সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, বৃদ্ধা অসুস্থ

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, বৃদ্ধা অসুস্থ

সুখীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী-সন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমানোর সময় সুখীর বাম হাতের আঙুলে সাপে ছোবল দেয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ওঝাকে ডেকে আনেন।

নওগাঁর সাপাহারে সাপের কামড়ে সিদ্দিকা বেগম সুখী নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার আরেক গ্রাম থেকে এক বৃদ্ধাকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাতে সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হন তারা। মৃত সুখী উপজেলার খঞ্জনপুর গ্রামের হাসমত আলীর স্ত্রী। আহত ৬৫ বছরের খোতেজা বিবির বাড়ি একই উপজেলার কোচকুড়িলিয়া গ্রামে।

সুখীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী-সন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমানোর সময় সুখীর বাম হাতের আঙুলে সাপে ছোবল দেয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ওঝাকে ডেকে আনেন।

সারা রাত ঝাড়ফুঁকের পর অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে বুধবার রাত ৪টার দিকে খোতেজাকে সাপে কামড়ালে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘সিদ্দিকা বেগমকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আরও আগে আনা হলে হয়তো বাঁচানো যেত।

‘আর আহত খোতেজা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক কী ধরনের সাপ কামড় দিয়েছে, সেটি দুই পরিবারের কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে কোনো বিষধর সাপ হবে।’

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বিছানা পেতে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে কিছু শিশু। হাসপাতালের ভেতরে গেলে বারান্দা, মেঝেতেও দেখা যায় শিশুদের।

শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই আছে একাধিক শিশু। কোনো কোনো বেডে দেখা যায় চারজন শিশুকেও।

শিশুদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া বাড়ায় জায়গা দিতে পারছে না হাসপাতালটি। কয়দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা।

৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি আছে ১৮৭ শিশু। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ২০৩ জন শিশু।

তিন বছরের আয়েশাকে কোলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম। এসেছেন সদর উপজেলার জামালপুর থেকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মেয়ের ডায়রিয়া। যে বেড দিয়েছে সেখানে আরও দুইটা বাচ্চাকে রাখা হয়েছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মর্জিনা খাতুন জানান, তারা এক বেড চারজন ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের বেলা নানাভাবে সময় কেটে যায়। রাতে পড়তে হয় সমস্যায়। পালা করে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

সালন্দরের সবেদা বেগম বলেন, ‘গাছতলাতেই ভালো আছি। ভেতরে এত মানুষ! গরমে টেকা যায় না।’

হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি থাকে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ জন থাকছে। নবজাতকও আছে। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে।’

এ সময় শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। শিশুরা ঘেমে গেলে দ্রুত তাদের ঘাম মুছে জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল ও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘এই হাসপাতালে শিশু সেবার মান উন্নত হওয়ায় আশপাশের জেলার মানুষও এখানে আসেন। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

জাল টাকা চক্রের ৪ সদস্য কারাগারে

ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার জাল টাকা তৈরি চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন রুবেল, আবু সাঈদ, শাহীন শাহিদ ও আশিকুল ইসলাম ইসাহাক। তারা ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

এর আগে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার লাহেরীপাড়া এলাকা থেকে ওই চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৩০টি ১০০০ টাকার ও ৪০টি ৫০০ টাকার জাল নোট।

পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি জাল টাকার কারবার করে আসছিল। বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তারা জাল নোটগুলো ছড়িয়ে দিত। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই চার ব্যক্তিকে বুধবার বিকেলে আটক করা হয়।’

এ চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুর সহপাঠীদের রাখা হচ্ছে পর্যবেক্ষণে। নজরদারিতে থাকছে তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে সরাসরি ক্লাস শুরু হয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনার আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিশু শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বুধবার করোনা শনাক্ত হওয়া পাঁচ শিশু উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনি এলাকার বাহাদুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভীন নিউজবাংলাকে জানান, আক্রান্তদের মধ্যে দুজন চতুর্থ ও তিনজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার সদস্য।

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ৮৪ ও পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ৭৬ জন। বুধবার তারা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা হয়। সূচি অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢোকানো হয়।

‘আক্রান্ত পাঁচ ছাত্রী গত ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লাসে উপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের স্কুলপড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণির দুজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিনজন ছাত্রী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে। ওই দিনই পাঁচ শিশুর করোনা পরীক্ষার নমুনা দেওয়া হয়। বুধবার আমরা জানতে পারি তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।’

তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। তবে প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছে বলে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক রিক্তা বানু জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের থাকা শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ১৬ সেপ্টেম্বর জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যদের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই ৫ ছাত্রী আক্রান্ত হয়।

সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আক্রান্ত ১৩ ছাত্রীকে আলাদা রাখা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ ফেরদৌস বলেন, ‘বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার রকিবুল আলম চয়ন বলেন, সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের আক্রান্তের দিন থেকেই শারীরিক অবস্থা পর্যক্ষেণ করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে সুস্থ আছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আমরা সব বিদ্যালয় সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। যদি কোনো শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার নমুনা পরীক্ষা করছি।

‘যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাৎক্ষণিক সেই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে।’

গোপালগঞ্জে দুই বিদ্যালয়ে আক্রান্ত দুই শিক্ষার্থী

গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১০২ নম্বর বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোনালিসা ইসলামের করোনা শনাক্ত হয় ২১ মঙ্গলবার। এরপর ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে অন্য শ্রেণিতে পাঠদান চলছে।

মোনালিসার মা মিতু খানম নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘এতদিন আমার মেয়ে সুস্থ ছিল। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। এরপর ১৪ তারিখ থেকে তার হালকা জ্বর, মাথাব্যথা। সে জন্য পরদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।

‘এক সপ্তাহেও মেয়ের জ্বর না কমায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষা করাই। ওই দিনই পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি।’

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী ও তার মা দুজনেরই করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মানিকগঞ্জে পৌর এলাকার এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বুধবার করোনা উপসর্গে মারা গেছে।

ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে বুধবার রাতে সুবর্ণা ইসলাম রোদেলা নামে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

শিক্ষার্থীর করোনা: বিভিন্ন স্থানে স্কুলে পাঠদান বিঘ্ন
মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে মৃত্যু হওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোদেলা ছবি: সংগৃহীত

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রোদেলা জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধও খেয়েছে সে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শ্বাসকষ্ট, গলা ও বুকে ব্যথায় অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত মুন্নু জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, রোদেলা করোনায় আক্রান্ত ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর আগে ওই বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী করোনা পজিটিভ হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখা হয়। এরপর ওই শ্রেণির ৫৮ শিক্ষার্থীর করোনা পরীক্ষায় সবার নেগেটিভ আসে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি রহিম শুভ,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আজিজুল হাকিম ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন মুন্না।

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

বাঁধে ধস, পদ্মা পাড়ে আতঙ্ক

বাঁধে ধস, পদ্মা পাড়ে আতঙ্ক

ফরিদপুরে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লকে ধস দেখা দেয়া দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ডিক্রীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু জানান, ‘নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লকে ধস দেখা দেয়া দিয়েছে। বাঁধ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী পাড়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি বিলীন হওয়ার শঙ্কায় আতঙ্কে আছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা। এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গত তিন দিনের ভাঙনে সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পদ্মা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার সি সি ব্লক ধসে গেছে।

পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস শুরু হলে বিষয়টি স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানান। পরে পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনে আসেন। হঠাৎ করে ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় পাউবো জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর স্বাভাবিকতা না থাকায় প্রতি বছরই বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। শুধু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়। ভাঙন প্রতিরোধ স্থায়ী পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

ডিক্রীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু জানান, ‘নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’

বাঁধে ধস, পদ্মা পাড়ে আতঙ্ক

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের গভীরতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নদীর অপর পাড়ের ভাঙনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তো নদী থেকে জেগে উঠা বালু চর। এখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে কোনো লাভ হবে না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন: খাদ্যমন্ত্রী

সাপাহারে বৃহস্পতিবার উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মাদক রোধে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁর সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের চিন্তাচেতনা স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকার সংস্কৃতিকর্মীদের বিষয়ে আন্তরিক। সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, বিবাহ রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনকে সোচ্চার হতে হবে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মাদকের ভয়াল থাবা সমাজকে পঙ্গু করে দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদক রুখতে হবে। বাল্যবিবাহ ও মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স ভূমিকা গ্রহণে প্রশাসনসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিতে দেশে খাদ্যসংকট হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত সব সেক্টরে প্রণোদনা দিয়েছেন। মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক রেখেছেন। খাদ্যের অভাব হলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন দিলে দরিদ্রদের খাদ্য পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দরিদ্রদের মোবাইলে সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। এটাই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান আলী মন্ডল, আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী, সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার সরকার ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা খাতুন ।

পরে মন্ত্রী উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

বিদ্যালয়টির যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হওয়ায় ভোটকেন্দ্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী আমাকে বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

বর্ষা বা জোয়ারের সময় পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। যাতায়াতেও পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। স্কুলটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে কেন্দ্রটি সরানোর দাবি উঠেছে।

এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। জানিয়েছেন, শিগগিরই সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।

দুই থেকে আড়াই শ ভোটারের সই করা আবেদনে বলা হয়, লোহালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে সম্পূর্ণ অনুপযোগী। বর্ষা বা জোয়ারের সময় বিদ্যালয়টির সামনে হাঁটু পানি জমে থাকে।

এ ছাড়া কেন্দ্রের দুই পাশের রাস্তা দুটি কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। ওই কেন্দ্রে চলাচল করতে হয় হেঁটে। কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রটি সরিয়ে ১৫৪ নম্বর মধ্য কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আজাহার উদ্দিন খান বলেন, ‘কেন্দ্রের এক পাশের রাস্তা ভাঙা। হেইহানে কলা ও সুবারি গাছ দিয়া বানানো হাক্কা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়া কম।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

জাকির হোসেন মোল্লা নামের একজন বলেন, ‘ভোটারদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেব। এরপরও কেন্দ্র পরিবর্তন না হলে, আন্দোলন ছাড়া উপায় থাকবে না।’

লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘কেন্দ্রটি সরাতে এলাকাবাসী বারবার অনুরোধ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের বলেছি, ভোটারদের সুবিধার জন্য কেন্দ্রটি যেন সরিয়ে নেয়া হয়।’

জোয়ারে ভোটকেন্দ্রে হাঁটু পানি, সরানোর দাবি

এ বিষয়ে জানতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি সাহানুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খালিদ বিন রউফ জানান, ভোটারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছি। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাব। সেখান থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘চলাচলে সমস্যা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুপারিশ করব। এরই মধ্যে অফিসারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।’

গত মার্চে কয়েক ধাপে সবগুলো উপজেলায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ৩ মার্চ প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের তফসিল ঘোষণা হয়। ভোট হয় ২০ সেপ্টেম্বর।

আগামী সপ্তাহে এই উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ৩ যুবক আটক

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ৩ যুবক আটক

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা পুরিন্দা এলাকার নান্নু মিয়ার তালাবদ্ধ ঘরের জানালা দিয়ে তার বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বড় বাড়ি এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ।

আটক তিনজন হলেন মো. সামাদ, মো. সোহেল ও মো. শিমুল।

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল ১০টা থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা পুরিন্দা এলাকার নান্নু মিয়ার তালাবদ্ধ ঘরের জানালা দিয়ে তার বিবস্ত্র দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পুলিশ গিয়ে শিশুটির গলায় গামছা বাঁধা ও বেল্ট দিয়ে দুই পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ পরিদর্শক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মেঝে খুঁড়ে ২২ গোখরা সাপ
সাপের কামড়ে ট্রাক হেলপারের মৃত্যু
হাঁস খেতে এসে লোকালয়ে ধরা গুইসাপ
বনে ফিরল লোকালয়ে পাওয়া অজগর
মুরগির খোপে গিয়ে ধরা অজগর

শেয়ার করুন