শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য একরাম মিয়া লকডাউনের মধ্যে স্কুল প্রাঙ্গণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার অনুমতি চান। তা না দেয়ায় স্কুল কমিটির ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। এর জেরে লাঞ্ছিত করা হয় প্রধান শিক্ষককে।

চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মহানগর যুবদল নেতা মিয়া মো. হারুন খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই শিক্ষক থানায় মামলা করলে শনিবার রাতে এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হারুন মহানগর যুবদলের সহসভাপতি। আর মামলা করা ব্যক্তি হলেন নিজাম উদ্দিন। তিনি ডবলমুরিংয়ের মনসুরাবাদ এলাকার খান সাহেব আব্দুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য একরাম মিয়া লকডাউনের মধ্যে স্কুল প্রাঙ্গণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার অনুমতি চান। করোনার কারণে অনুমতি দেয়নি কমিটি। তা সত্ত্বেও গত ২৫ জুন স্কুল প্রাঙ্গণে তিনি বিয়ের আয়োজন করেন। গোপনে তথ্য পেয়ে জেলা প্রশাসন গিয়ে সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজাম অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে একরাম মিয়া, তার দুই ভাই মিয়া মো. হারুন খান ও জানে আলম শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজে বিদ্যালয় না যেতে হুমকি দেন। এ ব্যাপারে নিজাম শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগও জানান।

অভিযোগ তদন্তে ৩০ জুন পাঁচলাইশ-ডবলমুরিং থানা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি স্কুলে যান। সেখানে আসেন নিজামসহ কয়েকজন শিক্ষক। সে সময় একরাম মিয়ার ভাই যুবদল নেতা হারুন খান, জানে আলম ও তাদের সহযোগীরা প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে তাকে গালমন্দ এবং হত্যার হুমকিও দেন।

এ ঘটনায় শনিবার ছয়জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিজাম। রাতেই প্রধান আসামি হারুন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রোববার আদালতে তোলা হবে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
এবার চট্টগ্রামে চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগ
চেকপোস্টের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হেনস্তা
পোশাক নিয়ে হেনস্তা: আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না রাবি ছাত্রীরা
রাবির দুই ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে হেনস্তা
মেয়েদের ‘নষ্ট হওয়া’ ঠেকাতে চেয়েছিলেন বারেক

শেয়ার করুন

মন্তব্য