সমাধির জায়গা পেল রবিদাশ সম্প্রদায়

সমাধির জায়গা পেল রবিদাশ সম্প্রদায়

নীলফামারীর জয়চন্ডি গ্রামের দোলাপাড়ার রবিদাশ সম্প্রদায়ের লোকদের সমাধির জায়গা দিয়েছে প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ রবিদাশ ফোরামের সভাপতি মেঘুরাম রবিদাশ বলেন, ‘আমাদের কেউ মারা যাওয়ার পর লাশটা যে সমাধি দেব, সে জায়গা ছিল না। নদীর ধারে বা রেললাইনের পাশে সমাধি দিতে হতো। অনেক সময় বাধাও আসত, বাধ্য হয়ে ঘরের পাশে সমাধি দিতে হত। দীর্ঘদিন পর হলেও দুর্ভোগের সমাধান হয়েছে।’

রেললাইনের পাশে বা নদীর তীরে সমাধি হতো নীলফামারীর সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জয়চন্ডি গ্রামের দোলাপাড়ার রবিদাশ সম্প্রদায়ের লোকদের। সমাধি দেয়ার জন্য ছিল না কোনো নির্দিষ্ট জায়গা।

তবে এখন আর যেখানে সেখানে মরদেহ সমাধি দিতে হবে না তাদের।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জয়চন্ডি গ্রামের দোলাপাড়া এলাকায় ১০ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে রবিদাশ সম্প্রদায়ের ৬০টি পরিবারের জন্য। এখন থেকে এখানেই সমাধি হবে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের।

গত ২৭ জুন জায়গাটি ওই সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন। জায়গাটির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ রবিদাশ ফোরামের (বিআরএফ) সভাপতি মেঘুরাম রবিদাশ বলেন, ‘আমাদের কেউ মারা যাওয়ার পর লাশটা যে সমাধি দেব, সে জায়গা ছিল না। নদীর ধারে বা রেললাইনের পাশে সমাধি হতো।

‘অনেক সময় বাধাও আসত, বাধ্য হয়ে ঘরের পাশে সমাধি দিতে হতো। দীর্ঘদিন পর হলেও আমাদের দুর্ভোগের সমাধান হয়েছে।’

বিআরএফের সাধারণ সম্পাদক ছবি রানী দাস বলেন, ‘জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতনা সিনহা আমাদের জন্য অনেক করেছেন। এখানে স্থায়ীভাবে সমাধি দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই জায়গা আমাদের দিয়েছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

রতনা সিনহা বলেন, ‘রবিদাশ সম্প্রদায়ের মানুষদের মরদেহ সৎকার নিয়ে কষ্টের সীমা ছিল না। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকায় একটি সমাধি তৈরির জায়গা দিতে পেরে স্বস্তি বোধ করছি।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলিনা আকতার বলেন, ‘সমাধির জায়গার সীমানা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসক এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে কাজ শুরু হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের মানুষদের এখন থেকে লাশ সৎকারে আর কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য