স্কুলের খেলার মাঠে চলছে কৃষিকাজ

player
স্কুলের খেলার মাঠে চলছে কৃষিকাজ

দক্ষিণ রাজাপুরের ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে চাষাবাদ। ছবি: নিউজবাংলা

ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, ‘স্কুলের দপ্তরি আমার অনুমতি নিয়েই বীজতলা তৈরি করেছে। এখন স্কুল বন্ধ তাই অনুমতি দিয়েছি।’

ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রভাবশালী লোকজন চাষাবাদ শুরু করেছেন তিনটি বিদ্যালয়ের মাঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে চলছে এখন কৃষিকাজ।

উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরের ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয় ও ৩১ নং দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এখন ধান চাষের দৃশ্য চোখে পড়বে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে। স্থানীয় মোশারফ আলী হাওলাদার ট্রাক্টর দিয়ে মাঠকে কৃষিকাজের উপযোগী করেছেন। এখন দক্ষিণ রাজাপুরের ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে ধানের চাষ। পাশাপাশি অবস্থান করা এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা একটি মাঠেই খেলাধুলা করে আসছিল।

প্রভাবশালীদের সুবিধা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নষ্ট হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুলমাঠ ব্যবহার করতে দিয়ে নগদ টাকা নিয়েছেন। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখানে ফুটবল খেলে। কিন্তু এখন আর খেলাধুলার সে সুযোগ নেই।

শুক্রবার দুপুরে ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কৃষিকাজ করতে দেখা যায় মোশারফ আলীকে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম স্কুলমাঠে চাষ করার অনুমতি নিয়েছেন।’

অপরদিকে দক্ষিণ রাজাপুরের ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয়ের মাঠের একই অবস্থা। সেখানেও বীজতলা তৈরির অনুমতি দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মাঠেও চাষাবাদ করে ধানের বীজ বপন করা হয়েছিল, এখন ধানের চারা বড় হতে শুরু করেছে।

ফিরোজা মজিদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, ‘স্কুলের দপ্তরী আমার অনুমতি নিয়েই বীজতলা তৈরি করেছে। এখন স্কুল বন্ধ তাই অনুমতি দিয়েছি।’

ইউসুব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সব বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি করেছে।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলিম আল মাসুদ জানান, ‘এখন তো বিদ্যালয় বন্ধ, মাঠে বীজতলা তৈরি করলে এর সুবিধা কোনো না কোনোভাবে সবাই ভোগ করবে।’

যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয় মাঠে ধান চাষের বিষয়টি আমি জানি, তবে এখানে টাকার কোনো লেনদেন হয়নি।’

এ ব্যাপারে রাজাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ধান চাষ করার কোনো বিধান নেই। মাঠটি খেলার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে ডেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

মাদ্রাসার মাঠে কেটে ফেলা গাছ। ছবি: নিউজবাংলা

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে টেন্ডার বা অনুমতি ছাড়াই সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এ অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

অভিযুক্তদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

স্থানীয় আহম্মেদ কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ১৯৮৬ সালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাস জমিতে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের কাছে জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও জমিটি মাদ্রাসার কাছে রেজিস্ট্রি দেয়নি সরকার। মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে অবস্থিত।

হাসান শাহরিয়ার নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘চারটি কাঁঠাল গাছ বিক্রি করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। যা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম।’ তিনি মনে করেন, গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনও খাস জমিতে রয়েছে। সরকারের বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া বা কোনো টেন্ডার ছাড়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করতে পারে?’

ইউএনও-এর ‘পরামর্শে’ টেন্ডার ছাড়াই গাছ কেটে বিক্রি

নিউজবাংলাকে হরিপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার মো: মফিজুল ইসলাম কাদেরী বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখনো খাস জমিতে, রেজিস্ট্রেশন হয়নি। রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার প্রাচীরের ভিতরে থাকায় গাছগুলো কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত রয়েছেন। তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, ‘গাছগুলোর শিকড় প্রাচীরের ক্ষতি করছিল। প্রাচীর ফাটল ধরছিল, তাই কমিটির সকল সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিয়ময় করে রীতিমতো রেজুলেশন করে গাছগুলো কাটা হয়েছে।’

যদিও এর আগে গাছ কাটার কারণ হিসেবে মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনিও দাবি করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি অবগত আছেন।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে আমার কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা থাকতে পারে না। এটি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার।’

উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মো: রাকিবুজ্জামান বলেন, ‍‘আমি স্থানীয় তহশীলদারের কাছে শুনেছি, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি করেছে এবং মাদ্রাসাটিও নাকি খাস জমিতে অবস্থিত।

‘আমি বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি আসলে মাদ্রাসা ও গাছগুলো সরকারি খাস জমিতে আছে কি না? তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

শেয়ার করুন

ট্রেনে কাটা পড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

ট্রেনে কাটা পড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু

ওসি সাইদুর রহমান জানান, আন্ত মিয়া তিলকপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে রেললাইন পার হওয়ার সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়েন তিনি।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে।

তিলকপুর রেলস্টেশনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক আন্ত মিয়া আক্কেলপুর উপজেলার নওজোর গ্রামের বাসিন্দা।

নিউজাবংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, আন্ত মিয়া তিলকপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে লোকজনের সঙ্গে গল্প করছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তিলকপুর বাজারে যাওয়ার জন্য রেললাইন পার হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটীগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে আন্ত মিয়া কাটা পড়েন।

সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

‘প্রয়োজনে সব শিক্ষার্থী অনশন করব’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সাত দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন। ২৮ ঘণ্টার জন্য তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানাননি ফরিদ।

প্রয়োজনে এবার সব শিক্ষার্থী অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবুও তারা দাবি আদায় করে ছাড়বেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ মঙ্গলবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ অহিংস পন্থায় আন্দোলন করছি। অহিংস আন্দোলনের সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে অনশন। আমরা সাত দিন ধরে অনশন করছি তবুও উপাচার্য পদত্যাগ করছেন না। অনেকের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

‘তার কাছে আমাদের জীবনের চেয়ে চেয়ারের মূল্য বেশি। এই অযোগ্য উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী অনশনে বসব। তবু আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

নাঈম আহমদ নামের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছিল। তারাও সোমবার চলে গেছে। চিকিৎসার অভাবে অনশনকারীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অনশনকারীদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ১০ জন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ২৮ ঘণ্টা পর সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় রিকশাযাত্রীর মৃত্যু

বাসের ধাক্কায় রিকশাযাত্রীর মৃত্যু

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘রিকশায় করে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার সকালে আনোয়ার হোসেনকে নিউ মার্কেটগামী একটি ৬ নম্বর বাস ধাক্কা দেয়। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ে বাসের ধাক্কায় এক রিকশাযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আনোয়ার হোসেন ডবলমুরিং থানার সুপারিপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল গনির ছেলে। তার বয়স ৬১ বছর।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে রিকশাযোগে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের সামনে পৌঁছানোর পর নিউ মার্কেটগামী একটি ৬ নম্বর বাসের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

সাক্ষীর গলায় ফাঁস দেয়া দেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

সাক্ষীর গলায় ফাঁস দেয়া দেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

খালের পাশে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পড়ে ছিল পীর আলীর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

পীর আলীর ভাই রবিউল ইসলাম জানান, তার ভাই প্রতিদিন নিজের পেয়ারা বাগান পাহারা দিতে যান। রোববার রাত ৮টার দিকেও পীর আলী বাগান পাহারার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সকালে স্থানীয় লোকজন খালের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে খালের পাশ থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় এক মামলার সাক্ষীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

সোমবার রাতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এই মামলা করে। এর আগে কালীগঞ্জ উপজেলার নলভাঙ্গা গ্রাম থেকে পীর আলী নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী পীর আলীর বাড়ি নলডাঙ্গা গ্রামে। তিনি এই গ্রামের শাহানুর বিশ্বাসের পা হারানো মামলার সাক্ষী। ২০১৬ সালে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বিরোধের জেরে হামলায় পা হারিয়েছেন বলে জানান শাহানুর।

পীর আলীর ভাই রবিউল ইসলাম জানান, তার ভাই প্রতিদিন নিজের পেয়ারা বাগান পাহারা দিতে যান। রোববার রাত ৮টার দিকেও পীর আলী বাগান পাহারার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। সকালে স্থানীয় লোকজন খালের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

স্বজনরা জানান, পীর আলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তিনি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এতে বলেন, শাহানুর পা হারানোর মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে ও হত্যার হুমকি দেয়। এ ধরনের হুমকির কারণে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না।

কালীগঞ্জ বারোবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মকলেচুর রহমান জানান, মরদেহ খালের পাশে একটি গাছের নিচে পড়ে ছিল। তার গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল এবং গাছের ডালের সঙ্গেও রশি বাঁধা ছিল। শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে ভালো দামে বাড়ছে বোরো ধানের চাষ

লক্ষ্মীপুরে ভালো দামে বাড়ছে বোরো ধানের চাষ

বোরো ধান চাষের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়নি এবার। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো ধান চাষে কৃষকদের সব বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

লক্ষ্মীপুরে বোরো ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এটি আবাদের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এবার কোনো জমি অনাবাদি থাকবে না বলে আশা করেন তারা।

কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, আগে দাম কম হওয়ায় কৃষকরা ধান আবাদ বাদ দিয়ে অন্য ফসল লাগাত। কিন্তু গত দুই বছরে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দাম ভালো পাওয়ায় ধানের চাষাবাদ বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদের আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার জেলার ৫টি উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর বেশি।

ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। বাকি জমিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবাদ শেষ হওয়ার আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ।

চররুহিতার চরমণ্ডল গ্রামের কৃষক আজাদ হোসেন জানান, এবার ধানের দাম ভালো পাওয়া গেছে। এতে চাষিরা খুবই খুশি। সার-কীটনাশকের দামও ছিল নাগালের ভেতর।

দাম ভালো পাওয়ায় বোরো ধানে আগ্রহ বাড়াচ্ছে তারা।

লক্ষ্মীপুরে ভালো দামে বাড়ছে বোরো ধানের চাষ

আগে ধান চাষ করে লোকসান হওয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন চাষিরা। কিন্তু গত দুই বছর ধরে প্রতি মণ ধানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লাভ হওয়ায় চাষাবাদ বাড়িয়েছেন তারা। যদি সামনে ধানের দাম এভাবে থাকে, তাহলে লোকসান না হওয়ার আশা করেন কৃষকরা।

রামগতির কৃষক মাইনুল ইসলাম জানান, গত বছর এক একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন তিনি। দাম ভালো পেয়েছেন। তাই চলতি বছরে দুই একর জমিতে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

রায়পুরের চরবংশীর কৃষক মনির হোসেন ও দুলাল হোসেন এর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার প্রতিবেদকের।

তারা জানান, সরকার যদি কৃষকের দিকে তাকিয়ে সামনে খরচ অনুযায়ী ধানের দাম আরও বাড়িয়ে দেয় তাহলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে দেশের খাদ্য সংকট না হওয়ার আশা এখানকার চাষিদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছরে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও দাম ভালো পাওয়ায় ধানের চাষাবাদ বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদের আশা করছেন। এতে করে চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়নি। তাই এবার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বোরো ধান চাষে কৃষকদের সব বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

সুগন্ধা ট্র্যাজেডি: নিখোঁজরা ফেরেননি, শনাক্ত হয়নি ২৪ মরদেহ

সুগন্ধা ট্র্যাজেডি: নিখোঁজরা ফেরেননি, শনাক্ত হয়নি ২৪ মরদেহ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ অভিযান-১০। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

হাফসা বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় এহন মোগো তিন ভাইবুইনের খাওন পরন চলে। এই রহম কতদিন কেডা মোগো দ্যাকপে। কেউ আইস্যা এট্টু খোঁজ নেয়নাই, মোরা খাই নাকি না খাইয়া থাহি।’

অপেক্ষা যেন ফুরোয় না। এক এক করে ৩০ দিন পেরিয়ে গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের পথ চেয়ে আছেন পরিবারের লোকজন। এক মাসেও না ফেরায় স্বজনরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছেন, তারা ফিরবেন না। তারপরও চান সন্ধান, অন্তত লাশ কোথায় সেটি নিশ্চিত হতে সুগন্ধা নদীর পারে কাটে অনেকের সময়।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চ ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় সুগন্ধা নদীতে পৌঁছালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক মাস পার হয়েছে।

এক মাস পার হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। আর শনাক্ত হয়নি ২৪ লাশের পরিচয়। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা দিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বনজরা।

বরগুনা জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, সুগন্ধা ট্র্যাজেডিতে এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জন মারা যান।

চলতি মাসের ২ ও ৩ তারিখ ঢাকায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ দুজন ও সবশেষ ২১ জানুয়ারি আরও একজন নারী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান।

প্রশাসনের হিসাবে, ঘটনার পর বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দগ্ধ ও আহত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ১০১ জন। এদের মধ্যে ১৯ জনকে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছিল। যাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন।

নিহত ৪৮ জনের মধ্যে সনাক্ত না হওয়ায় ২৩ জনকে বরগুনায় ও একজনকে ঝালকাঠিতে দাফন করে জেলা প্রশাসন। বাকি ২৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যান স্বজনরা।

ঘটনার পর বরগুনা জেলা প্রশাসন নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা করে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা প্রশাসনকে ৩০ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছেন স্বজনরা।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করে। তিন দিনের নিখোঁজ ৩০ জনের বিপরীতে ৪৮ জন স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করে দলটি।

সে সময় সিআইডির নমুনা পরীক্ষক রবিউল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার ফল পেতে এক মাসের বেশি সময় লাগতে পারে।

ঘটনার এক মাস পূর্ণ হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো তথ্য জানতে পারেননি স্বজনরা। এখনো অনেকেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

এ ছাড়া পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছেন, যারা অভিভাবকহীন অবস্থায় আত্মীয়—স্বজনদের আশ্রয়ে রয়েছেন।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে ফজিলা আক্তার পপির এখনো খোঁজ মেলেনি। পপির মেয়ে লামিয়া তার নানা আফজাল হোসেনের কাছে রয়েছেন এক মাস থেকে। ১১ বছরের লামিয়া অপেক্ষা করছেন মা আসবে কবে।

আফজাল বলেন, ‘মেয়ে হারানোর শোক আর নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত। আমি মারা গেলে আমার নাতনিকে কে দেখভাল করবে?’

বরগুনা সদর উপজেলা বুড়িরচর ইউনিয়নের হাকিম শরীফ, তার স্ত্রী পাখী বেগম ও শিশুসন্তান নাসরুল্লাহ এখনও নিখোঁজ।

হাকিম শরীফের তিন সন্তান ১৮ বছরের হাফসা বেগম, ১৪ বছরের সুমাইয়া আক্তার ও ১০ বছরের ফজলুল হক এখন অভিভাকহীন।

তাদের দেখভাল ও ভরণ পোষণের জোগান দেয়ার কেউ নেই।

হাফসা বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় এহন মোগো তিন ভাইবুইনের খাওন পরন চলে। এই রহম কতদিন কেডা মোগো দ্যাকপে। কেউ আইস্যা এট্টু খোঁজ নেয়নাই, মোরা খাই নাকি না খাইয়া থাহি।’

বরগুনা সদর উপজেলার মোল্লাহোরা গ্রামের বাসিন্দা সুমন সরদার। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী তাসলিমা, দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও সুমনা আক্তার এখনো নিখোঁজ।

সুমন বলেন, ‘যাগো কবর দিয়া দেছে হেইয়ার মইদে মোর বউ মাইয়া পোলার কবর আছে কিনা, এহন খালি হেইডা জানতে অপেক্ষা করতে আছি। কবরডাও যদি দেহাইয়া দেতে পারত হেরা, তয় মুই কতকুন কাইন্দা কাইট্টা শান্ত্বনা পাইতাম।’

জেলা প্রশাসন জানায়, নিহদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ২৪ পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কোনো সহায়তা এখনো দেয়া হয়নি।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল মনে করেন, লঞ্চে আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ পরিবারগুলোর মধ্যে যারা অসহায় আছেন, রাষ্ট্রের উচিত তাদেরকে আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা দেয়া।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মধ্যে অনেক নারী ও শিশু এখন অভিভাবকহীন, কেউ কেউ আর্থিক টানপড়েনে মানবেতন জীবনযাপন করছেন। আমি মনে করি এই পরিবারগুলোর সুরক্ষায় রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শনাক্ত হওয়া মরদেহের স্বজনদের আমরা প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার করে টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। আমরা ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা পেলেই ঠিক কতজন নিখোঁজ আছে, এটা শনাক্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদেও পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে পারব।

‘এরপর ‘সোশ্যাল সেফটি নেটের আওতায়’ বিশেষভাবে তাদের সহায়তার আওতায় আনা হবে। তবে তাদের সহায়তায় এখনো পর্যন্ত আলাদা কোনো কার্যক্রমের নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।’

শেয়ার করুন