× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
চট্টগ্রামে ট্রাকচাপায় নিহত ১  
google_news print-icon

চট্টগ্রামে ট্রাকচাপায় নিহত ১  

চট্টগ্রামে-ট্রাকচাপায়-নিহত-১- 
নিহত ব্যক্তির নাম আবু সৈয়দ নূর। তিনি উপজেলার দক্ষিণ গুয়াকপঞ্চক এলাকার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ট্রাকচাপায় ৫৫ বছরের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় বুধবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবু সৈয়দ নূর। তিনি উপজেলার দক্ষিণ গুয়াকপঞ্চক এলাকার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে।

আনোয়ারা থানার পরিদর্শক সৈয়দ ওমর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গুয়াপঞ্চক দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় ইটবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবু সৈয়দ নূর। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও, জব্দ করা হয় ট্রাকটিকে। আর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান আনোয়ারা থানার পরিদর্শক।

আরও পড়ুন:
নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় নিহত ১
মেয়ের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই মা নিহত
ট্রাকের চাকায় প্রাণ গেল গৃহবধূর
কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় নিহত ১
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল তরুণ প্রকৌশলীর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
Teesta boat capsizing Four members of a family still missing

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন

তিস্তায় নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ এক পরিবারের চারজন নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদী‌তে নৌকাডু‌বির ঘটনায় চার শিশুসহ ছয় যাত্রী নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে। তারা সবাই উলিপুর উপ‌জেলার প‌শ্চিম বজরার বা‌সিন্দা। এদের মধ্যে এক পরিবারেরই রয়েছে চারজন।

নি‌খোঁজদের উদ্ধা‌রে তল্লা‌শি চালা‌চ্ছে ফায়ার সা‌র্ভি‌সের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত অ‌ভিযান চা‌লি‌য়ে তাদের কা‌রও সন্ধান পা‌য়নি ডুবু‌বিরা।

নৌকাডু‌বির ঘটনায় ওই এলাকার আজিজুর রহমা‌নের মেয়ে আয়েশা সি‌দ্দিকা না‌মের এক শিশুর মর‌দেহ উদ্ধার করা হ‌য়ে‌ছে।

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম।

স্থানীয় ও নিখোঁজদের স্বজন‌দের দা‌বি, নৌকার যা‌ত্রী ৩০ বছর বয়সী আনিছুর রহমান, তার স্ত্রী রুপা‌লি বেগম, তাদের বছরের মেয়ে আইরিন, ভা‌গ্নী ৯ বছরের হিরা ম‌নি; কয়জন আলীর আড়াই বছ‌রের মেয়ে কুলসুম এবং আজিজু‌র রহমানের ৫ বছরের ছে‌লে শা‌মিম হো‌সেন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে।

বেঁচে ফেরা নৌকার যা‌ত্রী আমিনা বেগম জানান, তার মা ও ভাতি‌জাসহ প‌রিবা‌রের চার সদসদ‌্য দাওয়া খেতে যা‌চ্ছি‌লেন। প‌থে তিস্তার খরস্রোতে তা‌দের বহনকারী নৌকা‌টি ডু‌বে যায়। তা‌রা কোনোমতে সাতঁ‌রিয়ে তীরে উঠতে পারলেও তার ভা‌তি‌জা শামিম হোসেন ডুবে যায়।

শ‌রিফা বেগম নামের আরেক যাত্রী জানান, নৌকাডু‌বির সময় তার আড়াই বছ‌রের শিশু কুলসুম খাতুন নদী‌তে পড়ে নি‌খোঁজ রয়েছে। তিনি বর্তমানে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

কু‌ড়িগ্রাম ফায়ার সা‌র্ভি‌সের সি‌নিয়র স্টেশন অ‌ফিসার শ‌রিফুল ইসলাম ব‌লেন, ‘একই প‌রিবা‌রের চারজনসহ মোট ছয়জন নি‌খোঁজ র‌য়ে‌ছে এমন শোনা যাচ্ছে। তা‌দের ম‌ধ্যে চারজনই শিশু, যা‌দের বয়স ১০ বছ‌রের কম। আমা‌দের ডুবুরির দল কাজ ক‌র‌ছে। বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় কাজ কর‌তে বেগ পে‌তে হ‌চ্ছে।’

এর আগে, বুধবার সন্ধ‌্যায় প‌শ্চিম বজরা এলাকার তিস্তার সাদুয়া দামার হাট এলাকায় ২৬ জন যাত্রী নি‌য়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তারা সকলেই বিয়ের দাওয়াত ‌খে‌তে যা‌চ্ছি‌লেন। এর মধ্যে ১৯ জন নদী সাঁত‌রিয়ে তী‌রে উঠ‌তে পার‌লেও সাতজন নি‌খোঁজ হয়। প‌রে তল্লা‌শি চা‌লি‌য়ে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু, ৮ জন নিখোঁজের দাবি

মন্তব্য

সারা দেশ
Eight lakh people are stuck in water in Sunamganj

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি

সুনামগঞ্জে আট লাখ মানুষ পানিবন্দি বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাতি হচ্ছে।

বুধবার রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরের পাড়া-মহল্লায় পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিত অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেসরকারি হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ ইউনিয়নের অন্তত আট লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদী পাড়ের পৌর কিচেন মার্কেট থেকে পানি নেমেছে, তবে সবজি বাজারে কিছুটা পানি রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন পাড়া, শান্তিব্গা, ধোপাখালী, বাঁধনপাড়া, বলাকা, মোহাম্মদপুর, ষোলঘর, পশ্চিম হাজীপাড়া, তেঘরিয়া, নবীনগর, কাজীর পয়েন্ট মল্লিকপু সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি জীপবযাপন করছেন।

শহরের সবকটি হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়ে সামর্থবান একতলার বাসিন্দারা সেখানে উঠেছেন। কেউ কেউ ক্লিনিকের কক্ষেও পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। বাজারে দুয়েকটা দোকান খোলা পাওয়া গেলেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দোকানীরা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রামীণ রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যার পানি উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুরে ১০-১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলায় বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৫ মিলিমিটার, লাউড়ের গড়ে ৬২ মিলিমিটার, ছাতকে ৬৫ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’

তবে সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কম হওয়ায় রক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

আরও পড়ুন:
টেকনাফে ২০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দশ হাজার মানুষ
ধলাই নদীর বাঁধে দুটি স্থানে ভাঙন, ডুবেছে ৪০ গ্রাম
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ

মন্তব্য

সারা দেশ
Erosion started in Yamuna spreading panic

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবিটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার পাটিতাপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন। বিগত ভাঙনের পর যেটুকু সম্বল বেঁচে ছিল, সেটিও ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙন কবলিত মানুষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া ও নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, পাটিতাপাড়া, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষেরা।

সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর ভাঙনরোধে খানুরবাড়ী, চিতুলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নামমাত্র নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সেগুলো এখন ধসে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলে। দরিদ্র পরিবারের বাড়ির সামনে জিও ব্যাগ ফেলা হয় না।

গত বছর ভাঙনের শিকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শুকনো মৌসুমে বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে নদীতে জেগে ওঠা চর কেটে ট্রাকযোগে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। যার কারণে নদীতে পানি এলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়।

আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু

গত বছর বন্যায় ভাঙনরোধে পাউবার ফেলা গাইড বাঁধের জিও ব্যাগ আনলোড ড্রেজারগুলোর কারণে ধসে যাচ্ছে। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা ও আধপাকা সড়ক, গাইড বাঁধ বসতবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, ছোটবড় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

পাটিতাপাড়ার ওমেছা, সুফিয়া ও কোরবান আলী বলেন, যমুনা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে, কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

তারা বলেন, গত বছর বসতভিটা ভেঙে যেটুকু থাকার জায়গা ছিল, সেটি এবারও চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কিছু দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বাড়া শুরু হয়েছে, কিন্তু ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভাঙনরোধে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে অবগত করাসহ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

টাঙ্গাইল জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ভূঞাপুরে ভাঙনের বিষয়টি ইউএনওর মাধ্যমে জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গোবিন্দাসী ও নিকরাইলের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার ইকোনোমিক জোনের কাজ শুরু হলে স্থায়ী বাঁধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জামালপুরে যমুনায় তীব্র ভাঙন শুরু, নির্ঘুমে এলাকাবাসী
ভাঙন রোধে ফুলছড়িতে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
অসময়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামবাসী
ভাঙনের কবলে কুশিয়ারার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
ভাঙনে যমুনায় মিশছে শাহজাদপুরের একের পর এক গ্রাম

মন্তব্য

সারা দেশ
Seasonal leather traders suffer losses in Naogaon

নওগাঁয় লোকসানে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা

নওগাঁয় লোকসানে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়ৎ বুধবার চামড়া বেচাকেনার দৃশ্য। ছবি: নিউজবাংলা
মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণের দাম বেশি এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় চামড়া লবণজাত করতে তাদের খরচ বেশি পড়েছে। আর বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে উত্তরের জেলা নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়তে শুরু হয়েছে চামড়া বেচাকেনা। ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে ২০ থেকে ৬০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কম রাখায় তাদের লোকসান করে বিক্রি করতে হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যানুসারে, জেলায় এ বছর ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৯টির মতো পশু কোরবানি হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়ৎ, যেখানে সপ্তাহের প্রতি বুধবার হাট বসে। সারা বছর এ হাটে কমবেশি চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে। তবে কোরবানির ঈদ-পরবর্তী সময়ে প্রচুর চামড়া বেচাকেনা হয়ে থাকে। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ আড়ৎ।

জেলায় দুটি চামড়া আড়ৎ রয়েছে, যার মধ্যে চাকরাইল একটি। যেখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা এবং ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনাবেচার জন্য আসেন।

তবে ঈদের পর বুধবার চামড়ার আড়তে বেচাকেনা জমে ওঠেনি। ঢাকা বা জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আড়তে গরুর চামড়ার সরবরাহ কম হলেও ছাগলের চামড়ার সরবরাহ হয়েছে বেশি। ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে বিক্রি করতে হয়েছে।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ বছর লবণের দাম বেশি এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় চামড়া লবণজাত করতে তাদের খরচ বেশি পড়েছে। আর বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় তাদের লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবছর এ আড়তে ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে প্রতি পিস ২০ থেকে ৬০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতিপিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না।

গত বছরের তুলনায় বস্তায় লবণের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতে খরচ বেড়েছে। এমতাবস্থায় চামড়া শিল্পকে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।

সাপাহার উপজেলা থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা গোলাম হোসেন বলেন, ‘মাদরাসায় এবছর ২২টি ছাগলের চামড়া পাওয়া গেছে। চামড়ায় লবণজাত করতে খরচ পড়েছে ৪৪০ টাকা। আড়তে বিক্রি করেছি ৩৪০ টাকায়। এরমধ্যে ২০ টাকা খাজনা দিয়েছি। এখন ভ্যান ভাড়া দিতে হবে ৩০০ টাকা।

‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে চামড়া সংগ্রহ করা মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।’

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার বলেন, ‘১৫০ পিস ছাগলের চামড়া কিনেছিলাম, যেখানে লবণজাত করতে খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। আড়তে বিক্রি করেছি ২২ শ টাকা। আর খাজনা দিয়েছি ১৮০ টাকা। লাভ করতে এসে লোকসান করে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণ করার উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।’

মহাদেবপুর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী সাহাদত হোসেন বলেন, ‘গত বছর প্রায় ১৩ লাখ টাকার চামড়া কিনেছিলাম, যা থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো লাভ হয়। এবছর প্রায় ৭ লাখ টাকার গরু ও ছাগলের চামড়া কিনেছি। এবার খরচ অনেক বেশি, তারপরও লাভ থাকবে ইনশাল্লাহ।’

চাকরাইল চামড়া আড়তের আহ্বায়ক ও জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী আড়ত হওয়ায় অনেকেই ব্যস্ত রয়েছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বাড়িতে চামড়া লবণ দিয়ে মজুত করে রাখায় আড়তে চামড়া সরবরাহ কম হয়েছে। ঈদের পর আড়তে ১৪ লক্ষাধিক টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। তবে আগামী বুধবার আড়তে চামড়া বেচাকেনা জমজমাট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন চামড়া ব্যবসায়ী আছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আমরা নিজেরা ইতোমধ্যে ৫০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করেছি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লবণ দিয়ে চাড়মা সংগ্রহ করে রেখেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের কাছে ওইসব চামড়া চলে আসবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গরু ও মহিষের চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ হাজার পিস এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১ লাখ পিস কেনা হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। এসব চামড়া ট্যানারিতে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘চামড়ার দাম ঠিক আছে। তবে যেসব চামড়া ছেঁড়া ও কাটা রয়েছে সেগুলোর দাম কম। ছাগলের চামড়া বেশি কাটাছেঁড়া হয়। তবে ভালো চামড়ার দাম ভালো আছে।’

তবে চামড়ার দাম অতিরিক্ত কম হওয়ার কারণে অনীহা রয়েছে বলে তিনিও স্বীকার করেন।

আরও পড়ুন:
ঈদ-পরবর্তী সাতদিন বাইরের চামড়া ঢাকায় ঢুকতে পারবে না
কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনায় সেই নৈরাজ্য
বকেয়ার আশায় দিন গুনছেন বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা
গরুর চামড়ায় বাড়ল ৩ টাকা
‘লেদারটেক বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী শুরু

মন্তব্য

সারা দেশ
Banvasi people of Sunamganj face food shortage in shelters

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এসে বন্যার পানি থেকে নিস্তার পেলেও খাবারের কষ্টে দিন কাটছে তাদের। ছবি: নিউজবাংলা
আশ্রয়কেন্দ্রে আসা কয়েকজন বলেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

আশ্রয়কেন্দ্রে এসে খাদ্য সংকটে পড়েছেন সুনামগঞ্জের বন্যার্তরা। শিশুদের নিয়ে মায়েরাও রয়েছেন কষ্টে। ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে কান্নাকাটি করছে শিশুরা।

বুধবার বিকেলে শহরের এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় থাকেন আরিফুলন্নেছা। তিনি বলেন, ‘ঘরে কোমর সমান পানি। গত কয়েকদিন বন্যার জন্য আমার গাড়িচালক স্বামীর রোজগার হয়নি। দুই দিন আগে এখানে এলেও কোনো সহায়তা পাইনি। রান্নাবান্না করারও সুযোগ নেই। কোনোরকমে দিন কাটছে আমাদের। আজ সকালে একজন এসে রুটি আর কলা দিয়ে গেছে।’

আরিফুলন্নেছার কথার সমর্থন জানালেন পাশে থাকা তাসলিমা। এসময় খাবারের জন্য ছোট্ট শিশু কান্নাকাটি করায় শাসন করছিলেন তিনি।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মিনা লাল, রিতা লাল, সাম, রাবেয়া, সাজন বলেন, মঙ্গলবার থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। কেউ আমাদের এখনও সাহায্য করেনি। হাতে টাকাও নেই, তাই কিছু কিনতেও পারছি না। আপনারা দয়া করে কিছু করুন।

আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য সংকটে সুনামগঞ্জের বানভাসী মানুষ

শান্তিবাগের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তি বলেন, ঘরে কোমর পানি। ঘরের জিনিসপত্র কিছু আসার সময় নিয়ে এসেছি, কিছু পাশের বাসায় রেখে এসেছি। অন্যান্য সব কিছু পানির নিচে।

এখানে বাথরুম ও খাবার পানির সুবিধা থাকলেও খাবার কষ্টে আছি আমরা। সরকারি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। মঙ্গলবার রাতে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। আজ (বুধবার) সকালে এক বোতল পানি ও নাটি বিস্কুট দিয়ে গেছে একজন।’

এদিকে তেঘরিয়ার বাসিন্দা সংবাদপত্র বিপণনকর্মী নুর হোসেন বলেন, ‘তেঘরিয়া মসজিদে আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের পাড়ার ২০ ঘর মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সহায়তা করতে আসেনি।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। যারা আশ্রয়কন্দ্রে এসেছেন সকলেই খাবার নিয়ে উঠেছেন। যারা খাবার নিয়ে ওঠেননি, তারা চাইলেই শুকনো খাবারসহ খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চল ও পৌর শহরে পানি বেড়েছে
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি সাত লাখ
শ্রীমঙ্গলে টিলা ধসে পুঞ্জির সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে বন্যায় ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

মন্তব্য

সারা দেশ
Kishoreganj Chhatra League president in sugar smuggling ring

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন (ডানে) ও নাজমুল হীরা। ছবি: সংগৃহীত
জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের বিরুদ্ধে চোরাচালানে সম্পৃক্ততা ছাড়াও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। আর চোরাচালান চক্রে জড়িত রয়েছে তার অনুসারীরাও।

ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে চিনি এনে দেশে বিক্রি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন ও তার স্বজন নাজমুল হীরার বিরুদ্ধে। হীরা নিজেও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলেন। সুমন-হীরা একা নন, তাদের অনুসারীরাও এই অপকর্মে জড়িয়েছেন। এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে।

সম্প্রতি চোরাচালানের চিনিসহ একটি ট্রাক আটক করে পুলিশ। ট্রাকটি সুমন ও হীরার ঘনিষ্ঠ একজন আনেন বলে খবর চাউর হয়। অথচ মামলার আসামি করা হয় ছাত্রলীগের অন্য এক নেতাকে। ওই নেতার দাবি- চোরাই চিনিবোঝাই ট্রাক ধরিয়ে দিতে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

দেশে প্রতি কেজি চিনির দাম ১৪০ টাকা হলেও ভারতে দাম ৫০ রুপির মতো। ফলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অনেকে চিনি নিয়ে এসে অবৈধভাবে দেশে বিক্রি করেন। সম্প্রতি সিলেট ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চিনি চোরাকারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

একই অভিযোগ এবার কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও। তাদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে মেসেজ আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

সুমনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

অনেক আগে থেকেই সুমন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে শহরের সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায়, টাকার বিনিময়ে উপজেলা কমিটির অনুমোদনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগ এনেছেন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাই।

দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম আসার পর সুমন বেশ বিত্তশালী হয়ে গেছেন। তার নির্মিত ডুপ্লেক্স বাড়িতে বিলাস আর খরচের ছাপ স্পষ্ট।

স্থনীয়রা জানান, শহরের একাধিক এলাকায় জমি কিনেছেন মোল্লা সুমন। এর একটি জমির দামই নাকি কোটি টাকার বেশি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্ত বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চিনি চোরাচালান চক্রে কিশোরগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতি
চিনি চোরাচালান নিয়ে হোয়াটঅ্যাপে মোল্লা সুমনের বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশট।

চোরাই চিনির ট্রাক ধরিয়ে দিয়ে মামলার আসামি

গত ১৪ জুন শুক্রবার সকালে ভারতীয় অবৈধ চিনিসহ একটি ট্রাক আটক করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও সহযোগীসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা হয়। মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে আছেন শহরের মনিপুরঘাট এলাকার রাতুল মিয়া ও পূর্ব তারাপাশা এলাকার মো. রাজিব। তারা ট্রাকের চালক ও সহযোগী।

অন্য দুজনের একজন হলেন মো. জনি, যিনি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অপরজন হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল জুবায়েদ খান নিয়াজ।

নিয়াজের দাবি, ট্রাকটি ধরিয়ে দিতে তিনিই পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জেলা শহরের তালতলা এলাকা থেকে চিনিভর্তি ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাকটি আটক করেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির।

সে সময় থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, চোরাই চিনি কারবারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরা দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য আছে। ছাত্রলীগ নেতা নিয়াজ তাকে ধরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন। তিনিই পুলিশকে চিনিবোঝাই ট্রাক আসার বিষয়ে তথ্য দেন।

তথ্য পেয়ে শহরের বড়বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। কিন্তু নাজমুল হীরা ও তার সহযোগীরা ট্রাকটিকে শহরের মোরগমহলে নিয়ে যান। সেখানে নিয়াজ ও তার অনুসারীরা অবস্থান নিলে হীরা ও তার সহযোগীরা সটকে পড়েন। আর চালক দ্রুতগতিতে ট্রাকটি নিয়ে শহরের তালতলা এলাকায় চলে যান।

তালতলা থেকে নিয়াজের সহযোগিতায় চালক ও সহযোগীসহ ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

সেদিন চোরাচালানটি ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে হীরা ঘুষের প্রস্তাব দেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

অথচ মামলার পর দেখা যায়, আসামির তালিকায় মোল্লা সুমন ও নাজমুল হীরার নাম নেই। পরিবর্তে সুমন ও হীরার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জনি নামের এক যুবককে মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে সহযোগিতা করে আসামি হয়েছেন নিয়াজও।

পুলিশ জানায়, ট্রাকটি এনেছিলেন জনি; তার আশ্রয়দাতা হলেন নাজমুল হীরা। ট্রাকটি যখন হীরার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখনই সহযোগিতার জন্য এসআই রুহুল আমিনকে ফোন করেন তিনি। হীরা জানান, নিয়াজ তাদের ট্রাকটি নিয়ে গেছেন। আর নিয়াজের কাছ থেকে ট্রাকটি উদ্ধারের উদ্দেশ্যেই ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়।

তাহলে নিয়াজ কীভাবে আসামি হলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের নাম দেয়া হয়েছে।’

‘নিয়াজ তো বলেছেন, তিনি সেদিন পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়েছিলেন’- সাংবাদিকের এই মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি। তদন্তে যদি কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়া যায়, তবে তাকে মামলা থেকে বাদ দেয়ারও সুযোগ রয়েছে।’

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘যারা চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

চোরাকারবারীদের সঙ্গে সুমনের বার্তা ভাইরাল

ভারতীয় অবৈধ চিনিবোঝাই ট্রাকটি আটকের পর চোরাকারবারীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন যেসব বার্তা আদান-প্রদান করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সুমন নিয়মিত খোঁজ রাখছেন কয়টা গাড়ি শহরে প্রবেশ করেছে এবং তাকে কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

একটি বার্তায় সুমন লেখেন, ‘কত করে কত দিনের দিছস?’ জবাবে তাকে বলা হয়, ‘ছয় দিনের ১০ করে।’ উত্তরে সুমন লেখেন, ‘তোরে না বলছি প্রতিদিন ১৫ করে দিতে?’

আরেকটি মেসেজে সুমন জানতে চেয়েছেন, ‘সকালে গাড়ি কয়টা এসেছে?’ জবাব আসে, ‘ওইদিকে ঝামেলা। কালকে দুইটা আসবে।’

সুমন ও হীরার প্রতিদিনের বখরা

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কিশোরগঞ্জ বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, প্রতিদিন কমপক্ষে দুটি ট্রাক বড়বাজারে প্রবেশ করত। কখনও আবার ৭টা থেকে ৮টাও আসত। রাস্তায় ঝামেলা থাকলে ট্রাক আসা বন্ধ রাখতেন তারা।

এই ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন যদি ২০ হাজার টাকা পান, তাহলে মাসে ছয় লাখেরও বেশি টাকা সুমনের ভাগে যুক্ত হয়েছে। বছরে সে হিসাবটা কোটি টাকার কাছাকাছি চলে যায়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের সঙ্গে একবার ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা হয়। চিনির ট্রাক আটকের ঘটনায় সে সময় তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় যদি আমার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ হবে। এতে তো কোনো সমস্যা নেই!’

তবে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের এই চোরাচালানে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘যারা চোরাই কারবারের জড়িত, তারা মূলত নামধারী ছাত্রলীগ। তারা কোনো পদ-পদবিতে না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও সুযোগ থাকে না।’

স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে বার বার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হীরার দাবি, মেসেজের স্ক্রিনশটগুলো সুমনের নয়।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এগুলো বানানো যায়। তাছাড়া মেসেজের কোথাও কি লেখা আছে যে, কিসের গাড়ি? বৈধ চিনির গাড়ি, নাকি অবৈধ চিনির গাড়ি?’

তারা নিকটাত্মীয়

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের আপন ভাগ্নে এই নাজমুল হীরা। তবে তাদের চলাফেরাটা বন্ধুর মতো। সুমনের ‘ডান হাত’ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত হীরা।

তাদের ঘনিষ্ঠরা জানান, সুমনের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ হীরাই করে থাকেন।

হীরার বাড়ি নেত্রকোণার মদন উপজেলার ফেকনী গ্রামে হলেও শৈশব থেকেই তার বেড়ে ওঠা মামার বাড়িতে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়সহ একাধিক মামলা রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ভারতীয় অবৈধ পণ্যভর্তি ট্রাকগুলো শহরে প্রবেশ করার আগে হীরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হীরা ‘সবুজ সংকেত’ দিলেই সেগুলো রওনা হয়।

তারা জানান, হীরা ও তার অনুসারীদের মোটরসাইকেল পাহারায় সেসব ট্রাক শহরের বড়বাজারে প্রবেশ করে। ট্রাকগুলো আনলোড হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তারা। রাস্তায় কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে ছাড়িয়ে আনার কাজটাও তারাই করে থাকেন।

তবে নাজমুল হীরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, ‘এ ঘটনায় যদি আমার সম্পৃক্ততা থাকত, তবে আরও আগেই শুনতেন। এগুলো মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে।’

তার দাবি, চোরাচালানে পুলিশ যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে।

অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি

শহরের বিভিন্ন সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে।

সংগঠনের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান নয়ন বলেন, ‘এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে জেলা ছাত্রলীগের নামে চাঁদাবাজি হয় না। স্ট্যান্ডগুলোতে ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার অনুসারীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের অত্যাচার ও মামলার হুমকি দেয়া হয়।’

তার দাবি, শহরের একরামপুর ও পুরানথানা- এ দুটি সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন হীরা।

তিনি জানান, সিএনজি অটো স্ট্যান্ডের জায়গা মালিকপক্ষ ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে দৈনিক ভিক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন নাজমুল হীরা। একেক দিন একেক লোককে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করে অটোরিকশা থেকে প্রতি ট্রিপে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে থাকেন তিনি।

প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি অটোরিকশা পুরানথানা ও একরামপুর থেকে চামটাঘাট ও বালিখলায় যায়। একরামপুর থেকে কিছু অটোরিকশা ভৈরব এবং গাজীপুরেও যায়। সে হিসাবে দিনে ১৫০ থেকে ২০০ অটোরিকশা চলে।

প্রতিদিন এভাবে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়, যা মাসে দাঁড়ায় চার লাখ টাকার মতো।

কমিটি গঠনে বাণিজ্য

২০২২ সালের ৫ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

পরদিন সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ। তারা জানায়- বিবাহিত, অছাত্র, বয়সোত্তীর্ণ ও মাদকাসক্তদের কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে।

একইদিন পাকুন্দিয়াতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে ছাত্রলীগের একাংশ। তাদের অনেকেই ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেন।

সেসময় পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. আরমিন দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার কথা বলে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হন।

তিনি বলেছিলেন, ‘বিবাহিত, অছাত্র, মাদকাসক্ত, বয়সোত্তীর্ণ, বিএনপি-জামায়াত পরিবার থেকে উঠে আসা সুবিধাবাদীদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে নেয়া হয়েছে। এটা উপজেলা ছাত্রলীগের কাঠমোকে দুর্বল করে দেয়ার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র।’

এ বিষয়ে তখন মৌনতা অবলম্বন করেন মোল্লা সুমন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিন সদস্যের জেলা কমিটির অনুমোদন দেন তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

কমিটিতে আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনকে সভাপতি, ফয়েজ ওমান খান সাধারণ সম্পাদক ও লুৎফর রহমান নয়নকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। সেই কমিটি পার করে চারটি বছর। শুরু থেকেই এই কমিটিকে মানতে নারাজ ছাত্রলীগের একটি পক্ষ।

জেলা ছাত্রলীগ নেতা হয়েও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

চার বছর আগে অর্থকষ্টে ভুগতেন সুমন। জেলা ছাত্রলীগে পদ বাগানোর পর থেকেই তার অর্থকষ্ট অর্থের প্রাচুর্যে রূপ নেয়। এখন তিনি বিপুল সম্পদের মালিক।

সুমনের বাড়ি সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে হলেও বর্তমানে থাকেন শহরের বয়লা এলাকায়। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পরই একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণে হাত দেন তিনি। সেই বাড়িটির নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ হয়েছে।

বয়লা এলাকা ছাড়াও সদর উপজেলার বৌলাই, নাকভাঙ্গা এলাকাতেও তিনি জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করে এবং একাধিকবার মেসেজ পাঠিয়েও মোল্লা সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
ববির আবাসিক হলে ছাত্রলীগের ভাঙচুর মারধরের অভিযোগ
সংঘর্ষের ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হল থেকে বহিষ্কার
রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর করে হলছাড়া, অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
ছাত্রলীগের সহসভাপতির নামে গরু ছিনতাইয়ের মামলা

মন্তব্য

সারা দেশ
Two teenagers drowned in flood water in Moulvibazar

মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
স্থানীয় বাসিন্দা লুতফুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কলাগাছের ভেলায় করে হৃদয় ও ছাদি তারা দুজন শ্যামেরকোনা এলাকায় চলে যায়। সেখানে কলাগাছের ভেলা ভেঙে গিয়ে ডুবে যায়।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো দুইজন হলো পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামের টাওয়ার রোডের জমির মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমেদ (১৭) ও পছন মিয়ার ছেলে ছাদি মিয়া (১২)।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি হারুনোর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লুতফুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কলাগাছের ভেলায় করে হৃদয় ও ছাদি তারা দুজন শ্যামেরকোনা এলাকায় চলে যায়। সেখানে কলাগাছের ভেলা ভেঙে ডুবে যায়। এই সময় তারা দুজন সাঁতার কাটতে কাটতে ডুবে গিয়ে কিছু দূর ভেসে ওঠে। পরে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, ‌‘বন্যার সময় আজ সকালে হৃদয় ও সাদি কলাগাছের ভেলা বানিয়ে খেলছিল। এ সময় তারা দুজন পানিতে ডুবে মারা যায়।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বিষাক্ত মদ পানে ২৯ মৃত্যু, অসুস্থ অর্ধশতাধিক
তিস্তায় নৌকা ডুবে শিশুর মৃত্যু, ৮ জন নিখোঁজের দাবি
কবি অসীম সাহা মারা গেছেন
রাজধানীতে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু
ভারি বর্ষণে এল সালভাদর ও গুয়েতেমালায় ১৩ প্রাণহানি

মন্তব্য

p
উপরে