অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

অষ্টম শ্রেণি পাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

চট্টগ্রামে আটক ভুয়া চিকিৎসক। ছবি: নিউজবাংলা

খোরশেদ মূলত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন ওয়ার্ডবয় ছিলেন। মাগুরায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লায় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেন। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত কুমিল্লার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নিজেকে পরিচয় দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। নামের পাশে লেখা থাকে এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (নিউরোলজি) ও এফআরসিপি (লন্ডন)।

রোগীপ্রতি ফি নেন ৫০০ টাকা। নাম তার খোরশেদ আলম। অষ্টম শ্রেণি পাস এই ব্যক্তি ছিলেন ঢাকা মেডিক্যালের একজন ওয়ার্ডবয়। চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীর এক ফার্মেসিতে বসে রোগী দেখার নামে করে যাচ্ছিলেন প্রতারণা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিউরোমেডিসিনের চিকিৎসক সেজে বসা খোরশেদ আলমকে আটক করে আকবরশাহ থানার পুলিশ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির হোসেন জানান, অষ্টম শ্রেণি পাস খোরশেদ বেশ অনেকদিন ধরে উত্তর কাট্টলীর কর্নেল জোন্স সড়কের কাট্টলী ফার্মেসিতে বসে নিজেকে নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও এমডি (নিউরোলজি) সহ বিভিন্ন ডিগ্রিধারী পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছেন।

ওসি বলেন, মিথ্যা পরিচয়ে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা এই প্রথম নয় খোরশেদের। এর আগে মাগুরায় স্থানীয় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিউরো মেডিসিন এবং মেডিসিন ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দুই মাস ধরে চিকিৎসা দিয়েছেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সেখানে ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ভুয়া চিকিৎসককে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

‘মাগুরায় এক বছর জেল খাটার পর খোরশেদ চলে আসেন চট্টগ্রামে। বাড়িও তার চট্টগ্রামেই, নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে তিনি। নিউরো মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ সেজে নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় আবার শুরু করেন চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা। তবে এবারও ধরা পড়ে গেলেন।

ওসি বলেন, খোরশেদ মূলত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন ওয়ার্ডবয় ছিলেন। মাগুরায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লায় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেন। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত কুমিল্লার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভুয়া ডাক্তার ধরায় পুলিশকে সহায়তা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা করোনা মেডিসিন ব্যাংক। সংগঠনটির উদ্যোক্তা মেসবাহ উদ্দিন তুহিন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। বিষয়টি এলাকার কয়েকজন আমাকে জানান। পরে আমি নিজে গিয়ে দেখে আসি। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ছদ্মবেশধারনের অপরাধে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণকার থেকে ‘চিকিৎসক’
ভুয়া চিকিৎসকের তিন মাসের কারাদণ্ড
ভুয়া চিকিৎসককে কারাদণ্ড
হবিগঞ্জ শহরে হাতেনাতে ধরা ভুয়া চিকিৎসক

শেয়ার করুন

মন্তব্য