১৭ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রধান শিক্ষকের ‘পকেটে’

১৭ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রধান শিক্ষকের ‘পকেটে’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাদিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও বিস্কুট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ঘটনাটি উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নে মাদারটারী পূর্বপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯৮৬ সাল থেকে উপজেলার মাদারটারী পূর্বপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন মাহবুবার রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে প্রধান শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে নিজের লোকজন দিয়ে পকেট কমিটি তৈরি করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সেই টাকা পায়নি প্রকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, ওই প্রধান শিক্ষক নিজে তালিকার ৫৯ নম্বর শিক্ষার্থীর চাচা এবং ৯১, ১২৮, ১২৯, ১৬৯, ১৭৪, ২১৫ নম্বর শিক্ষার্থীর বাবা সেজেছেন। এ ছাড়া নিজের স্ত্রী সাবিনা বেগমকে ১০৪, ১৬৮, ২১২ নম্বর শিক্ষার্থীর মা বানিয়েছেন। তার নিজের ছেলে সাদেকুলকে ১৩০ ও ১৩২ নম্বর শিক্ষার্থীর ভাই বানিয়েছেন। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ১৭ জন শিক্ষার্থীর ৩১ হাজার ৮৫০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিভাবক মোসলেম উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ২৭ জুন উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

প্রধান শিক্ষক মাহাবুবার রহমান অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আসলে বিষয়টা সে রকম না। সাক্ষাতে সব বললে বুঝতে পারবেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাদিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। আসলেই তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
শ্রমিকের বদলে যন্ত্র, কাটা পড়ছে গাছ
আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা: এস কে সুর
ডিসির বিরুদ্ধে স্কুলে ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ
‘আমরা সরকারি দল, কাজ ইচ্ছামতো করব’
শিল্পীদের অনুদান নিয়ে খুলনায় বিতর্ক

শেয়ার করুন

মন্তব্য