পদ্মায় বাড়ছে পানি: তলিয়ে যাচ্ছে শিবচরের নিম্নাঞ্চল

প্লাবিত

পদ্মায় পানি বাড়ায় মাদারীপুরের শিবচরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার বিকেলে দেখা গেছে, ঘোলা পানিতে ভরে উঠেছে শিবচর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ। কোনো কোনো এলাকায় পানি ছুঁই ছুঁই করছে আবার কোথাও পাড় ডুবে গেছে। চরাঞ্চলের কাঁচা পাট, তিল, সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকেই অসময়ে পাট-তিলসহ ফসল কেটে নিচ্ছেন।

বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে মাদারীপুরে নদ-নদীর পানিও বেড়ে গেছে। এতে শিবচরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।

আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে শিবচরের চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি, মাদবরেরচর, বন্দরখোলা ও সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে এসব এলাকার মানুষ।

শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, ঘোলা পানিতে ভরে উঠেছে উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ। কোনো কোনো এলাকায় পানি ছুঁই ছুঁই করছে আবার কোথাও পাড় ডুবে গেছে।

চরাঞ্চলের কাঁচা পাট, তিল, সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকেই অসময়ে পাট-তিলসহ ফসল কেটে নিচ্ছেন।

বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকার আবু মুছা রওসাদ বলেন, ‘কয়েক বছরে এই ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ড নদী ভাঙনে ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই এলাকার অনেকেই বসতবাড়ি নিয়ে শিবচরের অন্য ইউনিয়ন এবং ফরিদপুরের চরনাছিরপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে বসতি স্থাপন করেছে।

গত বছর কাজিরসূরা এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়, কাজিরসূরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, বন্দরখোলা ইউপি ভবন পদ্মা নদীতে বিলীন হয়। এ বছরও হুমকির মুখে রয়েছে কাজিরসূরা বাজার।

প্রতিবছর বন্যার সময় এসব এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যায়। পানি ওঠে বসতভিটায়। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে যোগাযোগের জন্য এলাকার অনেকেই নৌকা তৈরি শুরু করেছেন।

উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের ওয়াসীম সরকার বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পুরোপুরি চরের ভেতর। গত কয়েক বছরে পদ্মার ভাঙনের ফলে ইউনিয়নের গ্রামগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এবারও নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় আমরা আতঙ্কিত।’

বাশকান্দি ইউনিয়নের শেকপুর ব্রিজ এলাকার জুবায়ের কাজী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমাদের এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া বিলপদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে। এই পানি বিভিন্ন এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্যা হলে শিবচরের চর অঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম তলিয়ে যায়। এসব এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের বলেছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য