চিকিৎসককে ছাত্রলীগের মারধর, ‘ক্ষমা চেয়ে মিটমাট’

চিকিৎসককে ছাত্রলীগের মারধর, ‘ক্ষমা চেয়ে মিটমাট’

ডাক্তারকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ।

নাফিজ বলেন, ‘ঘটনাটি আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও বিএমএ নেতাদের জানিয়েছিলাম। উনারা এসেছিলেন। যারা মারধর করেছে তারা তাদের ভুল স্বীকার করে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বিষয়টি এই পর্যন্তই আছে।’

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক চিকিৎসককে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে বুধবার বিকেলে ভিডিওটি ফেসবুকে আসে।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত রোববার রাত দেড়টার দিকে জুয়েল রানা নামের এক যুবক বুকের ব্যথা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে আসেন। সে সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন নাফিজ আহম্মদ।

তিনি জুয়েলকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তার স্ত্রীকে বলেন হাসপাতালের ওপর তলার বেডে নিয়ে যেতে। পরদিন জুয়েলের কিছু টেস্টের কথা বলেন।

কিন্তু এ সময় জুয়েলের স্ত্রী তানিয়ার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

এরপর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ এবং তার সহযোগী ইসরাফিল হোসাইন বাবু, সাদ্দাম হোসেন ও আমির হোসেন জরুরি বিভাগের সামনে এসে ওই ডাক্তারকে ডেকে মারধর করে।

ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে ডাক্তার নাফিজের সঙ্গে একদল যুবকের তর্কবিতর্ক হচ্ছে। একপর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে নাফিজকে মারতে শুরু করে। তিনি ভেতরে চলে যেতে চাইলে জামা ধরে টেনে এনে আবার কিলঘুষির সঙ্গে লাঠি দিয়ে মারতে থাকে।

ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশের দাবি, মহেশপুরের নাটিমা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে ওই ডাক্তার তার স্ত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এজন্য তাকে একটু বকাবকি করা হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজের কথা বলতেই তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে নাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও বিএমএ নেতাদের জানিয়েছিলাম। উনারা এসেছিলেন। যারা মারধর করেছে, তারা তাদের ভুল স্বীকার করে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বিষয়টি এই পর্যন্তই আছে।’

ঝিনাইদহ জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আল মামুন বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেরা বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধান করে দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রেনে ডাকাতিতে সংঘবদ্ধ চক্র: র‍্যাব

ট্রেনে ডাকাতিতে সংঘবদ্ধ চক্র: র‍্যাব

ময়মনসিংহে ট্রেনে প্রাণহানির ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করেন। একপর্যায়ে সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন ডাকাতরা ওই দুইজনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সাগর ও নাহিদ ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন।’

ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটের ট্রেনে ডাকাতির সময় বাধা দেয়ায় দুই যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪-এর অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান।

র‌্যাব-১৪ সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে রোববার বেলা ১টার দিকে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে ময়মনসিংহ সদরে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১টার দিকে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পেশাদার ডাকাত বলে জানায় র‍্যাব।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, লুট করা টাকা ও কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, আশরাফুল ইসলাম স্বাধীন, মাকসুদুল হক রিশাদ, হাসান, রুবেল মিয়া ও মোহাম্মদ। তারা ময়মনসিংহ সদরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রেনে ডাকাতি করতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চারজন দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে উঠেন। গ্রেপ্তার রিশাদ, হাসান ও স্বাধীন টঙ্গী থেকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। ট্রেনটি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ফাতেমানগর স্টেশনে থামলে তাদের সঙ্গে যোগ দেন মোহাম্মদ ও তার এক সহযোগী।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করেন। একপর্যায়ে সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন ডাকাতরা ওই দুইজনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সাগর ও নাহিদ ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন।’

তখন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে ঢোকার আগে সিগন্যালে ট্রেনের গতি কমলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান আরও জানান, গ্রেপ্তাররা মূলত সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা ঢাকার কমলাপুর, এয়ারপোর্ট ও টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে উঠে ডাকাতি করত। তাদের কিছু সহযোগী ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ফাতেমানগর স্টেশন থেকে উঠে সম্মিলিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেমে যেত। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

দুই যাত্রীকে হত্যার ঘটনায় নিহত সাগরের মা হনুফা বেগম শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় ওই দিন রাত ৩টার দিকে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিকে ময়মনসিংহের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে তোলা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

গাভির তিন বাছুর প্রসব

গাভির তিন বাছুর প্রসব

ছ‌বি বেগম ব‌লেন, ‘তিন‌টি বাছুর একসা‌থে প্রসব হই‌ছে শুইনা দেখ‌তে আস‌ছি। দেখ‌ছিও, এমন ঘটনা প্রথমই শুন‌ছি।’

সাধারণত একসঙ্গে একটি বা দুটি বাছুর প্রসবের খবর মেলে। কিন্তু এবার তিনটি বাছুর প্রসব করেছে একটি গাভি। সেই গাভি ও বাছুরগুলোক দেখতে আবার ভিড় করছে উৎসুক মানুষ।

ঘটনাটি ব‌রিশা‌লের বানারীপাড়া উপ‌জেলার। এই উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রা‌মে শা‌হিন হাওলাদা‌রের ডেই‌রি ফার্মে রোববার জন্ম নেয়া তিনটি বাছুরই সুস্থ রয়েছে। সুস্থ আছে গাভিটিও।

শাহিনের ফার্মে গাভি দেখতে এসেছেন মো. জয়নাল। তিনি বলেন, এক‌টি বা দুটি বাছুর প্রসব করার খবর শু‌নি, কিন্তু একসঙ্গে তিন‌টি বাছুর প্রস‌বের কথা প্রথম শুনেছি। তাই দেখ‌তে এ‌সে‌ছি বাছুরগুলোকে।

ছ‌বি বেগম ব‌লেন, ‘তিন‌টি বাছুর একসা‌থে প্রসব হই‌ছে শুইনা দেখ‌তে আস‌ছি। দেখ‌ছিও, এমন ঘটনা প্রথমই শুন‌ছি।’

ফার্মের মা‌লিক শাহিন হাওলাদার ব‌লেন, সকাল ৭টার দিকে আমার ডেইরি ফার্মের একটি গাভি তিনটি বাছুর প্রসব করে। বাছুরগুলো সুস্থ আ‌ছে।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এই শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় রোববার দুপুরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অপশক্তিকে প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নতুন প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের আওয়ামী লীগের পতাকাতলে নিয়ে আসতে হবে। এই মেধাবীরা আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, তানভীর হাসান ছোট মনির, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান খানসহ জেলা আওয়ামী লীগের আরও অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু। প্রতীকী ছবি

চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, আকলিমা খাতুনের স্বামী পেশায় কৃষক। গত রাতে সাপে কামড় দিলে সকালে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মেহেরপুর গাংনী উপজেলায় সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রোববার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ।

মৃত গৃহবধূ আকলিমা খাতুন উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের চরগোয়ালগ্রামের কৃষক কালু শেখের স্ত্রী। এই দম্পতির পাঁচ সন্তান রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে গৃহবধূ আকলিমা তার নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। হঠাৎ মাঝরাতে চিৎকার শুনে পাশের ঘরে থাকা সন্তানরা ছুটে গিয়ে জানতে পারে তাদের মাকে সাপে কামড় দিয়েছে।

পরে স্থানীয় ওঝার মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মিরপুর নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, আকলিমা খাতুনের স্বামী পেশায় কৃষক। গত রাতে সাপে কামড় দিলে সকালে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

হাইওয়ে থানায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।’

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর জেলা প্রতিনিধি কাজল সরকার ও ডেইলি অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি আমির হামজা।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পাশে একটি গ্যারেজের ছবি তোলার সময় রোববার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ওই সাংবাদিকদের দুইজন লোক টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, একজন লাঠি দিয়ে মারধর করছেন।

নিউজবাংলার কাজল সরকার বলেন, ‘একটা সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় যাই। সেখানে আমি ও আমির হামজা ছবির কাজ করতেছিলাম। সেই সময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে নিজেদের থানার লোক বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের মারতে শুরু করে। শার্টের কলারে ধরে থানার ভিতরে নিয়ে যায়।

‘থানার ভিতর নিয়ে যাওয়ার পরও তারা আমাদের মারার জন্য হামলা চালায়। তখন কয়েকজন কনস্টেবল এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’

এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মুরাদ আলিকে এই প্রতিবেদক ফোন করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু হাইওয়ে থানায় ঘটেছে। আপনি হাইওয়ে থানার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলামকেও ফোন করা হয় মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, ‘আগে বিষয়টা জানবেন তারপর মন্তব্য করবেন। গ্যারেজটি থানার না, সেটি পাবলিক গ্যারেজ। তাদের (সাংবাদিকদের) সমস্যা হয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, পুলিশের না। আমি মাত্র থানায় আসছি, আপনিও পারলে থানায় আসেন।’

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ

কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে বরগুনায়।

শহরের টাউনহল এলাকার অগ্নিঝরা একাত্তর চত্বরে রোববার বেলা ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বন্দি সাংবাদিকের নাম জামাল মীর, তিনি বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম ও দৈনিক বর্তমানের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

সমাবেশে তার পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জামালের মা রুনু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বড় ছেলে জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদব। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে গিয়ে দেখাও করতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখে মরতে পারব না।’

জামালের বাবা জালাল মীর বলেন, ‘ছেলের জামিন করাতে গিয়ে বিচারিক আদালত থেকে উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। টাকা শেষ হওয়ার পরে জমি বিক্রি করেও ছেলের জামিনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন আমাদের তিন বেলা খাবার জোটেনা। জামালের মা অসুস্থ, একটা ওষুধ কিনে দেয়ার সামর্থ্য নেই আমার।’

কারাবন্দি সাংবাদিকের স্ত্রী লিমা বেগম বলেন, ‘মানসম্মত খাবারের অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে আমাদের মেয়ে তাহিয়া। বঞ্চিত হচ্ছে বাবার ভালোবাসা থেকে। মেয়ের পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।’

বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, ‘জামাল বরগুনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করতেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতি প্রচার করে অসংখ্য প্রতিবেদন করেছেন। জামাল সব চোর-বাটপারদের চোখের শুল হয়েছিলেন। এসব চোরদের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকদের যোগসাজশে জামালকে ফাঁসানো হয়েছে।’

বরগুনা সদরের পানামা রোড এলাকার এক নারী গত বছরের ২৪ এপ্রিল সম্মানহানি এবং তাদের বসতঘরে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করেন জামালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জামালসহ ৭ জনের নামে মামলা করেন।

একই বছরের ৬ মে লামিয়ার করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুমন সিকদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পরে সুমন সিকদারসহ ৫ জনের জামিন হলেও কারাগারেই আছেন জামাল।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

দিনভর মাইকিং, বাড়ির পাশে মিলল শিশুর মরদেহ

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি মহিদুল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

গাজীপুরের পূবাইলে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পূবাইল থানাধীন মাজুখান গ্রামের সালাম মুন্সীর বাড়ির সামনে থেকে রোববার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতের নাম মো. সিহাব। সিহাব পূবাইল থানার মাজুখান গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিদুল।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিখোঁজ হয় সিহাব। এর পর পরই পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর মাইকিং করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওইদিন সিহাবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রোববার ভোরে স্থানীয়রা বাড়ির পাশে সিহাবের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

সিহাবের বাবা জুয়েল জানান, নিখোঁজের পর অনেক খোঁজাখোঁজি করেও সিহাবের সন্ধান না পেয়ে রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

সিহাবকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, শিশুটির বাবা-মা সাত মাস ধরে আলাদা থাকেন। শিশুটি মাজুখান এলাকায় তার বাবার সঙ্গে থাকত। শনিবার দুপুরে নিখোঁজের পর রোববার ভোরে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাজারেরও বেশি চিকিৎসক বদলির আদেশ স্থগিত
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
করোনা মোকাবিলায় হাজারের বেশি চিকিৎসকের বদলি
মৃত তিন চিকিৎসকের পদায়ন

শেয়ার করুন