কেউ খোঁজ রাখেনি তাদের

কেউ খোঁজ রাখেনি তাদের

শাটডাউনে খাবার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানসিক ভারসাম্যহীন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় খাবার পাচ্ছেন না পঞ্চগড় শহরের মানসিক ভারসাম্যহীনরা। এর সঙ্গে জেলায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা বৃষ্টিতে থাকার জায়গাও হারিয়েছেন অনেকে। খাবার ছাড়া বৃষ্টিতে ভিজে অনেকেই হয়ে পড়েছেন অসুস্থ।

দেশব্যাপী এক সপ্তাহের শাটডাউনে মহাবিপদে পড়েছেন পঞ্চগড়ের মানসিক ভারসাম্যহীনরা।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে শহরের রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে মানুষের চলাচল কমে গেছে। বন্ধ রয়েছে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁসহ অধিকাংশ খাবারের দোকান।

এতে খাবারই মিলছে না তাদের। এর সঙ্গে জেলায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা বৃষ্টিতে থাকার জায়গাও হারিয়েছেন অনেকে। খাবার ছাড়া বৃষ্টিতে ভিজে অনেকেই হয়ে পড়েছেন অসুস্থ।

শহরে মানসিক ভারসাম্যহীন এমন ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। পঞ্চগড় রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, ধাক্কামারা গোলচত্বর, শেরেবাংলা মুক্তমঞ্চ, জেলা পরিষদ ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অডিটোরিয়াম, আদালত ভবন, আধুনিক হাসপাতাল, তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড, জালাশি মোড় এলাকায় তাদের বাস।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষ। কেউ খাবার দেয়, কেউ টাকাপয়সা দিয়ে সহায়তা করে। এভাবেই কেটে যায় তাদের জীবন।

তবে লকডাউনের তিন দিনে রাস্তাঘাটে মানুষজন না থাকায় কেউ সহায়তা দিচ্ছে না। যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার মিলত সেগুলোও বন্ধ। এরপরও খাবারের আশায় অনাহারি এসব মানুষকে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে।

কেউ খোঁজ রাখেনি তাদের
খাবার না পেয়ে অনেকে ঘোরাঘুরি করছেন রাস্তায়, বাড়ির সামনে

শহরের তেঁতুলিয়া সড়কের হোটেল রহমানিয়ার স্বত্বাধিকারী সফিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার হোটেল খোলা থাকা অবস্থায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ জন পাগল খাবার নিয়ে যেত। করোনার কারণে হোটেল বন্ধ থাকায় এসব মানুষের খাবার বন্ধ হয়ে গেছে।’

শেরেবাংলা পার্কের রেস্তোরাঁ মালিক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক মানুষ আমার দোকানে আসে খাবারের জন্য। এসব মানুষের কোনো ঠিকানা নেই। সীমিত পরিসরে দোকান খোলা রাখার কারণে বিকেল ৫টা পর যারা আসে, তাদের খাবার দিতে পারি না।’

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে অব্যাহত বৃষ্টিতে অনাহারি এসব মানুষের টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে অনাহারে মানবেতর জীবন কাটালেও তিন দিন ধরে কেউ তাদের খোঁজ রাখেনি।

এই কয় দিনে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যারা একটু সুস্থ তারা খাবারের আশায় মানুষের বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট অবশ্য শুনিয়েছেন আশা কথা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব মানুষের খোঁজ রাখা উচিত- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) বিকেল থেকেই এসব মানুষের কাছে আমার ব্যক্তিগত আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা পৌঁচ্ছে যাবে।’

আরও পড়ুন:
পাড়া-মহল্লায় বিশেষ অভিযান চালাবে র‌্যাব
জনতাকে জরিমানা, নেতার সমাগমে ‘নেই মানা’
শাটডাউনে হাতিরঝিলে জন্মদিন
সেনা টহলে পাল্টে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিত্র
চাকা না ঘুরলে শ্রমিকদের টাকা নেই

শেয়ার করুন

মন্তব্য