শিমুলিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

শিমুলিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে শতশত ব্যাক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির রয়েছে দীর্ঘসারি। ছবি: নিউজবাংলা 

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে ৫০০-এর বেশি গাড়ি।

লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি। দেশের দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখী মানুষ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি ব্যবহারে পাড়ি দিচ্ছেন নৌপথ।

তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে সোমবার সকাল থেকে যাত্রী উপস্থিতি অনেকটাই কম দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে যাত্রীর চাইতে সকালে ঘাট এলাকায় যানবাহনের আধিক্য রয়েছে। ঘাটজুড়ে পারাপারের অপেক্ষায় শত শত ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলবাজার নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে ৫০০-এর বেশি গাড়ি।

অন্যদিকে ঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সুমন দেব জানান, শিমুলিয়া ঘাটে ঢোকার সময় ও পন্টুনে দুটি চেকপোস্ট রয়েছে। যাতে গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে ফেরিতে উঠতে পারে। এ ছাড়া শিমুলিয়া ঘাটে ঢোকার আগে যাত্রীর ভিড় সামলাতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলা চেকপোস্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে যাত্রী ও গাড়ি।

এদিকে, ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে।

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে সোমবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই যাত্রীরা নদীর স্রোতের মতো বাড়ি ফিরছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় আরও বাড়তে থাকে। নৌপথে লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরি দিয়েই নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরিতে পণ্যবাহী গাড়ির চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষ বেশি পারাপার হচ্ছেন। একই সঙ্গে পারাপার হচ্ছে জরুরি সেবামূলক অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য গাড়ি। মানুষের ভিড়ের কারণে পা রাখার ঠাঁই নেই।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে সকাল থেকে ১৪টি ফেরি চলছে। শিমুলিয়া থেকে অসংখ্য যাত্রী বাংলাবাজার ঘাটে এসে নামছেন। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ফেরিতে যানবাহনের সংখ্যা কম রয়েছে। তবে ঘাটে নেমে ভোগান্তির শেষ নেই দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের। তারা কিছু দূর হেঁটে ছোট ছোট গাড়িতে করে অধিক ভাড়া দিয়ে গন্তব্য ছুটছেন। গণপরিবহন না থাকায় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।

বাংলাবাজার ফেরিঘাটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের খবর শোনার পর থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ভোর থেকেই ফেরিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে এসে নামছেন যাত্রীরা। ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই পারাপার হচ্ছেন তারা।

বরিশালের যাত্রী রং মিস্ত্রি মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘গাজীপুর থেকে খুব কষ্ট করে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ করে এখানে এসেছি। সবকিছু বন্ধ। ঘরবন্দি হয়েই তো থাকতে হবে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। দেখি বাড়িতে কিছু করা যায় কি না?’

ঢাকায় হার্ডওয়্যারের দোকানি গোপালগঞ্জের সালাউদ্দিন বলেন, ‘লকডাউনে সব বন্ধ থাকলে কাজও বন্ধ থাকবে। এ জন্য বাড়িতে যাচ্ছি। লকডাউন শেষ হলে ঢাকায় ফিরব।’

বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানান, ঘাটের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে ছোট গাড়িগুলো ঘাটমুখী হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের সহব্যবস্থাপক ভজন সাহা বলেন, ‘সকাল থেকেই মানুষের চাপ বেশি। শিমুলিয়া ঘাটে অনেক যাত্রী ফেরিতে আসছেন। তবে ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ অন্যান্য দিনের চেয়ে কম রয়েছে। ঘাটে প্রায় ২০০ আটকে থাকা পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারীকে ছুরিকাঘাত, সাবেক স্বামী আটক

নারীকে ছুরিকাঘাত, সাবেক স্বামী আটক

হাসপাতালে আহত ফাহমিদাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, ফাহমিদার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে সাবেক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পৌর এলাকার শেখপাড়ায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয়।

আহত ফাহমিদা ফাইম শেখপাড়ার আবু কাউসার মধুর মেয়ে। আটক জসিম উদ্দিনের বাড়ি সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামে।

ফাহমিদার বাবা আবু কাউসার মধু জানান, বেশ কয়েক বছর আগে জসিমের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ বাড়তে থাকে।

সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ১ বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু এর পরও জসিম তার মেয়েকে নানাভাবে উত্যক্ত করত।

তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ জসিম আমার বাড়িতে আসে। হঠাৎ মেয়ের ঘরে ঢুকে তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। তার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। জসিমকে আটক করেন তারা। মেয়েকে ভর্তি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।’

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সাজিদ হাসান জানান, ফাহমিদার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত জসিমকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

পরিমাণে কম, লাখ টাকা জরিমানা

পরিমাণে কম, লাখ টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জে ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে অভিযান। ছবি: নিউজবাংলা

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযানের সময় তেল কম দেয়ার প্রমাণ মেলে। তখন স্টেশনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করে তেল বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।

লিটারপ্রতি তেল কম দেয়ায় মানিকগঞ্জে এক ফিলিং স্টেশন মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদরের নারাঙ্গাই এলাকায় ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজা মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় তেল বিক্রিও।

অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের লিটারপ্রতি তেল কম দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় তেল কম দেয়ার প্রমাণ মেলে। তখন স্টেশনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পরিমাপ যন্ত্রটি ঠিক করে তেল বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়।

যদি তারা এই নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে ওই স্টেশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

সিনহা হত্যা: তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে

সিনহা হত্যা: তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে

সিনহা হত্যা মামলায় তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামিদের আদালতে আনা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান, তৃতীয় ধাপে চার সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজারের টেকনাফে আলোচিত (অব.) মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তৃতীয় দফায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে সাক্ষ্য গ্রহণ।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নির্ধারিত সাক্ষীরা হাজির হন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তৃতীয় ধাপে চার সাক্ষী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তারা হলেন, মো. আবদুল হামিদ, ফিরোজ মাহমুদ, শওকত আলী ও সার্জেন্ট মো. আয়ুব আলী। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এ সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নির্ধারিত প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে সাত দিনে ছয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।

পরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ ঘোষণা করেন বলে জানান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফরিদুল আলম।

এর আগে দুই ধাপে ধার্য তারিখে সাক্ষ্য দেয়া ছয়জন হলেন, সিনহা হত্যা মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম সিফাত, টেকনাফের মিনা বাজার এলাকার মোহাম্মদ আলী, সিএনজি চালক কামল হোসেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশের মসজিদের হাফেজ মুহাম্মদ আমিন ও শামলাপুর চেকপোস্টসংলগ্ন বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম শহিদুল ইসলাম।

সাক্ষ্য গ্রহণের পরপরই ওসি প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্তসহ ১৫ আসামির পক্ষে ১২ জন আইনজীবী তাদের জেরা সম্পন্ন করেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে মেজর সিনহা পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসী।

২৭ জুন মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামি কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) সন্তোষ বড়ুয়া জানান, চলতি বছরের ২৭ জুন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল মামলাটির অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এরপর করোনায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পিছিয়ে যায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ। পরে ২৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। সমন জারি করা ১৫ জনের মধ্যে সব সাক্ষীই আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এ মামলায় ৮৩ জন চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালীন কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। দুটি এলাকায় আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষে নিহত হন আব্দুল হালিম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

কুতুবজোম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

গুলিবিদ্ধ তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন ইসলামাবাদী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা ও কুতুবজোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট নেয়া বন্ধ আছে।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচনে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা, সংঘর্ষসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বাগেরহাটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট চলছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে সোমবার বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।

মাসুদ রানা লালন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমার কর্মী-সমর্থকদের চাপ দিচ্ছিল নৌকার সমর্থকরা। পরে আমার এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়। ভেবেছিলাম নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, ভাবাই সারা হল আমাদের।’

ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকটি জায়গায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার মোট ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে ভোট হচ্ছে ৬৫টি ইউনিয়নে। কারণ কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

কৃষককে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে, গ্রেপ্তার ১

কৃষককে মারধরের ভিডিও ফেসবুকে, গ্রেপ্তার ১

ওসি জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই কৃষককে মারধর করা হয়। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালও হয়। পরে কৃষকের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয় একজনকে।

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে কৃষককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্গাপুরের কাকৈরগড়া ইউনিয়ন থেকে সোমবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনাটি এলাকায় আলোচনায় আসে। এরপর ওই কৃষকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয় ছোবহান ফকির নামের ওই ব্যক্তিকে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর-এ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার ওই কৃষকের ছোট ভাই ১৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় শুকনাকুড়ি গ্রামের ছোবহানকে।

মারধরের ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার বিকালে।

মামলার বরাতে ওসি জানান, জমি নিয়ে অনেকদিন ধরেই ওই কৃষকের সঙ্গে এলাকার আব্দুল হামিদ ফকির ও তার ভাইদের বিরোধ চলছিল। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। এর জেরেই গত বৃহস্পতিবার বিকালে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি আঞ্চলিক মহাসড়কে শুকনাকুড়ি এলাকায় ওই কৃষককে মাটিতে ফেলে রেখে মারধর করা হয়।

ওই কৃষকের ভাতিজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিরা আমাদের জমি দখল করে রাখায় আমার চাচা মামলা করেন। ঘটনার দিন আমার চাচা দুর্গাপুর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। তখন তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিরিবিলি হোটেলের সামনে যেতে বলা হয়।

‘চাচা সেখানে গেলে আসামিরা মারতে থাকে। মারধরে চাচা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার বাম পা ভেঙে গেছে। আমরা এর বিচার চাই।’

তিনি জানান, আহত কৃষককে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

‘জুয়ার আসরে’ অভিযান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৬

‘জুয়ার আসরে’ অভিযান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৬

ওসি আবু হাসান কবির বলেন, ‘আমরা জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ৩টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করেছি।'

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অভিযান চালিয়ে ‘জুয়ার আসর’ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির।

তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু, ঘোড়াঘাটের শামীম মিয়া, রাইনুর ইসলাম রানু সরকার, বকুল সরকার, হুমায়ুন কবীর ও শহিদুল ইসলাম।

ওসি আবু হাসান কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আমরা জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ৩টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোনসেট জব্দ করেছি।'

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন