পটুয়াখালী পৌরসভার সেই শাহিনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

পটুয়াখালী পৌরসভার সেই শাহিনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক হিসাব রক্ষক এস এম শাহিন। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের দেয়া চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামি শাহিন ২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দুদককে দেন, যা সত্য নয়। তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৮ দশমিক ৯৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতি থাকায় তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন।

মামলার দুই বছর চার মাসের মাথায় পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক হিসাব রক্ষক এস এম শাহিনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পৌনে তিন কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের বৈধ কোন উৎস না থাকায় এ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা পটুয়াখালী দুদকের উপসহকারী পরিচালক আরিফ হোসেন।

অভিযোগপত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান, মানিলন্ডারিং ও অর্জিত সম্পদে বৈধ উৎস না থাকায় আলাদা তিন ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে।

পটুয়াখালী পৌরসভার হিসাবরক্ষক থাকাকালে শাহিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় মামলা করে দুদক।

জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অফিস থেকে ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বরে শাহিনের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশের পর শাহিন তার সম্পদের হিসাব জমা দেন।

এতে নিজের ও স্ত্রীর নামে দানসূত্রে পাওয়া এক দশমিক ১৭ একর সম্পত্তি ও একটি তিন তলা ভবন (বর্তমানে ৫ তলা), ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হয়।

ওই সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানিক ঋণ উল্লেখ করে শাহিন জানান, রূপালী ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৫ লাখ, জীবনবীমা পলিসি থেকে কমিশন বাবদ ২৩ লাখ ৬০ হাজার, জীবনবীমা থেকে ২৫ লাখ ১৫ হাজার, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা থেকে ১৫ লাখ এবং ডিপিএসের বিপরীতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়াও বাকিতে ৮ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল কিনেছেন বলে লিখিতভাবে দুদককে জানান। সবশেষে তার নিজস্ব তহবিলে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬০ টাকাসহ মোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০ টাকার হিসাব দিয়েছিলেন শাহিন।

শাহিনের দেয়া সম্পদের ওপর নিবিড় তদন্ত চালায় দুদক। তদন্তকালে দুদক জানতে পারে, রূপালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ এবং জীবনবীমা পলিসি থেকে পাওয়া কমিশন ও লোন বাবদ ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯০ টাকাসহ মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৯০ টাকার ঋণের সব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ছাড়াও তার নিজস্ব তহবিলে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬০ টাকা অর্জনের বৈধ উৎস পায়নি দুদক।

তার ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ৮০ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দুদকে দাখিল করা হলেও তার ভাইয়ের আয়কর রিটার্নে ওই সম্পদের কোনো তথ্য মেলেনি।

দুদক আরও জানায়, ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬০ টাকা ৮০ লাখ টাকাসহ মোট এক কোটি ৪০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬০ টাকার ভুয়া তথ্য দাখিল করা হয়েছে। হিসাবরক্ষক শাহিন ২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ টাকার বৈধ সম্পদের তথ্য দুদককে দিলেও তা ভুয়া প্রমাণিত হয়। অবৈধ উপার্জনের অর্থ-সম্পদ বৈধ করতে শাহিন দুদককে এই ভৌতিক তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় দুদক।

দুদকের দেয়া চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, মামলার আসামি শাহিন ২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দুদককে দেন, যা সত্য নয়। তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৮ দশমিক ৯৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতি থাকায় তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন।

এ ছাড়াও ২২ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৮ দশমিক ৯৮ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গোপন রাখা ও ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন এবং অবৈধ অর্থ নিজ দখলে রাখার অপরাধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধী হিসেবে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

গত ৩০ জুন তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

দুদকের মামলায় অভিযুক্ত এসএম শাহিন বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য