আ. লীগের নেতার বিরুদ্ধে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ

আ. লীগের নেতার বিরুদ্ধে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ

ফেনী শহরের একটি পুকুর থেকে গরু ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শাহজালালের স্বজন আল আমিন জানান, স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম গরুবোঝাই ট্রাকটি ছিনতাই করার চেষ্টা করলে শাহজালালসহ তার তিন থেকে চার সহযোগী বাধা দেন। তখন ঘটনাস্থলে গোলাগুলি হলে নিখোঁজ হন শাহজালাল। পরে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে একটি পুকুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেনী শহরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মো. শাহজালাল নামের গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ফেনী শহরের সুলতানপুরে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহজালালের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার সাগুলি গ্রামে।

অভিযুক্ত স্থানীয় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে আটকের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার নুরুন্নবী।

শাহজালালের স্বজন আল আমিন জানান, গত বছরের মতো এবারও কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গরু বিক্রি করার জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে শাহজালালসহ ১০ ব্যবসায়ী ফেনীতে আসেন। গরুবোঝাই ট্রাকটি শহরের সাহেব বাড়িতে ঢোকার সময় স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম তার পিছু নেন।

ওই সময় আবুল কালাম গরুবোঝাই ট্রাকটি ছিনতাই করার চেষ্টা করলে শাহজালালসহ তার তিন থেকে চার সহযোগী বাধা দেন। তখন ঘটনাস্থলে গোলাগুলি হলে নিখোঁজ হন শাহজালাল। পরে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে একটি পুকুর থেকে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এসপি খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, প্রাথমিক তদন্তে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম জড়িত। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রক্তমাখা পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

এরই মধ্যে সাগর নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার মূল কারণ জানা যায়নি। সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এ বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ‘গরু ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের বিষয়টি আমি শুনেছি। সে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এছাড়া আমি যদি তার খোঁজ পাই অথবা সে যদি আমার কাছে আসে আমি তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করবো।’

এসপি নুরুন্নবী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এসপি।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন নিয়ন্ত্রণে

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন নিয়ন্ত্রণে

ফাইল ছবি

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার দেওয়ান আজাদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। আগুন নেভানো শেষ হলে তদন্ত করে বিষয়টি জানানো হবে।’

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার দেওয়ান আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সম্পূর্ণভাবে নেভানোর কাজ এখনও চলছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করে।’

তিনি আরও বলেন, তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। আগুন নেভানো শেষ হলে তদন্ত করে বিষয়টি জানানো হবে।’

ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

শনিবার রাত ১০ টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট যোগ দেয়। পরে আরও ৪টি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে ধর্মীয় উস্কানি ও গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার শোভন কুমার দাস। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, গত ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শোভন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত। শিগিগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।  

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানি ও গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে যশোরে।

সদরের বকচর হুশতলা এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেলে তাকে আটক করে র‍্যাব।

পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে যশোর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম শোভন কুমার দাস। ২৭ বছরের শোভনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার দুপুরে এসব নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব যশোর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লে. মো. নাজিউর রহমান।

এতে বলা হয়, গত ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শোভন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত। শিগিগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

বিবিএসের মজুরি সূচকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে দেশে শ্রমিকদের গড়ে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। মঙ্গাকবলিত উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের মজুরি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি – ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর কম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে যে অঞ্চলে, সেই সিলেট বিভাগে – ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকরা এ তথ্যের সঙ্গে একমত নন।

মহামারি করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমিকদের মজুরিতে। গত তিন মাস ধরেই বাড়ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক মজুরি।

তবে অবিশ্বাস্য তথ্য হচ্ছে, রংপুরে মজুরি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে সবচেয়ে কম।

সরকারি হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের গড়ে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ্রমিক ও দিনমজুররা গড়ে ১০০ টাকা মজুরি পেলে এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পেয়েছেন ১০৫ টাকা ৯১ পয়সা।

দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে একসময়ের মঙ্গাকবলিত উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের শ্রমিক-দিনমজুরদের মজুরি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে – ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আর কম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে যে অঞ্চলে, সেই সিলেট বিভাগে – ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে হিসাব দিচ্ছে, তাতে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই রংপুর অঞ্চলের শ্রমিক ও দিনমজুররা অন্য বিভাগের শ্রমিক ও দিনমজুরদের চেয়ে বেশি মজুরি পাচ্ছেন।

তবে অর্থনীতির গবেষক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এ তথ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কেউ বিশ্বাস করবে না।’

নিউজবাংলাকে সেলিম রায়হান বলেন, ‘ঢাকার চেয়ে রংপুরের শ্রমিক-দিনমজুররা বেশি মজুরি পান, এটা কীভাবে সম্ভব? বিবিএসের গবেষণা পদ্ধতিতেই গোলমাল আছে। প্রথম কথা হচ্ছে, এই মহামারিতে কোনো শ্রমিক-দিনমজুরেরই মজুরি বাড়েনি; তারপর আবার রংপুর বিভাগের দিনমজুর-শ্রমিকদের মজুরি বেশি বেড়েছে, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায় থেকে যে তথ্য পাই, সেটাই প্রকাশ করি।’

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও তছনছ হয়ে যায়; পাল্টে যায় সব হিশাব-নিকাশ। যার প্রভাব পড়ে মজুরি সূচকে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বৃহস্পতিবার মজুরি সূচকের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত সেপ্টেম্বরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে দিনমজুর-শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দুই মাস আগস্ট ও জুলাইয়ে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮০ ও ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের শেষ দুই মাস জুন ও মে মাসে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গড় মজুরি সূচক ছিল ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা খানিকটা কমে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আরও কমে ৬ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে আসে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই সূচক ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়ায়। আগস্ট মাসে তা সামান্য বেড়ে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশে ওঠে। সেপ্টেম্বরে আরও খানিকটা বেড়ে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতির পরিভাষায়, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হলে কারও কাছে হাত পাততে হয় না। নিজেদের ক্রয়ক্ষমতা দিয়েই বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কেনা যায়।

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

বিবিএসের হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব ধরলে, দিনমজুরদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার থেকে বেশি দামে তাদের পণ্য কিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং কর্মহীন হয়ে যাওয়া গরিব মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সহায়তা কর্মসূচি নিতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি সূচকের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থনীতি শাস্ত্রের কোনো যুক্তিতেই বিবিএসের মজুরি হার বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। সাধারণত যখন শ্রমিকের চাহিদা বাড়ে, সরবরাহ কম থাকে, তখন মজুরি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই মহামারির সময়ে শ্রমিকের চাহিদা বেশ কমেছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে বেকারের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাহলে মজুরি বাড়ল কোন ভিত্তিতে?

‘মজুরি যদি বাড়ত, তাহলে এই করোনাকালে সরকারকে এত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হতো না। বিবিএস হয়তো অতীতের মজুরি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে এই তথ্য দিয়েছে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।’

বিবিএস প্রতি মাসে কৃষিশ্রমিক, পরিবহন কর্মী, বিড়িশ্রমিক, জেলে, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য সংগ্রহ করে মজুরি হার সূচক তৈরি করে। এসব পেশাজীবীর মজুরি খুব কম এবং দক্ষতাও কম। শুধু দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পান বা নগদ টাকার পরিবর্তে অন্য সহায়তা পান, তার ভিত্তিতে কোন মাসে মজুরি হার কত বাড়ল, তা প্রকাশ করে বিবিএস। অথচ করোনায় এসব শ্রমিকই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরো যে ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য নেয়, তার মধ্যে ২২টি শিল্প খাতের এবং ১১টি করে কৃষি ও সেবা খাতের পেশা। বেতনভোগী কিংবা উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের বিবিএসের মজুরি সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

করোনাকালে মজুরির হার বাড়ল কীভাবে – এই প্রশ্ন জাতীয় মজুরির হার সূচক তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবিএসের জাতীয় আয় শাখার একাধিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা নিউজবাংলাকে বলেন, মাঠপর্যায়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, এর ভিত্তিতে মজুরি সূচকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

করোনাকালে দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে অতি গরিব, গরিব, গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষ এবং গরিব নয় এমন মানুষের দৈনিক আয় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে গরিব মানুষের আয় ৭৫ শতাংশ ও অতি গরিবের আয় ৭৩ শতাংশ কমেছে। আয় কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে ২৩ শতাংশ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে।

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

মহামারিতে দারিদ্র্য দ্বিগুণ বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে বলে গত জানুয়ারিতে হিসাব দিয়েছিল সানেম।

আরেক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাবে, করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ। করোনাকালে আয়বৈষম্যও বেড়েছে বলে মনে করে সিপিডি।

গবেষণা সংস্থাগুলোর গবেষণা প্রতিবেদনে করোনাকালে সমাজের সবচেয়ে নিচে থাকা মানুষের আয় বা মজুরি কমার তথ্য উঠে এলেও বিবিএসের জাতীয় মজুরি হার সূচকে উল্টো চিত্র দেখা যায়। সে জন্য সরকারি সংস্থাটির তথ্য-উপাত্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বরাবর প্রশ্ন ওঠে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশই এ খাতে নিয়োজিত। আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে।

অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। শিল্প খাতের ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খাতের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত।

কোন বিভাগে মজুরি কত বাড়ল

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭২ ও ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে মজুরি বাড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৮১ ও ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রাজশাহীতে সেপ্টেম্বরে মজুরি বাড়ার হার ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ; জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

রংপুরে সেপ্টেম্বরে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগস্টে বেড়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ; জুলাইয়ে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি সূচকের হার ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭৪ ও ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

খুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাই মাসে বেড়েছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫৪ ও ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

আর সিলেট বিভাগে সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি সূচকের হার ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ; জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

স্থানীয়রা জানান, আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু জাফর শরীফ নামের এক যুবক চাচাতো ভাইদের হাতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের গুড়িয়া গ্রামে শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ৩৮ বছর বয়সী আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

জাফরের ভাই তোফাজ্জেল শরীফ বলেন, ‘চাচাতো ভাই জামাল শরীফ ও আবুল শরীফের কাছে আমার ভাই জাফর কিছু জমি বিক্রয় করে। সেই জমি দলিল করার সময় তারা ভেন্ডারের মাধ্যমে বাড়ির দাগের জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সবকিছু জেনে আবু জাফর বাড়ির দুই পরিবারের লোকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন চাচাতো ভাইয়েরা জাফরকে তাদের ঘরের নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাফরকে বৈঠকের রুমে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্যরঞ্জন খাসকেল এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

ফাইল ছবি

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

শনিবার রাত ১০টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে ফরহাদ হোসেন প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হোসেন ইমরান। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাজির হোসেন ইমরান বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে ইমরান ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব তাকে আটক করে।

এরপর র‍্যাব তাকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, 
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বিল্লাল হোসেন। তার দাবি, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। আর এর আগে তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তবে মানববন্ধনে বক্তারা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে অর্থের মাধ্যমে হাত করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের মদদপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠেছেন।

এভাবেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিল্লালকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। এখন রাজাকারের ছেলে যদি নৌকা প্রতীক পান তবে আওয়ামী ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিল রাজাকার মোহাম্মদ আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সাথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে সে।

‘সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পায়তারা করছে।’

রাজাকারের সন্তানের পরিবর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন ও মাসুদুর রহমান রাজু।

অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন জানান, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। সে সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ছড়িয়ালা আজিজ। পরে সভাপতি হন মৌলভী আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ভোটের মাধ্যমে জিতে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আমি এরশাদের সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এর আগে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলাম।’

তবে বিল্লাল হোসেন যাদের রাজাকার কমান্ডার বলছেন কীসের ভিত্তিতে বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ
অটোরিকশার চালক হত্যায় যুবক জেলে
বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ
গুলিতে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’
গাজীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন