‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’

‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’

ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালক সুজন মিস্ত্রি বলেন, ‘ভ্যানে ব্যাটারির মেশিন লাগাইছি দুই মাস হইছে। এনজিও দিয়া লোন লইয়া অনেক কষ্ট কইরা এইটা করছি। এহন এই ভ্যান চলতে না দেলে কি করমু মাথায় কিছু ঢোকে না।’

সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের রিকশা চালকরা। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা হলে তারা আন্দোলন এবং অনশনের হুমকি দিয়েছেন। করোনা মহামারির সময় বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে এই রিকশা বন্ধ করে সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রিকশা শ্রমিক নেতারা।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সারা দেশে রিকশা-ভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। সামনের চাকায় শুধু ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নাই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। সেগুলো যখন ব্রেক করে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উল্টে যায়। এ দৃশ্য আমরা দেখেছি। আমরা দেখেছি হাইওয়েতেও এ রিকশা চলে এসেছে।’

জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ৮ হাজারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রতিনিয়ত যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

এ রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন – এমন প্রশ্নে বরিশাল নগরীর চকের পুল এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকা জাফর সিকদার বলেন, ‘মোরা গ্রামের মানু। কামের খোঁজে বরিশালে আইয়া কোনো কাম কাইজ না পাইয়া এহন রিকশা চালাইতেছি ম্যাট্রিক পাস কইরাও। যদি এই রিকশা না চালাই হেলে খামুডা কী? খালি তো এইডা বন্ধ করে, ওইডা বন্ধ করে। কিছু তো খুইলা দেতে পারে না। মোগো তো বাঁচতে হইবে, নাকি এহন চুরি ডাহাতি করতে নামমু?’

নতুন বাজার এলাকায় বসে কথা হয় রিকশা চালক মাইদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে যে সময় প্যাডেল রিকশা চালাইতাম তহন যারা ব্যাটারির রিকশা চালাইতো তারা আন্দোলন কইরা শহরের মধ্যে ওই রিকশা চালাইতে পারার একটা পারমিশন পাইছিল। একসময় দেখলাম প্যাডেল রিকশা কইমা যাইয়া ব্যাটারির রিকশা বাড়তেছে, তহন মুইও ব্যাটারির রিকশা চালাইন্না শুরু করলাম। আর এহন আবার এই রিকশা বন্ধ করার ডিসিশন নেছে। বোঝলাম না কিছু, একবার চালানের পারমিশন, আরেকবার বন্ধ করার ডিসিশন দেয় কেমনে? এই করোনার মধ্যে যদি রিকশা বন্ধ কইরা দেয়, তয়তো না খাইয়া মরা ছাড়া উপায় নাই?’

ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালক সুজন মিস্ত্রি বলেন, ‘ভ্যানে ব্যাটারির মেশিন লাগাইছি দুই মাস হইছে। এনজিও দিয়া লোন লইয়া অনেক কষ্ট কইরা এইটা করছি। এহন এই ভ্যান চলতে না দেলে কি করমু মাথায় কিছু ঢোকে না।’

‘এহন কি চুরি ডাহাতি করমু’


বরগুনা জেলায় ৬ উপজেলা ও সদর মিলিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৫ হাজার। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তের খবরে মাথায় হাত এসব রিকশা চালকদের।

মাইঠা চৌমুহনী এলাকার মোহাম্মদ কুদ্দুস বলেন, ‘ডেইলি দুইশ টাহা মালিকরে ভাড়া দিয়া রিকশাডা চালাই। বেইন্নাকালে নামি আর রাইতে বাড়ি যাই। ভাড়া দিয়া যা থাহে হেইয়াইদ্দা গুরাগারা লইয়া খাই। এইডা বন্দ অইলে খামু কী?’

ঢলুয়া ইউনিয়নের চালক জসিম মিয়া বলেন, ‘রিকশাডা চালাইয়া মোর সংসার চলে, এহন যদি সরকার এডা বন্দ হরে তয় কি খামু? ভাইব্বা চিন্তা সরকার কথা কয় না কেয়া?’

বরিশাল ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক চালক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিস্ত্রি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বরিশালে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতির জন্য আন্দোলন করেছি। রাস্তায় পুলিশের হামলার শিকার হয়েছি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পেট বাঁচাতে আন্দোলনে নামব।’

দীর্ঘবছর যাবৎ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের পক্ষে আন্দোলনকারী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বরিশাল জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি গণবিরোধী। কোভিডকালীন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে সরকার কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়? এই রিকশাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার চালক কীভাবে তাদের সংসারের ভরন-পোষণ চালাবে? শুধু বন্ধ করলেই হবে না, মানুষের কথা চিন্তা করতে হবে। আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লাগাতার আন্দোলন করব। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা তো চলবেই না, বরং এই রিকশাগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার জোর দাবি থাকবে আমাদের।’

শেয়ার করুন

ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর অনাস্থা

ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর অনাস্থা

কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোমিন মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

গত সপ্তাহে মেম্বাররা তাদের ১৭ মাসের বকেয়া সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোমিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন ১১ জন মেম্বার।

জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল ইসলামের কাছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই অনাস্থা প্রস্তাবটি দেয়া হয়।

এরপর মেম্বাররা এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতিলিপি দেয়া হয়। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান মেম্বাররা।

গত সপ্তাহে মেম্বাররা তাদের ১৭ মাসের বকেয়া সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন।

মেম্বার ফরিদ আহমেদ বলেন, এই ইউনিয়নে ধান-চালের মোকাম থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা কর পাওয়া যায়। অথচ মেম্বারদের সম্মানী বাবদ বছরে ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন না চেয়ারম্যান। পেশী শক্তি ব্যবহার করে তিনি ইউনিয়নকে অকার্যকর করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন মেম্বাররা।

শেয়ার করুন

আড়াইহাজারে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

আড়াইহাজারে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

আড়াইহাজার থানার ওসি জানান, সকালে ঘরের বেড়া ঠিক করছিলেন আব্দুল করিম ভূইয়া ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। এ সময় প্রতিবেশী আত্মীয় ইমান আলী বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমান দা দিয়ে করিম ও তার স্ত্রীকে আঘাত করেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এর আগে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার ভিটিকলাগাছিয়া এলাকায় হামলার ওই ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা।

স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সকালে ঘরের বেড়া ঠিক করছিলেন আব্দুল করিম ভূইয়া ও তার স্ত্রী হালিমা বেগম। এ সময় প্রতিবেশী আত্মীয় ইমান আলী বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমান দা দিয়ে করিম ও তার স্ত্রীকে আঘাত করেন।

তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে হালিমাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে দুপুরে হালিমার মৃত্যু হয়।

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি করিমের মেয়ের দেবর। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

পাবনায় ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশ, দুই নার্স প্রত্যাহার

পাবনায় ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশ, দুই নার্স প্রত্যাহার

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, জেলায় টিকাদানে নিযুক্তরা সবাই স্টাফ নার্স ও অভিজ্ঞ। স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রশিক্ষিত। এ ধরনের ভুল হওয়ার কথা নয়। তারপরও ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।

পাবনায় এক মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন ছাড়াই খালি সিরিঞ্জ পুশের অভিযোগে দুই নার্সকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের টিকা কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

যাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন মেরিনা ও মিতা।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক কে এম আবু জাফর নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, নার্সরা তাকে জানিয়েছে খালি সিরিঞ্জ পুশের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল হান্নান জানান, তার মেয়ে সাবাহ মরিয়াম ঢাকার একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। বুধবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে হাসপাতালে যান সাবাহ। এ সময় নার্সরা তার হাতে একটি খালি সিরিঞ্জ পুশ করে। বিষয়টি নজরে এলে প্রতিবাদ জানান তিনি। তখন তাড়াহুড়ো করে সিরিঞ্জ বের করায় রক্ত বের হয়। পরে ভ্যাকসিনসহ আরেকটি সিরিঞ্জ পুশ করা হয় অন্যহাতে।

তিনি আরও জানান, তার মেয়ে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারে। এটিকে গুরুতর অপরাধ ও কর্তব্যে অবহেলা মনে করে তিনি বলেন, নার্সরা কেন এমন করলেন, তা তার বোধগম্য নয়।

তবে এ ঘটনায় নার্সদের কোনো অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা জানান ডা. আবু জাফর।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। এরপরও পাবনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি টিকা কেন্দ্রে সার্বিক নজরদারিও বাড়ানো কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, জেলায় টিকাদানে নিযুক্তরা সবাই স্টাফ নার্স ও অভিজ্ঞ। স্বাস্থ্যকর্মীরাও প্রশিক্ষিত। এ ধরনের ভুল হওয়ার কথা নয়। তারপরও ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ নম্বর বুথে রোববার অন্তত ২০ জনের দেহে করোনার টিকা না দিয়েই কেবল সিরিঞ্জের সুঁই পুশ করার অভিযোগ ওঠে। সেখানে টিকাদানের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাজেদা আফরিন। এ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর ভাষ্য, বেশি মানুষের চাপে তাড়াহুড়োর মাঝে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ঘটনাটি ঘটেছে।

শেয়ার করুন

টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫ পুলিশ

টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫ পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি তৈরি পোশাক কারখানার কয়েক শ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর ভাদাম এলাকায় ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স লিমিটেড কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পুলিশ তাদের থামাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫৮টি ফাঁকা গুলি, ২১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

এ ঘটনায় আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন শিল্প পুলিশের (টঙ্গী জোন) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এমদাদুল হক, কনস্টেবল মেহেদী, সাব্বির, আশরাফুল ও মারুফ তমাল।

আহত আনসার সদস্যরা হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আলী মোল্লা।

তবে আহত শ্রমিকদের পরিচয় জানা যায়নি।

ক্রসলাইন নিট ফেব্রিক্স লিমিটেডের কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানার ১৬ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার থেকে কয়েক শ শ্রমিক বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

বিষয়টি সমাধানের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ বুধবার সময় ঠিক করে দেয়। কিন্তু বুধবার সকালে কাজে এলে বিষয়টি সমাধান না করায় দুপুরের পর আবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

পরে সন্ধ্যায় মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার সমাধান করবে বলে জানায়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখেন। এ সময় তারা কারখানার ২ নম্বর গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক (টঙ্গী জোন) আব্দুল জলিল জানান, আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের নোটিশ দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারখানার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তবে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জোর করে কারখানার গেট ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করতে চান। এ সময় শ্রমিকদের বাধা দিলে পুলিশের ওপর তারা হামলা চালান। এ ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ ও তিনজন আনসার সদস্য আহত হন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

কারখানার শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের পর হঠাৎ কারখানা কর্তৃপক্ষ কয়েকজন শ্রমিককে ছাঁটাই করে। কিন্তু আমরা এই ছাঁটাই মানি না। বৃহস্পতিবার কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে আমরা শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে বহু শ্রমিক আহত হয়েছে।’

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকরা গতকাল (বুধবার) বিক্ষোভের সময় কারখানার বেশ কয়েকজন স্টাফকে মারধর করে। এ পরিস্থিতিতে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

পরিদর্শক আব্দুল জলিল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানার সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৮০২, মৃত্যু ১৫ 

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন।

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬১৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

শনাক্তদের মধ্যে ১৯০ জনই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা।

বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদরের ২৭, সদর দক্ষিণের ২২, বুড়িচংয়ের ৩২, ব্রাহ্মণপাড়ার ৩৮, চান্দিনার ৩৫, চৌদ্দগ্রামের ৮৬, দেবিদ্বারের ৩২, দাউদকান্দির ৩৪, লাকসামের ৫৩, লালমাইয়ের ১১, নাঙ্গলকোটের ৭০, বরুড়ার ৬২, মনোহরগঞ্জের ২১, মুরাদনগরের ১২, মেঘনার ১৭, তিতাসের ৪০ জন এবং হোমনা উপজেলার ৩০ জন।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের চারজন এবং দাউদকান্দি, মুরাদনগরের দুইজন করে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে আদর্শ সদর, বুড়িচংয়, ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, বরুড়া, মনোহরগঞ্জের একজন করে মারা গেছেন।

মৃতদের মধ্যে আটজন নারী এবং সাতজন পুরুষ।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭২জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৫ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হলেন ১৭ হাজার ৫৬০জন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিনই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘জেলায় শতভাগ টিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস।’

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় চালানে ভারত থেকে এলো ১৯ ওয়াগন পাথর

দ্বিতীয় চালানে ভারত থেকে এলো ১৯ ওয়াগন পাথর

ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে পাথরবোঝাই ১৯ ওয়াগনের একটি ট্রেন বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় চিলাহাটি এসে পৌঁছে। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিটি ওয়াগনে গড়ে ৫৯ টন করে মোট এক হাজার ১২২ টন পাথর এসেছে। এই পাথর যাবে সৈয়দপুরে। ওয়াগন রেখে ভারতীয় ইঞ্জিনটি (লোক মোটিভ) ভারতে ফিরে গেছে।

ব্রডগেজ রেলপথে ভারত থেকে আরও ১৯ ওয়াগন পাথর এসেছে নীলফামারীর চিলাহাটিতে।

ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টায় চিলাহাটি স্টেশনে এসে পৌঁছায় এই পাথরের ওয়াগনগুলো।

প্রতিটি ওয়াগনে গড়ে ৫৯ টন করে মোট এক হাজার ১২২ টন পাথর এসেছে। ওয়াগন রেখে ভারতীয় ইঞ্জিনটি (লোক মোটিভ) ভারতে ফিরে গেছে।

চিলাহাটি রেলস্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, এর আগে ১ আগস্ট বিকেলে ভারত থেকে ৪০টি ওয়াগনে ২ হাজার ২৮৫ দশমিক ২০ টন পাথর নিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন চিলাহাটি আসে। এসব পাথর যশোরের নওয়াপাড়ায় পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার যে ১৯টি ওয়াগনে পাথর এসেছে তা যাবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। সেখানে পাথর খালাস করা হবে।

২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেন উদ্বোধন করা হয়েছিল। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছিলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনের সাত মাস পর এ পথে পণ্য পরিবহনে উভয় দেশ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কের আরও একটি নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হয়েছে। এখন থেকে এ পথে ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে পন্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে প্রাণ গেল শ্রমিকের

নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে প্রাণ গেল শ্রমিকের

এসআই নুরুল আলম আশেক নিউজবাংলাকে জানান, শিকলবহা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৭ম তলায় কাজ করছিলেন জুয়েল মিয়া। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে জুয়েল মিয়া নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জুয়েলের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার মাইজগাঁওয়ে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক নিউজবাংলাকে জানান, শিকলবহা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের সপ্তম তলায় কাজ করছিলেন জুয়েল। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুয়েলের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান এসআই আশেক।

শেয়ার করুন