রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে

player
রেলওয়ের সম্পত্তিতে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে

‘দখল এলাকায় রেলওয়ের নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে যেসব রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শিগগিরই এই পথে ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে।’

চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের জায়গা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

রেলওয়ে চাঁদপুর স্টেশনের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা ও প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে এসে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, দখল এলাকায় রেলওয়ের নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে যেসব রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শিগগিরই এই পথে ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে।

জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, ‘এখানে আমাদের উন্নয়ন কাজগুলো নিজস্ব প্রকৌশলীর মাধ্যমে মাধ্যমে করা হচ্ছে। এখানে অতীতে রেললাইন ছিল, এখনো থাকবে। রেলের উন্নয়ন চাঁদপুরবাসীর জন্যই দরকার। আশা করি, রেলওয়ের উন্নয়নকাজে চাঁদপুরবাসী সহযোগিতা করবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী সুবক্তগীন ও চিফ অপারেশন সুপারিনটেনডেন্ট এ এম সালাহ উদ্দিন, কুমিল্লার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোরছালীন, এসএসএএই (ওয়ে) লাকসাম মো. লিয়াকত আলী, এসএসএই (পূর্ত) আতিকুর রহমান আকন ও চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার মো. শোয়েব শিকদারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি

সিকদার রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই বাগান বাড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগান বাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রাম। এই গ্রামেই অন্তত ৩০ একর জমির ওপর ২০০৯ সালে একটি বাগান বাড়ি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

পুকুরের মধ্যে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চার তলা ভবন, হরিণের খামার, দুটি পুকুরের সংযোগ স্থলে সেতু আর নানা প্রজাতির গালপালা দিয়ে সাজানো হয় বাগান বাড়িটি।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগান বাড়ি বানাতে গিয়েই একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট। কিন্তু উচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করছে ওই প্রতিষ্ঠান।

সুমিত্রার দাবি, ওই বাগান বাড়ির মধ্যেই তাদের ৪১ শতাংশ জমি; ছিল বাড়িও। ২০১৮ সালে ওই বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সুমিত্রা ও তার স্বজনদের। নির্মাণ করা হয় সীমানা প্রাচীর আর বিশাল ফটক।

সুমিত্রার বাবা অমূল্য চরন দে ওই জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বিআরএস জরিপে সুমিত্রার ভাই রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে’র নামে ওই জমির মালিকানা হয়। দুটি টিনের ঘরে পরিবারটি বসবাস করত।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি
সুমিত্রাদের টিনের ঘর

২০০৯ সালে রতন কুমার দে ও ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ঝর্না রানী দে তিন শিশু কন্যা রেখে মারা যান। এরপর সুমিত্রা ও তার ভাই জগদীশ দে ওই শিশুদের লালনপালনের দায়িত্ব নেন।

ভিটেমাটি হারানোর পর নানা রোগ-শোক ভর করে জগদীশের শরীরেও। ২০২০ সালে তিনিও মারা যান।

সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ায় ভাইয়ের তিন কিশোরী কন্যা নিয়ে বিপাকে পরেন সুমিত্রা। আশ্রয় নেন পাশের ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্না ঘরে।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগান বাড়ি
উচ্ছেদের বর্ণনা দেন সুমিত্রা

সেই দিনের স্মৃতি মনে করে সুমিত্রা বলেন, ‘আমি পাট লইতাছিলাম। পাট লওয়া শ্যাষ কইরা তিনটা সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ি গেলে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নাই। সিকদারের ছেলেরা দাঁড়াইয়া থাইক্যা বাউন্ডারি দিসে। কইছিলাম, ঘরে খাওন-দাওন, কাপড়-চোপড় আছে, এগুলি আনতে দেন। কিন্তু দেয় নাই। পরনের ময়লা কাপড় লইয়া, তিনডা মাইয়ারে লইয়া মাথা গোঁজার লিগ্যা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই। কিন্তু সিকদারগো ভয়ে কেউই আমাগো রাখতে সাহস পায় না। পরে এই বাড়ির রান্দোন ঘরে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এই শোকে আমার ভাইডাও মইরা গেলো। একটা মাইয়া যেই বেতন পায় হেইয়া দিয়াই কোনোরকম চলি।’

সুমিত্রা জানান, নিজের বাড়ির ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

রতন দে’র মেয়ে রুপা রানী দে বলেন, ‘সিকদারের ছেলেরা বাড়ি আসলেই গোলাগুলি করতো, আরও অনেক কাজ করতো। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকতাম। মা-বাবা নাই, কাকাও মারা গেছে এখন শুধু পিসিই বেঁচে আছেন। জমি আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে করতে তার শরীরও ভালো নেই।’

রুপা জানান, মহিলা অধিদপ্তরের একটা প্রজেক্টে কাজ করে তিনি ৮ হাজার টাকা বেতন পান। তা দিয়ে ঘর ভাড়া, তিন বোনের পড়ার খরচ, পোশাক, খাওয়া কোনোটাই পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী এনামুল হক শামীম তাদের একবার দেখতে গিয়েছিলেন। ভিটে-মাটি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

এদিকে, সিকদার রিয়েল স্টেটের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমিত্রারা এখানে বসবাস করতেন। এখনও তাদের দুটি ঘর আছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা চলে গেছেন। তাদের যদি কোনো কাগজপত্র থাকে এবং সেটা যদি তারা দেখাতে পারেন তাহলে যেভাবে মিমাংসা করতে চান সেভাবেই মিমাংসা করা হবে।’

জমির মালিকানা জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন মোল্লা নথিপত্র দেখে জানান, দাবি করা জমিটির মালিক হচ্ছেন অমূল্য চন্দ্র দে’র দুই ছেলে রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে। ভাইদের এই জমির খাজনা বাংলা ১৪২৫ সন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন সুমিত্রা রানি দে।

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে করা হচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সরকারি প্রহরীকে নিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিরোধী সমর্থকদের দমন নিপীড়নের জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

দখল করে যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, সে জমির কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে এর মালিকানা দাবি করছেন মজিবর রহমান নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য। জমি দখলের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে দুওসুও ইউনিয়নের সমির উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তার পাশের ওই জমিতে দেখা যায়, ইউনিয়নে কর্মরত ৯ জন প্রহরী পাহারা বসিয়ে একটি ভবন নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন চেয়ারম্যান সোহেল।

কথা হয় উপস্থিত প্রহরী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। ভবন নির্মাণের স্থানে পাহারা দেয়ায় কারণ জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যানের আদেশের একটি কাগজ দেখান।

তিনি বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমরা এই ভবন নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করছি। ইউনিয়নের সব প্রহরীকে এখানে থাকার আদেশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কেউ বাধা দিতে আসলে আমাদেরকে প্রতিহত করার নির্দেশনা দেয়া আছে।’

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত কাগজে লেখা রয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৮৪, দাগ নম্বর ৮৭৮৮, ১৩ শতক জমির মধ্যে ২ শতক জমিতে ঘর নির্মাণের কাজে ইউনিয়নের সব গ্রাম পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্যে বলা হলো।

ইউনিয়নের সব প্রহরী এনে এভাবে ব্যক্তিগত কাজ করার ব্যাপারটি বেআইনি বলে মনে করেন দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি এবার ইউপি নির্বাচনে সোহেলের বিরোধী প্রার্থী আনারস মার্কার মোকলেসুরের নির্বাচন করেছিলাম। তখন থেকেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত। নির্বাচনে জেতার পরেই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এখন শপথ গ্রহণের পরপরই আমার জমি দখলে ব্যস্ত হয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান।’

মজিবরের অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘জমিটা আমি নিজের জন্যে দখল করছি না। আমার ভাগনি জামাই সৈয়দ আলী এই জমির মালিক। এক পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মজিবরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নোটিশ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, আমাকে নাকি চেয়ারম্যান হিসেবে মানেন না। তাই সৈয়দ আলীর হক বুঝিয়ে দিতে আমি তাকে জমি দখল করে দিচ্ছি।’

এদিকে চেয়াম্যানের পাঠানো কোন নোটিশ পাননি বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য ও জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান।

ইউনিয়ন পরিষদ ও পুরো এলাকা ফাঁকা করে প্রহরীদের ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘আমি মনে করেছি সেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই পাহারা বসানো হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জমির মালিক দাবিদার চেয়ারম্যান সোহেলের ভাগনি জামাই সৈয়দ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কিন্তু মজিবর রহমান আমার জমিতেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছিলেন না। চেয়ারম্যান আমার আত্মীয়। সেই সঙ্গে আমি তার ইউনিয়নের একজন নাগরিক। তাই আমি তার কাছে সাহায্য চেয়েছি।’

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

তবে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি সংবাদ সম্মেলনে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা তদন্তাধীন। আমার সম্মানহানি করতে তাকে দিয়ে কেউ কলকাঠি নাড়াচ্ছে।’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দেয়া টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন কবিরকে তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নোটিশ দেন।

শুক্রবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি।

তবে এ ধরনের কোনো নোটিশ হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন হোসেন কবির। তিনি বলেন, ‘নোটিশ পেলে দেখেশুনে জবাব দেব।’

নোটিশে বলা হয়, স্থানীয় লোকজন ও নেতা-কর্মীদের অনুরোধে সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে কামাল উদ্দিন প্রচার শুরু করেন।

একপর্যায়ে হোসেন কবির আওয়ামী লীগ থেকে তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। হোসেন কবির চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের আস্থাভাজন হওয়ায় তার আশ্বাসে রাজি হন কামাল উদ্দিন। এ জন্য তিনি হোসেন কবিরকে প্রথমে নগদ ১৫ লাখ টাকা দেন।

পরে এমপি মোছলেম উদ্দিনের নামে আরও ১৫ লাখ টাকার চেক দেন। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন মেলেনি কামাল উদ্দিনের।

পরে খোঁজ নিয়ে নিয়ে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে তার নাম পাঠানোই হয়নি। পরে কামাল উদ্দিন টাকা ফেরত চাইতে হোসেন কবিরের শহরের বাসায় যান। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দেয়ায় কামাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে টাকা দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চেকের ছবিসহ পোস্ট দেন।

পরে এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক নেয়ার অভিযোগে ১০ জানুয়ারি কামালের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে মামলা করেন হোসেন কবির।

আদালত পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তবে ফেসবুকে কামাল উদ্দিনের পোস্ট করা চেকের ছবিতে দেখা যায়, এটি সোনালী ব্যাংক কোর্ট হিল শাখার একটি চেক। এতে পে টুর স্থানে লেখা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। নিচের অংশে কামাল উদ্দিনের সই রয়েছে, তবে চেকে কোনো তারিখ ছিল না।

এদিকে ফেসবুক ওয়ালে কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। না হলে বিষয়টি নিয়ে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।’

তবে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি সংবাদ সম্মেলনে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা তদন্তাধীন। আমার সম্মানহানি করতে তাকে দিয়ে কেউ কলকাঠি নাড়াচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

এসএসসি: ফেল থেকে জিপিএ-৫ চার বোর্ডে ১৩ জন

এসএসসি: ফেল থেকে জিপিএ-৫ চার বোর্ডে ১৩ জন

ফাইল ছবি।

চার বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণে ফেল থেকে পাশ করেছেন ৩৭৮ জন। এ ছাড়া গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেকের।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আগে ফেল করলেও পুনঃনিরীক্ষণে তাদের মধ্য থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন।

শুক্রবার এই ফল প্রকাশ করা হয়।

ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ফলাফল পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চার শিক্ষার্থী।

ঢাকা বোর্ডের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ২২ হাজার ৮৫৫টি বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছিলেন।

ব‌রিশাল মাধ‌্যমিক ও উচ্চ মাধ‌্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন জানান, ওই বোর্ডে ৫ হাজার ৪৭৯ পরীক্ষার্থী ৬ হাজার ১৩৯‌টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছিলেন। এতে ৩৯২ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাশ করেছেন ২৫১ জন এবং ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ জন। পাশাপা‌শি সব মিলিয়ে ফল পরিবর্তনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০ শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে ফেল থেকে পাস করেছেন ৩৩ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন। এ ছাড়া পরীক্ষার ফল পরিবর্তন হয়েছে ২১২ জনের।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, ‘উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ শেষে ফল পরিবর্তন হয়েছে ২১২ পরীক্ষার্থীর। এর ফলে ফেল থেকে পাস করেছে আরও ৩৩ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।’

বোর্ড সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৭ হাজার ৬৯ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ হাজার ৮২৩টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রুপ ভিত্তিক নৈর্বাচনিক ১১ বিষয়ে ৪১৯৩ জন শিক্ষার্থী ৪৬৭৯টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে ৮২ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ৫১ জন ফেল থেকে পাশ করেছেন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ জন। এ ছাড়া ২৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ সনের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর থেকে ০৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, করোনার কারণে দেড় বছর ক্লাস না হওয়ায় গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হয় তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

ফল প্রকাশের দিনের হিসেব অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সে হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৪.০৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৩১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৬২৫ জন।

মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৩.২২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৯ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ১৪ হাজার ৩১৩ জন।

আর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৮৮.৪৯ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ৫ হাজার ১৮৭ জন।

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৮ দিন পর মিলল মরদেহ

নিখোঁজের ৮ দিন পর মিলল মরদেহ

ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

৮ দিন আগে দুলাভাইয়ের ভ্যান নিয়ে বের হন মহসীন। তারপর থেকে তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্রবার একটি ক্ষেতে পাওয়া যায় তার মরদেহ। দুলাভাইয়ের ধারণা, ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য মহসীনকে হত্যা করা হয়েছে।

নওগাঁর মহাদেবপুরের একটি ক্ষেত থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি উপজেলার আতুড়া গ্ৰামের মহসিন আলীর বলে শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। তারা জানান, মহসিন ৮ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

উপজেলার মহিষবাথান মোড়ে একটি হলুদের ক্ষেতে শুক্রবার রাতে পাওয়া যায় মরদেহটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, ওই ক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে রাত ৯টার দিকে সেটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন মহসিনের স্বজনরা।

মহসীনের ভগ্নিপতি ভ্যানচালক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ জানুয়ারি দুপুরে মহসীনের ফোনে একটা কল আসে। তাকে আমার চার্জার ভ্যানটি নিয়ে যেতে বলা হয়... কিছুক্ষণ পর আমার ভ্যান নিয়ে সে বের হয়।

‘সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সে বলে সে পত্নীতলা থানার নজিপুর বাজারে আছে। পরে রাত ৯ টার দিকে তাকে কল দেই। ফোন তখন থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন থানায় আমরা একটি জিডি করেছিলাম। আজকে ক্ষেতে যে লাশ পাওয়া গেছে সেটির শরীর, গঠন ও পোশাক দেখে তা মহসীনের বলে আমরা নিশ্চিত করেছি।’

মইনুলের ধারণা, মহসীনকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাই করা হয়েছে।

মহাদেবপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মরদেহের শরীরে আঘাতের বেশকিছু চিহ্ন আছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। মহসীনের পরিবার মামলা করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন

খানজাহানের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে সুলতানি আমলের নিদর্শন। ছবি: নিউজবাংলা

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, ‘সাড়ে ৬০০ বছর আগের এ বসতভিটা খননে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করা। খননের মাধ্যমে পাওয়া স্থাপনা, ইট, তৈজসপত্রসহ নানা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা গবেষণা করব।’

ইসলাম ধর্ম প্রচারক হযরত খানজাহানের সাড়ে ৬০০ বছর আগের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে প্রাচীন সুলতানি আমলের দেয়াল, টেরাকোটা, ড্রেন, তৈজসপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাগেরহাটে সুলতানি আমলের পুরাকীর্তিগুলো বিশ্বের দরবারে অনেক দিন ধরে সমাদৃত। ষাট গম্বুজ মসজিদসহ হযরত খানজাহানের (রহ.) বিভিন্ন পুরাকীর্তি দেখতে প্রতিদিনই বাগেরহাটে আসেন দেশি-বিদেশি হাজারও দর্শনার্থী।

ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশে সুন্দরঘোনা গ্রামে হযরত খানজাহানের বসতভিটায় গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকে শুরু হওয়া খননে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে ১৪ শ্রমিক নিদর্শন সংরক্ষণে কাজ করছেন। এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে দেয়াল, টেরাকোটা ও প্রাচীন আমলের তৈজসপত্রসহ অজানা প্রত্নবস্তু।

মাসব্যাপী শুরু হওয়া এ খননের ফলে উন্মোচিত হচ্ছে অনেক অজানা তথ্য। শুধু তা-ই নয়, ২০ বছর ধরে খননের ফলে নতুন নতুন তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, সুলতানি আমলে খানজাহানের বসতভিটার ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করাই এই খননের উদ্দেশ্য। মাটির নিচে পাওয়া বিভিন্ন প্রত্নবস্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন জাদুঘরে রাখা হবে। ৩১ ডিসেম্বর মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই খননকাজ শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ষাটগম্বুজ মসজিদসহ ১৭টি স্থাপনাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বাগেরহাট সদরের সুন্দরঘোনা এলাকায় খানজাহান আলী (রহ.)-এর বসতভিটা অন্যতম।

খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন
খানজাহানের বসতভিটা খননে বেরিয়ে আসছে সুলতানি আমলের নিদর্শন। ছবি: নিউজবাংলা

২০০০ সালের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই বসতভিটার প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব নির্ণয়ের জন্য কয়েক দফা খনন করে। সেখানে টিনশেডের একটি অস্থায়ী অফিসও তৈরি করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতার নেতৃত্বে আবারও খনন শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন গ্রেডের সাত কর্মকর্তা ও অনিয়মিত ১৪ শ্রমিক এই খননকাজ ও গবেষণায় অংশ নিয়েছেন।

এবার শুরু হওয়া খননকাজ এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। সিমেন্ট ও বালুর তৈরি মেঝে, সুলতানি আমলের দেয়াল, টেরাকোটা, ড্রেন, সুলতানি আমলে ব্যবহৃত মাটির তৈরি পানির পাত্র, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে।

বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. জায়েদ বলেন, ‘সাড়ে ৬০০ বছর আগের এ বসতভিটা খননে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমির স্তরবিন্যাস, স্থাপত্যশৈলী ও কালানুক্রমিক সময় বের করা। খননের মাধ্যমে পাওয়া স্থাপনা, ইট, তৈজসপত্রসহ নানা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা গবেষণা করব।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, ‘শুধু এই বছরই নয়। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে খানজাহানের বসতভিটা খনন চলছে। যতদিন পর্যন্ত নিদর্শনগুলো উদ্ঘাটন সম্ভব হবে, ততদিন খনন চলবে। আর এই খননের ফলে শুধু দেশের প্রজন্ম নয়, বিদেশেও আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন

সরকারি হাসপাতালের গেট ‘বিক্রি’

সরকারি হাসপাতালের গেট ‘বিক্রি’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোহার গেট খুলে তোলা হয়েছে অস্থায়ী দেয়াল। ছবি: নিউজবাংলা

জুনিয়র মেকানিক মান্নান গাজী বলেন, ‘গেটটি রুমে রাখা ছিল আর রুম তালা মারা ছিল, কিন্তু গত মঙ্গলবার বড় স্যার ফজলে বারী আমাকে রুম খুলে দিতে বলেন... পরে শুনেছি তা বিক্রি করে দিয়েছেন।’

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি গেট দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের কর্মীরা এই অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের পশ্চিম দিকে মসজিদের পাশের লোহার গেটটি নেই। সেখানে ইট-সিমেন্ট দিয়ে অস্থায়ী দেয়াল তোলা হয়েছে।

হাসপাতালের সামনের রাস্তার সংস্কারকাজ চলছে। এ কাজের জন্য আনা বালু রাখা হয়েছে হাসপাতাল প্রাচীরের ভেতর।

রাস্তার কাজের সুবিধার জন্য গত সোমবার ওই গেট খুলে রাখা হয়। নৈশপ্রহরী মো. কামরুজ্জামানের সহযোগিতায় শ্রমিকরা সেটি নিয়ে হাসপাতালের একটি কক্ষে জুনিয়র মেকানিক মান্নান গাজীর হেফাজতে রাখেন।

অভিযোগ ওঠে, সেখান থেকে নিয়ে তা বিক্রি করে দেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজলে বারী। গেটটির ওজন ছিল প্রায় ৩০০ কেজি।

জুনিয়র মেকানিক মান্নান গাজী বলেন, ‘গেটটি রুমে রাখা ছিল আর রুম তালা মারা ছিল, কিন্তু গত মঙ্গলবার বড় স্যার ফজলে বারী আমাকে রুম খুলে দিতে বলেন। আমি রুম খুলে দিলে তিনি তা লোক দিয়ে নিয়ে গেছেন। পরে শুনেছি তা বিক্রি করে দিয়েছেন।’

হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী (হেড ক্লার্ক) আসলাম হোসেন বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে শুনেছি ওই গেটটি সেখানে নেই। পরে জানতে পেরেছি তা বিক্রি করে দিয়েছেন স্যার (ফজলে বারী)। তবে এর কোনো টাকা কোষাগারে জমা দেননি।’

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দিলে ‘আমার বদলির আদেশ হয়েছে, এখন কথা বলা যাবে না’ বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম মোস্তফা কায়সার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকরা না থাকায় আমি নামমাত্র দায়িত্বে আছি।’

আরও পড়ুন:
পদোন্নতি পেয়ে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ

শেয়ার করুন