মার্কেটে যাওয়ার উদ্দেশে বের হই। মার্কেটে যাওয়ার সময় মীরের বাজার এলাকায় আসলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস আমাদের অটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে আমরা তিনজনই আহত হই। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি গাজীপুর সদর থানার হায়দরাবাদ এলাকায়। তবে কোন বাস আমাদের ধাক্কা দিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানি না।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বাকী দুইজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মেঘনায় ট্রলার ডুবে, নিখোঁজ নারী
নিষেধাজ্ঞাতেও পদ্মা পাড়ি, চলছে উদ্ধার অভিযান
কীর্তনখোলায় মুসল্লিবাহী দুটি ট্রলারডুবি
ট্রলার ডুবির তৃতীয় দিনে এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার
মধুমতিতে ট্রলারডুবি: খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিকের

শেয়ার করুন