রূপগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড

আলামত, সাক্ষ্য ও ভিডিও পেয়েছে তদন্ত কমিটি

player
আলামত, সাক্ষ্য ও ভিডিও পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিচ্ছে তদন্ত কমিটি। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম ব্যাপারী বলেন, ‘আমরা ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করছি। এখানে যেসব বিষয়ে জানা যাচ্ছে সেটি রেকর্ড করা হচ্ছে। যারা যারা ওই দিন এখানে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় আগুনের ঘটনায় বিভিন্ন আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে তিনটি তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ৫২ শ্রমিকের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন।

স্থানীয়রা বলছেন, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু-কিশোর।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরকে নিয়ে আলাদা ভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করছি। এখানে যেসব বিষয়ে জানা যাচ্ছে সেটি রেকর্ড করা হচ্ছে। যারা যারা ওই দিন এখানে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছি।

তদন্তের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’

আলামত, সাক্ষ্য ও ভিডিও পেয়েছে তদন্ত কমিটি
পুড়ে যাওয়া কারখানার অভ্যন্তর ঘুরে দেখছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে কলকারখানা পরিদর্শক অধিদপ্তরের ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা কারখানার ভেতরের প্রতিটি ফ্লোরে গিয়ে তদন্ত করেন। পরে ঘটনার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন তারা।

কলকারখানা পরিদর্শক অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান জয়েন্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল (সেফটি) ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘মেকানিক্যাল, ফায়ার ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা ভেতরের প্রতিটি ফ্লোরে গিয়ে তদন্ত করেছেন। এখানে কী ব্যবস্থা ছিল আর কী ছিল না আমাদের তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।’

আগুনে ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে আরেক সংস্থা ফায়ার সার্ভিস। ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলামত, সাক্ষ্য ও ভিডিও পেয়েছে তদন্ত কমিটি
কারখানা ঘুরে দেখছে তদন্ত দল। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভবনের আগুন লাগলে শ্রমিকদের জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সেটিসহ সেখানে কী কী ঘটেছিল, কী ধরনের দাহ্যবস্তু ছিল এই বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনার সময় যারা ছিলেন তাদের সাক্ষ্যও নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। ফাইল ছবি

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

স্বেচ্ছায় আনঅফিসিয়ালি আজীবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান রাষ্ট্রদূত মিলার। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে মিলার সম্ভব হলে আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি এটাও জানান, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাওয়ায় তা আর সম্ভব নয়।

তবে দ্বিতীয় বার এ দেশের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও আনঅফিসিয়ালি (অলিখিতভাবে) এ দেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে সারা জীবন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে এ মাসেই ঢাকা ছাড়ছেন আর্ল মিলার। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে শুরু করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক কূটনীতিক পিটার হার্স। তিনি ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মিলার বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনের এই শেষ অ্যাসাইনমেন্টটি ছিল সম্মানের। গত তিন বছর ধরে এ দেশে কাজ করতে পারা আমার জন্য অনেক সম্মানের। দারুণ স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

'আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি সম্মানিত, কৃতজ্ঞ।’

ঢাকার প্রতি তার পরিবারের ভালোবাসার কথা জানিয়ে মিলার বলেন, দুই মাস আগে ঢাকায় আসা তার ছেলে আলেকজান্ডার এন্ড্রো ঢাকা ছাড়ছে না। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) সে কাজ নিয়েছে। আরও এক বছর ঢাকায় থাকবে সে।

অ্যামেচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহম্মেদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আর্ল মিলারের দায়িত্বকালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখতে নতুন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে বক্তব্যে কোনো কথা বলেননি আর্ল মিলার।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অ্যামচেমের সাবেক দুই সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ফরেস্ট কুকসন বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

চিত্রনায়িকা শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

চিত্রনায়িকা শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ এখন ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও তার হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও পরিবারের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে তাকে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

শিমু ছিলেন রাজধানীর গ্রিনরোডের বাসিন্দা। কলাবাগান থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার অভিনেত্রী শিমুর পরিবার একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

শিল্পী সমিতি কর্তৃক ১৮৪ জন ভোটাধিকার হারানো শিল্পীর মধ্যে শিমুও ছিলেন। ভোটাধিকার ফিরে পেতে চলমান আন্দোলনের সোচ্ছার ছিলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘তার ভাই সন্ধ্যায় আমার কাছে ছুটে আসে। বলে কাল থেকে শিমুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করলাম তথ্যের জন্য। পরে খোকন মিটফোর্ড হাসপাতলে গিয়ে শিমুর মরদেহ শনাক্ত করে আমাকে ফোন করে কাঁদছিল।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

গত ২১ ডিসেম্বর পিপলস ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনার জন্য গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন সাবিক আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মতিপত্র দেয়ার তিন বছরেও চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক।

কয়েক দফা সম্মতিপত্রের (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) মেয়াদ বাড়ানোর পর সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়।

এখন নতুন করে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে যুক্ত করার মাধ্যমে এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যাংকটি।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

আর অনুমতি না মিললে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির এলওআই বাতিল বলে গণ্য হবে।

জানা যায়, টাকার অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারছিল না পিপলস ব্যাংক। জোগাড় হচ্ছিল না পেইড আপ ক্যাপিটালের (পরিশোধিত মূলধন) ৫০০ কোটি টাকা। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইওেসন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের দুটি পরিচালক পদের মালিকানায় আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ব্যাংকটির মালিকানায় আসছেন সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ফলে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এলওআই’র মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা এম এ কাশেম সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ক্রিকেটার সাবিক আল হাসানকে নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ব্যাংকটিতে সাকিব মোট ২৫ কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করবেন বলে জানা গেছে।

পিপলস ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ও প্রধান উদ্যোক্তা এম এ কাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন। তাই দেরি হলেও আমরা দেশবাসীর কাছে একটি ভালো ব্যাংক উপহার দিতে চাই। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। পিপলস ব্যাংকের মালিকানায় সাকিব আল হাসান ও তার মা যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আমরা তাদের ফাইল বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সাকিবের মতো একজন তারকাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গৌরবের।’

তিনি বলেন, ‘পিপলস ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শিগগিরই পিপলস ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। তাছাড়া সাকিব ও তার মায়ের পরিচালক হওয়ার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনাধীন রয়েছে।’

২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক থেকে নতুন করে তিনটি ব্যাংককে এলওআই দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানার বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক বেশ আগেই চূড়ান্ত লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দ্য সিটিজেন ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে।

তবে শর্ত পূরণ করতে না পারা ও বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পিপলস ব্যাংক এখনও লাইসেন্স পায়নি।

দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে সরকারি ও বিদেশি মালিকানায় ৯টি করে ১৮ ব্যাংক রয়েছে। বাকি ৪৩টি বেসরকারি মালিকানায়।

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

প্রতিবাদ করে পুলিশের মার খেলেন আইনজীবী

আহত আইনজীবী আব্দুল্লা হিল বাকী।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে এএসআই হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক।’

অটোরিকশা চালককে মারধরের প্রতিবাদ করায় নিজেও পুলিশের মার খেলেন এক আইনজীবী। এএসআই-এর হেলমেটের আঘাতে গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ হিল বাকী নামের সেই আইনজীবী পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সোমবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর মার্কেটের সামনে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল্লা হিল বাকী চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বিকেল তিনটার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে দেখি এক অটোচালককে মারধর করছে পুলিশের এক সদস্য। এ সময় তাকে মারতে বারণ করলে তিনি আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে তিনি হঠাৎ আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথা ফেটে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে আসি।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই হিমন বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত এবং ভুল বুঝাবুঝি। আমার হেলমেটটি মাথা থেকে খুলতে গেলে ওই আইনজীবীর মাথায় ভুলবশত লেগে যায়। এতে তিনি সামান্য আহত হন। এ ঘটনায় আমি অনুতপ্ত।’

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রশিদ, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আহত আইনজীবীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুর রশিদ জানান, এএসআই হিমন রাতে ডিউটি করে দুপুরে ওয়্যারলেস জমা দেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে চড়ে থানায় আসছিলেন। কিন্তু বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় হঠাৎ একটি অটোরিকশা ধাক্কা মারলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।

ওসি বলেন, ‘মেজাজ হারিয়ে অটোচালককে থাপ্পর দিলে ওই আইনজীবী এগিয়ে এসে হিমনকে মারতে বারণ করেন। এ সময় হয়তো তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি আসলে দুঃখজনক। একটা ভুল বুঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে উনাকে দেখে এসেছি এবং খোঁজখবর নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

করোনার ধাক্কায় বিশ্বে বেকার দাঁড়াবে ২১ কোটি

করোনার ধাক্কায় বিশ্বে বেকার দাঁড়াবে ২১ কোটি

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, ‘চলমান মহামারি এবং এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ- বিশেষ করে ওমিক্রন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করবে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ২০২২ সাল শেষে বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২০ কোটি ৭০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। এই সংখ্যা করোনা মহামারি শুরুর আগের বছর ২০১৯ সালের চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ বেশি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছরের করোনার কারণে অর্থনীতির ধীর পুনরুদ্ধার এবং নতুন ধরন ওমিক্রন সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ২০২২ সালে বৈশ্বিক বেকারত্ব বেড়ে ২০ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াবে; যা ২০১৯ সালের চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ বেশি।

আইএলও বলছে, বিশ্বব্যাপী চাকরি পুনরুদ্ধার মহামারির অনিশ্চয়তার কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির গতিপথ এবং সময়কাল সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে কমপক্ষে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় বেশি থাকবে। শুধু তাই নয়, পুনরুদ্ধার করতে পূর্বের ধারণার চেয়েও আরও বেশি সময় লাগবে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই বাধা অব্যাহত থাকবে এবং ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের নতুন চাকরির সুযোগ হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএলওর আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বিশ্বব্যাপী শ্রম বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মহামারির আগের কর্মক্ষমতায় ফিরে আসা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের জন্য অধরা থেকে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, ‘চলমান মহামারি এবং এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ- বিশেষ করে ওমিক্রন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনরুদ্ধারের গতি বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবর্তিত হয়। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে উৎসাহজনক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা পিছিয়ে আছে।’

‘নতুন বছরে উন্নতির ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২১ সালে মহামারির আগের তুলনায় ১২ কোটি ৫০ লাখ কম চাকরি ছিল। ২০২০ সালে কম ছিল ২৫ কোটি ৮০ লাখ।’

‘সামগ্রিকভাবে ২০২২ সালে ২০ কোটি ৭০ লাখ লোক বেকার হবে। এ সংখ্যা বেশিও হতে পারে; কারণ অনেক লোক শ্রমশক্তি ছেড়েছে এবং এখনও ফিরে আসতে পারেননি। এদের মধ্যে অনেক বেশি সংখ্যক নারীও রয়েছেন। কারণ তাদের অনেকেই বাড়িতে অবৈতনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। যেমন স্কুল বন্ধের সময় বাচ্চাদের পড়ানো বা পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের যত্ন নেওয়া।’

প্রতিবেদনে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, নারীর কর্মসংস্থানের উপর মহামারির অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব আগামী বছরগুলোতে সংকুচিত হবে। তবে একটি বড় আকারের ব্যবধান থেকে যাবে।

রাইডার বলেন, ‘ব্যাপক চাকরির সুযোগ হয়- এমন সব খাতে আরও বেশি বেশি বিনিয়োগ করতে হবে সব দেশকে।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

২৬ বছর আগে চাঁন মিয়া ঘর ছাড়েন যে কারণে

২৬ বছর আগে চাঁন মিয়া ঘর ছাড়েন যে কারণে

২৬ বছর পর চাঁন মিয়াকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত স্ত্রী ও সন্তানরা। ছবি: নিউজবাংলা

শেরপুর থেকে উধাও হয়ে যাওয়া চান মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২৬ বছর পর ফেনী থেকে নিয়ে এসেছে স্বজনরা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছাড়েন তিনি। কী নিয়ে অভিমান- সে খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেল আরেক গল্প।

শেরপুরের চান মিয়া বাড়ির বাইরে ছিলেন টানা ২৬ বছর। এর পেছনে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানের যে কথাটি প্রাথমিকভাবে প্রচার হয়েছে, তাদের জীবনের গল্পটি ততোটা সরল নয়।

নিউজবাংলা পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, এই মান-অভিমানের পেছনে রয়েছে চান মিয়ার জুয়ায় আসক্তি। সংসার চলে না। তারপরও ওই আসক্তি থেকে স্বামীকে ফেরাতে পারেননি স্ত্রী রিক্তা বেগম। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুই যুগেরও বেশি সময় আগে ঘর ছাড়েন চান মিয়া।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গৌরীপুরের চান মিয়ার বিয়ে হয় সদর উপজেলার মুর্শেদপুর গ্রামের রিক্তা বেগমের।

বিয়ের পর স্ত্রী জানতে পারেন, চান মিয়া জুয়া খেলায় আসক্ত। দিন দিন তা বাড়তে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহও বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে এক ছেলে ও তিন মেয়ের জন্ম দেন তারা।

জুয়া খেলার জন্য পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করেন চান মিয়া। এ নিয়ে কলহ বাড়লে ১৯৯৫ সালে সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী চলে যান বাপের বাড়ি। সেখানে গিয়েও চান মিয়ার সঙ্গে তার কলহ চলে। এমনই এক ঝগড়ার পর ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারি স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে অভিমানে বাড়ি ছাড়েন চান মিয়া।

২৬ বছর পর বাবার সন্ধান পান ছেলে-মেয়েরা। তাকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। এত বছর পর তাকে পেয়ে খুশি স্ত্রী-সন্তানরা। তবে অসুস্থ স্ত্রীর এখন দুশ্চিন্তা, অসুস্থ স্বামীকে কীভাবে দেখভাল করবেন। অসুস্থ বৃদ্ধ চান মিয়া জানান, ২৬ বছর আগের অভিমানের কারণ এখন তার আর মনে নেই।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক রিক্তার বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন পরিবারটির সঙ্গে। জানতে চান ২৬ বছর আগের গল্প।

২৬ বছর আগে চাঁন মিয়া ঘর ছাড়েন যে কারণে

রিক্তা ও তার বড় মেয়ে মঞ্জুয়ারা নিউজবাংলাকে জানান, চান মিয়া যখন চলে যান তখন মঞ্জুয়ারার বয়স ১২। ছেলে শাহ আলম তখন ১০ বছরের। ছোট দুই সন্তান আঞ্জুয়ারা ও রোখসানার বয়স ৬ ও ৫ বছর। সন্তানদের নিয়ে সে সময় বাবার বাড়িতেই থেকে যান রিক্তা।

রিক্তা জানান, স্বামীকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। তবে সে সময় কোনো ছবি না থাকায় কোথাও খোঁজ পাননি। সন্তানদের নিয়ে কখনও তিনি কৃষি কাজ করেছেন, কখনও মাটি কাটার কাজ করেছেন।

এক পর্যায়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গৃহকর্মীর কাজ পান রিক্তা। কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ২০০০ সালে জেলা প্রশাসক অফিসে পিয়নের চাকরি দেয়া হয়। এরপর একে একে তিন মেয়েকে বিয়ে দেন। ছেলেকে একটি ছোটো চায়ের দোকান করে দেন।

রিক্তা আরও জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি শহরের চাপাতলীতে সাত শতাংশ জমি কিনে ঘরও তোলেন। সেখানেই এখন থাকছেন। তবে বছর দুয়েক আগে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে তিনি অসুস্থ।

আক্ষেপ করে রিক্তা বলেন, ‘স্বামীকে পেলাম ঠিকই, আমি তো এখন অসুস্থ। আমি তার সেবা করতে পারছি না। মানুষটা খুবই দুর্বল। হাঁটতে পারে না। তবে এতদিন পর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা তাকে পেয়ে খুব খুশি।’

তাদের ছেলে শাহ আলম জানান, গত ১৩ জানুয়ারি ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার বাবা ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি গিয়ে বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

শাহ আলম বলেন, ‘যখন বাবা ছিল না তখন আমার বয়স ছিল ১০ বছর। আর এখন বাবারে ফিরে পেয়েছি। এহন তো পালাই লাগব। হাজার হইলেও বাপ। গার্জিয়ান (অভিভাবক) না থাকায় তো অনেক কষ্টেই দিন গেছে।

‘বাবা হারানোর পর কোনো কাজে মন বসে নাই। তহন খারাপ লাগছে। মোবাইলের মাধ্যমে নেটে বাবার ছবি দিয়ে দিছে। পরে এইডা আমগর এক বাগানি জামাই নাম-ঠিকানা দেইক্কা বুঝছে যে এইডা তো আমগর বাবাই হইব। পরে আমরা খবর পাইয়া গেছি। পরে তথ্য নিলাম, দেহি যে এইডাই আমার বাবা। পরে যাইয়া নিয়া আইছি।’

২৬ বছর আগে চাঁন মিয়া ঘর ছাড়েন যে কারণে

চান মিয়ার মেঝো মেয়ে আঞ্জুয়ারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা না থাকায় মানুষ আমাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। আমরা কারোর কাছে খাবার চাইলে আমাদেরকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আরও ভালো ঘরে বিয়ে হইত, কিন্তু হয় নাই। তারপরেও আমরা সুখী।’

আঞ্জুয়ারার বড় বোন মঞ্জুয়ারা বলেন, ‘বাবা যখন বাসা থেকে রাগ করে বের হয় তখন আমি সব বুঝি। আর বাবা আমগরে রাইখা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে চলছি। আমাদের মা মহিলা মানুষ হইয়াও কাজ কইরা আমগরে বড় কইরা বিয়া দিছে। আমরা বুঝছি বাবা না থাকার দুঃখ কেমন।

‘মাসহ আমরাও মানুষের বাড়িত কাম কইরা বড় হইছি। না খেয়ে কতদিন থাকছি তার হিসাব নাই। আটা খেয়ে থাকছি দিনের পর দিন। এহন বাবারে আমরা পাইছি, খুব ভালা লাগতাছে। শেষ বয়সে হইলেও তো আমরা দেখবার পাইলাম। আমরা তো আশা ছাইড়াই দিছিলাম। আমরা বাবা না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনাও করবার পাই নাই। টাহা আছিল না, কি দিয়া পড়মু।’

এত বছরে বাড়ি কেন ফিরে আসেননি- জানতে চাইলে বৃদ্ধ চান মিয়া বলেন, ‘আমি কীভাবে, কী কারণে বাড়ি ছেড়েছি তা বলতে পারব না। মনে নাই। তবে কয়েকবার আমি টাকা জমায় বাড়ি ফিরতে চাইছি। কিন্তু সন্ত্রাসী ও দুষ্টু লোকজন আমাকে মাইরে পিটে কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে গেছে। তাই আমি আর বাড়ি আসি নাই। এখন বাড়ি আইসা আমার ভালো লাগছে।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

কেটে ফেলা তরমুজ গাছ নিয়ে কৃষক দেলোয়ারের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মৌখিক অনুমতি নিয়েই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলারসর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে তরমুজ চাষ করছিলেন দেলোয়ার-সালমা দম্পতি।

প্রায় আড়াই মাস ধরে পানি দেয়া আর ক্ষেত পরিস্কার করে আসছিলেন তারা। গাছে গাছে ফলও ধরেছিল। আর এক মাস অপেক্ষা করলে আরও ভালো ফলনের আশা ছিল। সেজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে দিন-রাত পরিশ্রমও করছিলেন।

কিন্তু গত রোববার ঘটল বিপত্তি। সেদিন বিকেলেই একে একে সবগুলো তরমুজ গাছই কেটে ও উপড়ে ফেলেছেন পাউবোর স্থানীয় প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

দেলোয়ার-সালমা দম্পতি দাবি করেছেন, যিনি গাছগুলো কেটেছেন তার কাছ থেকেও তরমুজ চাষের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে খুশিও করা হয়েছিল।

পরে কয়েকটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। কিন্তু অনেক আকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। অর্থ আর পরিশ্রম বিফলে যাওয়ায় তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধের ওই ঢালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়েই গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন তিনি। দুই মাস আগে সেখানে রোপন করা তরমুজের গাছগুলো ওই কর্মকর্তারাও এসে মাঝেমধ্যে দেখতেন।

কিন্তু গত রোববার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিরুল ইসলাম প্রায় ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলেন। এতে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেলোয়ার।

দেলোয়ার জানান, ওই স্থানের দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের মোশাররফ নামে এক কর্মকর্তাকে তিনি ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার পর এখন তাকে মামলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এই জায়গায় কাজ করেছি। টাকা নাই তাই আমি তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন এই টাকা কিভাবে দেব। আমি ক্ষতিপূরণ চাই, না হয় মরন ছাড়া উপায় নাই।’

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সবাই নিষেধ করেছি যে অন্তত একটা মাস সময় দেয়া হোক। তারপর আপনাদের যদি কোনো ক্ষতি হয় দেলোয়ার আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু তারা কারো কথা শোনেনি।’

টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো টাকা পয়সা নেইনি। এগুলো সব মিথ্যা। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উঠাইছে, আমি উঠাইনি।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, বেড়িবাঁধে তরমুজ গাছ লাগানোর কথা তিনি আগে জানতেন না। রোববারই প্রথম দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেড়িবাঁধ রক্ষায় লাগানো ঘাস কেটে উঠিয়ে ফেলার কারণে কিছু জায়গা রেখে বাকি তরমুজ গাছ আমি উঠিয়ে ফেলেছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে তরমুজ চাষ বা গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি কিছু শুনেননি। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: অব্যবস্থাপনার দায় এড়াচ্ছে সরকারি সংস্থা
তালাবদ্ধের সত্যতা উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি
‘আমারে মায়ের কাছে লইয়া যান’
পুড়ে কয়লা শ্রমিকদের হাড়-দাঁত থেকে নমুনা সংগ্রহ

শেয়ার করুন