শিমুলিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

শিমুলিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে শতশত ব্যাক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির রয়েছে দীর্ঘসারি। ছবি: নিউজবাংলা 

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে ৫০০-এর বেশি গাড়ি।

লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি। দেশের দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখী মানুষ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি ব্যবহারে পাড়ি দিচ্ছেন নৌপথ।

তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে সোমবার সকাল থেকে যাত্রী উপস্থিতি অনেকটাই কম দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে যাত্রীর চাইতে সকালে ঘাট এলাকায় যানবাহনের আধিক্য রয়েছে। ঘাটজুড়ে পারাপারের অপেক্ষায় শত শত ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলবাজার নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে ৫০০-এর বেশি গাড়ি।

অন্যদিকে ঘাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সুমন দেব জানান, শিমুলিয়া ঘাটে ঢোকার সময় ও পন্টুনে দুটি চেকপোস্ট রয়েছে। যাতে গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে ফেরিতে উঠতে পারে। এ ছাড়া শিমুলিয়া ঘাটে ঢোকার আগে যাত্রীর ভিড় সামলাতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিমতলা চেকপোস্ট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে যাত্রী ও গাড়ি।

এদিকে, ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে।

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে সোমবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই যাত্রীরা নদীর স্রোতের মতো বাড়ি ফিরছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভিড় আরও বাড়তে থাকে। নৌপথে লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরি দিয়েই নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরিতে পণ্যবাহী গাড়ির চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মানুষ বেশি পারাপার হচ্ছেন। একই সঙ্গে পারাপার হচ্ছে জরুরি সেবামূলক অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য গাড়ি। মানুষের ভিড়ের কারণে পা রাখার ঠাঁই নেই।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, নৌরুটে সকাল থেকে ১৪টি ফেরি চলছে। শিমুলিয়া থেকে অসংখ্য যাত্রী বাংলাবাজার ঘাটে এসে নামছেন। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ফেরিতে যানবাহনের সংখ্যা কম রয়েছে। তবে ঘাটে নেমে ভোগান্তির শেষ নেই দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের। তারা কিছু দূর হেঁটে ছোট ছোট গাড়িতে করে অধিক ভাড়া দিয়ে গন্তব্য ছুটছেন। গণপরিবহন না থাকায় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।

বাংলাবাজার ফেরিঘাটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের খবর শোনার পর থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ভোর থেকেই ফেরিতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে এসে নামছেন যাত্রীরা। ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই পারাপার হচ্ছেন তারা।

বরিশালের যাত্রী রং মিস্ত্রি মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘গাজীপুর থেকে খুব কষ্ট করে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ করে এখানে এসেছি। সবকিছু বন্ধ। ঘরবন্দি হয়েই তো থাকতে হবে। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। দেখি বাড়িতে কিছু করা যায় কি না?’

ঢাকায় হার্ডওয়্যারের দোকানি গোপালগঞ্জের সালাউদ্দিন বলেন, ‘লকডাউনে সব বন্ধ থাকলে কাজও বন্ধ থাকবে। এ জন্য বাড়িতে যাচ্ছি। লকডাউন শেষ হলে ঢাকায় ফিরব।’

বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানান, ঘাটের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে ছোট গাড়িগুলো ঘাটমুখী হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের সহব্যবস্থাপক ভজন সাহা বলেন, ‘সকাল থেকেই মানুষের চাপ বেশি। শিমুলিয়া ঘাটে অনেক যাত্রী ফেরিতে আসছেন। তবে ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ অন্যান্য দিনের চেয়ে কম রয়েছে। ঘাটে প্রায় ২০০ আটকে থাকা পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়া ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

শেয়ার করুন

মন্তব্য