পশুর হাটের তোরণ দেখে থানায় ক্রেতারা

পশুর হাটের তোরণ দেখে থানায় ক্রেতারা

টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে পশুর হাটের তোরণ। ছবি: নিউজবাংলা

হাটের নির্ধারিত স্থানের বাহিরে তোরণ টানানো হয়েছে। এই তোরণের নিচ দিয়ে প্রতিনিয়ত থানায় ঢুকতে হচ্ছে। অনেকেই তোরণ দেখে ভুলপথে হাট ভেবে থানায় আসছে। পরক্ষণেই তারা ভুল বুঝতে পেরে রাস্তা পরিবর্তন করছেন।

কোরবানির ঈদের বাকি আর পাঁচ দিন। এর আগেই কিনতে হবে পছন্দের পশু। তাই হাটে বাড়ছে ক্রেতার সমাগম।

শহরে বা গ্রামের হাটের মুখে সাধারণত থাকে বড় বড় তোরণ। এসব তোরণ দেখে দূর থেকেই বোঝা যায় হাটের অবস্থান।

কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি থানার সামনে বসানো হয়েছে হাটের তোরণ। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। ভেতরে ঢুকে ভুল বুঝতে পেরে অনেকেই এভাবে তোরণ দেয়ার সমালোচনা করছেন। তোরণটি নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছে পুলিশ সদস্যরাও। তবে হাটের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা বলছেন, ওইখানে বরাবরই বসানো হয় তোরণ।

টঙ্গীর মেঘনা রোডে ১ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হাট এটি। এই হাটে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রবেশ পথে টানানো হয়েছে একাধিক তোরণ। এর মধ্যে একটি তোরণ টানানো হয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে। এই তোরণ টানানোয় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানা কমপ্লেক্স। মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট দূরেই থানা কমপ্লেক্সের অবস্থান। থানায় প্রবেশের পথেই বাঁশের তৈরি একটি বিশাল তোরণ টানানো হয়েছে। হাটের নির্ধারিত স্থানের বাইরে টানানো হয়েছে তোরণটি। তোরণের ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত গরু ছাগলের বিরাট হাট’।

তবে ব্যানারে হাটের ইজারাদারের কোনো নাম নেই। আর এই তোরণের নিচ দিয়েই থানায় প্রবেশ করতে হয় থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়ি ও সেবা প্রত্যাশীদের।

উত্তরা থেকে টঙ্গীতে আসেন আব্দুল হক। তার সঙ্গে ছিলের আরও কয়েকজন। তারা তোরণ দেখে ভেতরে ঢোকেন। পরে থানার সাইনবোর্ডে নজরে আসলে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তাদের বলতে শোনা যায়, এভাবে কেউ তোরণ টাঙায়? পশুর হাট না নাকি থানা তা বোঝার উপায় নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হাটের নির্ধারিত স্থানের বাহিরে তোরণ টানানো হয়েছে। এই তোরণের নিচ দিয়ে প্রতিনিয়ত থানায় ঢুকতে হচ্ছে। অনেকেই তোরণ দেখে ভুলপথে হাট ভেবে থানায় আসছে। পরক্ষণেই তারা ভুল বুঝতে পেরে রাস্তা পরিবর্তন করছেন। হাটের তোরণটি ভুল জায়গায় বসানোর কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘থানার পাশ ঘেঁষেই হাটের স্থান নির্ধারণ করেছে সিটি করপোরেশন। তারাই তোরণ নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের কী করার আছে। তবুও আমরা বিষয়টা নিয়ে হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি টঙ্গী) পিযুষ কুমার দে বলেন, এ বিষয়টি ওসিকে দেখভাল করতে নির্দেশ দিয়েছি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটের ইজারাদার নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে হাট ইজারা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধুম্রজাল। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে হাটে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে ইজারাদার ঠিক না হওয়ায় হাসিল আদায় নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাটের দায়িত্বে থাকা ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে আমরা হাট প্রস্তুত করেছি। মৌখিকভাবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে এখনও লিখিত কোনো কাগজ দেয়া হয়নি। আগামীকাল (শুক্রবার) সকালে ইজারার কাগজ হাতে পাব বলে আশাবাদী।

থানার সামনে হাটের তোরণ টানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবছরই ওই জায়গায় হাটের তোরণ টানানো হয়। তাই এ বছরও সেখানে তোরণ টানানো হয়েছে।

এসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনের টঙ্গী জোনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সোহরাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বলেন, ‘হাট ইজারার বিষয়টি মেয়র মহোদয় জানেন। আমি এ বিষয়ে অবগত নই।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য