ধর্ষণে অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুর বিয়ের তোড়জোড়

ধর্ষণে অভিযুক্তের সঙ্গে শিশুর বিয়ের তোড়জোড়

ওই শিশুর বোন বলেন, ‘রাইতেই আমরা থানায় যাইতে চাইছিলাম। কিন্তু বাচ্চু মণ্ডল মাদবর কইছে, আসো আমি দেখতাছি। পরে সালিশ-দরবার কইরা আমার বোনের লগে ছেলেটার বিয়ে ঠিক করে। আইজকা সকাল ১০টায় বিয়ার কথা আছিল। আমরা বিয়াতে রাজি হয় নাই। এখন আমার আব্বা-আম্মা ভয়ে বিয়াতে রাজি হইছিল। কিন্তু এখন ছেলেটারে পাওয়া যাইতেছে না।’

ঢাকার সাভারে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার সঙ্গে শিশুটিকে বিয়ে দেয়ার আয়োজন করেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যান কাজি। সেই যুবকও পলাতক।

আশুলিয়া থানা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বাচ্চু মন্ডল মার্কেট এলাকায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ওই শিশুর বোন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার আব্বায় রিকশা চালায়। আর আম্মা গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমি স্বামীরে নিয়ে পাশের বাসায় ভাড়া থাকি। আমার ১১ বছর বয়সের ছোট বোন কাইলকা রাত ১০টার পরে ঘরে একাই ছিল।

‘পাশের ঘরের একটা ছেলে ঘরে ঢুইকা আমার বোনের মুখ চাইপা ধইরা ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় আমার আব্বা চইলা আইসা ছেলেটারে ধইরা ঘরে আটকায় রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাইতেই আমরা থানায় যাইতে চাইছিলাম। কিন্তু বাচ্চু মণ্ডল মাদবর কইছে, আসো আমি দেখতাছি। পরে সালিশ-দরবার কইরা আমার বোনের লগে ছেলেটার বিয়ে ঠিক করে। আইজকা সকাল ১০টায় বিয়ার কথা আছিল। আমরা বিয়াতে রাজি হয় নাই। এখন আমার আব্বা-আম্মা ভয়ে বিয়াতে রাজি হইছিল। কিন্তু এখন ছেলেটারে পাওয়া যাইতেছে না।’

শিশুর বাবা বলেন, ‘আমরা মেয়ে নিয়া থানার দিকে গেছি। বাচ্চু মণ্ডল আটকাইছে। কইছে, আহো তোমাগো যেটা সংসার অহে কইরা দিমু। পরে ওরা রাইতে সালিশ কইরা বিয়া মিটাইল। কিন্তু আমরা বিয়াও দিমু না, জরিমানাও খামু না। মেয়ে তো বিয়ার উপযুক্ত হয় নাই। আমরা আইনানুগ বিচারের কথা কইছি।’

যার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, তার এক আত্মীয় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিচার বলতে আমি যখন আসি লাস্ট মুহূর্তে। কথা মোটামুটি তখন ফয়সালা শ্যাষ। এলাকার চাচা হিসেবে আমারে ডাকছে। তখন আমি রাজি হইছি। বিচারের রায়ে বিয়ে হবে ঠিক হইছিল।

‘বিচারে মেয়ের বাপ ও ভাই ছিল। ছেলেও রাজি ছিল বিয়ে করবে। পরে আমি বাসায় চইলা গেছি। ছেলেটা ওর চাচত ভাইয়ের সঙ্গে সারা রাত ছিল। সকালে হ্যার চাচত ভাইরে অফিসে গিয়া ছুটি আনার কথা কইয়া ছেলেটা চইলা গেছে গা।’

এ বিষয়ে স্থানীয় বাচ্চু মণ্ডল মাদবর বলেন, ‘আমি চাইছিলাম ১০ লাখ টাকার কাবিন কইরা কোর্টের অ্যাফিডেভিট কইরা অ্যাটা বিয়ার পরায় দেয়ার জন্য। এহন দুই পক্ষই রাজি আছিল। থানার পারমিশনের জন্য ফোন দিছিলাম ধরে নাই।

‘অগো জিম্মায় ছেলেটারে দিয়া গেছি যে, সকাল বেলায় বিয়া পরামু। কাজি আনছি। সে দেইখা পরিষ্কারভাবে বলছে, আমি বিয়া পরামু না ওইটা। কাজিরে পরে বিদায় কইরা দিছি, শ্যাষ।’

তবে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরও থানায় কেন জানানো হলো না, সে প্রশ্ন করা হলে তা তিনি এড়িয়ে যান।

এলাকার লোকজন স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দিলে তারা গিয়ে বিয়েতে বাধা দেন ও পুলিশে জানান।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শিশু ‘ধর্ষণের পর হত্যা’, যুবক রিমান্ডে
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: যুবকের যাবজ্জীবন
চিকিৎসকরা তো ব্যবসা নিয়ে পড়ে আছেন: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য