বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়

বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়

আবেদনকারীর আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে মাগুরা সমাজসেবা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে কখন জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি আদালত। এটি তদন্তকারী কর্মকর্তার সময়ের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে তিন দিন আগে অভিভাবকদের জানাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে নয়, বাবুল আকতার-মাহমুদা খানম মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে মাগুরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরা বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এ আদেশ দেন।

আবেদনকারীর আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে মাগুরা সমাজসেবা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে কখন জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি আদালত। এটি তদন্তকারী কর্মকর্তার সময়ের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে তিন দিন আগে অভিভাবকদের জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে মিতু-বাবুল দম্পতির দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১৩ জুন আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। তখন আদালত ১৫ দিনের মধ্যে তাদের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হাজির করতে বাবুলের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ও ভাই হাবিবুর রহমান লাবুকে নির্দেশ দেয়।

এরপর লাবু শিশু আইন অনুসারে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা চেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেন। পরে তা শুনানির জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এ পাঠানো হয়।

আদালতে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মিতু-বাবুলের দুই সন্তান মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ট্রমাটাইজড (আতঙ্কগ্রস্ত)। ঘটনার সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে সাত বছর ও তিন বছর। বর্তমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তাদের চট্টগ্রামে আনা সম্ভব নয়। মাগুরা আইনজীবী সমিতির কার্যালয় কিংবা অন্য কোনো স্থানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। আবেদনের ওপর গত সোমবার আংশিক শুনানি হয়েছিল। এরপর ৩০ জুন শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত ছিল।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়। এরপর আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে এই মামলার।

গত ১১ মে বাবুল আকতারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। তদন্তে বাবুল আকতারের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই।

একই দিন দুপুরে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আকতারসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন বাবুল আকতার।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি
বাবুলকে দেয়া ‘প্রেমিকার’ বই যাচ্ছে ফরেনসিক ল্যাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য