আষাঢ়ের বৃষ্টি: না ভেজার পরামর্শ চিকিৎসকের

আষাঢ়ের বৃষ্টি: না ভেজার পরামর্শ চিকিৎসকের

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিন্তু তাদের কোনো উপসর্গ নেই। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে তাদের ঠাণ্ডা লাগতে পারে। তাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অনেকে সংক্রমিত হবে। তাই এই সময়ে বৃষ্টিতে না ভেজার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলছে কঠোর লকডাউন। কিন্তু তার পরেও নানা অজুহাতে চলাফেরা করছে মানুষ। মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। জরিমানা করেও ফেরানো যাচ্ছে তাদের। এর মধ্যে শুরু হয়েছে আষাঢ়ের বৃষ্টি।

বৃষ্টিতে ভিজেই যাতায়াত ও চলাফেরা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের। কারণে-অকারণে বৃষ্টিতে ভিজছে তারা। তবে করোনার এই সময়ে বৃষ্টিতে না ভেজার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিন্তু তাদের কোনো উপসর্গ নেই। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে তাদের ঠাণ্ডা লাগতে পারে। তাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অনেকে সংক্রমিত হবে। তাই এই সময়ে বৃষ্টিতে না ভেজার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আষাঢ়ের শুরু থেকে কমবেশি প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। হঠাৎ বৃষ্টিতে সময়ে-অসময়ে ভিজতে হচ্ছে পথচারীদের। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে একটু জায়গা পেলেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে বা বসে পড়ছেন অনেকে। এ থেকেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

সকালে বৃষ্টি না থাকলেও মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয় মানিকগঞ্জ শহরে। কখনও দীর্ঘ সময় আবার কখনও স্বল্প বিরতিতে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে শহরের অলিগলিতে এবং বিভিন্ন শপিংমলের সামনে আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ। বৃষ্টির মাত্রা একটু কমতেই রওনা হচ্ছে গন্তব্যস্থলে।

রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাজার এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বিজয় মেলার কাছে গেছিলাম। যাত্রী নামায়ে দিয়া শহরের কালীবাড়ির কাছে আসতেই শুরু হয় বৃষ্টি। মাত্র কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে ভিজে গেলাম। ভাবছিলাম বাড়িতে যামু ভেজা কাপড় পাল্টাইতে। কিন্তু শহরে ঢুকতেই আবার ভিজলাম। তাই তো ভিজেই রিকশা চালাইতেছি।’

আমেনা বেগম নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘জরুরি কাজের জন্য ব্যাংকে আসছিলাম। কাজ শেষ করে বের হতেই শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু বাড়িতে যাওয়াও খুব জরুরি। বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হলো। বৃষ্টিতে ভিজলেই ঠাণ্ডা লাগে। তাই তো বৃষ্টি দেখলেই ভয়ে থাকি।’

খাদেজা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘শিশুকে নিয়ে একটু হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে বৃষ্টিতে ধরল। কিন্তু বাড়িতে যাওয়াও জরুরি। বাড়িতে ছোট একটা মেয়ে আছে। বাড়িতে না থাকলে কান্নাকাটি করে। আর মেঘবৃষ্টির সময় ভয় আরও বেশি পায়। তাই তো বৃষ্টিতে ভিজেই শিশুকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছি।’

আরেক রিকশাচালক হাসেম আলী বলেন, ‘সকালে রিকশা নিয়া বাইর হইছি। সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত রিকশা চালাইছি। তখন বৃষ্টিতে ধরে নাই। শহরের শহীদ রফিক সড়কের মহিলা কলেজের কাছে আসতেই বৃষ্টিতে ভিজে যাই।’

বৃষ্টির মধ্যে কেন রিকশা চালান, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কথা চিন্তা করলে কী আর সংসার চলব আমাগো। এমনিতেই লকডাউন, তার মধ্যে বৃষ্টি। রিকশা না চালালে কী খামু। আর সংসার চলবে কেমনে। রোইদ হইলে গরমে পুড়ি আর বৃষ্টি হইলে ভিজে। গরিব মাইসের আবার রোইদ বৃষ্টি।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন মো. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বৃষ্টিতে ভিজলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে ভিজলে ঠাণ্ডা ও হাঁচি-কাশি হয়। তাই বৃষ্টি শুরু হলেই নিরাপদ জায়গা বা ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য