বাড়ছে সংক্রমণ, উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

বাড়ছে সংক্রমণ, উপেক্ষিত বিধিনিষেধ

জেলা শহরের ইসলামপুর এলাকার ষাটোর্ধ্ব ইজিবাইকচালক শফিকুল ইসলাম বুধবার সকালে যাত্রী নিয়ে শহরের শাপলা চত্বর হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গাড়ি না চালাইলে ঘরে খাবার নিতে পারুম না।’

খাগড়াছড়িতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়লেও বিধিনিষেধ মানছেন না স্থানীয়রা।

শাটডাউন নামে পরিচিতি চলমান লকডাউনের মধ্য অনেকেই ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন। বুধবার সকাল থেকেই গত কয়দিনের তুলনায় ইজিবাইক, রিকশা বেশি চলতে দেখা গেছে।

শহরের ইসলামপুর এলাকার ষাটোর্ধ্ব ইজিবাইকচালক শফিকুল ইসলাম। বুধবার সকালে যাত্রী নিয়ে শহরের শাপলা চত্বর হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।

পুলিশের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গাড়ি না চালাইলে ঘরে খাবার নিতে পারুম না।’

ছোট পরিবহন চললেও বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন, দোকান, শপিংমল। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও অলিগলিতে তেমন টহল চোখে পড়েনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবার বাস্তবতাই আমরা বুঝি কিন্তু বিধিনিষেধ না মানলে তো পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যাবে। তাই আমরা মানুষকে বুঝিয়ে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করছি।’

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বুধবার দুপুরে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ জনের নমুনায় ৪৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৭ জন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার ১৭ জন, মানিকছড়ি উপজেলার ২ জন, দীঘিনালার ৫ জন ও পানছড়ির ২ জন।

এর আগে মঙ্গলবার জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৬ জন।

জেলা সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি বিশ্বাস জানান, জেলা সদরের পাশাপাশি কয়েকটি উপজেলায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো জেলায় ৯৫টি করোনা বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় এক দিনে মৃত্যু ২০০ পার
‘সচেতন না হলে কেউই বাঁচাতে পারবে না’
করোনা চিকিৎসায় রংপুর মেডিক্যালে আরও ৫০ শয্যা
কুষ্টিয়াসহ তিন জেলায় ৩৫ মৃত্যু
খুলনা বিভাগে ১ দিনে ৬০ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য